somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ন

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক সময় বিশ্বে প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র ছিল ইউরোপ পরে তা যুক্তরাষ্ট্রতে পরিবর্তন হয় আর এখন এই প্রবৃদ্ধি এশিয়াতে মোটামুটি তা দক্ষিন এশিয়ার দিক ধাবিত হচ্ছে অর্থ্যাৎ বর্তমানে চীনে যে প্রবৃদ্ধি তার মত প্রবৃদ্ধি ভারতে এবং বাংলাদেশে হওয়ার সম্ভাবনা ব্যাপক কারন এই অঞ্চলে মানব ও প্রাকৃতিক সম্পদ পশ্চিমা দেশগুলোর থেকে বেশি। আর এই অঞ্চলে চীন পরাশক্তি আর ভারত হওয়ার দাবিদার। ভুরাজনৈতিক দিকথেকে এই অঞ্চলের তথা বাংলাদেশের গুরুত্বও অনেক খানি যা আমরা জন কেরির সফর, চীনের প্রেসিডেন্ট এর আসার খবর মোদীর সফর, জি-৮ সম্মেলনে শেখ হাসিনার অংশগ্রহন ইত্যাদির মাধ্যমে বুঝতে পারি। মোটামুটি বাংলাদেশ নিয়ে একরকম শীতল যুদ্ধ চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখানে স্থায়ীভাবে তার প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি মাত্র ৯ ঘণ্টার ঝটিকা সফর করে গেল বাংলাদেশে। জন কেরির বাংলাদেশে আসার মূল কারণগুলোর মধ্যে একটি কারণ ছিল, আগামী ১০ অক্টোবর-২০১৬ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঢাকায় আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী সরকারের সাথে চীনের সম্পর্ক দৃঢ় হতে চলেছে। আর সেই সম্পর্ক যাতে বেশি শক্তিশালী না হয় এবং চীন যাতে বাংলাদেশের উপর তাদের পূর্ণ প্রভাব বিস্তার না করতে পারে। তাই জন কেরির ঢাকা সফর ছিল
চীন আক্রমণের জন্য বা চীনকে প্রভাব দেখানোর জন্য বাংলাদেশ হলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তেমনি চীনের কাছেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ আত্মরক্ষার জন্য, ভারত মহাসাগরে ও ভারতের উপর প্রভাব বিস্তার করার জন্য।
আর ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। এমনিতেই চীন পাকিস্থান একবলয় আর বাংলাদেশ যদি তাতে যোগ দেয় তাহলে ভারতের জন্য বিশাল হুমকি

বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে চীনের প্রভাব নিয়ে অনেকটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ২০১১ সালে জাপান, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একযোগে চীনা বিরোধী ত্রিদেশীয় জোট গঠন করে। এই জোট এখনো সক্রিয় রয়েছে। সে কারণে চীনের বিষয়ে ভারতের মনোভাব নিয়ে আপাতত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। কেননা চীনের সাথে ভারতের চাপা লড়াই বহুদিনের। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে চীনের প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ছে। এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে একাধিক প্রকল্পে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ করে আসছে চীন। ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে এই অঞ্চলে প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে চীন। এখানে চীনের প্রভাবকে ভালোভাবে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। ওমাবা প্রশাসনের শেষ সময়ে এসে চীন প্রশ্নে বাংলাদেশের মনোভাবও যাচাই করতেই হয়ত তার সফর ছিল আবার গতকাল মার্কিন ও বংলাদেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকে হয়ত চীনের বিষয়ে সাবধান বার্তা প্রদান করতে চাইছে। এছাড়া চীনকে দমাতে ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র যাতে পরস্পরের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে রসদ ভরার ও মেরামতির জন্য প্রবেশাধিকার পায়, তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের সামরিক বাহিনী একে অন্যের নৌ, বিমান বা সেনা-শিবিরগুলোতে গিয়ে নতুন শক্তিতে বলীয়ান হতে পারবে। সামরিক পরিভাষায় একে বলে ‘রিপ্লেনিশমেন্ট’। সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক পরাক্রমের মোকাবিলা করার জন্যই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র এই নজিরবিহীন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে। এর ফলে রাশিয়াও বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করল পাকিস্থানের সাথে মহড়া চালিয়ে।

জন কেরি মাত্র ৯ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকবার দেশে আইএসের কথা বলেছে। আর আমরা জানি যে, আইএস হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। বর্তমানে যেসব দেশ আমেরিকার স্বার্থরক্ষা করে চলে না সেই দেশের উপর এই আইএস দিয়ে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। আর সেই আইএস দমনের অজুহাতে সেই দেশে আক্রমণের বৈধতা করে নিয়ে সেই দেশে ব্যাপক প্রাণহানি, সম্পদহানি করে সেই দেশের অর্থনীতিকে পিষে ধ্বংস করে ফেলে তারা। সিরিয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাস বিস্তারের নতুন ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে তুরস্ক। এতোদিন তুরস্ক মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তাদের সহায়ক বন্ধু ছিল। তুরস্কে এরদোয়ান সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থ সামরিক ক্যু’র পরে তুরস্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ক্রমাগত খারাপ হতে চলেছে। ১৯৭৪ সালে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার সে জন কেরির মতো বাংলাদেশ সফর করেছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে সে দেশে ফেরার পর বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে অপমান করেছিলো। কিন্তু কি কারণে এবারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের পথ অবলম্বন না করে উল্টো বাংলাদেশের তোষামোদে ব্যস্ত আছে? তাই বাংলাদেশকে খুব হিসাব কষেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। হিসাবে চুল পরিমাণ ভুলের জন্য কিন্তু বিশাল অঙ্কের মাসুল দেয়া লাগতে পারে বাংলাদেশকে তথা বাংলাদেশের শান্তিপ্রিয় মুসলিম জনতাকে। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীন এই ত্রিভুজীয় আগ্রাসী শক্তিই চাচ্ছে যার যার প্রভাব বাংলাদেশের মতো শান্তিপ্রিয় দেশের উপর প্রভাব বিস্তার করা যার কারণে তারা নিজেদের মতো করে বাংলাদেশকে সাজানোর পরিকল্পনা করছে।

ভারত ও চীনকে বাগে আনতে বঙ্গোপসাগরে একটা স্থায়ী মার্কিন নৌঘাঁটি গড়ে তোলার স্বপ্ন তাদের দীর্ঘদিনের। যেকোনো ধরনের টোপ বা কৌশলের বিনিময়ে ওরা এগুলো বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাতে পারে। তাই মার্কিন সম্পর্কে অতিরিক্ত উৎসাহ বুমেরাং ফল দিতে পারে, এটা আমাদের যেন ঠিক সময়ে মনে থাকে। উল্লেখ্য, আগামী ১০ অক্টোবর-২০১৬ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং বাংলাদেশে আসছে। এ সময় বাংলাদেশের সাথে তার ৬.০৭ বিলিয়ন ডলারের ৬টি মেগা প্রজেক্ট নিয়ে চুক্তি সাক্ষর হবে। এই প্রজেক্টগুলো হলো- (১+২) সমুদ্র উপকূলে রাস্তা নির্মাণ এবং উপকূল নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি (সীতাকু- থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার)। খরচ ২৮৫৬ মিলিয়ন ডলার। (৩) আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত রেলপথ উন্নয়ন। খরচ ১৭৫৬ মিলিয়ন ডলার। (৪) পিডিবি’র (বিদ্যুৎ) সাথে চুক্তি ৫২১ মিলিয়ন ডলার। (৫) মংলা বন্দর বর্ধিতকরণ ও আধুনিকায়ন। খরচ ২৪৯ মিলিয়ন ডলার। (৬) বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা উত্তোলন বৃদ্ধি করতে কার্যক্রম। খরচ ২৪৯ মিলিয়ন ডলার। সম্ভবতঃ আওয়ামী সরকারের সাথে চীনের সম্পর্ক দৃঢ় হচ্ছে, এই আশঙ্কা থেকেই আমেরিকার ‘আইএস’ নিয়ে হুমকি। তবে সরকারের বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, বঙ্গোপসাগরের কারণে ভারত মহাসাগরের পানিসীমায় হওয়ায় বাংলাদেশ নিরাপত্তার কৌশলগত দিক দিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আর বঙ্গোপাসাগরের কারণে ভারত মহাসাগরে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার রয়েছে। এ অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তা নির্ভর করবে আমরা এর সুযোগ কতোটা নিতে পারবো কোনো বলয়ে থাকব নাকি থাকবনা তার উপরে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২২
১০টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×