somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে ১৪ টি উপায়ে আপনি আপনার ব্লগ কনটেন্ট পাঠকের কাছে সুপাঠ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন B-) B-) B-)

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখাটি আমার মত যারা ব্লগ শিশু তাদের জন্য। মুরুব্বী ব্লগাররা এড়িয়ে যেতে পারেন। তবে আড় চোখে দেখে ফেললে মাইন্ড খাব না ;)

আপনি কি আপনার লেখাকে মজাদার করতে চান? মজাদার মানে এই নয় যে আপনার লেখা সবসময় ফানি হতে হবে। মজাদার মানে হতে পারে সুপাঠ্য বা লেখাটি পাঠক অনুভব করতে পারা। ব্লগে আপনি বিভিন্ন স্বাদের, বিভিন্ন চিন্তার, ভাবনার মানুষ পাবেন। সবার প্রিয় হওয়া বা সবাই আপনার পাঠক হবে এরকম কোন কথা নেই। কিন্তু তবুও আপনি যদি আপনার ব্লগ পোস্ট ইনটেরেসটিং করতে চান তাহলে নিম্নোক্ত উপায় গুলো অনুসরন করতে পারেন------

১।কারো দ্বারা উদ্ভুদ্ধ হনঃ হঠাৎ করে আপনি একজন আকর্ষণীয় লেখার লেখক হয়ে উঠতে পারবেন না। আপনি যখন ব্লগে ঘুরাঘুরি করবেন, বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট পড়বেন আপনি নিশ্চয় বুঝতে পারবেন বা পিক করতে পারবেন কিছু লেখা সবসময় আপনাকে উদ্ভুদ্ধ করছে বা আপনি পড়ে মজা পাবেন। আপনি চাইবেন সেই লেখক/লেখিকা বা লেখক/লেখিকাদের লেখা সবসময় পড়তে। আর অইসব লেখা পড়ার সময় এমনকি মন্তব্য গুলো পড়ার সময় আপনি সবসময় খেয়াল করবেন হিউমেরাস বা লেখার মত কিছু পাবেন। আপনি সেসব লেখা বা মন্তব্য থেকে অবশ্যই এমন কিছু পাবেন যা আপনার মনে দাগ কাটবে এবং আপনি লিখতে উদ্ভুদ্ধ হবেন।

২।পার্থিব ব্যাপার সবসময় মজারঃ আমরা সবাই হানিফ সংকেতকে কম বেশি চিনি। তিনি তাঁর ইত্যাদি নামক প্রোগ্রামে কিছু চরম সত্য তুলে ধরেন, যেগুলো দেখে আমরা হাসি। তাহলে চরম সত্যে আবার হাসির কি আছে? হাসার কারন, তিনি ব্যাপার গুলা আসলে হাস্যকর ভাবেই তুলে ধরেন। এখন এসব বিষয় ভুক্তভুগিদের হয়তো খারাপ লাগবে, কিন্তু সাধারন মানুষরা অবশ্যই মজা পাবে। তাই এসব পার্থিব বিষয় নিয়ে লিখুন। তাহলে অন্যের উপকার হওয়ার সাথে সাথে কিছু বিষয়ও পাঠক জানতে পারবে।

৩।কিছু ত্বরিত টিপস দিয়ে দিনঃ ২০০০ শব্দের একটি পোস্ট আসলেই অনেকের কাছে পড়া কঠিন মনে হতে পারে। আবার আকর্ষণীয় নাও হতে পারে। তাই লেখার মাঝে খুব তাড়াতাড়ি কিছু টিপস দিয়ে দিলে পাঠক মজা পাবে এবং আরামসে লুফে নিবে। একটা বড় লেখা পড়তে গেলে একটা মানুষিক কনসেন্ট্রেশনেরও প্রয়োজন হয়। তাই মাঝখানে এই ধরনের টিপস নিঃশ্বাসের সুযোগ দিতে পারে।

৪।ধারনা জন্মানোর চেষ্টা করুন ছবি বা এরকম কিছুর মাধ্যমেঃ মনে করুন আপনার লেখাটি ওয়িলিয়াম শেক্সপিয়ার পড়লে কি মনে করত সেরকম একটা ধারনার সৃষ্টি করুন। আর এসবের জন্য তো ইন্টারনেট মেমে আছেই। এসব মেমের মাধ্যমে একটা কাছাকাছি ধারনার জন্ম দিতে পারেন যে শেক্সপিয়ার এই লেখা পড়ে কি ভাবতে পারে।

৫।নির্জীব কোন বিষয়কে সজীব করে তুলুনঃ একটি নির্জীব বস্তু যদি সজীব হত তাহলে কেমন হত ঠিক এভাবে যদি আপনি একটি স্টোরি টেলিং ওয়ে তে লেখা শুরু করেন তাহলে পাঠকের কাছে লেখাটি ইন্তেরেস্তিং মনে হবে। আপনি একটি ব্যাপার নতুন করে সৃষ্টি করলেন কিন্তু যেটা সত্যি নাও হতে পারে আবার ধুম করে ব্যাপারটি পাঠকের কাছে বোগাসও মনে হবে না সেরকম কিছু হলে পাঠক ও তাড়াতাড়ি আপনার লেখা লুফে নিবে।

৬।কিছু ব্যাঙ্গাত্তক ব্যাপার জুড়ে দিনঃ কার্টুন আর স্কেচ হল কোন একটি গল্প বলার অন্যতম মাধ্যম। অনেকসময় স্কেচ বা কার্টুন অনেক কিছুই বলে দিতে পারে।

৭।পোস্টকে ইনটের্যেকটিভ করে তুলুনঃ পাঠকদের কাছে লেখা ইনটের্য কটিভ করে তুলার অন্যতম উপায় লেখাটিতে প্লাগ ইন বা প্রয়োজনীয় লিঙ্ক জুড়ে দেয়া। এইটা চামেচুমে বাড়টি কিছু পড়ার সুযোগ করে দেয় পাঠকদের।

৮।লেখায় হাস্যকর ব্যাপার লাগিয়ে রাখুনঃ ব্যাপারটা পড়তে হাস্যকর মনে হচ্ছে যে কিভাবে হাস্যকর করা যায়। তবে এটা ভাল কাজ করে। যেমন আপনি যখন একটি কার্টুন আঁকবেন ওই সময় কেউ যদি আপনার মুখের দিকে তাকায় তাহলে তিনি একটা ধারনা পাবেন। কারন আপনার মুখের এক্সপ্রেশনই বলে দিবে আপনি কি আঁকতে যাচ্ছেন।

৯।ছবি দিবেন ভাল কথা, তবে অবশ্যই কমন নয়ঃ এমন অনেক ছবি আছে যা পাঠক দেখতে দেখতে অভ্যস্ত। সেরকম ছবি যদি বার বার দেন তাইলে ব্যাপারটা পাঠকদের কাছে বোরিং মনে হবে। তাই ছবি সম্পর্কে ধারনা রাখুন। মনে রাখবেন ছবি লেখারই একটা অংশ। তাই এই ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।

১০।মজা নিতে পিছপা হবেন নাঃ আপনার যদি গাটস থাকে আর ব্লগ করতিপক্ষ যদি অনুমতি দিয়ে থাকে তাহলে যা বলার বলে ফেলুন। যা মনে আসে ঝেড়ে কাসুন। এসব লেখা মাঝে মাঝে খুব ইন্তেরস্তিং হয় আর পাঠক লুফে নেয়। এইটা নিয়ে দৌড় ঝাপ শুরু করে দিবে। মাঝখানে আপনে বইসা বইসা মজা নিতে পারবেন।

১১।পিনিক অবস্থায় পোস্ট লিখুনঃ মোটেও না, মোটেও না। এটা স্রেফ মজা করার জন্য। ব্লগ পোস্ট লেখার সময় অবশ্যই ভালমত বাথরুম টাত্রুম সেরে বসুন। কোন ধরনের চাপ রাখবেন না। কখনো পিনিক অবস্থায় পোস্ট লিখবেন না।

১২।নিজেরে মাঝে মাঝে হাসির পাত্র বানানঃ নিজেরে দিয়ে যদি কোন বিষয় তুলে ধরতে পারেন তাইলে তো অনেক ভাল। কারন আপনি যা করছেন নিজেরে নিয়া করতেসেন। কেউ কষ্ট পাইব না। হালকা আপনি একটু বাঁশের উপ্রে থাকবেন এই যা।

১৩।কর্মবাচ্য/পরোক্ষ বাক্য পরিহার করুনঃ এইটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেশীরভাগ পাঠক পরোক্ষ টাইপের বাক্য পছন্দ করেন না। এই যেমন “আমি ভাত খেয়েছি” যদি আপনি লেখেন “আমার দ্বারা ভাত খাওয়া হয়” তাহলে পাঠকদের কাছে এটা আকর্ষণ হারাবে। প্রথম বাক্য অবশ্যই সুন্দর, শক্তিশালী এবং প্রত্যক্ষ হতে হবে। আবার ওয়ার্ড ফ্লাডিংও (একই শব্দের বার বার ব্যবহার) পাঠকদের পছন্দ না। তাই যথাসম্ভব এসব এড়িয়ে চলুন।

১৪।লুতুপুতু বস্তুর ব্যবহারঃ অনেকে আছেন এসব আবার খুব পছন্দ করেন। এই যেমন একটি বিড়াল ছানার ছবি, কুকুর ছানার ছবি, হালকা কোবতে (কবিতা),ফান ভিডিও এসব জুড়ে দেন। তাইলে দেখবেন কাম সারছে। বাকি কাম পাঠক গো।

উপ্রের লেখাটি সামু পাঠকদের জন্য কিছুটা পরিমার্জিত আর পরিবর্তিত রুপে লেখা হয়েছে। লেখাটির একমাত্র এবং আসল লেখক/মালিক আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন ব্লগার ‘জুলি নেইডলিঙ্গার’। পেশায় বৈমানিক আম্রিকান ‘জুলি নেইডলিঙ্গার’ একজন ফ্রিলান্স লেখক এবং ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট।

এবার সাহিত্য বাদ দিয়া যদি কলিকাতা হারবাল উপায়ে ব্লগে হিট হতে চান বা পাঠক বাড়াতে চান তাহলে ব্লগার অপু তানভীরের
এই ফান পোস্ট টি দেখে নিতে পারেন। এক ফাইলেই যথেষ্ট হবে। =p~


সব্বাইকে হ্যাপি বোলোগিং B-) B-) B-)

বিদ্রঃ ভুল ভ্রান্তি সাদরে গ্রহণীয় :)

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৩৫
২৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×