somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বইমেলায় একদিন

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সোয়া তিনটা বাজে। জেসন আবারো মোবাইলে সময় দেখলো। কি কড়া রোদ!! বইমেলার গেটের সামনে প্রায় বিশ পঁচিশ মিনিট হয়ে গেলো। আসবে না নাকি? আসার কথা অবশ্য তিনটায়, ও একটু আগেই চলে এসেছে। ওর আজ এখানে আসার কথা ছিল না; গতকাল হঠাৎ গিয়াসউদ্দীন লিটন ভাই কল দিলো “জেসন শোন…শিখা আপুর বোন এসেছে আমেরিকা থেকে। তার সাথে বইমেলায় ঘুরে কয়েকটা বই কিনে দাও না!! আমিতো ঢাকার বাইরে এসেছি একটা কাজে…না হলে আমিই যেতাম…” লিটন ভাইয়ের দেয়া নম্বরে ফোন করে সময় আর দেখা করার জায়গা ঠিক করে নিয়েছে। কি জানি এত্তো ভীড়!! খুঁজে পাচ্ছে না নাকি?

“আপনি জেসন?” জেসন পুরোই চমকে গেলো। এমন মারদাঙ্গা সুন্দরী একটা মেয়ে তার সামনে। ও ঘাবড়ে গেলে একটু তোতলায় “জ হহহহহহ ইই…আআআপনি?”

- আমি বহ্নি…বলেছিলাম না আপনাকে ঠিক ঠিক চিনে নেবো…ফেসবুকে দেখেছি শিখাপার কাছে…

জেসনের নিজের ওপরে রাগ হতে থাকে। আজ পাঞ্জাবীটা পর্যন্ত ইস্ত্রী করে নাই। বাসন্তী রঙ পাঞ্জাবীর নীচের ঝুল কুঁচকে আছে। কে জানতো শিখা আপুর বোন এমন দেখতে!!! শিখা আপু দেখতে খারাপ না, মিষ্টি আর মায়াবতী। কিন্তু এই মেয়েতো চোখে পড়ার মতো সুন্দরী। জেসনরতো মনে হচ্ছে এক্ষুনি পুলিশ এসে বলবে “ম্যাডাম এই ছেলে কি আপনাকে উত্যক্ত করছে? বলেনতো থানায় নিয়ে যাই।“ এর পাশে জেসনকে একদম চোরের মতো দেখাচ্ছে সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই। পুলিশের ভয়েই ও বললো “চলেন মেলায় যাই…আপনি আর কতো দিন আছেন দেশে?”

- হঠাৎ একটা কাজে আসতে হলো। এসেছি মাত্র দিন দশেকের জন্য। তার মধ্যেতো পাঁচ দিন চলেই গেলো।
- শিখাপুর আসার কথা ছিলো। আসবে না?
- আসবে ৯ই ফেব্রুয়ারীতে। তার আগেই চলে যাবো তাই নিজের জন্য কিছু বই কিনতে আসা। দেশের বাইরে থাকার কারণে নতুন লেখকদের চিনিই না। শিখাপা বললো সামু ব্লগের অনেকেই খুব ভালো লেখে আর বই প্রকাশ করছে।
- ও আচ্ছা। কার কার বই নিতে বলেছে? নাম দিয়েছে নিশ্চয়ই।

“দাড়ান...লিষ্ট পাঠিয়েছে।” বলে পার্স থেকে বের করে ভাজ করা কাগজ খুললো বহ্নি।

- “লেখাজোকা সংকলন-১” অবশ্যই লাগবে। ওখানে আপুর একটা গল্প আছে। তবে ওই সংকলনে নাকি ব্লগের দুর্দান্ত সব কবি-লেখকদের লেখা আছে। আপু বলেছে এই সংকলন ভালো না লেগে উপায় নেই। ওহহহ!! “ঋদ্ধ-৩” সংকলনটাও কিনতে বলেছে। অবশ্য শিখাপা জানে না তার বা অন্য কার কার লেখা আছে। কিনে দেখতে বললো।
- অন্য আর কি কি বই কিনতে চাইছেন?
- কবিতার বইয়ের নাম আছে অনেকগুলো। দাঁড়ান বলছি...
- আপনি কি কবিতা ভালোবাসেন?
- হুউউউউ...কবিতা ভালোবাসি!! আচ্ছা শুনুন...এই বইমেলায় কি জাহিদ অনিকের কোন বই বের হচ্ছে?

জেসন যদিও কবিতার খুব একটা ভক্ত না তবুও বললো “জী জী সেতো খুবই ভালো কবিতা লেখে। নাহ!! তার কোন বই বের হয়নি এখনো..কেন বলুনতো?
- ব্লগে আপুর সবচেয়ে প্রিয় কবি। মাঝে মাঝে তার কবিতা পড়ি...ফেসবুকে ফলো করি!! বইমেলাতে এসেছে কিনা জানেন? দেখা করতে পারলে ভালো লাগতো।

মেয়েটার চোখ বদলে গেছে...গালে লালচে আভা!! কেমন ঘোরলাগা কন্ঠে জাহিদের কথা বলছে। জেসনের মেজাজ খাট্টা হয়ে গেলো। এইসব কবিদের জ্বালায় জীবন নষ্ট!! কেন যে ছড়া লিখে ও? প্রেমতো অনেক করলো জীবনে...গদ গদ প্রেমের কবিতা কেন যে আসে না?
- তার সাথে দেখা করলেও ভালো লাগতো না। বাদ দেন...
- কেন বলুনতো?
- নাহ!! মানে সে একটু চুপচাপ...অসামাজিক...কোথাও তেমন দেখা যায় না!!

বহ্নির তুলিতে আকা ঘন কালো ভুরুর মাঝের বরফরঙ্গা মসৃণ ত্বকে বিরক্তির ভাঁজ “আপনার কেন মনে হলো যে তাকে আমার ভালো লাগতো না? কবিদের এমন একাকীত্বই কাম্য...না হলে কবিতার সাথে বসবাস হয় নাকি?”

মেয়েতো বেশ রাগী মনে হচ্ছে। জেসন মনে মনে বললো “তুই তো গেছিস রে জেসন!! মেয়ের বিরক্তিও দেখি তোর ভালো লাগছে। তুই শ্যাষ!!”
- জী না মানে ইয়ে আসলে ছোট একটা ছেলে...এই বয়সের ছেলেরা হাসিখুশী থাকে তাই বলা আর কি?
- আপনি কি জাহিদ অনিকের কবিতা পড়েছেন?
“না ইয়ে...মানে...” জেসন আমতা আমতা করতে লাগলো। তার আসলেই কবিতা পড়ার তেমন উৎসাহ নেই।
- কবিতা না পড়ে এমন উলটা পালটা কথা বলবেন না প্লিজ!!

জেসন মনে মনে বললো “মেয়ে রে!! শুধু পড়া কেন...ঐ জাহিদ ব্যাটার সব কবিতা মুখস্থ করে ফেলবো। তুমি যে একটা পুরাই চলতি ফিরতি কবিতা...” বহ্নির রাগ কমাতে জেসন অন্য কথা পাড়লো।

- আপনি কি শিখাপুর বই দুটো কিনবেন না? “আগুনের ফুল” আর “রঞ্জনের প্রেমিকারা”?
- হুউউউউ...কিনবো তো অবশ্যই। ভাবছি কয়েক কপি করে কিনবো একেকটা।
- গিফট করবেন নাকি আপুর জন্যে এক্সট্রা কপি নিয়ে যাচ্ছেন?
- অন্যদের গিফট করবো। আপুতো থাকে সেই ক্যালিফোর্নিয়ায় আর আমি নিউইয়র্কে। আমি আটলান্টিকের পারে আর শিখাপা প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে...কয়েক হাজার মাইলের দূরত্ব!!
- বেড়াতে যান না কখনো?
- গিয়েছি দু’বার বেড়াতে। খুউব ভালো লেগেছে। ইচ্ছে আছে সুযোগ পেলে চাকরী নিয়ে একসময় ওখানে থাকার।
- আপনার যদি ক্যালিফোর্নিয়া ভালো লাগে তাহলে সেখানেই চলে যাবো।
- কি বললেন?

জেসন পুরোই হকচকিয়ে গেলো। “হায় হায়...মনের কথা কি সব মুখে বলে ফেলতেছে নাকি? সর্বনাশ!!!”
- না মানে বলছিলাম আমেরিকায় গেলে কি ক্যালিফোর্নিয়া থাকার জন্য ভালো?
- থাকার জন্য ওয়েদার হিসাবেতো ক্যালিফোর্নিয়া বেষ্ট...The Golden State…But living there is very expensive. By the way আপনি আমাকে আপনি আপনি করছেন কেন বলুনতো? আমি আপনার বেশ ছোট।
.
সাথে ‘ভাইয়া’ বলে নাই দেখে জেসনের মনটা ভালো হয়ে গেলো। শিখা আপুর সাথে ফেসবুকে এতো কথা হয় কিন্তু কখনো বলে নাইতো যে এমন একটা সুন্দরী ছোট বোন আছে, তার ওপরে অবিবাহিত। ভালোই হয়েছে যে লিটন ভাই আসে নাই। জেসইন্যা তোর কপালটা খারাপ না!! তবে একটু কষ্ট করতে হবে...কবিতাটা শিখে নিতে হবে। তাই সই!! এমন জীবন্ত কবিতার জন্যে পাঁচতলা থেকে লাফ দেয়া যায়। তারপরে উঠে পাঁচতলা থেকে আবারো লাফ দেয়া যায়...

বই দুটো কেনার পরে বহ্নিকে ইম্প্রেস করার জন্য জেসন বললো “ব্লগে একজন পরিচিত ছোট ভাই, ঋতো আহমেদ, দুটো কবিতার বই বের করেছে। ‘হে অনন্ত অগ্নি’ আর ‘জলের পাতাল।‘” জীবনে ওই ব্যাটার ব্লগে যায় নাই তারপরেও বিজ্ঞ মুখ করে বললো “সে বেশ ভালো কবিতা লেখে...আমার পছন্দ!!”

ষ্টলে যাবার পরে দেখা গেলো কবি স্বয়ং সেখানে আছেন; বই অটোগ্রাফ করে দিলেন। “আপনার বন্ধুতো বেশ হ্যান্ডসাম দেখতে, ইঞ্জিনীয়ার আবার কবিতাও লেখে। ইঞ্জিনীয়ার কবি...ওয়াও!!” জেসনের মনমেজাজ পুরা করল্লা হয়ে গেলো। ঋতো বলছিলো চা আর সিঙ্গারা খেতে। জেসন কখনো খাবার মানা করে না। কিন্তু আজ খেলো না।
.
বহ্নির লিস্টে আসাদ রহমানের (ব্লগার অগ্নি সারথি) থ্রিলার উপন্যাস “নজরবন্দী” ছিলো। সায়েন্স ফিকশন শিখাপু পছন্দ না করলেও বহ্নির বেশ ভালো লাগে। “আমার না খুব সায়েন্স ফিকশন ভালো লাগে। আপনার কেমন বই পছন্দ?” জেসনের চেহারায় একটা সবজান্তা ভাব চলে আসলো “তাই নাকি? আমারো সায়েন্স ফিকশন খুব ভালো লাগে। মানুষ হিসেবে আমি আবার খুব লজিক্যাল...যুক্তিবাদী মানুষের সায়েন্স ফিকশন ভালো লাগতেই হবে। ব্লগের তানভীর আহমেদ সৃজনের “রু” নামে একটা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বই বেরিয়েছে। কিনতে পারো।“

- হুউউউউ...বলছেন যখন কিনেই দেখি কেমন!!
ইশশ!! এই মেয়েটা এমন করে ‘হুউউউউ’ বলে কেন রে? পুরাই বুক এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়। জেসনের আবারো পাচঁতলা থেকে ঝাঁপ দিতে ইচ্ছে করছে।

- এইইই যে শুনুন?
এইভাবে কেউ ডাকে? মেয়ে তো না যেন একে-৪৭!! বুক ঝাঁঝরা করার মতো সব কথা ঠোঁটে নিয়ে অবলীলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

- কি ভাবছেন? আমি জাফর ইকবালের কয়েকটা বইও কিনতে চাচ্ছিলাম, সায়েন্স ফিকশন!!
জেসন ঢোঁক গিলে হাসিমুখে মাথা নাড়লো। গলা শুকিয়ে গেছে। কি এক আজগুবি কান্ড!! ভুবনখ্যাত বকবকের অটোমেটিক কালাশনিকভ৫৬ এই মেয়ের সামনে হয়ে গেছে 'আড়ং'এর ফ্রোজেন টক দৈ! না না তাও না...সেও তো ছাই টোকা দিলে ঠকঠক করে।

- হুমায়ুন আহমেদের বই পছন্দ করো কি?
- হুউউউউ...খুব। ওনার বই পড়ে আমি যতো চোখের জল ফেলেছি, তেমন আর কারো জন্য কাঁদিনি।
- জনম জনম তব তরে কাঁদিবো...
- কি বলছেন বুঝতে পারছি না!!
জেসনের ইচ্ছা হলো নিজেকে নিজে বাঁহাতে সপাটে একটা চড় কষায় “না ইয়ে...মানে এই গানের কথাটা হুমায়ুনের লেখায় আছে মনে পড়লো...ওনার লেখার কোন চরিত্রটা তমার সবচেয়ে ভালো লাগে?”

“হিমুকে!!” মেয়েটার চোখ দুটো আবারো কেমন স্বপ্নমাখা হয়ে গেলো। “আমার খুব রূপা হতে ইচ্ছে করে জানেন?” বলেই লজ্জা পেয়ে গেলো মেয়েটা। চোখ নামিয়ে ফেললো। আহারে!! কি যে সুন্দর লাগছে দেখতে...জেসন পুরা হা করে দেখছে।

বহ্নি দোকানীকে বললো “হুমায়ুনে আহমেদের এই বইটাও দিন।“ জেসন আড়চোখে দেখলো ‘হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম।‘ নীল শাড়ীতে বহ্নিকে নীল পদ্মই লাগছে...নাকি রূপা? জেসন ওর কুঁচকানো হলদে পাঞ্জাবীটার দিকে তাকিয়ে চাপা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো। একটু বিষণ্ণ লাগছে। এই রূপার হিমু সে কখনোই হতে পারবে না।

- আজাদ মাহবুবুলের উপন্যাস ‘রাতপৌষালী’ কিনতে হবে। খুব ভালো কবিতা লেখেন উনি। উপন্যাসটাও ভালো হবে আশা করি। এটা কি ওনার প্রথম উপন্যাস?
- জানি না। আর ‘রাতপৌষালী’ মানে কি বলতো? নাম না বুঝে বই পড়তে ইচ্ছা করে না।

ওর বলার ভঙ্গীতে বহ্নি হেসে দিলো “রাতপৌষালী মানে পৌষের রাত।“ বাপরে!! এই মেয়েতো দেখি মনিরা আপুর চেয়ে কম না। জেসন অবশ্য নিশ্চিন্ত মনে আজাদ মাহবুবুল উপন্যাস কিনতে নিয়ে গেলো। ব্লগে দেখেছে উনি কলকাতায় আন্তর্জাতিক বইমেলায় গেছেন। তরুণ কবিকে দেখে অভিভূত হবার কোন সুযোগ নাই।

আরো অনেক কবিতার বই বের হয়েছে...খায়রুল আহসানের ‘বহতা নদীর মতো সতত বহমান’ ও ‘Wandering Thoughts’, আর এম রহমান লতিফের (ব্লগার ল) ‘জীবনের ব্যাকরণ।‘ এম রহমান লতিফের আবার 'সোনালী স্বপ্নের অপমৃত্যু' নামে গল্পগ্রন্থও প্রকাশ হয়েছে। কবিদের আবার গল্পও লেখার দরকার কি জেসন বুঝে না!! ওর এতো ঘুরতে ইচ্ছা করেছে না। কিন্তু দেখা গেলো শিখা আপুর দেয়া লিষ্টে এই সব বইয়ের নাম আছে। শুধু কি তাই সামিয়া ইতির " হ্যালুসিনেশন," কাওসার চৌধুরীর ‘বায়স্কোপ,‘ মৌরি হক দোলার ‘চাঁপাতলীর মোড়ে,’ রুবাইদা গুলশানের (ব্লগার নীলমণি) ‘অরন্যের গুঞ্জন’ আর কানিজ ফাতেমার উপন্যাস ‘নিনাদ’ও কেনা হলো।

বই কেনা কাটা প্রায় শেষ তখন বহ্নি বললো “দাঁড়ান দাঁড়ান লিষ্ট আরেকবার চেক করি। ওমা কি দারুণ একটা বই বাদ পরে যাচ্ছিলো। শায়মা আপুর ‘কঙ্কাবতীর কথা’ কেনা হয়নি।“
- শায়মাপুর লেখা পড়েছো ব্লগে? ওনার কিন্তু কবিতার বইও বেরিয়েছে আগে।
- হুউউউউ...শায়মা আপুকে ব্লগে কে না চেনে? গান, কবিতা, আবৃত্তি, রান্নাবান্না, আঁকাআঁকি, লেখা...কি গুণ নেই আপুটার। তার ওপরে আপুটা যা সুন্দর দেখতে!!

জেসন মনে মনে বললো “এমন কি আর সুন্দর? মেয়ে তোমার মতো সুন্দরতো আমি জীবনেও দেখি নাই।“
- কি বলছেন বিড় বিড় করে?
- নাহ কিছু না...এমনি বলছি যে আজ বেশ গরম...তার ওপরে মানুষের ভিড়!!
- তাড়াতাড়ি বই কেনা শেষ করে চলেন ফুচকা আর লাচ্ছি খাই। কত্তো দিন ফুচকা খাই না!! আর শিখাপা বলে দিয়েছে আপনাকে যেন বই কেনা শেষে অবশ্যই খাওয়াই। আপনি নাকি খেতে খুব ভালোবাসেন। বন্ধুদের সাথে একবার রাগ করে আধপেট খেলেও নাকি দু’প্লেট ফুল বিরিয়ানি খেয়েছিলেন!!

জেসনের দুঃখে মরে যেতে ইচ্ছা করলো। এই মেয়ের সাথে আর কোন চান্স নাই। শিখা আপুর কি কোন আক্কেল নাই? কোন সুন্দরী অবিবাহিত মেয়েকে কেউ ছোট ভাইয়ের বিষয়ে এমন বলে। আপুকে বাসায় গিয়ে বকতে হবে; বড় বেশী সহজ সরল শিখা আপুটা।

অনেক বই কেনা হয়েছে। বইয়ের গাট্টি নিয়ে বসে ফুচকা আর লাচ্ছি অর্ডার দিলো।
- আপনি আর কি কি খেতে চান? বিরিয়ানি? অর্ডার দেন। আপু বলেছে আপনাকে পেট পুরে খাওয়াতে।
- না না। ফুচকাতেই হবে...
- আপনার ব্লগার নাম যেন কি?
- ‘কি করি আজ ভেবে না পাই’...
- আপনিও কিন্তু খুব ভালো কবিতা লেখেন...

জেসনের ইচ্ছে হলো টেবিলের তলায় ঢুকে যায়। “আআআ...পনি মানে তুমি আমার ছড়া পড়ো...স্যরি ইয়ে মানে পড়েছো?”
- হুউউউউ...পড়েছি। আর সব ব্লগারদের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে কবিতা লেখেন তাও দেখেছি। ব্লগ আর ব্লগারদের খুব ভালোবাসেন বোঝাই যায়। লেখাজোকা সংকলনওতো শুনেছি আপনার উদ্যোগ ছাড়া হতোই না।
- কবিতা বলছো কেন? আমি ছড়া লিখি।
- বাহ!! ছড়াতো কবিতার মধ্যেই পড়ে...অন্তমিল আর বাঁধা ছন্দের, তালের কবিতাই তো ছড়া। আমার কাছে কিন্তু ছড়া লেখা খুব কঠিন মনে হয়।

জেসন মনে মনে বললো “একটা কিছু ক জেসইন্যা একটা কিছু ক!! মেয়েতো তোকে ঠারেঠুরে কবি বলছে। ছড়ার বিষয়ে তোর লেকচার তো রেডিই থাকে...” কিন্তু কিসের কি!! গলা শুকিয়ে কাঠ...আওয়াজই বের হচ্ছে না। নিজেকে মনে হচ্ছে জীভ কাটা এক মহা মিচকে মেনি বিড়াল। কথাই বেরোয় না অথচ এদিকে সাধ-হাউসে আবার থৈ থৈ বান ডেকেছে। মনে মনে কতো কি যে ভেবে ফেলেছে মেয়েটাকে নিয়ে...হাতে হাত না রেখেও কল্পনায় টের পাচ্ছে ভালোবাসার উত্তাপে পোড়া হাত!

- আচ্ছা...আপনার ভালো নাম কি।
- ইমরান হাসান। ডাকনাম ‘জেসন’।
- জেসন নামটাই ভালো...একটু নায়কোচিত...
- হাহ হাহ ঠিক বলেছো....’ইমরান হাসান’ শুনলে কেমন যেন নায়িকার ভারিক্কি ভিলেন বাবা মনে হয়।
- আমার মামার নামও ইমরান হাসান।
জেসনের ক্ষুধা মরে গেলো। ভাইয়া বলে নাই কিন্তু এতো দেখি সরাসরি মামুতে প্রমোশন। নাহ...অকূল দরিয়ায় কোন ঠাই নাই রে!! এতোদিন প্রেমিকাদের বাচ্চাদের ‘মামা’ ছিলো...এখন সরাসরি প্রেমিকাদের ‘মামা!!”

- আমি কিন্তু শিখাপার খালাতো বোন।
জেসনের মুখ কালো “অহ...আচ্ছা। হ্যা আপুতো একমাত্র মেয়ে জানি।“
- আমাদের না তিনজন মামা। মেজোমামার আপনার নামে নাম।
আবারো মামা!! জেসনের চোখে পানি চলে আসলো। সে কি তবে চার নম্বর মামা হতে যাচ্ছে। হায়রে কপাল!! “হুমায়ূন আহমেদের এই বইটা আপনার জন্যে কিনেছিলাম।“ জেসন বেজার মুখে বইটা নিয়ে বললো “অনেক ধন্যবাদ।“

“আপনাকে কেউ বলেছে যে আপনার মধ্যে একটা হিমু হিমু ভাব আছে।“ জেসন চমকে তাকালো “আর শুনুন...তিন মামার মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের কিন্তু মেজো মামা। মামার নামের সব মানুষকেই আমার ভালো লাগে।

বহ্নির মুখে রহস্যময় হাসি; চোখে দুষ্টামি। জেসন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে বললো “ওই আরো এক প্লেট ফুচকা, একটা চটপটি আর দুইটা ফালুদা দিয়া যা!!”

জেসনের ক্ষুধা ফিরে এসেছে।

© শিখা রহমান

বিঃদ্রঃ আমার এই গল্পের উদ্দেশ্য এবারের বইমেলায় ব্লগের লেখকদের বইয়ের বিজ্ঞাপন। গুণমুগ্ধ পাঠক হিসাবে গল্পে ব্লগারদের প্রকাশিত বইয়ের নাম দিয়ে দিলাম। বিভিন্ন বইমেলা ২০১৯ পোষ্টে যাদের নাম আছে সব লেখকদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছি। লেখকরা ইচ্ছে হলে তাদের অন্যান্য তথ্য এই পোষ্টের মন্তব্যে দিয়ে দিতে পারেন। কেউ বাদ গেলে জানাবেন। আমি গল্পে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবো। ব্লগের সব লেখকদের বইয়ের সাফল্য কামনা করছি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:০৫
৩৮টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছুটিরদিন বিকেলে বইমেলায়

লিখেছেন তারেক_মাহমুদ, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৮:২৪




গত কয়েকদিন ধরেই বইমেলায় যাওয়ার কথা ভাবছিলাম, অবশেষে ছুটিরদিনে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম মেলায় যাওয়ার। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়। বিশাল লাইন দেখে বেশ বিরক্তি নিয়েই মেলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরুর দুধের চেয়ে মূত্রের দাম বেশি কলকাতায়! দৈনিক আনন্দবাজার

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:২৩



ছবি: দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত

গরুর দুধের চেয়ে মূত্রের দাম বেশি কলকাতায়! দৈনিক আনন্দবাজার

বহুদিন আগের কথা, ‘পঞ্চগব্য’ নামে একটি পুজো-উপাচারের নাম শুনেছিলুম। হয়তো অনেকেরই ইহা জানা থাকিবে। মুসলিমরা সবাই না জানিলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল মাহমুদকে নিয়ে সাধারন মানুষ যা ভাবছেন

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৩০



১। কবি আল মাহমুদ মারা গেছেন। প্রকাশ্যে শোক করতে লজ্জা লাগলে অন্তত মনে মনে শোক করুন। কেননা তিনি এদেশের বিশুদ্ধতম কাব্য প্রতিভা ছিলেন।

২। আল মাহমুদ সরকার বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯ (বইমেলার ১৫তম দিনে ব্লগারদের উপস্থিতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।)  

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:১২


ক্যামেরার সামনে আছেন ভাই কাল্পনিক_ভালবাসা, নজরবন্দির কারিগর অগ্নি সারথি, ব্লগারদের প্রিয় সঙ্গি নীল সাধু সৈয়দ তারেক ভাই



বায়স্কোপে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন কাওসার ভাই, পাশে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের বই আমাদের বইমেলা

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৫১

মেলায় ঢুকেই যে কথাটি মনে হলো সেটা হচ্ছে আরে আমরা আমরাই তো!!!! প্রত্যেক ব্লগারদের মেলায় অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতন, প্রায় প্রত্যেকেরই নতুন বই বের হয়েছে এবং একক বই বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×