somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হোমিওপ্যাথি......... বিজ্ঞান নাকি বিশ্বাস?

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হোমিওপ্যাথি ! আমার আশংকা আমার বন্ধুবান্ধব এবং পরিচিতদের শতকরা ৯০ ভাগই একে চিকিৎসাশাস্ত্রের আরেকটি বিজ্ঞানভিত্তিক শাখা বলে ভুল করেন। হ্যাঁ, হোমিওপ্যাথি সায়েন্স বটে, তবে তা হল সিওডো-সায়েন্স (pseudoscience)। সিওডো-সায়েন্স বলতে এমন কোন প্রথা, নিয়ম বা প্রচলিত ব্যবস্থাকে বোঝায়, যা বিজ্ঞানের মোড়কে উপস্থাপন করা হয় কিন্তু তার আদতে কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

হোমিওবিদ্যার জনক সামুয়েল সি হানিম্যান (১৭৫৫-১৮৪৩)। তিনি লক্ষ্য করেন ম্যালেরিয়া রোগের প্রতিকারে ব্যবহৃত কুইনিন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করলে তার ম্যালেরিয়া রোগীর মত কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। এই ঘটনার ফলশ্রুতিতে তার ধারণা জন্মে, "like cures like"। তিনি বিশ্বাস করতেন, কোন ড্রাগ একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করলে যদি কোন বিশেষ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে সেই রোগ হলে সেই নির্দিষ্ট ড্রাগটির বিশেষ মাত্রার প্রয়োগে রোগটি সেরে যাবে। এই ব্যাপারটি অনেকটা "বিষে বিষ কাটে" ধরনের কথা। যাইহোক বিষে বিষ ক্ষয় হয় এটি একটা ভ্রান্ত ধারনা। আপনি সায়ানাইড খেয়ে, তারপর আরেকটু সায়ানাই্ড বা অন্য কোন বিষ খেয়ে নিলে বেচেঁ যাবেন না। দুটি বিষের কাজের মেকানিজম যদি একটি অপরটির ক্রিয়া নষ্ট করতে সক্ষম হয় তবেই কেবল বিষে বিষ ক্ষয় হয়, নইলে বিষে বিষ বাড়ে বই কমে না। যে জিনিস প্রয়োগে আপনার শরীরে রোগের লক্ষনদেখা দেয়, সেই একই জিনিসের ভিন্নমাত্রার প্রয়োগ রোগ সারিয়ে দিবে এমন সার্বজনীন কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। Like cures like, কথাটি তাই বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন।

হোমিওপ্যাথির আরেকটি প্রিন্সিপাল হচ্ছে, কোন ড্রাগ সলিউশনের ঘনমাত্রা যত কমাবেন, তার কার্যক্ষমতা তত বৃদ্ধি পাবে ! এরমানে কোন সলিউশনে ১০ অনু ড্রাগ থাকলে তার যা শক্তি, তার চেয়ে ৫ অনু সম্বলিত সলিউশনের শক্তি বেশি !!! জেনে অবাক হবেন, হোমিওপ্যাথিতে এমন dilution-এর সলিউশনও ব্যবহার করা হয় যেখানে এক অনু অরিজিনাল ড্রাগও থাকে না। তাহলে কোন দৈবশক্তিতে সেই ড্রাগ কাজ করে তা বোধগম্য নয় ! এই ঘটনা ফিজিক্‌স, কেমিস্ট্রির ব্যাসিক প্রিন্সিপালকেই অমান্য করে !

যাইহোক ধরে নিলাম, হোমিওপ্যাথি আমাদের বর্তমান বিজ্ঞানলব্দ জ্ঞানের সাথে সামঞ্জ্যসতাপূর্ণ নয়, কিন্তু হোমিওপ্যাথি যদি রোগ সারায় তাহলেইতো হল। এখন তাই প্রশ্ন হল, হোমিওপ্যাথি কি আদো রোগ সারায়? উত্তর হচ্ছে, সত্যিকার অর্থে আজ পর্যন্ত এমন একটি হোমিওপ্যাথি ড্রাগও পাওয়া যায়নি, যেটি মানসম্মতভাবে পরিচালিত কোন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় তার নির্দিষ্ট কোন রোগ সারাবার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পেরেছে। আপনি আনাচে কানাচে হোমিওপ্যাথি নিয়ে লেখা নানা জ্ঞানগর্ভ বই পাবেন, কিন্তু কোন প্রসিদ্ধ সায়েন্টিফিক জার্নালে হোমিওপ্যাথির পক্ষে কিছু পাবেন না। ...হোমিওপ্যাথির তথাকথিত রোগ সারাবার ক্ষমতার মূলে প্লেসিবো ইফেক্ট (মানসিক প্রভাব) ছাড়া কিছুই নয়। গ্রামগঞ্জে এখনও হাজার হাজার মানুষ তান্ত্রিকের ঝাঁড়ফুকে বা পানিপড়া খেয়ে ভাল হয়ে যাচ্ছে, সেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক ঝাঁড়ফুঁকেও অনেকে ভাল হয়ে যাবে,সেটাই স্বাভাবিক। আসলে মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যেকোন সাধারন টাইপের রোগ অর্ধেক সেরে যায় ...! হোমিওপ্যাথির সো কলড ইফেক্টিভনেস শুধুমাত্র জ্বর, ঠান্ডা, কাশির মত কিছু রোগেই সীমাবদ্ধ, যেসব রোগ দুদিন গেলে এমনিতেই সেরে যায়। কোন হোমিও ঔষধ নির্দিষ্টভাবে বার বার কোন নির্দিষ্ট জটিল রোগ নিরাময় করে দিচ্ছে এমন দৃষ্টান্ত সারা দুনিয়া একটি খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে !

তাই হোমিওপ্যাথিতে অধিক ভরসা না রেখে যেকোন জটিল শারীরিক পরিস্থিতিতে এম,বি,বি,এস (প্লাস অন্যান্য ডিগ্রীসম্মৃদ্ধ) ডাক্তারের সম্মুখীন হউন।
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×