কিছু কিছু দুপুর থাকে খুব অচেনা। যতবারই দেখা হোক সবসময়ই অচেনা। এইসব ঘুম পাড়ানিয়া দুপুর গুলোতে জানালা গলে এক চিলতে রোদ বিছানায় খেলা করতে দেখেছি বহুবার। শৈশবে। ক্লান্ত এসব দুপুরগুলো মানুষকে তার মুখোমুখি নিয়ে বসে। রোদ ছায়ার খেলায় তাকে মাতাল করে দেয়।
এই সমস্ত দুপুরে মন ঘরেও থাকতে চায় না, আবার বাইরেও যেতে চায় না। কেমন একটা ঘোর লাগা দ্বন্দ্বে ভোগে। সমস্ত সময় জুড়ে কী অদ্ভুত শূন্যতা ঘিরে থাকে। নিথর গাছগুলোতে বসে বসে পাখিরা ঝিমায়। হঠাৎ হয়তো ঝরে পড়ে একটা মন্দ কপালে পাতা। ঘুরতে ঘুরতে নিচে পড়ে কিছুটা নাড়িয়ে দেয় স্তব্ধতাকে।
এমনই এক দুপুরে তার সাথে আমার দেখা। দেখা বলতে হঠাৎ করে না। আগে থেকে সময়ক্ষণ ঠিক করে তারপর সাক্ষাৎ। মানুষটার রুচিবোধ দারুন। পরনে ছিল নীল। মনে হচ্ছিল যেন এই দিনটা এসেছে শুধুমাত্র নীল পড়ার জন্যই।
দুপুরের পত্রপতন স্তব্ধতা ভেঙে লাস্যময়ী মানুষটি হেসে উঠেছিল খিলখিল করে। বড় সুন্দর সে হাসি। বড় অপূর্ব তার রূপ। এই হাসি একবার দেখলেই যেকোন পুরুষ প্রেমে পড়তে রাজি। গাল ভর্তি টোল নিয়ে হাসতে হাসতে মানুষটি একটা কথা বলেছিল। কত দিন হলো আজ তবুও একবারের জন্যও কথাটা ভুলিনি আমি। চাইলেই কি আর ভোলা যায়।
কেউ কেউ হয়তো পারে এই দুপুরের নির্জনতা খুন করে আঁকা স্বপ্নটাকে ভুলে থাকতে। কিংবা একেবারে লুকিয়ে থাকতে দূরে।। অচেনা দূরে।
য পলিয়তি, স জীবতি। যে পালাতে পারে সে বেঁচে যায়। ঠিক হয়তো। সব থেকে হয়তো পালানো যায়। কিন্তু জীবন থেকে??? হয়তো যায়। তা করতে সাহস লাগে। স্বপ্ন ভাঙার সাহস। যা আমি কখনোই পারিনা। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে আবার সেই শূন্য বিকেলটাতে ফিরে যাই । গিয়ে তার হাতটা ধরি। রমনা থেকে বের হয়ে টিএসসিতে এসে বসি।
কিন্তু আমি জানি তা হবার নয়। কৃষ্ণপক্ষ শুরু হয়ে গেছে। দুপুর খুন হয়ে যাচ্ছে বিকেলের ভালোবাসায়। স্নিগ্ধ বিকেল কী চমৎকার গিলে খাচ্ছে নির্জন দুপুরকে। বছরের পর বছর।।
সবাই ভালো থাকুক। ভালো থাকুক রমনার গাছগুলি। হ্রদের জল। গাছের ছায়ারা। পল্টুর মা তুমিও ভালো থেকো। অবিরাম...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



