somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের মানুষ দেশকে এখন আর ভালবাসেনা, ভয় করে!

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিনোদনপ্রেমীরা দূরে থাকুন শুধু মাথাগরম সিরিয়াস মানুষজনকে জানাই এই পোষ্টে স্বাগতম-

পথের ধার দিয়ে হেঁটে আসছিলাম। পথে দু’টি কুকুর হূলস্থুল লড়াই বাধিয়েছে। আমি পাশ দিয়ে হেঁটে আসার সময় দেখি এক রিকশাওয়ালা খুব মনোযোগ দিয়ে সেই লড়াই দেখছে। এমন সময় তিন নম্বর কুকুরটি দৌড়ে আসত থাকে। তা দেখে রিকশাওয়ালা বলে উঠলো, “অইচ্চা! খালেদা-হাসিনা কামড়াকমড়ি গরের , আরেক মিক্কাত্তুন (দিক থেকে) এরশাইদ্দা আইয়ের ।”

বুঝলি তো তোদের অবস্থান একজন সাধারন নাগরিকের কাছে কোথায়? তরা দ্যাশের লাইগ্যা জাতির লাইগ্যা বহুত কিছু করছস। ইসতেহার দিতে আসলে কছ – এই করবি সেই করবি। ক্ষমতা ছাড়তে গেলে কছ – সব কিছু কইরা আমার দুইন্যাটা উল্টায়ালাইছস। বিরোধী দলে গেলে ত একেকটা মাথামোটা হাফ-প্যান্ট হইয়া থাকস। তেনাদের আবার প্রত্যেক দলের ১৬ কোটি করে সমর্থক, চিন্তা কর! তরা কাম করছ এক হাত আর দাঁড়া দেয় তিন হাত। তোমরা আমগো চুলটা ছিঁড়ছ।

আম্লিগ- বিম্পি মাথায় কইলাম আগুন ধইরবার লাগসে। তগো এইডি থামাবিনি ক। নাইলে কইলাম খবর আসে।

আমরা এখন আর আগের মত অন্যায়ের প্রতিবাদ করিনা। পাবলিক-প্লেইসে আৎকা ককটেল ফুটলে দেই ভোঁ দৌড়। That means now we are just surviving. Now our motto is:
“সত্যো বলছি দ্যাশটাকে আর ভালোবাসিনা/দ্যাশের ক্ষতি হইলে হোক গিয়া...ফিরেও দেখিনা।”(রাগের মাথায় আর ছন্দ আসতেসেনা, বাকিটা বুঝে নেন)


অনেকদিন হইল খবরের হেডলাইন আসেনা- “জনগনের হাতে অমুক নেতা বাইনছ্যাঁচা খাইসে।” We are now surviving. আমাদের সেই সোনালীযুগের সূক্ষ চেতনা গুলো এখন ভোঁতা হয়ে গেছে(এই দুর্বল চেতনা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে তো কখনোই না ব্যাক্তিগতভাবে ও কিচ্ছু করা যায় না)।......... নাহ, ভোঁতা হয়ে যায়নি ভোঁতা করা হয়েছে। এমন শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে একেকজন শিক্ষিত নাগরিকের বদলে হয়ে যাচ্ছি স্যুট –টাই পরা একেকটা কর্পোরেট দাস। ... খাঁচার ভিতরকার পাখিটা হঠাৎ প্রতিবাদ করে ওঠে কিন্তু শিক ভাঙ্গার শক্তি যে তার নেই।

থুক্কু, কি কই না কই, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কিন্তুক আশা যাওয়া করতে পারে।

I like guys who are always optimistic. আমাদের মনের কোণে কিন্তু সেই পবিত্র চেতনাগুলো সুপ্তাবস্থায় আছে। বহুকাল তারা একসাথে জাগেনি। কখনো তারা বিক্ষিপ্তভাবে জেগে উঠে এদিক-ওদিক তাকায়। যখন দেখে আর সবাই ঘুম তখন তারা আবার অন্যদিকে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে। এভাবেই নিরীহ মানুষ হিসেবে আমরা আতঙ্কের মাঝে বেঁচে আছি......কিছু একটার অভাব। যার পরশে এ জাতির কোটি প্রাণের সুপ্ত আগ্নেয়গিরিগুলো দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে।


মানুষ আশায় আছে কোনো এক ত্রাণকর্তার। কোনো বিদেশীকে এই আসনে বসাতে আমরা পারিনা। কিন্তু এদেশেও আমরা এমন কিছু আশা করতে পারিনা। সে সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে*। একা কেউই কিছু করতে পারবেনা। সবার এক প্রাণ হতে হবে।The truth is - we need The Favor Of The Lord। তাঁর রহমতই পারে কেবল আমাদের সবার চেতনাকে একসাথে জাগাতে।
[* হয়তো খবরের কাগজে পাইবেন – “আমুক দূর্যোগলীন তমুক নেতা-খ্যাতা ত্রাণকর্তার ভূমিকা পালন করেছেন।” সব ফাকা গুল। এইটা আপনি আমি সবাই জানি। খালি দুইয়ে দুইয়ে চাইর মিলানোর বাকি। খবরের কাগজের কথা যখন এসেই পড়লো তাই কইতে চাই- সম্মানিত হলুদ সাংবাদিকেরা, সময় থাকতে আপনাদের হইলদা রঙ ঘষে সাদা করেন, নাইলে কইলাম আপ্নাগেরও খবরাচ্ছে! ]


এবার আসেন কামের কথায়(এই লেখাটি ১৯ জন দগ্ধের মাঝে অন্যতম ১০ম শ্রেণির ছাত্র নাহিদের মৃত্যু সংবাদ শোনার পরে ভিতরে জন্মানো ক্ষোভ থেকে লেখা।তখন ঠিক এই কথাগুলাই মাথায় ফুটতেছিল ) : বোমা ফাটালে নিজ জান বাঁচান, ঠিকাসে? কিন্তু বোমা ফাটাইন্যারে ছাইড়া দিবেন কেন? তারে ধইরা দেন ধোলাই। বাসে আগুন দেওনের সময় গাড়ি থেকে নাইম্মা তাগোরে গিয়া ধরেন। এই শ্রেণির মানুষগুলা উপ্রে যতই ডাঁট দেখাক ভিত্রে কিন্তুক বেশিরভাগই ভোদাই । ধইরা ডাইরেক অ্যাকশন। একা যাইয়া লাভ নাই, একসাথে ধরেন। মা-বইনদের কথাটা মাথায় আসে। তাদের কথা মনে হইলে ভাষা খুইজা পাইনা। তাগোরে সেভ কইরেন। তয় আজকালকার মা-বইন কিন্তুক এহন জিম করে! (কয়দিন আগে বেগম রোকেয়ার “অর্ধাঙ্গী” পড়সি। অইডার কথা মনে হইলে কেমুন কেমুন লাগে... ।)

কথা এখনও শ্যাষ অয় নাই। এবার কুলাঙ্গারগুলার উদ্দেশ্যে(নেতা-কর্মী) কিছু কথাঃ হেরা নেতৃগো কাছে মাথাটা যেন বেইচ্চা দিসে। যদি খোলামনে জিগাই,
- কিরে ডিব্বা ফাটাইতাছস ক্যান?
-বড় ভাই বলসে।
-বড় ভাইয়ের কতা হুনবি ক্যান?
-ট্যাকা দিবো।
-অই ট্যাকার কি বেশি দরকার?
-হ, সংসার চলেনা।
আরে এম্নে ট্যাকা না নিয়া কষ্ট করে উপার্জন করলে অয় নাহ? নবী যে কইলো- নিজ হাতে উপার্জন করা খাবার থেকে ভাল খাবার তিনি জীবনেও খান নাই; এই কথার কি কথার কি কোনো মূল্য নাই! হুম, সেইগুলা শুনবা কেন, সেগুলা তো back-dated, আমার কাছেনা তগো কাছে। বোমা মাইরা টাকা কামাও আর শার্ট-প্যান্ট পিন্দা স্মার্ট সাজ, শালার উপ্রে দিয়া ফিটফাট ভিতর দিয়া মদুনাঘাট! সাময়িকভাবে খুব এই টাকা খাইতে খুব ভাল্লগে(আমার কাছে না, তর কাছে) কিন্তু একটু আগে বাড়াইয়া দ্যাখ তগোর লাইগ্গা অপমৃত্যু ওয়েট করতাসে। যদিও জনগণের হাতে তগো জান এখন কমই যায় কিন্তু তর দলের ছোডবাই-টাই তরে সরাইবো। এই দেশের ইতিহাসে রাজনীতিবিদ (বেশিরভাগই তো ফকিরানীতি করে) খুব কমই আসে জনগনের সত্যিকার ভালবাসা নিয়া কবরে গেছে। শান্তি তাদের জীবনের জন্য একটি বড় ফ্যাক্টর। এবার বুজ তোমাগো বেলায় কি অইব। Exception cannot be an example. Clear?

ডিস্ক্লেইমারঃ এই লেখায় কেউ যেন কোন “দলীয় কর্মী”র গন্ধ না খোঁজে। কারণ, সব দলের মূলনীতি দেখলে মনে হয় – কি মহান দল, কি মহান তার মূলনীতি! কিন্তু কাম-কাইজ দেখলে মনটা চায় কানের নিচে ঠাটায় দুইটা চড় মারি।
আরো বলি, Appearance টা অনেক উগ্র হয়ে গেল, তাই না? কিন্তু কি করিব দাদু পরান যে মানেনা।
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×