মাউন্ট আবু থেকে বিদায় নিয়ে দিল্লীর ট্রেনে চড়ার আগে গুজরাটে ঘুরতে গেলাম। বাকী সফর সঙ্গীরা যাবে মন্দির দর্শনে আর আমি যাব মন্দির সংলগ্ন খেলনার দোকানগুলোতে। শুনেছি খেলনা ওখানে অনেক সস্তা।
গন্তব্যে যেতে যেতে গুজরাটি ল্যান্ডস্কেপে চোখ বুলালাম তবে প্রচন্ড তাপদাহে অস্থির হয়ে উঠলাম। আর প্রায়শই লম্বা শিংওয়ালা গরু (নাকি ষাড়?) মহাশয়দের আয়শী ঢংয়ে চলনের কারনে থেমে রইলাম।
![]()
গন্তব্যস্থল থেকে খুব কাছে এমন সময় এই বেলুনটির দিকে নজর গেল। যা ট্যুরিস্টদের নিয়ে আকাশে ঘুরে আসে কিছু সময়ের জন্য।
সবাই মন্দিরে চলে গেলে আমি গেলাম খেলনার দোকানগুলোতে। অনেক ঘুরে তবেই পছন্দসই এই বুলডোজারটি কিনলাম। দাম খুবই কম ছিল। পরে চাঁদনী চকে দেখলাম যা দিয়ে কিনেছি তার দ্বিগুন দাম। কম দামে গুজরাটি বুলডোজার পেয়ে গেলাম আর কি
স্থানীয় বুননে তৈরী নিজের নাম সম্বলিত চাবির রিং কিনলাম কয়েকটা। প্রিয়জনদেরকে স্মৃতিমূলক কিছু দিতে পারব।
ফিরে আসতে পথে গুজরাটি আধিবাসীদের দেখলাম।দেখে সহজ-সরল মনে হলেও গাড়ির চালক জানালেন যে উশৃঙ্খল ও কিছুটা লুটেরা স্বভাবের।
আবু রোড স্টেশনে ফিরে ট্রেনের অপেক্ষার সময়টুকুতে এখানকার বিখ্যাত রাবড়ি নামক মিস্টান্নটি চেখে দেখলাম। দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে সরসমেত খাওয়া আর কি! এটা বিখ্যাত মিস্টি? কিভাবে কি বুঝলামনা!
দিল্লী পৌছে মেট্রো করে চাঁদনী চকে গিয়ে হাজির হলাম। সকালের নাস্তা সারলাম দিল্লী-৬ এবং চাঁদনী চক প্রধান সড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত ১৪৪ বছরের পুরোনো ছোট্ট এক জিলাপীর দোকানের ঘিয়ে ভাজা জিলাপী দিয়ে। স্বাদ। অতুলনীয় তবে সাইজে বড় বলে ৩টার বেশী খেতে পারলামনা।
![]()
চাঁদনী চকে শপিং করে লাল কেল্লার সামনে থেকে একটু ঘুরে এলাম। এবার সময় জামে মসজিদে যাওয়ার।
![]()
দিল্লী-৬ গলি ধরে চলে এলাম জামে মসজিদে। আগেও বার কয়েক এসেছি এখানে। কেন যেন এখানে আসলেই মনটা শান্ত হয়ে যায়। চিন্তা নামক কিছুই আর টের পাইনা। মহান আল্লাহ্ কে স্মরণ করলাম কিছুটা সময় এক কোনে বসে নীরবে, একান্তে।
![]()
জামে মসজিদের ১ নং গেট থেকে বের হয়ে একটু এগোতেই বিখ্যাত করিম রেস্টুরেন্ট। করিমের বিরিয়ানির সুনাম বিশ্বজুড়ে। যতবারই এসেছি এদিকে বিরিয়ানি না খেয়ে যাইনি। এবার বোনাস হিসেবে নেহারী এবং তন্দুর রুটির দেখা মিলল। তাই বিরিয়ানির সাথে এই দুটোরও অর্ডার দিলাম। করিমের সুনাম করা কিছু লেখাও দেখলাম।
![]()
ভরপেট নেহারী, তন্দুর এবং বিরিয়ানি খেয়ে চাঁদনী চক থেকে দিল্লীর কেন্দ্র কনাট প্লেসে এলাম এখানকার সবচাইতে পুরোনো টয় শপে। কয়েকটা মডেল এয়ারক্রাফ্ট কিনলাম। এখানে এত্ত খেলনা যে যদি কার্ড এবং বেশ কিছু টাকা ট্রাভেল ব্যাগে না রেখে সাথে নিয়ে আসতাম তাহলে সব শূন্য করে এক বাক্স খেলনা নিয়ে দেরাদুনে ফিরতে হত। ভাগ্যিস ওগুলো ব্যাগেই রেখে এসেছিলাম স্টেশনের ক্লক রুমে!
![]()
খেলনা কিনে, আরও কিছুক্ষন ঘুরে তারপর রেল স্টেশনে ফিরে এলাম এবার দেরাদুন ফিরতে হবে।
৬টা দিন অসাধারন কাটল। জন্মদিনের সকালে ট্যুর শুরু করেছিলাম আর পহেলা বৈশাখের বিকেলে তা শেষ করলাম। বিশেষ দিনগুলো একা কাটানোর কস্ট কিছুটাতো লাঘব হল!
****পর্ব-৪
৬ দিনের ভ্রমনলিপি (দিল্লী-মাউন্ট আবু-গুজরাট-দিল্লী)-৪: যা কিছু দেখলাম মাউন্ট আবুতে
Click This Link
***পর্ব-৩
৬ দিনের ভ্রমনলিপি (দিল্লী-মাউন্ট আবু-গুজরাট-দিল্লী)-৩: মাউন্ট আবুতে
Click This Link
**পর্ব-২
৬ দিনের ভ্রমনলিপি (দিল্লী-মাউন্ট আবু-গুজরাট-দিল্লী)-২: রেল যাদুঘরে
Click This Link
*পর্ব-১
৬ দিনের ভ্রমনলিপি (দিল্লী-মাউন্ট আবু-গুজরাট-দিল্লী)-১: বিমান বাহিনী যাদুঘরে
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৩:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



