somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নির্বাক কাকতাড়ুয়া
জীবন একটা অদৃশ্য শিরোনাম । যার বিস্তারিতই দেখে শুধু মানুষ, মূল শিরোনাম দেখেনা কেউ । কেউ কেউ আবার বিস্তারিত সংবাদের মাঝেই হার মেনে যায়...

মায়েরা যেমন হয়—

২১ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পিঠার সিজন আসলে মা পিঠা বানাতে থাকেন । আমরা উনুনের পাশে বসে গপগপ করে পিঠা খাই । মা পিঠা ভেজেই চলেন । কিন্তু কখনও দেখিনাই পিঠা ভেজে সবার আগে মা পিঠা টেস্ট করেছেন/করেন ।

বাড়িতে বিরিয়ানি রান্না হলে মা সবার প্লেটে প্লেটে খাবার সার্ভ করেন । আমরা খাওয়া শুরু করি । মা শেষেরদিকে এসে প্লেটে খাবার নেন । কখনও দেখিনাই মার প্লেটে গোশতের টুকরো কম হয় নাকি বেশি হয় ।(বেশি কখনোই হয়না ব্রো‚ কম-ই হয়!)

খাওয়া শেষ হলে প্লেটে হাত ধুয়ে ওভাবেই রেখে চলে আসি । মা খাওয়া শেষ করে সবার প্লেট‚ গ্লাসগুলো ভালোভাবে ওয়াশ করে তারপর ঘুমাতে যান । কখনও নিজের থেকে প্লেটগুলো নিজে পরিষ্কার করা হয়না ।

কাপড় নোংরা হলে আছাড় দিয়ে টিউবওয়েল পাড়ে গিয়ে দিয়ে আসি । মা আছাড় দিয়ে দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করেন । কাপড় কাচতে কতটা ফোর্স লাগে তা আমরা কখনও জানার চেষ্টা করিনাই । আর মার সেই পরিষ্কার করা শার্ট-প্যান্ট পড়ে ফেসবুকে ঝকঝকে ছবি আপলোড করি ।

ঈদের দিনে মা তড়িঘড়ি করে সেমাই রান্না করেন‚ পোলাও-কোরমা রান্না করেন । সেমাই খেয়ে মাঠে চলে যাই‚ তারপর মা গোসল সারেন । মাঠের নামাজ পড়ে আসার পর থেকে শুরু করে আত্নীয়-স্বজনদের খাবার সার্ভ করেন । সকাল টু বিকাল পর্যন্ত ।
মুখ বুজে মা কাজ করে যান । পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমরা কখনও নারীর কাজগুলোকে মূল্যায়ন করতে শিখিনাই । পিঠা আগে কখনও খাননা‚ ভাত সবার শেষে নিয়ে খান‚ সংসারের ধোয়া-মোছার কাজগুলো সুনিপুণভাবেই করে থাকেন । টুকিটাকি সব কাজ করতেই থাকেন টুক-টুক করে; হাতটা কখনও রেহাই পায়না ।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমরা ধর্মমতে বিয়ে করলেও ধর্মমতে নারীদের সেই নিজস্ব স্পেসটা দিইনা । যদিও এসম্পর্কে আমি অভিজ্ঞ ব্যক্তি নই । তবে জগৎ-সংসারে যতটা দেখি সেটুকু থেকে শিক্ষা নিই‚ তাতে করে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে কিছু জ্ঞান জমা হয় । নারীদের আবেগ-ভূষণ-উৎকণ্ঠা-চাওয়া-পাওয়ার কতটাইবা জানি-শুনি বা পূরণ করা হয় এই সমাজে । একজন নারীর কর্মগুলোকে কতটা মূল্যবান মনে করি আমরা!...কতটা করি?...

..এ নারী অনন্য...এ নারী অনবদ্য...এ নারী অপরূপ...

(ফুটনোটঃ উপরিউক্ত লেখাটি আমাদের সমাজের একটি বাস্তব চিত্র । আমি এখানে নিজের উদাহরণটা প্রয়োগ করেছি শুধু । মাকে আমি কতটা কেয়ার করি বা হেল্প করি তা আপনার জানার কথা না; তাই সেটা নিয়ে অজ্ঞের মত প্রশ্নও তুলবেননা আশাকরি! আপনার বিবেক এবং উপলব্ধি জাগানোর জন্যই এটি লেখা হয়েছে । ধন্যবাদ ।)


—সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৮ বৈশাখ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | মঙ্গলবার | রাত্রি ১১ টা বেজে ১৩ মিনিট
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×