‘ল্যভিস ফুড এভ্যয়ডেন্স’ থিওরির কারনে সব ধরনের বিয়েশাদি টাইপের প্রোগ্রাম এড়িয়ে চলছি গত ৩-৪ বছর যাবত। এর ভিতরে অনেক কাছের আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ‘অসামাজিক’ খ্যাতি ও পেয়ে গেছি। আমাদের চট্টগ্রামের বিয়ে শাদীর ধরণটা আবার ভিন্ন। এখানে খাওয়া-খাওয়ি ব্যাপারটা একটু বেশি যেটা আবার আমার মোটেও পছন্দ না। কিন্তু গতদিন বাদ দেয়া যায়! সামাজিকতা বলে একটা কথা তো আছেই। অবশেষে সন্ন্যাসী ধর্ম ভেঙে গেলাম একটা বিয়েতে উপস্থিতি দিতে।
আজকাল বিয়ের ব্যাপারগুলো দেখলাম বেশ চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। আগের চেয়ে একটু বেশি রংচঙা ব্যাপার স্যাপার খেয়াল করলাম। ভেন্যুতে প্রবেশ পূর্বক প্রথমে গেলাম মেয়ে মানুষ যেদিকে বসেন সেদিকে। আসলে খালা,মামী,অ্যান্টি এদের সাথে এসব বিয়ে শাদীতে দেখা হয়। আর কোথাও তেমন হয়না। তাই আগে তাদের সালাম সম্মান তো করা উচিত। এর মধ্যে কিন্তু অন্য কোন কারন নেই
আমার এক ফ্রেন্ড ছিল রাকু। তার বিভিন্ন কাণ্ড কারখানা দেখলে সবাই হাসত। কোন মেয়ে হাসলে সে পার্ট নিয়ে বলত “দেখেছিস আমাকে দেখে মেয়েটা কি সুন্দর হাসল”। অবশ্য তার আনন্দ বেশিক্ষন স্থায়ী হত না যখন আমরা বলতাম “তরে দেখলে আমাদেরি হাসি পায় আর ওর কি হবে ভাব”
খেয়াল করলাম আমার ৬ বছর বয়সী ভাগ্নিটাও হাসতেসে। তারে বললাম হাসি থামাতে থামতে বললাম “ তুমি জান আজকালকার কনেরা একদম কান্না করেনা”। ভাগ্নি আমারে দ্বিগুণ অবাক করে দিয়ে বলল “ছোট, তুমি পাগল হয়ে গেস, বিয়ের দিন কনেরা কাঁদে নাকি? আর শুন ডিসটাব করনা আমাকে, দেখছ না বিজি”। হু, তারই বা দোষ কি! ২০০৬ সালে শেষ তার মা’রেই তো আমি বিয়ের দিন কাঁদতে দেখছি, সে তো আর দেখেনি।
আগের দিনে মেয়েরা বিদায়ের সময় কাঁদত, হিহি করে কাঁদত, হুহু করে কাঁদত, কেউ তো আবার হাউমাউ করে কেঁদে মা বাপ ভাইয়ের কোলে পড়ে যেত। কাঁদতে গিয়ে স্টেজ ভেঙে পড়ে গেছে সেরকম ভিডিও ও ভাইরাল হতে দেখেছি অনলাইনে। দৃশ্য গুলো হৃদয় বিদারক হলেও সেই দৃশ্যের একটা সৌন্দর্য ছিল। আবেগ টিকরে পড়ত।
কিন্তু কথায় আছে বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ।
সব দোষ শালা ওই ডিএসএলআর এর। এত্তুগুলা আবেগগুলা সব কাইড়া নিছে আর বেহুদা সবার মুখে হাসি লাগায়া রাখছে!!!!!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



