somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেরাদুনে জীবন যেমন ৭: বন-বাদাড়ে ট্রেইল

২৬ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৩:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্যাস্ততার কারনে অনেকদিন কোথাও ঘুরতে যাইনি। তবে গত শনিবার সব ব্যাস্ততাকে দূরে রেখে আমরা কজন বেররিয়ে পড়লাম দেরাদুন শহরের বাইরে অবস্থিত ওয়াইল্ড লাইফ ইনিস্টিটিউটের পথে। ওখানে খুব মজা করেছিলাম বনের ভেতর ট্রেইল ধরে চলতে চলতে। সেই ট্রেইলিংয়ের সচিত্র বর্ননা নিয়েই আজকের পর্ব।

শহর থেকে বেশ দূরে অবস্থিত ওয়াইল্ড লাইফ ইনিস্টিটিউটের সীমানায় প্রবেশ করলাম প্রায় ভর দুপুরে। ইনিস্টিটিউটের লোগোতে হরিণ দেখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মনে পড়ে গেল। আহা, যদি আবার ফিরতে পারতাম সেই ক্যাম্পাসে!!



সুন্দরাকৃতির ঘর, লম্বা করিডর পেরিয়ে পরিচিত একজনের সাথে দেখা করতে গেলাম। তার কাজ আমাদের সবকিছু ঘুরিয়ে দেখানো।





ক্যাম্পাসটি বনের মাঝে অবস্থিত। রাস্তার চারপাশ বনে ঘেরা এবং পুরো ক্যাম্পাসের ল্যান্ডস্ক্যাপে বন্যতার ছোয়া।





ক্যাম্পাসের নানা কিছু দেখে, দুপুরের খাবার খেয়ে আমরা চললাম বনে ট্রেইলিং করতে। ট্রেইলের শুরুতে গাইড ম্যাপ দেখে সবকিছুর একটা ধারনা পেয়ে গেলাম।



জানা গেল এই বনে নানা রকম পাখি, খরগোশ আর একটি চিতার বসবাস। মোশন সেন্সিটিভ ক্যামেরায় নাকি চিতাটিকে কয়েকবার দেখা গিয়েছে এখানে। তবে দিনের বেলায় চিতা সাহেবের দেখা মিলবেনা নিশ্চিত হয়ে তবেই ট্রেইল ধরে এগোতে থাকলাম। নিস্তব্ধতা, পাখির ডাক, শুকনো পাতার আওয়াজ.......সব মিলিয়ে বন্যতা যেন ট্রেইলের পরতে পরতে জড়িয়ে।









ট্রেইল জুড়ে বসানো রয়েছে মোশন সেন্সিটিভ ক্যামেরা। তার সামনে গিয়ে আমার বান্দরীয় নৃত্য প্রতিভার বিকাশ ঘটালাম এবং সাথে থাকা এখানকার একজন গবেষককে বললাম ছবিগুলো সংগ্রহ করে আমায় দিতে।



গাছ জুড়ে উইপোকার বসতি দেখলাম কয়েকবারই। খুব একটা বিশালকায় নয় তবে একবারে ছোট যে তাও নয়।



বনের মাঝেই একটি লেক যা দূরে গিয়ে নদীতে সংযুক্ত। বন্য প্রানীদের পানীয় জলের সরবরাহক এই লেকটিই।



বন জুড়ে ট্রেইল করে একটি লজ্জাবতী গিরগিটি এবং নানা রকম প্রজাপতি বিনা আর কিছুই দেখতে পেলামনা। তবে আড্ডায় আড্ডায় ট্রেইলটা জমে উঠেছিল এতই যে কোন রকম শূণ্যতার স্থান সেখানে ছিলইনা।





অবশেষে ট্রেইলের সমাপ্তি ঘটল। বন ছেড়ে লোকালয়ে ফিরলাম। কিন্তু আমার মন পড়ে রইল ট্রেইলের মোশন সেন্সিটিভ ক্যামেরায়। ছবিগুলো আদৌ পাওয়া হবে কিনা জানিনা কিন্তু যিনি ছবিগুলো দেখেন তিনি যখন আমার অদ্ভুত দর্শন ছবি দেখবেন তখন না আমাকে বনে আসা নতুন প্রজাতির শাখামৃগ ভাবেন সেটাই বুঝতে চেষ্টা করছি :D

*একটি বিশেষ প্রয়োজনে হঠাৎই বাংলাদেশে আসছি পরশু। থাকব কয়েকদিন তারপর আবার ফিরে আসব। যদিও এমন ভ্রমন নিয়ে আগে কয়েকবার লিখেছি তবুও আশা করছি এবার একদম নতুন কিছু নিয়ে হাজির হতে পারব খুব জলদি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৩:৫৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×