বাঙালী সংস্কৃতিতে বেশিরভাগ বাঙালি নারীদের চিন্তাভাবনা হলো—
বাবার/স্বামীর অধিক টাকাপয়সা হইলে ভরী ভরী গহনা গায়ে জড়াবো । দুই হাতের দশ আঙ্গুলেই হীরার আংটি লাগাবো । নাভীতে একটা সোনার রিং লাগাবো । কোমরের বিছাটা সোনার লাগাবো । খোঁপায় যে ক্লিপ পড়া হয় সেটা হবে সোনার । তারপর আনুষাঙ্গিক সাজসজ্জাতে সব থাকবে সোনার ।
এবার বাঙালি পুরুষদের ভাবনাচিন্তা হলো—
টাকাপয়সা হইলে বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা জামা-প্যান্ট-স্যুট-জুতা-বেল্ট পড়বো । চশমার ফ্রেমটা সোনার লাগাবো । হাতের ব্যাসলেটটা সোনার বানাবো । আরও যা যা লাগে তা হবে পৃথিবীর সবথেকে দামী পন্য । যে প্রাইভেট কারটা কিনবো তা হবে সোনা ও হীরায় খচিত । ব্লা ব্লা ব্লা...
অথচ আমরা যদি পশ্চিমা সংস্কৃতির সেসব বিশ্বের অন্যতম ধনীদের দিকে তাকাই তাহলে কি দেখতে পাবো? তাদের চশমার ফ্রেমটা সোনা/হীরায় খচিত? না । গাড়ীগুলো সোনা/হীরায় খচিত? না । কাপড়গুলোতে কি বিশ্বের নামি-দামি ব্র্যান্ডের সিলযুক্ত? না । যতকিছুই উচ্চাকাঙ্খী জীবনযাপনের জন্য তৈজসপত্র খুঁজতে যান না কেন উত্তরটা না-ই বের হবে ।
দোষটা আসলে পুরোপুরি আমাদেরও না । কারণ আমাদের সমাজ প্রতিনিয়ত এসবই শিখিয়ে দিচ্ছে । লোভ-লালসা আর যৌনতা দিয়ে এমনভাবে বিগড়ে দিচ্ছে যে খুব ধনী না হলে জীবনে সুখ সেই শান্তি নেই । যৌনতাকে দমানোর জন্য ধর্ষণ করে হলেও তা করতেই হবে । মানবিকতা-বিবেকবোধের সীমা অতিক্রম করে হলেও! পশ্চিমাদের সাথে আমাদের সংস্কৃতির পার্থক্য হলো আমরা জীবন বলতে সোনা/হীরা/জহরত বুঝি বা চাই সেটা কাজ না করে পেলে খুব ভালো হয় । যা অর্জন করবো তা শুধু নিজের ভিতরেই সীমাবদ্ধ করে রাখবো‚ আটকে রাখবো । আর তাদের চিন্তা হলো ধনী হবো ঠিক আছে তবে বুদ্ধি ও কাজ দিয়ে কিন্তু সেটা যেন সবার কাজে লাগে । শুধু নিজের ভিতরেই আটকে রাখবোনা‚ ছড়িয়ে দেবো সবার মাঝে ।
এ ধারা চলতেই থাকবে । পরম্পরা থেকে পরম্পরায় । লোভ-লালসা-অভিলাষ-ধর্ষণ-ফাঁকি এসব চলতেই থাকবে । শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে বাঙালী সংস্কৃতির এসব চিন্তাধারা বহমান থাকবেই থাকবে । শুধু আমরা থাকবোনা!
০৬ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | শীতকাল | শনিবার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


