somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিভাবে আমাদের অধিকাংশ মসজিদের ইমামগণ নামায চুরি করছেন ?

১৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Click This Link
আগের পোষ্ট-এর শিরোনাম আমাদের হানাফী মাযহাবের সম্মানিত আলেমগণের ইগো নিয়ে করা হলেও মূলতঃ তাদের কাছে বিনিত প্রশ্ন ছিল কিভাবে মসজিদের ইমামগণ নিয়মিত ফরজ স’লাত চুরি করছেন , তার দলিল প্রমাণ দিয়ে উপস্থাপন করেছিলাম [ উপরে লিংক সংযুক্ত করেছি ]।

আজ তারই ধারাবাহিকতায় বিদ্’আত এর ভয়াবহতা সহ নিয়মিত ফরজ স’লাতকে কিভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে , তাদেরকে গোপনে শুধরানোর পরামর্শ দেয়ার পর, তারা তাদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে মসজিদ কমিটির ঘাড়ে এবং সমষ্টিগত মুসল্লীদের চাহিদা বলে চালিয়ে দিয়ে এখনো শুধরানোর চেষ্টা না করে বরং তারা তাদের ইগো বজায় রেখে নিয়মিত স’লাত চুরি করছেন; সে বিষয়টা তুলে ধরছি।

আলেমদের ছোট করার জন্য প্রকাশ্যে বিষয়টা আনতে চাইনি । কিন্তু তাদের কারো কারো ধৃষ্টতা এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, প্রকাশ্যে তুলে ধরা ছাড়া আর কোন উপায় দেখছি না ।

আমাদের দেশের ইমাম প্রশিক্ষণের দায়িত্বে যারা আছেন, অনুগ্রহ করে তারা বিষয়টা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এসব নামায চোরদের সংশোধন করে লাইনে আনুন, নয়তো তাদেরকে ইমামতি থেকে অব্যাহতি দিন । এভাবে চলতে পারে না ।

দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠালগ্নে যারা প্রিন্সিপ্যাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম আলেম মওলানা আবরারুল হক ছাহেবের নাম এশিয়া মহাদেশের অনেকেই জানেন । তিনি তৎকালিন প্রথিতযশা আ’লেম ছিলেন । যিনি অসংখ্য আ’লেম তৈরী করে গেছেন । মওলানা আবরারুল হক ছাহেবের বিভিন্ন লেকচার সামগ্রির সংকল থেকে বুয়েটের সাবেক প্রফেসর হামিদুর রহমান (রাহিঃ) এর বাসায় প্রতি সোমাবার যে ঘরোয়া মাহফিল হয়, সেখানে কোন এক সোমবারের মাহফিলে পাঠ করে শোনানো হচ্ছিল ।আমি সেই কথাগুলো কোট করে আমাদের হানাফী মাযহাবের অনেক মসজিদের ইমামদের গোপনে তাদেরই মুরুব্বী আ’লেমের কথাগুলো মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেছি । কিন্তু অধিকাংশই সংশোধন হলেন না । তিনি কি বলেছিলেন ? শুনুন সে কথা -

“ আমাদের ঈমাম ছাহেবদের কি হইল ? যখন মুসল্লীদেরকে স্বজোরে তিলাওয়াত শোনান, তখন খুব দিল দরদ দিয়ে/ তারত্বিলের সাথে চমৎকার তিলাওয়াত শোনান, আরবী শব্দের উচ্চারণে গ্রামার পুরোপুরি মেনে চলেন, অথচ যখন চুপি চুপি নামায আদায় করেন এবং নামযের অন্যান্য যে অংশগুলোতে চুপি চুপি যত তাসবিহ, দোয়া, তাশাহহুদ সহ যাবতীয় যা কিছু তিলাওয়াত করেন, তা অন্য রকম করছেন ? মানে চুপিচুপি তিলাওয়াতের সময় গ্রামার মেনে চলাকে গুরুত্ব না দিয়ে এতটাই দ্রুত পড়েন যে আমরা মুসল্লীগণ ঠিকমত পড়তেই পারি না ? কেন আপনাদের এই অবস্থা ? মুসল্লীদের শোনাচ্ছেন কি নিজের জন্য বাহবা কুড়াতে ? আর আল্লাহকে শোনাচ্ছেন এরকম ফাঁকি দিয়ে যে, আল্লাহর কাছ থেকে নগদ কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না ? আল্লাহকে ভয় করেন না ?”

এই কথাগুলো তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার পর তারা স্বীকার করেন যে, হ্যা, তাদের এই সীমাবদ্ধতা রয়েছে । কিন্তু তারা নিজেদের স’লাতে বিনয়ী হচ্ছেন না । তারা সংশোধন করছেন না । তাদের ইচ্ছে মতই চালিয়ে যাচ্ছেন ? উপরের লিংকে রাসুল (সঃ) নামায চুরি সংক্রান্ত হাদীস দিয়ে তাদেরকে সাবধান করেছি । কিন্তু তারপরও তাদের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না । তারা কমিটির দোহাই দেন অথবা অধিকাংশ মুসল্লীদের ডিমান্ড বলে চালিয়ে দিচ্ছেন । বলছেন, ওভাবে নামায আদায় করতে গেলে আমার চাকরি থাকবে না ।

কিন্তু আমি অনেকের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছেন, এটা তিনি মিথ্যা কথা বলছেন । তিনি যেভাবেই নামায আদায় করবেন, আমরা সেভাবেই তার পিছনে ইকতাদাহ্ করব ।

এবার আসুন, কিভাবে তারা নতুন নতুন বিদ্’আত ছড়াচ্ছেন ?

আমাদের বিদ্’আতপন্থী আলেমরা কি রাসুল(সঃ) এর চেয়ে বেশী বোঝেন ? যেখানে রাসুল(সঃ) বলেই গেছেন, “আমাকে কদরের রাতটি আল্লাহ ভুলিয়ে দিয়েছেন । তাই তোমরা রমাদানের শেষ দশকে সেটিকে খুঁজবে । এর মানে কি ? আসলে রামাদানের শেষ ১০ রাতকেই কদরের রাত হিসেবে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে । সারা বছরইতো আমাদের ঘুমিয়ে কাটে । অন্তত শেষ ১০ রাত কি একটু কম ঘুমালে মরে যাব আমরা ? কেন তাহলে বেজোড় রাত ( যা আবার সূরা বাক্বরহ এর ১৮৯ নম্বর আয়াতে হিলাল বিষয়ে আল্লাহ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তা না মেনে সারা বিশ্বের মুসলিমরা অতি পন্ডিতি করে চাঁদ দেখা নিয়ে ঝামেলা পাকিয়ে কোন্ দিন যে চাঁদের প্রথম দিন সেটা গুলিয়ে ফেলে জোড় -বিজোড়ের হিসাবই গন্ডগোল করে ফেলেছেন ) , তার মধ্যে আবার সূরা কদরের লাইলাতুল কদর বাক্যটি ৯টা হরফে লেখা এবং ৩ বার উল্লেখ করা হয়েছে বলে ক্যালকুলেশন করে বলবেন ৩ গুনন ৯= ২৭ তারিখ ইশরা করে ? এভাবে আমাদের বিদ’আতপন্থী আলেমরা কদর খুঁজতে খুঁজতে ২৭ তারিখকে এমনভাবে নির্দিষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশের সরকার এই রাতকেই নির্দিষ্ট ক’দর রাত ঘোষণা করে সরকারি ছুটির ব্যবস্থা করে দিয়েছে । বলুন, এটা কি রাসুল(সঃ) এর চেয়ে বেশী বোঝা হ’ল না ?

ক’দরের রাত নিয়ে যেখানে রাসুল(সঃ) নির্দিষ্টকরণ করেননাই, সেখানে আমাদের এসব আলেমগণের এতটা নির্দিষ্টকরণের পেছনে ছোটার হেতু কি ? তাদের কারণেই এই দেশের অধিকাংশ মানুষ একমাত্র ২৭ তারিখ ছাড়া বাকী রাতের গুরুত্ব দেন না । সরকারও কেবল ঐ তারিখটাকে আলাদা মর্যাদা দিয়ে ছুটি করেছে । কেন এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন উনারা ?

আল্লাহ আমাদের এত বেশী বোঝা পন্ডিতদের হাত থেকে রক্ষা করুন । আমরা তওবা করি, “ হে আল্লাহ যে যা করে করুক, আমার রাসুল(সঃ) যেমন করে কদ’র খুঁজতে বলেছেন, আমাদেরকে রমাদানের শেষ ১০ রাত সেভাবেই কদর এর ইবাদাত করার তৌফিক দিন । না হলে হাশরের ময়দানে কোন বিদ’আতি মওলানা আপনার/আমার জন্য সুপারিশ করবে না ।

সেদিন তাদের অবস্থা কি হবে, তাই নিয়েই থাকবে প্রেসান । সময় থাকতে সাবধান হই । নামায চোরদের বয়কট করুন । সহীহ শুদ্ধ নামায যারা পড়াতে পারবেন, তাদেরকে ইমাম নিয়োগ করুন । নয়তো সবার আমল বরবাদ হচেছ কিন্তু ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও পারি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬



জ্ঞানী মানুষ পড়ালেখা করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউবা পড়ালেখা করে একটি ভালো জবের জন্যে, কেউবা জ্ঞান আহরণের জন্যে, আবার কেউবা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×