নজরুল,
কেমন আছ তুমি? আমার দিব্বি কেটে যাচ্ছে।
একটি কথা জানাতে চাই তোমায় আজ। হঠাৎ খেয়াল করলাম- এ কথাটি তোমায় বলা হয়নি কভু। কিন্তু তোমার যে জানা দরকার-
জসীম, ফররুখ আর সুকান্তদের মাঝে ডুবে থাকলেও ভুলিনি তোমায়। তুমিই আমার প্রথম প্রেম! সেই ছোট্টবেলা থেকে এ হৃদয়ে রয়েছ তুমি প্রিয়। খুব আছে মনে, সেই ছোট্টবেলায় মঞ্চ কাঁপিয়ে হাত নেড়ে নেড়ে সবাইকে শুনিয়েছিলাম তোমার "লিচু চোর" কবিতাটি। করেছিলেম ভুল কতক। সামনের সারির এক প্রৌঢ় ভুলগুলো চুপিসারে শুধরে দিয়েছিলেন। আর কবিতার শেষে বাবা এঁকেছিলেন চুমু কপোলে।
তারপর............
"খোকার গপপ বলা" পড়ে হেসেছি যে কত! "বিদ্রোহী" কবিতাটা আজো কন্ঠস্থ হয় নি। কিন্তু তাতে কি! আজো পড়ে পড়ে আমি ক্ষণে ক্ষণে শিহরিত হই।
তোমার মেহেরনিগার যে আজো দূরদ্বীপে বসে তোমার প্রতীক্ষায় পথ চেয়ে আছে! অনুভব করতে পার কি? আমি কি ঠিক করেছি জানো?- আমার কখনও মেয়ে হলে তার নাম রাখব মেহেরনিগার!
আজ তোমার ১১৫ বছর পূর্ণ হল, জানো কাল আমি আঠারো বছরে পা দেব! আমার হৃদয়ের কোনো এক নিভৃত কুঠুরীতে তুমি চিরকাল ঘুমিয়ে থেকো। আর মাঝে মাঝে সকালবেলা পাখি হয়ে আমায় জাগিয়ে দিও।
ইতি,
একাবিংশ শতাব্দীর
চৌদ্দটি বসন্ত পার করে
আসা চট্টলার কোন এক যুবক!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


