শিয়ারা যেহেতু ইসলামের মৌলিক আকিদায় গলদের মধ্যে আছে, এখনো তওবা করে তাদের ভুল স্বীকার করছে না, সেহেতু তারা মুসলিম হিসেবে দাবী করলেও তারা এখনো মুসলিম হতে পারেনি । এ কথা ঠিক ।
কিন্তু এই দেশের মানুষ ইরাণকে সাপোর্ট করছে কি কারণে ? সবাই কি গাধা না কি ?
বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা যে তেলের সংকটে নিমজ্জিত হয়ে গেল একটা পররাষ্ট্রনীতিগত ভুলের কারণে, তাকে আপনি কি মনে করেন ?
অথচ আপনারা মুসলমান হয়ে আমেরিকাকে সমর্থন করলেন ? কেন ? তাদেরকে সমর্থন করলেন কুরআনের কোন আয়াতের রেফারেন্সে ? কোন হাদীস এর দোহাই দিয়ে , বলবেন কি ?
অথচ রাসুল(সঃ) যখন এক বেদুইনের লাশ যাবার সময় তার সাহাবীদের সবাইকে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে বললেন, তখন সাহাবীরা বলেছিলেন, “ সে তো মুসলিম ছিল না, তাহলে আমরা উঠে দাড়িয়ে সম্মান করলাম কেন ? “ তার জবাবে রাসুল(সঃ) কি বলেছিলেন ? আপনি কি জানে না সে হাদীস ? তিনি বলেছিলেন, “ সে কি আদম সন্তান ছিল না ? আদম সন্তান কি তোমাদের ভাই নয় ? সে কাফির ছিল, সে হিসেব সরাসরি আল্লাহর কাছে । সে আল্লাহর কাছে চলে গেছে । মৃত্যুর পর কোন আদম সন্তানকে আর তোমার শত্রু মনে করার সুযোগ নেই । মৃতকে সম্মান করবে আদমের সন্তান, মানে তোমার ভাই হিসেবে। তাহলে আপনি কোন যুক্তিতে বলছেন, তাদেরকে সমর্থন করা যাবে না ? সে কি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ?
পৃথিবীর সকল আদম সন্তান মুসলমানের ভাই । কেননা সুস্থ্যতা থাকা অবস্থায় শেষ পর্যন্ত কোন অমুসলিম যদি তওবা করে ইসলামে পরিপূর্ণভাবে ফিরে আসতে পারে, তাহলে আল্লাহ তার পেছনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন । অতএব কোন মুসলমানের পক্ষে মানুষ সম্পর্কে এরকম ধারণা পোষণ করার অবকাশ নেই যতক্ষণ পর্যন্ত তারা প্রকাশ্যে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা না করবে ।
এখানে মূল বিষয় হচ্ছে ইসরাইল-আমেরিকা যুদ্ধটি চাপিয়ে দিয়ে সারা পৃথিবীতে তেলের সংকট সৃষ্টি করেছে । তারা এত হ্যাডম নিয়ে তাদের প্রধান নেতাকে খুন করে মনে করেছিল, তারা ইরাণকে পরাজিত করে দিয়েছে, তাদের শাসক পরিবর্তন করে তাদের অনুগত পা চাটা চাকরকে বসিয়ে দিতে পারবে । কিন্তু সেটা তারা না পেরে ইরাণের কাছে নাস্তানাবুদ হয়েও তাদের ইগো বজায় রাখতে নানা রকম বাহানা করে যুদ্ধবিরতির নামে নাটক করছে আবার তলে তলে হরমুজ ব্লক, ইরাণের মালবাহী জাহাজ দখল ইত্যাদি করে ইরাণকে সন্ত্রাসী কায়দায় উস্কে দিচ্ছে । এতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশীগ্রস্থ্য হচ্ছে । তেল এর দাম বেড়ে যাচ্ছে, সরবরাহ কমে গেছে, সেই সাথে যুদ্ধ ইস্যু নিয়ে আমাদের দেশের অসাধু লোকজনের কারসাজী করার কালচারও উড়িয়ে দেয়া যায় না ।
সুতরাং এ যুদ্ধে নীতিগতভাবে অবশ্যই আমাদের রাষ্ট্রকে ইরাণকে সমর্থন করে আমাদের তেলের সরবরাহ ঠিক রাখা জরুরী । এখানে তারা মুসলমান কি না ? তাদেরকে মুসলিম হিসেবে সমর্থন করা উচিৎ কি না, এই মুর্খতা করার সময় এখন ? কে তেমন পাক্কা মুসলিম আছে বর্তমান মুসলিম বিশ্বে ? সৌদি বাদশরা কুরআনের আয়াত অমান্য করে জেনার ধারে কাছেই শুধু যায়নাই, তারা হালাল নাইট ক্লাব বানিয়ে, ট্যুরিজমের দোহাই দিয়ে পশ্চিমা সংস্কৃতিকে যেভাবে নবীর পবিত্র মাটিকে জেনাখোরদের আখড়াখানা বানিয়েছে,তারা কি কুরআনের আদেশ লংঘণ করেনি ? এভাবে সারা পৃথিবীতে মুসলমানদের মধ্যেইতো এখন ইসলাম অনেকাংশে অনুপস্থিত । তো ? এইসব নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত হওয়ার সময় নয়, এটা আমাদের মত বুদ্ধুরা কবে বুঝব ?
আমরা যারা মুসলিম হিসেবে বড়াই করে কথা বলি, তারা সূরা বাক্করহ ২০৮ এবং ১৭৭ এবং সূরা ইমরানের ১০৩ আয়াত মোতাবেক কতটুকু মুসলমান আছি ? নিজেকে পরিমাপ করে দেখেছেন ?
আপনার খুতবা মুর্খতাকে প্রোমোট করেছে । জ্ঞানী আলেম হয়ে এরকম খুতবা প্রদান করা আপনার উচিৎ হয়নি ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

