https://www.facebook.com/share/v/14jg4zCSMBt
https://www.facebook.com/share/v/1JLuxbMB2B/
ফেসবুক বা ইউটিউব জগতে ভাইরাল ব্যবসা বেশ মোটাদাগে একটা ভালো ব্যবসা । এখানে কে কি নিয়ত নিয়ে কন্টেন্ট তৈরী করেন, এটা বোঝা খুব মুশকিল । ইদানিং বাংলাদেশের কিছু ইনটেলেকচুয়াল হিন্দু ভাই-বোনদের ইসলাম প্রীতি এবং বাংলাদেশ প্রীতি নিয়ে অনেক কন্টেন্ট দেখতে পাই । এগুলো সংরক্ষণ করছি এবং বোঝার চেষ্টা করছি ।
হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন মানুষ একজন প্রাকটিচিং মুসলমানকে তার ঘনিষ্ট বন্ধু মনে করবেন, এটা বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই । কেননা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত ম্লেচ্চদের (মুসলমানদের তারা ম্লেচ্চ বলে) ঘৃণাই যাদের জাত-কুল রক্ষার প্রধান ধর্মীয় ইস্যু, তারা কোনদিন তথাকথিত ম্লেচ্চদের প্রতি সহমর্মী হতে পারেন, এটা আপাতত বিশ্বাস করা একজন প্রাকটিচিং মুসলিম হিসেবে খুব কঠিণ । তবে মানুষ হিসেবে আমি তাদের সব ভালো কর্মকে ভালো হিসেবেই বিবেচনা করি । শুধু তাই নয়, আদমের সন্তান হিসেবে তারা আমার ভাই-বোনও বটে, সেটাও আমি মাথায় রাখি । সম্ভব হলে হক্ব এর পথে দাওয়াত দেই । কেননা আদম সন্তান প্রকৃত দাওয়াত পেলে হয়তো আল্লাহ তাকে কবুল করতেও পারেন, এই ভরসাতো আল্লাহর উপর থাকতেই হবে মুসলমানের । তাই সেই কাজটাও করি ।
এইসব হিন্দুদের অনেকের বাংলাদেশ প্রেম থাকার একটাই কারণ, তারা বৃটিশ আমলের জমিদারদের দ্বারা সেইসব নির্যাতিত নিম্নবর্ণের হিন্দু পরিবার, যাদেরকে মুসলিমদের সাথে একই সাথে নির্যাতন করা হত । তাদেরও কোন মানবিক মর্যাদা ছিল না । সেই ইতিহাস এর যারা সাক্ষী, তারা কোনদিন বাংলাদেশ ছেড়ে যায়নি । পাকিস্তান আমলে যে সব হিন্দুরা কোলকাতায় চলে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে যারা উচ্চ জাতের হিন্দু, তারা গেছে শুধুমাত্র ঘৃণা থেকে । সেই সময় কোন নিম্নবর্ণের হিন্দুরা এই দেশ ছেড়ে যায়নাই (কদাচ ব্যতিক্রম ছাড়া)। আর দেশ স্বাধীন হবার পর ৭২-৭৪ এ যেসব হিন্দুরা দেশ ছেড়েছে সেটার মূল কারণ শেখ মুজিবের গুন্ডাবাহিনীর অত্যাচার । যাদেরকে শেখ মুজিব প্রকাশ্যে জনসভায় ভাষনে বলত চাটার দল, কিন্তু অন্তরে চাটা বাহিনীর প্রধান গাজী গোলাম মোস্তফার মাধ্যমে তাদেরকেই সে লালন করত । সেই তারা হিন্দুদের দুর্বল পেয়ে তাদের অনেকের বাড়ি, ঘর জোর করে দখল করে, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নানা রকম বাহানা তুলে । এরকম যে পরিবারিগুলোর হিন্দুরা আছেন, তারা বাংলাদেশ প্রেম নিয়ে কন্টেন্ট তৈরী করেন তাদের স্বার্থেই । কেননা তারা জানে, অখন্ড ভারত হলে তাদের অবস্থাও হবে ভারতের নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মত ।
এ কারণে তাদের জামাতে ইসলাম প্রীতির সব কেন্টন্ট আমাকে আবেগ তাড়িত করে না । তারা জামাতকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায় কি মুসলমানদের ভোলোবেসে ? তা কিন্তু নয়, তারা জানে, জামাত শাসন ক্ষমতায় গেলে তাদের নাগরিক মর্যাদা কোনদিনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে না । জুলুমের শিকার হবে না । সেই স্বার্থে তারা সেটা চায় । কিন্তু ডিপষ্টেট এর বিরুদ্ধে তাদের কোন পদক্ষেপ আছে ? নেই। তাদের যে সব কন্টেন্ট-এ ইতিহাসের সত্য তুলে ধরা হয়, সেগুলোর ইতিহাস এর অংশটুকু আমাদের নতুন প্রজন্মের যারা লেখাপড়া করতে চান না, তাদের এ বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করার আগ্রহ জন্মাতে পারে বলে আমি মনে করি, এ জন্য তাদের ঐতিহাসিক সত্যকথন আমি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে শেয়ারও করি ।
কিন্তু গোবিন্দ প্রামাণিক এর মত একজন গাদ্দারও যখন জামাত এর সপক্ষে ভিডিও তৈরী করে, তখন বুঝতে হবে তার আসল উদ্দেশ্য কি ? কে এই গোবিন্দ ? তার অখন্ড ভারত বন্দনার ভিডিওটাও একই সাথে সংরক্ষণ করে রাখা জরুরী । তার জামাতকে ক্ষমতায় নেবার উদ্দেশ্য নিয়ে ভিডিও তৈরী হতে পারে আরো কোন বড় ধরনের চক্রান্তের অংশ হিসেবে, অথবা ইউটিউব থেকে মাল কামানো । এর বেশী কিছু ভাবার অবকাশ নেই ।
এই দেশের মুসলমানদের লেখাপড়া জানতে হবে । খুবই জরুরী । না হলে জাতি হিসেবে টিকে থাকতে পারবে না তারা । তাদেরকে বুঝতে হবে, হাজী শরিয়তুল্লাহরা যদি জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ করে না যেত, তাহলে আজ যে বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের একটা ভুখন্ড তারা পেয়েছে, এটা আজও থেকে যেত স্বপ্নের ঘোরে ।
ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের সাথে গোবিন্দ প্রামাণিকদের একসুরে গান গাওয়ার মূল কারণ সেই জামিদারী ফিরে পাওয়ার বাসনা । এই কথা যতকাল এই দেশের মুসলমানরা না বুঝবেন, ততকাল এই দেশকে ভারত তার থাবা থেকে মুক্তি দিতে চাইবে না । তাদের থাবা থেকে মুক্ত করে দিয়েছে আমাদের তরুণ ছেলে মেয়েরা ৫ই আগষ্ট ২০২৪-এ। এটা ধরে রাখার দায়িত্ব যাদের ছিল, তারা সেটা করছে না । তারা রাষ্ট্রের নাগরিকেদের সাথে গাদ্দারী করেছেন এবং এই নির্বাচিত সরকারও সেই একই গাদ্দারী করে যাচেছ । এই গাদ্দারী আর কতকাল করতে দিবেন ?
এ জন্য বলি, সজাগ হোন । রুখে দিন ঐক্যবদ্ধ শক্তি নিয়ে । ভারতের জুজুর ভয় ? ওটা কাল্পণিক । ডিপষ্টেট নামক কতিপয় দুষ্টচক্রের সাজানো ভুয়া ভয় । হাতেগোনা কিছূ চরিত্রহীন সুবিধাভোগী সামরিক-বেসামরিক আমলা, ডাকাততুল্য ব্যবসায়ী, ব্যাংকলুটেরা পলিটিশিয়ানরা এই দেশকে তাদের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখছে বার বার ।
সত্যিকার অর্থে হিন্দু ভাই-বোনেরা যদি দেশ প্রেম নিয়ে এসব কন্টেন্ট তৈরী করেন, অন্য কোন নাটক আপনাদের অন্তরের ভেতরে না থাকে, তাহলে একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ডিপষ্টেট নামক সামান্য কতুগলো চরিত্রহীনদের টেনে নামাতে মাঠে নামুন । তাহলে দেখবেন, ভারতের ভয় বলে কিচ্ছু নেই। বিশ্বাস রাখুন, অজিত দোভালের গৃহপালিত চাকরগুলো যেমন জুলাই এ লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল, ঠিক আবারও সব দৌড়ে পালাবার পথই পাবে না । এবার কোন ছাড় নয় । আল্লাহ হাফেজ ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

