somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার দেখা এক ঋণগ্রস্থ পরিবার

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র। সেকেন্ড ইয়ারে সামাজিক গবেষণা নামে আমার একটা বিষয় ছিল। যার অংশ হিসেবে আমাকে একটা বিষয় নির্বাচন করে তার উপর গবেষণা কর্ম ডিপার্টমেন্টে জমা দিতে হয়েছে। আর এই গবেষনা কর্মটি সম্পন্ন করতে গিয়ে আমাকে যে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে- তারই খানিক বর্ণনা দিচ্ছি মাত্র।
আমার গবেষণার বিষয় ছিল- ” গ্রামীণ দারিদ্রতা বিমোচনে (............) এনজিও এর ক্ষুদ্র ঋণের ভূমিকা”। নিদ্দিষ্ট এন,জি,ও –র কাছ থেকে কিছু ঋণ গ্রহীতার ঠিকানা নিয়ে আমরা সরে জমিনে যাই। তার মধ্যে একটি পরিবার এমন- যাদের বাড়িতে গিয়ে দেখতে পাই বাড়ী ফাঁকা, কোন লোকজন নেই। পাশের বাড়ীর লোকজনকে জিঙ্গাসা করতে তারা বললো এ বাড়ীর লোকজনকে সকাল থেকে তারা দেখেছে। আমরা কেন এসেছি এ বলে অনেকক্ষন অপেক্ষা করার পর নোংরা কাপড়, আগোছালো শরীর নিয়ে পয়ত্রিশ, চল্লিশ বছরের এক বিধবা মহিলাকে পেলাম। যিনি ওনাকে এ বাড়ীর কর্তী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। জানতে পেলাম উনি আমাদেরকে দেখে ভয় পেয়ে চলে গেছেন। উনি ভেবেছেন এন,জি,ও থেকে কিস্তি স্যার এসেছেন। এ ভয়ের কারণ জিঙ্গাসা করতেই উনি বললেন, গত সপ্তাহে এসে কিস্তি স্যার তার পানির কলসি সহ কয়েকটি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। জিঙ্গেস করলাম কেন? বললেন, কিস্তির টাকা দিতে পারেননি বলে। বললাম, টাকা নিয়ে আপনি কি করেছেন? মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো ঋণের টাকা দিয়ে বড় মেয়েটার বিয়ে দিছে। এখন মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে দুইটা মেয়ে ও দশ এগার বছরের একটা ছেলেকে খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছে। তার পর আবার এন,জি,ও-র ঋণের দায়। তাই এন,জি,ও-র কর্মী এলেই পালিয়ে থাকে টাকা দেয়ার ভয়ে। জানতে পেলাম এন,জি,ও-র কিস্তি স্যার কিস্তি দিতে না পারায় যখন যা পায় তা নিয়ে পাশের লোকের কাছে বিক্রি করে কিস্তির টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন, এ থেকে রক্ষা পায়নি এ মহিলার ডিমে তা দেওয়া একমাত্র মুরগী, ভাত- তরকারীর পাতিলও। মহিলা কাঁদতে কাঁদতে আরো বলতে লাগলো আপনারা আমারে একটু বিষ দেন, খাইয়া মইরা যাই। আর পারতাছিনা, বেটায় পোলা পানের মায়া করেনাই, আমি কইরা লাভকি?
আমরাও নির্বাক, কান্না ধরে রাখতে পারিনি। সান্তনা কিংবা কিছু বলার ভাষা খুজে পাইনি। শুধু ভেবেছি ,এ-তো এক নুরজাহান নয়, হাজারো নুরজাহানরা আছে আমাদের আশে-পাশে, যারা কিস্তি স্যারের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়। শেষ সম্ভল ভাত রান্নার কড়াই হারিয়ে অন্যের বাড়ি গিয়ে রান্নার হাড়ি ভিক্ষা চায়, তাদের জন্য কিইবা করার আছে আমার মত অনার্স পড়ুয়া এক ছাত্রের। এগুলো দেখার মত কি কেউ নেই? নুরজাহানদের বাঁচাতে সরকার ওকি কোন ভূমিকা নিতে পারেনা?
একি দারিদ্রতা বিমোচন ? নাকি দরিদ্রকে আরো দারিদ্রে রূপান্তরিত করার মিশন?

৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×