somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমি এক ক্লান্ত প্রাণ, যে জীবনের উত্তাল ও সফেন সমুদ্রের বুকে যুগ যুগ ধরে পথ হেঁটে চলেছে। চারপাশের চতুর পৃথিবীর কোলাহলে যখন আমি অবসন্ন, তখন প্রকৃতির সুদূর অন্ধকার আর নির্জনতার মাঝেই আমি আমার শান্তি খুঁজে পাই । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https

হতাশায় ডুবলে পরবর্তী প্রজন্ম কোথায় শান্তি খুঁজে পাবে!

২১ শে এপ্রিল, ২০২৩ ভোর ৪:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের পরবর্তী প্রজন্মটা আমাদের চাইতেও বেশী হতাশায় ভুগবে এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় । অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে বন নেই, পাহাড় নেই, পশুপাখি নেই, ঘাস নেই, নদীমাতৃক দেশ বইপত্রে লেখা থাকলেও নদী নেই বলাই বাহুল্য ।

নদীগুলো ধীরে ধীরে খাল বা ডোবায় পরিণত হচ্ছে । নরম দূর্বাঘাসের জমিগুলোতে গড়ে ওঠে শিল্পকারখানা । পার্বত্য অঞ্চলে যেসব পাহাড় রয়েছে সেগুলোকে কেটেও তৈরি হচ্ছে পুঁজিবাদীদের ব্যবসায়িক কেন্দ্র । খরা, দূষণ, কীটনাশকের ফলে পাখিদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে । অতিরিক্ত সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে । মাটিতে আর সোঁদা ঘ্রাণ পাওয়া যায়না!

যখন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের খুব খারাপ লাগবে, কষ্ট পাবে, বেদনায় মলিন হবে, শোকে কাতর হবে তখন ওঁরা সেটাকে আপন করতে পারবেনা । নিজেকে সময় দেবার মতো স্পেস খুঁজে পাবেনা । পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাবেনা, নদীতে গোসল দিতে পারবেনা । ধানের জমিতে পিচ বানিয়ে খেলতে দেখা যাবেনা । কাঁঠালপাতা দিয়ে টাকা বাজার করতে দেখা যাবেনা । নদীতে ডিঙি নৌকা নিয়ে ঘুরতে দেখা যাবেনা ।

একটা সময় ছিল যখন দুঃখ পেলে ঘাসের উপর শুয়ে শুয়ে নক্ষত্র দেখতাম । ফোন থেকে, ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকতাম । কিন্তু শিল্প বিকাশের দরুণে শুয়ে থাকার মতো আর ঘাস খুঁজে পাইনা ।

প্রাণোচ্ছল করতোয়ায় গোসল করতাম, নদীর তীরে বসে প্রিয় কোনো সুর শুনতাম । অথচ কত তাড়াতাড়ি করতোয়া নদী মরে গেলো । নদীর কাছে গেলে বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে ।

প্রযুক্তি ও শিল্পের অগ্রযাত্রায় হয়তোবা আমাদর পরবর্তী প্রজন্ম চব্বিশ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে, গ্যাস পাবে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র পাবে, ভালো মানের ক্যামেরাওয়ালা ফোন পাবে কিন্তু প্রাকৃতিক বাতাসের সুঘ্রাণ পাবেনা । ফসলভরা মাঠ দেখে ওঁদের চোখ বিস্ময়ে আনন্দে উদ্বেল হবেনা । পাখির গান শুনে মন ভালো করার উপায় থাকবেনা ।

কিরকম সুচারুভাবে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে । সবকিছু এত জলদি বদলে যাচ্ছে যে ভাবতেই গা শিউরে ওঠে ।

আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কোথায় শান্তি খুঁজে পাবে সেটা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কথা ভাবলেই উত্তরটা সহজেই বের করা যায় ঠিকই কিন্তু তাঁদের মননশীলতার বিকাশের জন্য এটি কতটা সহায়ক ভূমিকা রাখবার ক্ষমতা রাখে!

এতটা বিদ্যুতের আমাদের দরকার বোধহয় না হলেই ভালো হতো, চারিদিকে এত শিল্পকারখানা চালু না হলেই ভালো হতো । আশেপাশে এত এত বাড়িঘর তৈরি না হলে ভালো হতো ।

চারপাশের এসকল যান্ত্রিকতা আর পুঁজিবাদী আগ্রাসন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে কোনোভাবেই ভালো থাকতে দেবেনা, দিতে পারেনা ।

মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ করে দেবার যে রীতিকে ফলো করে আমরা এসব গড়ে তুলছি তাঁর খেসারত পরবর্তী প্রজন্মের উপরেই বর্তাবে, আলবাত বর্তাবে...

সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৮ বৈশাখ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল | শুক্রবার | ২১ এপ্রিল ২০২৩ ইং | আপন নীড়, বগুড়া
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০২৩ ভোর ৪:৩৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁশি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৪



হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১১



“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×