অনেকদিন আগের কথা তখন আমি অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তি হতে গিয়ে স্লিপ করেছি। বছর খানিকের জন্য ছুটি-পড়াশোনার ঝামেলা থেকে অনেকটাই মুক্ত বলা যায়। কোচিং নামক মহা দায়িত্ব ফেলে দিয়ে বাড়ি বসে আছি। এক আন্টি বাবাকে বললেন তার মেয়ে সেবার এস এস সি পরীক্ষা দেবে। আমি যেন একটু গণিত আর রসায়ন টা পড়াই । বাবা আমাকে পড়াতে বললেন। আমি মনে মনে তো ব্যাপক বিপদে পড়ে গেলাম-পাশ কাটিয়ে যেতে বাবাকে বললাম, বাবা আমার তো আগামী বছর যেভাবেই হোক চান্স পেতে হবে-আমার সময় নাই। বাবা হুঙ্কার দিয়ে বললেন এই জন্যই বুঝি সারাদিন টইটই করে মিল্লাদের বাসার সামনে পাওয়া যায় তাই না! তা আগামী বছর পরীক্ষা দিতে কোনো কোচিং এর নাম গন্ধ যেন না শুনি, আমি কিন্তু আর টাকা পয়সা দিতে পারব না। বাবা 'র কথায় বিশেষ পাত্তা দিলাম না। বাঁচা গেছে এটাই বড় কথা। সেই কবে রসায়ন পড়ছি এস এস সি-র , এতোদিনে খেল খতম । যাই হোক আমি আবার টইটই রাজ্যে ফিরে গেলাম। টইটই রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বন্ধুবর রাজু (যার কিনা চান্স পাওয়ার ১০০% সম্ভাবনা থাকতেও পায় নাই কিছুতে- সেখানে who the hell is me!!!) বলল দোস্ত যে-করেই হোক আগামী বছর চান্সটা কিন্তু নিতেই হবে - অলরেডি মানসম্মান কিন্তু প্লাস্টিক হইয়া গেছে। আমিও মাথা নাড়লাম। এদিকে বালিকার আম্মাজান আবার আমার আম্মুর কাছে ধরা দিয়েছেন , আমি যেন একমাস হলেও তার কন্যাকে পড়াই। আমি এইবার বন্ধু শফিক(আমাদের ব্যাচের অন্যতম সফল পাপী যে কিনা SUST- এ পরিসংখ্যান পেয়ে মহাখুশি ছিল) কে ধরিয়ে দিলাম। বালিকার আম্মা বললেন শফিক তো বাসায়-ই থাকে না সে তো অনেক ব্যস্ত ক্লাশ করতে হয় সে তো এখন হলে থাকে। আমি পুরাই ধরা খাইয়া গেলাম। রসায়নের রস আস্বাদনে আমাকে আবারো বই খুলে বসতে হলো । যাই হোক মাসখনিক পড়ানোর পর সেই বালিকার সাথে আর যোগাযোগ হয় নাই। দীর্ঘদিন পর আজ সেই বালিকার সাথে মোহাম্মদপুরের রাস্তায় ধরা, স্যার ! আমি পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি বালিকা আমার দিকে তাকিয়ে তার সেই স্বভাব সুলভ হাসি। জানলাম সে এখন একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পরছে-১ম বর্ষে। কথা বলার এক পর্যায়ে ব্জানতে চাইলাম পড়াশোনার কী অবস্থা? বালিকার সেই স্বভাব-সুলভ উত্তর- ''পড়তে আর ভালো লাগে না স্যার'' এইবার আমি একটু ভালো করে তাকিয়ে দেখি কী ভুল-টাই না করে ফেলেছি! বালিকা যে আর বালিকা নাই!.......কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দেখি একখানা পঙ্খিরাজ(বাইক) নিয়ে নায়ক হাজির । বালিকা বলল স্যার যাই, ভালো থাকবেন। আমি একটা নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পাশের দোকানীকে হাত বাড়িয়ে দিলাম নিকোটিনের নিঃসার্থ ধোঁয়ার সন্ধানে............. ''মামা, একটা বেনসন লাইট হবে?''
নিকোটিনের নিঃস্বার্থ ধোঁয়া
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা
এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন
ঝর্ণা জল

আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।
উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।
শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন
জিম করা কি হারাম?

জিম করা কি হারাম?
হ্যাঁ, জিম করা হারাম!
যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!
কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।
এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!
অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রচন্ড রোদে
প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ
রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।