somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর থেকে আজতক হিসেব রাখতে যে জাতি ভুল করে আসছে, তাদের জন্য অধমের বিনীত নিবেদন!

২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

https://www.facebook.com/share/v/14jg4zCSMBt
https://www.facebook.com/share/v/1JLuxbMB2B/

ফেসবুক বা ইউটিউব জগতে ভাইরাল ব্যবসা বেশ মোটাদাগে একটা ভালো ব্যবসা । এখানে কে কি নিয়ত নিয়ে কন্টেন্ট তৈরী করেন, এটা বোঝা খুব মুশকিল । ইদানিং বাংলাদেশের কিছু ইনটেলেকচুয়াল হিন্দু ভাই-বোনদের ইসলাম প্রীতি এবং বাংলাদেশ প্রীতি নিয়ে অনেক কন্টেন্ট দেখতে পাই । এগুলো সংরক্ষণ করছি এবং বোঝার চেষ্টা করছি ।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কোন মানুষ একজন প্রাকটিচিং মুসলমানকে তার ঘনিষ্ট বন্ধু মনে করবেন, এটা বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই । কেননা ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত ম্লেচ্চদের (মুসলমানদের তারা ম্লেচ্চ বলে) ঘৃণাই যাদের জাত-কুল রক্ষার প্রধান ধর্মীয় ইস্যু, তারা কোনদিন তথাকথিত ম্লেচ্চদের প্রতি সহমর্মী হতে পারেন, এটা আপাতত বিশ্বাস করা একজন প্রাকটিচিং মুসলিম হিসেবে খুব কঠিণ । তবে মানুষ হিসেবে আমি তাদের সব ভালো কর্মকে ভালো হিসেবেই বিবেচনা করি । শুধু তাই নয়, আদমের সন্তান হিসেবে তারা আমার ভাই-বোনও বটে, সেটাও আমি মাথায় রাখি । সম্ভব হলে হক্ব এর পথে দাওয়াত দেই । কেননা আদম সন্তান প্রকৃত দাওয়াত পেলে হয়তো আল্লাহ তাকে কবুল করতেও পারেন, এই ভরসাতো আল্লাহর উপর থাকতেই হবে মুসলমানের । তাই সেই কাজটাও করি ।

এইসব হিন্দুদের অনেকের বাংলাদেশ প্রেম থাকার একটাই কারণ, তারা বৃটিশ আমলের জমিদারদের দ্বারা সেইসব নির্যাতিত নিম্নবর্ণের হিন্দু পরিবার, যাদেরকে মুসলিমদের সাথে একই সাথে নির্যাতন করা হত । তাদেরও কোন মানবিক মর্যাদা ছিল না । সেই ইতিহাস এর যারা সাক্ষী, তারা কোনদিন বাংলাদেশ ছেড়ে যায়নি । পাকিস্তান আমলে যে সব হিন্দুরা কোলকাতায় চলে গিয়েছিল, তাদের মধ্যে যারা উচ্চ জাতের হিন্দু, তারা গেছে শুধুমাত্র ঘৃণা থেকে । সেই সময় কোন নিম্নবর্ণের হিন্দুরা এই দেশ ছেড়ে যায়নাই (কদাচ ব্যতিক্রম ছাড়া)। আর দেশ স্বাধীন হবার পর ৭২-৭৪ এ যেসব হিন্দুরা দেশ ছেড়েছে সেটার মূল কারণ শেখ মুজিবের গুন্ডাবাহিনীর অত্যাচার । যাদেরকে শেখ মুজিব প্রকাশ্যে জনসভায় ভাষনে বলত চাটার দল, কিন্তু অন্তরে চাটা বাহিনীর প্রধান গাজী গোলাম মোস্তফার মাধ্যমে তাদেরকেই সে লালন করত । সেই তারা হিন্দুদের দুর্বল পেয়ে তাদের অনেকের বাড়ি, ঘর জোর করে দখল করে, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নানা রকম বাহানা তুলে । এরকম যে পরিবারিগুলোর হিন্দুরা আছেন, তারা বাংলাদেশ প্রেম নিয়ে কন্টেন্ট তৈরী করেন তাদের স্বার্থেই । কেননা তারা জানে, অখন্ড ভারত হলে তাদের অবস্থাও হবে ভারতের নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মত ।

এ কারণে তাদের জামাতে ইসলাম প্রীতির সব কেন্টন্ট আমাকে আবেগ তাড়িত করে না । তারা জামাতকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায় কি মুসলমানদের ভোলোবেসে ? তা কিন্তু নয়, তারা জানে, জামাত শাসন ক্ষমতায় গেলে তাদের নাগরিক মর্যাদা কোনদিনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে না । জুলুমের শিকার হবে না । সেই স্বার্থে তারা সেটা চায় । কিন্তু ডিপষ্টেট এর বিরুদ্ধে তাদের কোন পদক্ষেপ আছে ? নেই। তাদের যে সব কন্টেন্ট-এ ইতিহাসের সত্য তুলে ধরা হয়, সেগুলোর ইতিহাস এর অংশটুকু আমাদের নতুন প্রজন্মের যারা লেখাপড়া করতে চান না, তাদের এ বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করার আগ্রহ জন্মাতে পারে বলে আমি মনে করি, এ জন্য তাদের ঐতিহাসিক সত্যকথন আমি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে শেয়ারও করি ।

কিন্তু গোবিন্দ প্রামাণিক এর মত একজন গাদ্দারও যখন জামাত এর সপক্ষে ভিডিও তৈরী করে, তখন বুঝতে হবে তার আসল উদ্দেশ্য কি ? কে এই গোবিন্দ ? তার অখন্ড ভারত বন্দনার ভিডিওটাও একই সাথে সংরক্ষণ করে রাখা জরুরী । তার জামাতকে ক্ষমতায় নেবার উদ্দেশ্য নিয়ে ভিডিও তৈরী হতে পারে আরো কোন বড় ধরনের চক্রান্তের অংশ হিসেবে, অথবা ইউটিউব থেকে মাল কামানো । এর বেশী কিছু ভাবার অবকাশ নেই ।

এই দেশের মুসলমানদের লেখাপড়া জানতে হবে । খুবই জরুরী । না হলে জাতি হিসেবে টিকে থাকতে পারবে না তারা । তাদেরকে বুঝতে হবে, হাজী শরিয়তুল্লাহরা যদি জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ করে না যেত, তাহলে আজ যে বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের একটা ভুখন্ড তারা পেয়েছে, এটা আজও থেকে যেত স্বপ্নের ঘোরে ।

ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের সাথে গোবিন্দ প্রামাণিকদের একসুরে গান গাওয়ার মূল কারণ সেই জামিদারী ফিরে পাওয়ার বাসনা । এই কথা যতকাল এই দেশের মুসলমানরা না বুঝবেন, ততকাল এই দেশকে ভারত তার থাবা থেকে মুক্তি দিতে চাইবে না । তাদের থাবা থেকে মুক্ত করে দিয়েছে আমাদের তরুণ ছেলে মেয়েরা ৫ই আগষ্ট ২০২৪-এ। এটা ধরে রাখার দায়িত্ব যাদের ছিল, তারা সেটা করছে না । তারা রাষ্ট্রের নাগরিকেদের সাথে গাদ্দারী করেছেন এবং এই নির্বাচিত সরকারও সেই একই গাদ্দারী করে যাচেছ । এই গাদ্দারী আর কতকাল করতে দিবেন ?

এ জন্য বলি, সজাগ হোন । রুখে দিন ঐক্যবদ্ধ শক্তি নিয়ে । ভারতের জুজুর ভয় ? ওটা কাল্পণিক । ডিপষ্টেট নামক কতিপয় দুষ্টচক্রের সাজানো ভুয়া ভয় । হাতেগোনা কিছূ চরিত্রহীন সুবিধাভোগী সামরিক-বেসামরিক আমলা, ডাকাততুল্য ব্যবসায়ী, ব্যাংকলুটেরা পলিটিশিয়ানরা এই দেশকে তাদের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখছে বার বার ।

সত্যিকার অর্থে হিন্দু ভাই-বোনেরা যদি দেশ প্রেম নিয়ে এসব কন্টেন্ট তৈরী করেন, অন্য কোন নাটক আপনাদের অন্তরের ভেতরে না থাকে, তাহলে একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ডিপষ্টেট নামক সামান্য কতুগলো চরিত্রহীনদের টেনে নামাতে মাঠে নামুন । তাহলে দেখবেন, ভারতের ভয় বলে কিচ্ছু নেই। বিশ্বাস রাখুন, অজিত দোভালের গৃহপালিত চাকরগুলো যেমন জুলাই এ লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল, ঠিক আবারও সব দৌড়ে পালাবার পথই পাবে না । এবার কোন ছাড় নয় । আল্লাহ হাফেজ ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×