somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি উড় চিঠিঃ প্রজত্নে আমার বাবা !

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৩:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় বাবা
তোমাকে প্রিয় বলতে ইচ্ছে করে না... তবুও বলি ...কারণ তুমি ই আমার জন্মদাতা পিতা ।
তুমি শুধু আমাকে জন্ম দিয়ে ই তোমার কর্তব্য শেষ করেছ । যখন একটু একটু কথা বলতে শিখি ... মন খুলে যখন বাবা বাবা বলে ডাকবো ! তোমার চৌরা কাধে যখন নিশ্চিন্তে আরাম করে ঘুমাব , তখন ই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছ । কত সুখে ই না ছিলাম আমরা , কত সুন্দর ছিল আমাদের সাজানো বাগান ... কেন আমাদের অথৈ সাগরে ফেলে চলে গেলে দূরে বাবা ?

বাবা তুমি কি জানো ?
যে সন্তানের বাবা নেই পৃথিবীতে তার কোন মূল্য নেই ?
বাবা তুমি কি জানো ?
নিজের পরিচয় টা তুলে ধরতে গেলে এক কথায় বলে দিতে হয় আমায় "বাবা নেই"
কি করবো বাবা , যদি বলি বাবা আছে ? তাহলে আরও প্রশ্ন আসবে... নিজের পরিচয় তুলে ধরতে আরও একটা গল্প বলতে হবে ... তাই এক কথায় মিথ্যে বলে দেই " বাবা নেই" ! মিথ্যে শান্তনা দিয়ে হয়তো কিছু গল্প এড়িয়ে যাওয়ায় যায় ! কিন্তু মন কে বুঝানো যায় না !

"বাবা" সবাই কত অধিকার খাটিয়ে বলে ... আমার বাবা ! ঝাপটে পরে বাবার বুকে ।
কেউ ঝাপটে যখন বাবার বুকে পরে ... দেখলেই বুক টা কেমন করে উঠে... একটু ব্যেথা অনুভব করি । সেই কৈশোর থেকে দেখে আসছি... সবার বাবা ঘরে ফিরে... আসার সময় কত কিছু নিয়ে আসে... দেখলে'ই মন টা কেমন করে উঠত । মন বাবা বাবা করে চিৎকার করত ... কিন্তু আমার অবুঝ মনের চিৎকার তোমার কান পর্যন্ত কখনো যায়নি বাবা ।
আমার আদরের ছোট বোন মাঝে মাঝে কাঁদত বাবা বাবা বলে । তখন খুব কষ্ট হত । আমার অবুঝ মন টা তোমার উপর অভিমান করত , আর মনে মনে বলতাম বাবা আসলে আমি কক্ষনো কথা বলবা না । জানো বাবা ? তখন আমার অবুঝ মন বলে উঠত বাবা মানে ই খারাপ কেউ ! কষ্ট দেয় এমন কোন শব্দের নাম হয়তো "বাবা"

বাবা তোমার থেকেও বেশী আদরে যতনে মা , মামারা আমায় বড় করেছেন ! কখনো বুঝতে দেয়নি তোমার অভাব... ? কিন্তু বাবা শব্দ টা যখন অনেকের কাছে অনেক প্রিয় ... তখন আমার অবুঝ মন কে কি করে বুঝাই ? যে আমি বাবা হারা ... আমার বাবা থেকেও নেই । প্রিয় সেই বাবা নামের স্বাদ টা আমার পাওয়া হয়নি ।

বাবা জানো আজ আমি অনেক বড় হয়েছি... বুঝতে শিখেছি... মানুষ কে বুঝাতে শিখেছি...ভালো মন্দের পার্থক্য বুঝি ... কিন্তু শুধু বুঝি না
"বাবার আদর কেমন" বাবার কোলে ঘুমানোর সুখ কেমন ?


বাবা তুমি হয়তো আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছ ... কিন্তু তোমাকে কখনো ই ছাড়তে পারিনি । অনেক বার চেয়েছিলাম তোমাকে দূরে ঠেলে দেব, কিন্তু পারিনি । আমার বাহিরের জগত এবং ভেতরে ২ জায়গা ই তোমার সমান অবস্থান ! আমার নামের সাথে ছোট করে তোমার নাম টাও মিশে দিয়েছে । ওরা বলে অস্বীকার করা যাবে না এটাই তোমার আসল পরিচয় !

বাবা তোমার আদর অনেকের মাঝে খুঁজি ... অনেক সময় অধিকার খাটাই ...!
কিন্তু পারি না ! কেউ এসে মুখের উপর বলে দেয় !
এটা আমার বাবা !
তুই কে ?
আমার বাবা আমাদের আদর করবে !
আমাদের ভালবাসবে !
বাবা আপন আপন বলে যাদের বাবা মনে করি ! তারাও আজ নিজের সন্তান , সংসার নিয়ে খুব ব্যেস্ত সময় কাটায় ।। আমাদের দিকে তাকানোর কারো সময় নেই । আমাদের কথা ভাবার মত কারো সময় নেই ! সবাই সবার ভালোবাসা গুলো ভাগ করে তাদের ছেলে সন্তান কে দিয়ে দিয়েছে ! আমাদের জন্য কোন ভালোবাসা নেই কারো । আছে শুধু সহানভুতি এবং করুণা ? বল বাবা করুণা নিয়ে বেঁচে থাকা যায় ?

"বাবা" আমি বুঝতে শিখেছি ,
তোমাকে ছাড়াই আমি এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি ! এখন কি কারো করুণা ভালো লাগে বাবা ?

বাবা জানো ? যার বাবা নেই সে শূন্যে বাস করে ?
তার পায়ের নিচে এক টুকরো মাটি নেই !
আমিও তেমন এক শূন্য ,

"সারা পৃথিবী যখন বাবা বাবা করে চিৎকার করে ডাকে !
আমি বুকে যন্ত্রণা চেপে রাখা শূন্য
আমি বাবা ছাড়া শূন্য ...
বাবার আদর ছাড়া শূন্য...
হাসি মুখে বাবার ঘরে না ফেরা শূন্য
নির্ঘুম রাতে মায়ের শুকিয়ে যাওয়া অশ্রু শূন্য !
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×