somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবশেষে

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েটার পরনে সাদা পেড়ে কালো শাড়ি, ছেলেটার সাদা পাঞ্জাবী। বসে আছে বনানী কাজী অফিসে, আর কিছুক্ষনের মধ্যে বিয়ে।

ছেলেটার নাম রামিম, মেয়েটার নাম অদ্রি। তিন বৈশাখের প্রেম, এক দিক থেকে। হাসি খুশি জুটি, কিন্তু ভালোবাসা এক দিক থেকে। পহেলা বৈশাখে রমনাতে পরিচয়। মেয়েটার পরনে ছিলো লাল পেড়ে সাদা শড়ি আর ছেলেটার সাদা পাঞ্জাবী। মেয়েটি একা দাঁড়িয়ে ছিলো বট গাছটার পাশে, রমিম নিজেকে আটকে রাখতে না পেরে এগিয়ে গিয়েছিলো কথা বলতে। পারবেই বা ক্যামনে? সাদা শাড়ি, হাত ভর্তি লাল চুড়ি কপালে লাল টিপ আর মুখে এক গাল হাসির মধ্যে সে খুঁজে পেয়েছিলো ভুবনের সমস্ত সুখ।

-আপ্নি খুব ভালো গান গাইতে পারেন।
- কিভাবে বুঝলেন?

রামিম আসলে গুল মেরেছে। কি বলে শুরু করবে বুঝতে পারছিলো না। যেহেতু গান গাওয়া মেয়ে গুলোর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো তাই এই গুল মেরেছে। এখন মেয়েটার মুখের হাসি দেখে মনে হচ্ছে গুল কাজে লেগেছে।
- না আসলে আপ্নার গান শুনলাম তো তাই।
- কোন গানটা?
- ওই যে, এসো হে বৈশখ। আচ্ছা একটা অটোগ্রাফ দিন না।
- অটোগ্রাফ নিবেন?
-জি।
- দেন কাগজ কলম দেন।
- এই নিন।

"চাপা মারার সময় আগে ভেবে নিবেন, চাপার মধ্যে কিছুটা সত্য তো থাকা চাই।" - অদ্রি।

রামিম কাগজ টা হাতে নিয়ে একবার তাকিয়ে কোন রকম ঠোঁটের কোনায় একটু হাসির সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাখে। মেয়েটা হাসতে হাসতে চলে যায়।

এরপর দেখা হয়েছিল শাহবাগের মোড়ে। মেয়েটার হয়তো সাদা খুব প্রিয়, আর হাত প্রিয় হাত ভর্তি চুড়ি। মোড়ে দাঁড়িয়ে কার জন্য যেন অপেক্ষা করছে, আর বার বার শুধু ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। রামিম পাশ কাটিয়ে চলে যেতে গিয়ে পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেল।

মেয়েদের আশ্চর্য রকমের একটা গুন রয়েছে। কোন ছেলে যদি একবার কোন মেয়ের প্রেমে পড়ে তাহলে মেয়েটা যেন তাকে চম্বুকের মত টানতে থাকে, আর এই টানের ঊর্ধ্বে যাওয়ার সামর্থ্য ছেলেদেরকে দেওয়া হয় নি।

- আমি কি আপ্নার জন্য দুটো গোলাপ কিনতে পারি?
- আপ্নি?
- ভুলে গেলেন! অটোগ্রাফ নিলাম যে!
- ওহ! হ্যা মনে পড়েছে! চাপা মারতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন।

রামিম লাজুক হাসি হেসে নিচের দিকে তাকায়।
- তো আজজ আবার ফ্লাটিং করতে এসেছেন না কি?
- আরে না!
- কি যেন কিনতে চাচ্ছিলেন? গোলাপ না?
- জি।
- এক কামে দুই কাম না?
- জি?
- গোলাপ কিনতে বললে বুঝতে পারবেন আমার বয় ফ্রেন্ড নেই আর আমি আপ্নাকে আমার উপর খানিকটা অধিকার দিচ্ছি।

রামিম আশ্চর্য চোখে তাকিয়ে আছে মেয়েটির দিকে। মেয়েটার কথা বলার মধ্যেও একটা সৌন্দর্য আছে। আর হাসিটা! সবসময় মুখে লেগে আছে।

আরে রামিম তুই এখানে? রামিম পিছনে ফিরে দেখে স্বপ্না। কি রে তোরা দুজন দুজন কে চিনিস না কি? উত্তর টা দেয় অদ্রি।
- হু আমাকে পটানোর চেষ্টা করছে।
- লাভ নেই দোস্ত ওর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। ছেল বিদেশে থাকে।

রামিম কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্তব্দ হয়ে যায়। তারপর আবার হাসি ফুটিয়ে বলে,
- যাহ ফাজিলামি করিস না!
- আরে না সত্যি। তবে তুই ওর সাথে বন্ধুত্ব করতে পারিস।
এরপরের কথা টা অদ্রি বলে,
-ইস!! মিশন মিস! তবে হ্যা বন্ধুত্ব করতে পারি। অদ্রি হাটটা বাড়িয়ে দেয়। রামিমও তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মায়াবতীকে স্পর্শ না করে ফিরিয়ে দিতে পারে না।

সারাটা দিন রামিমের খুব মন খারাপ থাকে। আর ভাবে, কেন? এই মেয়েটারই বিয়ে ঠিক হতে হবে? আর কোন মেয়ে নেই দেশে?
রাত নয়টা রামিম স্বপ্নাকে ফোন দেয়।
- হ্যা দোস্ত বল।
- অদ্রির নাম্বার টা দে তো।
- কেন দোস্ত?
- কথা বলব।
- দোস্ত?
- ভালো লাগছে না দে তো?
- আচ্ছা টেক্সট করে দিচ্ছি।

স্বপ্না নাম্বার টা পাঠিয়ে দেয় তার সাথে লিখা থাকে, "দোস্ত মেয়েটার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে, মেয়েটা খুব ভালো রে, প্লিজ দোস্ত কোন ঝামেলা করিস না।"

ফোন দিবে না দিবে না করেও ফোন দেয়। ফোন ধরে ওপাশ হতে জবাব আসে মায়াবতীর কন্ঠস্বর,
হ্যালো?
কয়েক বার হ্যালো বলার পর বলে, রামিম?
- জি।
- চুপ করে আছো যে?
- কি বলব বুঝতে পারছি না!
- তাহলে ফোন দিছো যে?
রামিম চুপ করে থাকে। কিছুক্ষন উভয় পাশেই নিরবতা। আবার কথা বলে অদ্রিই,
- কি করো?
- জোস্না দেখি।
- আমিও। রোজই দেখো?
- না, হটাৎ। মন খারাপ থাকলে।
- আজ মন খারাপ?
- হু।
- কেনো?
- তোমার জন্য।
আবার নিরবতা। কয়েক সেকেন্ড কেটে যায়, দুজনেই কি যেন ভাবে।
- জানো আমিও জোস্না দেখি যখন আমার মন খারাপ থাকে।
- তোমার মন খারাপ থাকে কেন?
- কি জানি!
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অদ্রি ফোন রেখে দেয়।

সারা রাত কেটে যায়, রামিম ঘুমাতে পারে না। মনে হয় কেউ একজন তার কাঁধে দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে বলছে, রামিম আমি ভাল নেই।

এরপর হতে কথা বলা চলতে থাকে। রাত জেগে সুনীলের কবিতা শুনতে থাকে, পাশাপাশি হাটতে থাকে, ভাগ করে নেয় দু:খ কষ্ট সুখ সমস্ত কিছু। হয়তোবা অদ্রির হাতে কোন কোন দিন তুলে দেয় দুটি গোলাপ, কিন্তু কোন দিন কেউ উচ্চারণও করে না, ভালোবাসি।

দেখতে দেখতে তিনটি বছর কেটে যায়। ওপাশের মানুষটির জন্য বিদেশ হতে মানুষটি ফিরে আসে, বিয়ের দিন ঠিক হয়।

হটাৎ করে মেয়েটার সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। শাহবাগে শেষবারের জন্য দেখা করতে আসে, কালো শাড়ি, হাত ভর্তি চুড়ি, কপালে কালো টিপ দিয়ে, সাদা পাঞ্জাবীর ছেলেটা দুটি গোলাপ হাতে বসে থাকে। পাশে এসে বসে মায়াময়ী মেয়েটি।

মেয়েটির চোখ ছল ছল করে ওঠে। হাসিটা মিলিয়ে গেছে কোথায় যেন। হটাৎ করেই হাতে হাত রাখে ছেলেটার, ছেলটার চোখের দিকে তাকায়,
- বিয়ে করো না আমায়!

বনানী কাজি অফিসে প্রথমে ছেলেটা স্বাক্ষর করে তারপর মেয়েটা। আজ হতে তারা একই খাঁচার পাখি, না ভুল বললাম মুক্ত খাঁচার ভালোবাসার বন্ধনে বাধা পাখি।

ত্রিবন্ধনের মধ্যে ভালোবাসা বেঁধে এবার তারা সংসার সাজাবে নিজেদের মত করে।

মেয়েটার মুখে হাসি ফুটেছে। ছেলেটার চোখ ছল ছল করে উঠছে।

লিখা: সাগর আহম্মেদ (রংচটা আমি)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×