এখন সব জায়গায় একই আলোচনা আগামি নির্বাচন কিভাবে হবে।সংবিধান সংশোধনী এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করাই বতমান রাজনীতিবিদের মাথা ব্যাথার ও আমাদের আতঙ্কের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের আতঙ্কের পিছনে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাস। চলুন দেখি ইতিহাস কি বলে-
সর্বপ্রথম জামায়ত এবং তারপর আওয়ামী লীগ ও জাতিয় পার্টি তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর বিল ১৯৯৩ সালে সংসদ সচিবালযে পেশ করে। বি এন পি প্রথম থেকে এ দাবি অসাংবিদানিক ও অবৈধ বলে অগ্রায্য করে।১৯৯৪ সালে ২০ মার্চ তারিখে মাগুরা-২ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ঊঠে। এ নির্বাচনে কারচুপির ৮৮’র এরসশাদের নির্বাচনকে হার মানিএছে বলে খরর প্রকাশিত হয়। ২৭ শে জুন সংসদ ভবনে একযৌথ সাংবাদিক সম্মেলনএ আওয়ামী লীগ, জাতিয় পাটি ও জামায়ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর রূপরেখা ঘোষনা করে। কিন্তু সরকার তার অবস্থানে অনর থাকায় ২৮ডিসেম্বর বিরোধী দলীয় ১৪৭ জন এম পি পদত্যাগ পএ পেশ করেন। যদিও স্পিকার পদত্যাগ পএ গ্রহনযোগ্য নয় বলে রুলিং দেন। ফলে বিরোধী দলের ৯০ কাযদিবস অনুপস্থিতির দরুন সংসদ আসন শুণ্য হয়। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ দাবিতে ২রা সেপ্টেম্বর থেকে ৩২ঘণ্টা হরতাল পালিত হয়।১৬ নভেম্ভর থেকে একধারে ৭ দিন অথার্ৎ ৯৬ ঘণ্টা হরতাল পালিত হয়। বিরোধী দল গুলোর প্রতিরুধের মুখে ১৫ ফেবরুয়ারী ৬ ষ্ঠ জাতিয় নির্বাচন হয়।দেশব্যপী সহিংসতায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়।৬ মার্চ এর একটি হরতালে সিরাজগঞ্জ ৩ আসনের উপ নিরবাচন আনুষ্ঠিত হয় । এতে সহিংসতায় ১৫ জন প্রাণ হারায়।৯ মার্চ থেকে সরকার পদত্যাগ না হয়া পযন্ত লাগাতার অসহযোগ আন্দোলন সুরু হয়।২৩ মাচ আওয়ামী লীগের নেতৃতে প্রেস ক্লাব এর সামনে জনতার মঞ্চ স্থাপন করে সরকার এর পদত্যাগ না হয়া পর্যন্ত অবস্থান ধমঘট সুরু হয়। সরকারি কর্মকরতা ও কর্মচারীর একটা অংশ এতে যোগ দেয় । অবশেষে ২৫শে মার্চ সংসদ এ নিরদলিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর বিল পাস হয়।
তারপর ১/১১ এর ইতিহাস তো সবারই জানা। সাবেক রাষ্ট্রপতি মি.ইয়াজউদ্দিন (ইয়েসদ্দিন) ও বিচারপতি এম এ এজিজ কতৃক সৃষ্ট নাটকে আওয়ামী লীগের লগীবৈঠা আন্দোলনে অনেক তাজা প্রাণ অকালেই ঝরে পরে।
একটি প্রবাদ আছে, যে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না সে ইতিহাস হয়ে যায়। এ প্রবাদটি বাংলাদেশ এর রাজনীতির জন্য প্রযোজ্য। ইতিহাস সাক্ষী, বাকসাল ভিত্তিক কোন রাজনীতি (হিটলার এর রাজনীতি) পৃথিবীর কোথাও টিকে থাকতে পারে নি, তা জেনেও বঙ্গবন্ধু বাকসাল কায়েম করেন। যার ফলে তিনি নিজে ইতিহাস হয়ে গেলেন। জিয়াউর রহমান জানতেন যে পৃথিবী কোথাও সামরিক শাসন টিকে থাকে নি, তা জেনেও সামরিক শাসন কায়েম করলেন।ফলে নিজেও ইতিহাস এর অংশ হয়ে গেলেন। সুতরাং ইতিহাস আমাদের বলে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে আবারও আওয়ামী লীগ তাদের সৃষ্ট সেই ইতিহাসকে অবজ্ঞা করেছে। যার ফল হয়তবা হবে বিসৃংক্ষল পরিস্থিতি আর পরিচিত সেই মৃত্যুর নগ্ননৃত্য। রাজনীতিবিদের পরষ্পরের প্রতি অশ্রদ্ধা, অবিশ্বাস আর ক্ষমতার লোভ আবারও হয়তবা এ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। সরকার আসবে সরকার যাবে, রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত হবে, আর আমরা হারাব আমাদের কিছু ভাই, সহপাঠী অথবা আমাদের সন্তান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


