somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমার ব্লগে ঘুরতে আসায় আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । আশা করছি আমার লেখালেখি, ফটোগ্রাফি আপনার ভালো লাগবে । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https://www.facebook.com/SA.Sabbir666

হতাশায় ডুবলে পরবর্তী প্রজন্ম কোথায় শান্তি খুঁজে পাবে!

২১ শে এপ্রিল, ২০২৩ ভোর ৪:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের পরবর্তী প্রজন্মটা আমাদের চাইতেও বেশী হতাশায় ভুগবে এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় । অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে বন নেই, পাহাড় নেই, পশুপাখি নেই, ঘাস নেই, নদীমাতৃক দেশ বইপত্রে লেখা থাকলেও নদী নেই বলাই বাহুল্য ।

নদীগুলো ধীরে ধীরে খাল বা ডোবায় পরিণত হচ্ছে । নরম দূর্বাঘাসের জমিগুলোতে গড়ে ওঠে শিল্পকারখানা । পার্বত্য অঞ্চলে যেসব পাহাড় রয়েছে সেগুলোকে কেটেও তৈরি হচ্ছে পুঁজিবাদীদের ব্যবসায়িক কেন্দ্র । খরা, দূষণ, কীটনাশকের ফলে পাখিদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে । অতিরিক্ত সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে । মাটিতে আর সোঁদা ঘ্রাণ পাওয়া যায়না!

যখন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের খুব খারাপ লাগবে, কষ্ট পাবে, বেদনায় মলিন হবে, শোকে কাতর হবে তখন ওঁরা সেটাকে আপন করতে পারবেনা । নিজেকে সময় দেবার মতো স্পেস খুঁজে পাবেনা । পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনতে পাবেনা, নদীতে গোসল দিতে পারবেনা । ধানের জমিতে পিচ বানিয়ে খেলতে দেখা যাবেনা । কাঁঠালপাতা দিয়ে টাকা বাজার করতে দেখা যাবেনা । নদীতে ডিঙি নৌকা নিয়ে ঘুরতে দেখা যাবেনা ।

একটা সময় ছিল যখন দুঃখ পেলে ঘাসের উপর শুয়ে শুয়ে নক্ষত্র দেখতাম । ফোন থেকে, ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকতাম । কিন্তু শিল্প বিকাশের দরুণে শুয়ে থাকার মতো আর ঘাস খুঁজে পাইনা ।

প্রাণোচ্ছল করতোয়ায় গোসল করতাম, নদীর তীরে বসে প্রিয় কোনো সুর শুনতাম । অথচ কত তাড়াতাড়ি করতোয়া নদী মরে গেলো । নদীর কাছে গেলে বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে ।

প্রযুক্তি ও শিল্পের অগ্রযাত্রায় হয়তোবা আমাদর পরবর্তী প্রজন্ম চব্বিশ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে, গ্যাস পাবে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র পাবে, ভালো মানের ক্যামেরাওয়ালা ফোন পাবে কিন্তু প্রাকৃতিক বাতাসের সুঘ্রাণ পাবেনা । ফসলভরা মাঠ দেখে ওঁদের চোখ বিস্ময়ে আনন্দে উদ্বেল হবেনা । পাখির গান শুনে মন ভালো করার উপায় থাকবেনা ।

কিরকম সুচারুভাবে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে । সবকিছু এত জলদি বদলে যাচ্ছে যে ভাবতেই গা শিউরে ওঠে ।

আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কোথায় শান্তি খুঁজে পাবে সেটা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কথা ভাবলেই উত্তরটা সহজেই বের করা যায় ঠিকই কিন্তু তাঁদের মননশীলতার বিকাশের জন্য এটি কতটা সহায়ক ভূমিকা রাখবার ক্ষমতা রাখে!

এতটা বিদ্যুতের আমাদের দরকার বোধহয় না হলেই ভালো হতো, চারিদিকে এত শিল্পকারখানা চালু না হলেই ভালো হতো । আশেপাশে এত এত বাড়িঘর তৈরি না হলে ভালো হতো ।

চারপাশের এসকল যান্ত্রিকতা আর পুঁজিবাদী আগ্রাসন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে কোনোভাবেই ভালো থাকতে দেবেনা, দিতে পারেনা ।

মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ করে দেবার যে রীতিকে ফলো করে আমরা এসব গড়ে তুলছি তাঁর খেসারত পরবর্তী প্রজন্মের উপরেই বর্তাবে, আলবাত বর্তাবে...

সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৮ বৈশাখ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল | শুক্রবার | ২১ এপ্রিল ২০২৩ ইং | আপন নীড়, বগুড়া
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে এপ্রিল, ২০২৩ ভোর ৪:৩৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×