হোমিওপ্যাথি ! আমার আশংকা আমার বন্ধুবান্ধব এবং পরিচিতদের শতকরা ৯০ ভাগই একে চিকিৎসাশাস্ত্রের আরেকটি বিজ্ঞানভিত্তিক শাখা বলে ভুল করেন। হ্যাঁ, হোমিওপ্যাথি সায়েন্স বটে, তবে তা হল সিওডো-সায়েন্স (pseudoscience)। সিওডো-সায়েন্স বলতে এমন কোন প্রথা, নিয়ম বা প্রচলিত ব্যবস্থাকে বোঝায়, যা বিজ্ঞানের মোড়কে উপস্থাপন করা হয় কিন্তু তার আদতে কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
হোমিওবিদ্যার জনক সামুয়েল সি হানিম্যান (১৭৫৫-১৮৪৩)। তিনি লক্ষ্য করেন ম্যালেরিয়া রোগের প্রতিকারে ব্যবহৃত কুইনিন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করলে তার ম্যালেরিয়া রোগীর মত কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। এই ঘটনার ফলশ্রুতিতে তার ধারণা জন্মে, "like cures like"। তিনি বিশ্বাস করতেন, কোন ড্রাগ একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করলে যদি কোন বিশেষ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে সেই রোগ হলে সেই নির্দিষ্ট ড্রাগটির বিশেষ মাত্রার প্রয়োগে রোগটি সেরে যাবে। এই ব্যাপারটি অনেকটা "বিষে বিষ কাটে" ধরনের কথা। যাইহোক বিষে বিষ ক্ষয় হয় এটি একটা ভ্রান্ত ধারনা। আপনি সায়ানাইড খেয়ে, তারপর আরেকটু সায়ানাই্ড বা অন্য কোন বিষ খেয়ে নিলে বেচেঁ যাবেন না। দুটি বিষের কাজের মেকানিজম যদি একটি অপরটির ক্রিয়া নষ্ট করতে সক্ষম হয় তবেই কেবল বিষে বিষ ক্ষয় হয়, নইলে বিষে বিষ বাড়ে বই কমে না। যে জিনিস প্রয়োগে আপনার শরীরে রোগের লক্ষনদেখা দেয়, সেই একই জিনিসের ভিন্নমাত্রার প্রয়োগ রোগ সারিয়ে দিবে এমন সার্বজনীন কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। Like cures like, কথাটি তাই বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন।
হোমিওপ্যাথির আরেকটি প্রিন্সিপাল হচ্ছে, কোন ড্রাগ সলিউশনের ঘনমাত্রা যত কমাবেন, তার কার্যক্ষমতা তত বৃদ্ধি পাবে ! এরমানে কোন সলিউশনে ১০ অনু ড্রাগ থাকলে তার যা শক্তি, তার চেয়ে ৫ অনু সম্বলিত সলিউশনের শক্তি বেশি !!! জেনে অবাক হবেন, হোমিওপ্যাথিতে এমন dilution-এর সলিউশনও ব্যবহার করা হয় যেখানে এক অনু অরিজিনাল ড্রাগও থাকে না। তাহলে কোন দৈবশক্তিতে সেই ড্রাগ কাজ করে তা বোধগম্য নয় ! এই ঘটনা ফিজিক্স, কেমিস্ট্রির ব্যাসিক প্রিন্সিপালকেই অমান্য করে !
যাইহোক ধরে নিলাম, হোমিওপ্যাথি আমাদের বর্তমান বিজ্ঞানলব্দ জ্ঞানের সাথে সামঞ্জ্যসতাপূর্ণ নয়, কিন্তু হোমিওপ্যাথি যদি রোগ সারায় তাহলেইতো হল। এখন তাই প্রশ্ন হল, হোমিওপ্যাথি কি আদো রোগ সারায়? উত্তর হচ্ছে, সত্যিকার অর্থে আজ পর্যন্ত এমন একটি হোমিওপ্যাথি ড্রাগও পাওয়া যায়নি, যেটি মানসম্মতভাবে পরিচালিত কোন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় তার নির্দিষ্ট কোন রোগ সারাবার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পেরেছে। আপনি আনাচে কানাচে হোমিওপ্যাথি নিয়ে লেখা নানা জ্ঞানগর্ভ বই পাবেন, কিন্তু কোন প্রসিদ্ধ সায়েন্টিফিক জার্নালে হোমিওপ্যাথির পক্ষে কিছু পাবেন না। ...হোমিওপ্যাথির তথাকথিত রোগ সারাবার ক্ষমতার মূলে প্লেসিবো ইফেক্ট (মানসিক প্রভাব) ছাড়া কিছুই নয়। গ্রামগঞ্জে এখনও হাজার হাজার মানুষ তান্ত্রিকের ঝাঁড়ফুকে বা পানিপড়া খেয়ে ভাল হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক ঝাঁড়ফুঁকেও অনেকে ভাল হয়ে যাবে,সেটাই স্বাভাবিক। আসলে মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যেকোন সাধারন টাইপের রোগ অর্ধেক সেরে যায় ...! হোমিওপ্যাথির সো কলড ইফেক্টিভনেস শুধুমাত্র জ্বর, ঠান্ডা, কাশির মত কিছু রোগেই সীমাবদ্ধ, যেসব রোগ দুদিন গেলে এমনিতেই সেরে যায়। কোন হোমিও ঔষধ নির্দিষ্টভাবে বার বার কোন নির্দিষ্ট জটিল রোগ নিরাময় করে দিচ্ছে এমন দৃষ্টান্ত সারা দুনিয়া একটি খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে !
তাই হোমিওপ্যাথিতে অধিক ভরসা না রেখে যেকোন জটিল শারীরিক পরিস্থিতিতে এম,বি,বি,এস (প্লাস অন্যান্য ডিগ্রীসম্মৃদ্ধ) ডাক্তারের সম্মুখীন হউন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


