আল্লাহ পবিত্র ক্বুর’আনের সূরা আল্-আন’আম এর ১৫৯ নং আয়াতে বলেছেন, “নিশ্চয়ই যারা নিজেদের দীনের মধ্যে নানা মতবাদ সৃষ্টি করে ওকে খন্ড বিখন্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের সাথে কোন ব্যাপারে তোমার কোন দায়িত্ব নেই, তাদের বিষয়টি নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সমর্পিত, পরিশেষে তিনিই তাদেরকে তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবহিত করবেন।”
এই আয়াতকে কি ইখতিলাফকারিরা ভয় করেন না ? আপনারা ইখতিলাফ করতে করতে শেষ পর্যন্ত ক্বুর’আনের আয়াত , যা কি না আল্লাহ ক্বুর’আন দিয়েই মিমাংসা করে পূর্ণতা দিয়েছেন, তা নিয়েও ইখতিলাফ প্রতিষ্ঠিত করছেন ?
আল্লাহ সূরা আল্-ফাতিহাকে বলেছেন “سَبۡعًا مِّنَ الۡمَثَانِیۡ” অর্থাৎ বার বার পঠিত ৭টি আয়াত । [ সূরা আল্-হিজরঃ আয়াত-৮৭ ]
আর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, সূরা আল্-ফাতিহার প্রথম আয়াত “بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ [বিসমিল্লাহির র’হমানির র’হিম]” । এ বিষয়ে সরাসরি এরকম হাদীস নেই । কিন্তু এটা বুঝতে হবে নিচের হাদীস দিয়ে ।
মুসলিম শরিফ ( ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রকাশিত ) এ যে সকল স’লাত সরবে পড়া হয়, সে বিষয়ের হাদীস।
হাদীস নম্বর ৭৭৫ দেখুন, স্পষ্ট করে বলো হয়েছে,
“আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ(সঃ), আবু বকর, উমার ও উসমান(রাঃ) এর পেছনে স’লাত আদায় করেছি, কিন্তু তাদের কাউকে সূরা আল্-ফাতিহা পড়ার সময় “بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ” সরবে পড়তে শুনিনি ।”
আর এই কারণে আজতক কেউ কি আরবের দেশগুলোতে প্রিন্টেড কোন কুরআনে সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াত আমাদের দেশের কুরআনের মত اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ আয়াতটিকে ১ম আয়াত হিসেবে লেখা দেখেছেন ? একটাও দেখাতে পারবেন ? সূরা ফাতিহার এই আয়াত নিয়ে যদি ইখতিলাফ আরব দেশে থাকত, তাহলে সেখান থেকে কেন আজও একখানা কিতাবে সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াত “بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ব্যতিত “اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ” দিয়ে শুরু করা হয়নি ? কেন আরব দেশের কিতাবে শেষ আয়াতকে আমাদের দেশের মত দুইভাগে ভাগ করে ৭ আয়াত বানায়নাই ? তাহলে আমাদের দেশের পন্ডিতরা কোন সাহসে “صِرَاطَ الَّذِیۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَیۡهِمۡ ۬ۙ غَیۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَیۡهِمۡ وَ لَا الضَّآلِّیۡنَ” আয়াতকে দুই ভাগে ভাগ করে “ عَلَیۡهِمۡ” এর পরে আয়াত নম্বর ৬ লিখে বাকী অংশকে ৭ নম্বর লিখে শেষ করেছেন ? আপনাদের কি এতটুকু ভয় করেনাই ? কোন হাদীস দিয়ে ইখতেলাফ করেন ? সেই হাদীস দিয়ে সাহাবীরা কেন ইখতিলাফ করেননাই ? খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে কেউ ইখতিলাফ করলেন না কেন ?
ফজর, মাগরিব এবং এশার স’লাত আদায়ে যখন কেউ কেউ সূরা আল্-ফাতিহা তিলাওয়াত করার সময় “বিসমিল্লাহির র’হমানির র’হিম” স্বজোরে তিলাওয়াত করতেন, তখন রাসুল(সঃ) বলেছেন, “এই আয়াতটি তোমরা চুপি চুপি তিলাওয়াত করবে।” তখন কিন্তু কেউই বলেন নি যে, “ ইয়া রাসুলুল্লাহ, এটি যদি সূরার প্রথম আয়াত হয়, তাহলে কেন আমরা এই স’লাতে শব্দ করে পড়ব না ? কারণ তারা রাসুল(সঃ) কথা শুনতেন আর মানতেন । কারণ আল্লাহ সূরা আন্-নূর এর ৫১ নম্বর আয়াতে বলেছেন “سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا ؕ” অর্থাৎ শুনবে আর মানবে । এ ছাড়া রাসুল(সঃ) সর্বদাই বলতেন, তোমরা আমাকে অনুসরণ , অনুকরণ করবে । অর্থাৎ আমাকে যেভাবে ইবাদাত করতে দেখবে এবং শুনবে, অবিকল সেভাবেই করবে । এর মধ্যে কিছু বাড়াবেও না কমাবেও না । তাহলে সেটা হবে বিদ্-আত ।
অতএব আল্লাহ যে ফিত্বরাতে (পরিপূর্ণরূপে আল্লার সমীপে আনুগত্যের নীতি) মানুষ সৃষ্টি করেছেন [ সূরা রুমঃ আয়াত-৩০ ], সেই নীতি অনুযায়ী আল্লাহ যেহেতু বলেছেন, “ তোমরা আমার আনুগত্য করবে, রাসুলের আনুত্য করবে” [ সূরা আলে- ইমরানঃ আয়াত-১৩২ ] সেহেতু শোনা এবং মানা ( “سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا ؕ” ) এর নাম ইসলাম । ইসলামে “যদি, কিন্তু , তবে --- ইত্যাদি দিয়ে যুক্তিখন্ডন করে মূল আকিদা নিয়ে ইখতিলাফ করতে বলা হয়নাই । ইখতিলাফ -ইজতিহাদ অন্য এমন কিছু বিষয়ে, যা কুরআনে বা হাদীসে স্পষ্ট নেই কিন্তু কুরআনের কোন আদেশের নীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজন হয় । যেমন তামাক নামক ভয়ংকর মাদকদ্রব্য কি হারাম ? যেহেতু হারামের তালিকায় আল্লাহ তামাকের কথা বলেননাই । কিন্তু বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, এটা ভয়ানক বিষ । যা ধীরেধীরে মানুষের জীবনাশ করতে পারে, এমন একটা মাদক । কিন্তু তাই বলে কুরআনের আয়াত নিয়েও করবেন ইখতিলাফ ? যা কিনা আল্লাহ সেটেল করেছেন । রাসুল(সঃ) প্রাকটিক্যাল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন ?
অনেক করেছেন । এবার থামুন । আল্লাহকে ভয় করুন । আল্লাহ হাফেজ ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

