খারাপ কোনোকিছু ঘটলেই প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করা এই রীতিটা শুধু রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ না । এই রীতিটা ধর্ম-গোত্রের মধ্যেও চালু আছে ।
রমজান মাস আসলেই একটা কমন সমস্যা হলো ‘লোড শেডিং’ । আর এই লোড শেডিংটাও বিশেষ বিশেষ সময়ে ঘটে । সেহরির সময়‚ ইফতারের সময়‚ তারবীহ নামাজের সময়; যখন ইলেকট্রিসিটির অতীব প্রয়োজন পড়ে । তখন কিছু উৎসুক লোক অন্য ধর্মের লোকেদের তুলোধুনো করে ছাড়েন । যে ইলেকট্রিসিটি কন্ট্রোলারের দায়িত্বটা অন্য কোনো ধর্মের লোক কন্ট্রোল করতেছেন । যে কারণে এই সমস্যাটা ঘটছে!
তখন আমিও সেই লোককে প্রতিউত্তরে বলি‚ “ভাই‚ অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়া দ্যাখেন তিনি আপনার ধর্মেরই লোক । মিছেমিছি অন্য ধর্মকে গালি দিচ্ছেন‚ কটাক্ষ করতেছেন ক্যান!”
আবার অনেকসময় ওয়াজ-মাহফিলে শুনি বক্তারা বলেন যে মুসলমানদের শত্রু হলো ইউরোপিয়ানরা-আমেরিকানরা । তখনও আমি বলি‚ “মুসলমানদের বড় শত্রু হলো মুসলমানরাই । বাংলাদেশের সব বক্তাগোষ্ঠী কি কখনও এক হতে পেরেছে । তারাইতো এক জনের আঠা আরেকজনকে লাগিয়ে বেড়ায় । একজন বলে ‘ওরে বাটপার’ তো অপরজন বলে ‘ওরে চিটার’ । একই ধর্মের লোক হয়েও একজনের আরেকজনের গীবত করেন‚ কটাক্ষ করেন‚ হেয় করেন । আমাদের অভ্যন্তরীন বিষয়গুলোকে তো আগে সমাধান করা দরকার । একেই বলে ঘরের শত্রু বিভীষণ!”
নিজেদের মধ্যে হাজারও সমস্যা রেখে‚ আবার আমরা অন্য ধর্মকে ব্যঙ্গ করি‚ কটাক্ষ করি‚ তুলোধুনো করি । এ যেন এক কমন ট্রেডিশান । হয়তোবা অন্যান্য ধর্মের লোকেদেরও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এরকম ঘটনা ঘটলে অপর ধর্মকে কটাক্ষ করে বেড়ান । কিন্তু আমরা যা ভাবি তা মোটেও সত্যি নয় । নিজের ধর্মের লোকেরাই আমাদের কষ্টে ভোগান‚ সমস্যায় ফেলে দেন! তবুও অন্য ধর্মের প্রতি কেন চক্ষুশূল?...কেন...
—সাব্বির আহমেদ সাকিল
১৫ বৈশাখ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | গ্রীষ্মকাল | মঙ্গলবার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

