কিছু কিছু কট্টরপন্থীরা মনে করে থাকেন ঘরের বউয়ের কোনো টাকাপয়সার দরকার হয়না‚ শখ-আহ্লাদের দরকার হয়না‚ প্রমোদভ্রমণের দরকার হয়না । তিনবেলা খাওয়ানো আর বছর অন্তর পোশাক দিতে পারলেই নিজেদের সুপুরুষ দাবী করেন । এই দুইটা বস্তুকে নিয়েই তারা গর্ব করতে ভালোবাসেন । নিজেকে জান্নাতী/স্বর্গীয় লোক বলে দাবী করেন‚ যেন তিনি নারীর সব চাওয়াই পূরণ করেছেন তার জীবনে ।
ইনারা ধর্মগ্রন্থের ততটুকুই মানেন যতটুকুতে নিজের পিছনে থাকা লেজটাতে পা পড়বেনা ততটুকুই । বেগম রোকেয়া শাখাওয়াতকে এমন এমনেই নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়না । এই মহিলা অনেক কঠিন কঠিন কথা বলে গেছেন । কখনও ইনার কথা ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিকও বটে । তিনি সাংঘর্ষিক করবেননাইবা কেন‚ আদিতে নারীদের উপরে নির্যাতন-নিষ্পেষণের কথা একটু বই-পুস্তক ঘাটাঘাটি করলেই পাইয়া যাইবেন । পুরুষরা যদি ধর্মগ্রন্থকে কাটসাট করে ব্যবহার করে শোষণ-নির্যাতন করতে পারেন তবে তিনি কেন একটু পারবেননা । ধর্মগ্রন্থে নারীদেরকেতো কখনও তাচ্ছিল্যের বস্তু হিসেবে দেখানো হয়নাই ।
আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীকে ‘চাদর’ দিয়ে কত সুন্দর করে ব্যাখা দিয়েছেন । অধিকার স্বামীর প্রতি স্ত্রী যতটুকু তেমনি স্ত্রীর প্রতি স্বামীরও ততটুকু । এত সুন্দর উপমার পরও নারীরা বরাবরই অবহেলা-অবজ্ঞা-তাচ্ছিল্যতার স্বীকার এ সমাজে । তারাই ‘তালাক’ শব্দটাকে মাথায় নিয়ে ভয়ে ভয়ে সারাটাজীবন দাসীর মত করেই পুরো জীবনটাই কাটিয়ে দেন । সবকিছুকে বিসর্জন দেন স্বামী-সন্তান-সংসারের জন্য । বিনিময়ে ‘কচু’ ছাড়া আ কিছু জোটেনা এদের!
এই জগৎ-সংসারে আমি দেখছি নারীরা যতটা ছেঁড়া কাপড় বারবার সেলাই করে পড়েন ততটা কিন্তু পুরুষরা পড়েননা । তবুও নারী নিশ্চুপ‚ নারী সহনশীল ভূমিকায় ।
(ফুটনোটঃ অনেকের মনে হইতে পারে এইটা নারীবাদী লেখা । কিন্তু আমি ভাই নারীবাদীতাকে ঘৃণা করি । কারণ তাদের চাওয়া-পাওয়ার কূল-কিনারা নাই । ধর্ম-সমাজকে উপেক্ষা করতে চান । অসংগতিপূর্ণ দাবীই বেশি । তবে সমাজ-সংসারে যেটা সত্য‚ যেটা সঠিক সেটা মানতেই হবে আমাদের! নারী কোনো দাসী‚ তাচ্ছিল্যের বস্তু নয়; নারী আমার মা‚ আমার বোন‚ আমার প্রণয়িনী‚ আমার সহধর্মিণী)
—সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৭ বৈশাখ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | সোমবার |

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

