-কি করেন?
-ভাবি।
-কি ভাবেন?
-জানিনা।
-জানেন না তো ভাবছেন কি?
-সব ভাবনা যে জানতে হবে তেমন কোন কথা নেই।
-একটা কথা বলার জন্য ফোন করেছি
-শুনছি।
-আপনি এরকম কেন?
-কি রকম?
-এই যে বেরসিক।
যারা রসিকতা করে বা করতে পারে তাদের মানুষ রসিক বলে। অনিক রসিকতা করতে জানেনা। কারন রিনি যখনই ফোন করে অনিক নিজে থেকে প্রশ্ন করে না। শুধু উত্তরই দিতে থাকে। তাই রিনির অনিককে বেরসিক মনে হয়। রিনির মুখে বেরসিক শব্দটা শুনে অনিকের “ও আমার রসিয়া বন্ধুরে” গানটার কথা মনে পড়ে যায়। ছোট চাচার বিয়েতে ছোটবেলায় সে গানটার সাথে মেয়ে সেজে নেচেছিল। কথাটা রিনিকে বলা দরকার। না সব কথা বলা যাবে না। রিনি আবার পরে মজা করতে পারে। ভাবতে থাকে সে গানটা শেষ কবে শুনেছে। কিন্তু মনে পড়ছে না। আবার ভাবছে রিনিকে জিজ্ঞেস করবে কিনা। না করবেনা। কারন এরপরে রিনির কথা অন্য দিকে মোড় নিতে পারে। এর চেয়ে ভাল হয় সোজা উত্তর দিয়ে দেয়া।
-দুপুরে খেয়েছেন?
-হ্যাঁ
-কি খেয়েছেন?
-লাঞ্চ
-উফফ, দুপুরে মানুষ লাঞ্চ করে সেটা জানি। কিন্তু কি খেয়েছেন?
আজ অনিকদের খালা (কাজের মানুষ) আসেনি। তাই রান্না হয়নি। ব্যাচেলর বাসায় রান্না না হলে তেমন কারো কোন খবর থাকেনা। যে যেভাবে পারে নিজ নিজ ব্যবস্থা করে নেয়। বাসায় অন্যরা না থাকাতে গত রাতে বেঁচে যাওয়া ভাত অনিক পান্তা করে কাঁচা মরিচ দিয়ে চিবিয়ে খেয়েছে। এর মধ্যে একটা বেন্সন লাইট ও খেয়ে ফেলেছে। অন্য অনেকের মত অনিকের কাছে সিগ্যারেট হল ভাত খাওয়ার পর ডেজারট খাওয়ার মত। তাই ভাত খাওয়ার পর সে সিগ্যারেট খেয়েই তৃপ্তির ঢেকুর তুলে।
-আমি আপনাকে আর ফোন করব না।
-ওকে
-সত্যি আর করবনা।
-আচ্ছা।
-আপনি আসলেই নির্মম।
এরপর রিনি ফোনের ওপাড়ে চুপ করে থাকে, চুপ করে থাকে অনিকও। একসময় রিনি টুট করে কেটে দেয় ফোনটা। রিনির মুখে নির্মম শব্দটা অনিক প্রতিদিন দু’বার করে শুনে। প্রথম প্রথম শব্দটা অনিকের কাছেও নির্মম মনে হত, এই বুঝি রিনি শেষ বারের মত কথা বলল। কিন্তু অনিক এও জানে কালকে এই সময়ে রিনি ফোন করে বলবে ‘হুহ আপনি অপেক্ষায় থাকবেন জেনে আবার ফোন দিলাম, নাহলে দিতাম না’।
কিছু ভালবাসার ভাষা নেই, কিছু ভালবাসা চুপ করে থাকার মধ্যে প্রকাশ পায়, কিছু ভালবাসা হয় শুধু অভিমান। শুধু ফোনের দুই পাড়ে চুপ করে থাকা দু’জন মানুষ ছাড়া কেউ বুঝে না। দিনশেষে যখন রাত নামে, পাখিরা ঘরে ফিরে সকল কর্মক্লান্তি দূর করে সুন্দর সকাল শুরুর আশায়। তেমনি দিনশেষে অনিকও অপেক্ষায় থাকে রিনির ফোনের। হয়তো রিনির ফোন অনিকের সকল ক্লান্তি দূর করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



