somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এসএমএস এর বিবর্তন......!

৩০ শে মে, ২০১৬ সকাল ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১) ভালো লাগার শুরুতে......!

এপাশ থেকেঃ হাসলে তোমাকে খুব সুন্দর লাগে!

ওপাশ থেকেঃ যাহ কিজে বলনা...!

কালকে কি পড়বো?

তোমার যা খুশি, সব কিছুতেই তুমি অনন্য!

চল আইসক্রিম খাই?

নাহ থাক, আজ নয়, আর একদিন।

চল কোথাও বসি?

নাহ কেউ দেখে ফেলবে!

২) ভালোবাসার শুরুতে......

এপাশ থেকেঃ দেখা না হলে একদিন

ওপাশ থেকেঃ বুকের ভেতর করে...!

এতো দিনের ছুটি আর ভালো লাগেনা, উহ দিন না যেন বছর এক একটা!

চিঠি দিও প্রতিদিন, নইলে... থাকতে......!

আমাদের ভালোবাসা সবার চেয়ে আলাদা!

কচু, সবাই তাই বলে, হুহ! (কপট অভিমান!)

তুমি খেয়েছ?

নাহ, তুমি খেলে তবেই খাবো! আহা কি পিরিতি!! (অন্য বন্ধুদের মন্তব্য!)

৩) প্রেমের হাকালুকি হাওড়ে.........

একটু ভালো করে পড়াশুনা কর, পাশ করে বের হলেই কিন্তু বাসা থেকে চাপ আসবে।

আরে কোন ব্যাপারনা, চাকুরী আসবে হাতের মুঠোয়!

তাই যেন হয়, খুবই লাগে ভঁয়!

চিন্তা করোনা পাখি, আমি তো আছি-ই নাকি!

হুম, সেতো জানি, তবুও কেমন জানি লাগে!

পাশ করে বের হবার পরে.........

বাসায় খুব সন্দেহ করছে, কিছু একটা কর......

আমি কি বসে আছি, চেষ্টা তো করেই যাচ্ছি!

বাবা পাত্রের খোঁজ এনেছে, বিদেশে থাকে, কি করবো বল? কি বলবো এখন?

যাও যাও বড়লোক আর বিদেশী পয়সাওয়ালা পাত্র দেখে বিয়ে করে পরবাসী হও! সুখে থাকো (হদয়ে বুক ভাঙা আর্তনাদ!)

আমি কি তাই বলেছি বল? কেন কেন অভিমান আর অভিযোগ কর, অবুঝের মত! তোমার কথা কিভাবে বলি?

থাক বলতে হবেনা, কোনভাবে ম্যানেজ কর!

ঠিক আছে, তুমিও দেখ, কোথাও ঢোকা যায়কিনা, অন্তত কিছু কর এটা যদি বলতে পারি, তাই ঢের!

৪) কোনমতে বিয়ে করার পরে......

তাড়াতাড়ি ফিরবে, একা-একা কেন ভালোলাগেনা...

কাজ শেষেই দেব ছুট!

কি কর?

তোমার কথা ভাবি!

মিথ্যে কথা! (অনুযোগ)

সত্যি সত্যি তিন সত্যি!!

এই নাও তোমার জন্য সুতির শাড়ি, আসলে সারামাস তো চলতে হবে!

কিজে বলনা এতো সুতি শাড়ি নয় গো, আমার কাছে জামদানী!

তুমি এমন থাকবে তো?

তুমি দেখে নিও!! (আদুরে গলায়)

৫) তিন বছর পরে......

অফিস থেকে বাসায় ফিরতে মন চায়না আজকাল তাইনা?

কেন কি হল আবার?

নাহ আজকাল দেখছি বাইরান বাইরান করছ খুব! বন্ধু বান্ধব বেড়ে গেছে অনেক, বান্ধবীও আছে নাকি গুটি কতক?

কিসব ফালতু বক... সারাদিন বাসায় কাজ কাম নাই, ফালতু চিন্তা!

ও আমি কিছু করিনা না, বাসাটা এমনি এমনি ঠিক থাকে তাইনা?

সারাজীবন তোমার সংসারে দাসীগিরি করে গেলাম, কোন দাম পেলাম না! ভাল্লাগেনা আর......!!

ওহ এখন তো আর ভালো লাগবেই না, পাশের বাসার গাড়িওয়ালা ভাইকে মনে ধরেছে বুঝি!

নোংরা কথা বলবেনা বলছি!

তুমি যে বললে?

আমি বলতেই পারি, পুরুষ জাতের কোন ঠিক আছে নাকি?

তাই নাকি, আর মেয়েরা যে কত কি করে আজকাল সে তো সব দেখি এখানে সেখানে!

ওহ আজকাল এইসব হয় বুঝি, বন্ধুদের সাথে আড্ডায়, মেয়ে মানুষ নিয়ে গবেষণা!

আর যদি অফিস শেষে দেরী করে ফের তো তোমার খবর আছে!!

৬) একটা বাচ্চা হবার পরে.........

ডায়পার লাগবে......

ঠিক আছে......

ওহ আলু-ডিম আর তেলও লাগবে... একটু বেশী করে এনো।

আচ্ছা......

স্যালারিটা একটু বাড়াও, আর তো সামলাতে পারিনা...

চেষ্টা তো করছি... হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ......

বাড়িওয়ালা বাসা ভাড়ার জন্য এসেছিল, কিছু ব্যাবস্থা কর আজ!

পারলে একটু মেহেদী এনো, কতদিন হাতে মেহেদী লাগাইনা!

ঠিক আছে আনবো।

৭) মধ্য বয়সে এসে.........

ফ্ল্যাটে রঙ করাতে হবে......

টাকা নাই...

কেন ফ্ল্যাটের ভাড়া কি করলে?

বাপের বাড়ি পাঠিয়েছি!

এতো বাঁকা বাঁকা কথা বল কেন, সোজা করে বলতে পারোনা?

আমার কথা তো বাঁকাই মনে হবে, কচি কচি সুন্দরীদের কথাতেই তো এখন শুধু মধু!

তোমার কোন সমস্যা?

কি আমার কোন সমস্যা নাই? আমার জীবনটা শেষ করে, জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে এখন আধ বয়সী মেয়ে মানুষ নিয়ে ফুর্তি করতে ভালোলাগে তাইনা?

হ্যাঁ সে তুমি যা মনে কর! তোমার কপাল যে আমার মত কেউ জুটেছে নইলে এতোদিনে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিত!!

কি এতো বড় কথা! আরে তোর চোদ্দ পুরুষের কপাল যে আমার মত বৌ পেয়েছিস, নইলে পাতিলের কালি জুটতো কপালে! মুখ দেখে আর ঘরে ফিরতে ইচ্ছে করতোনা!!

আচ্ছা তাই না? বেশ ভালো...

আর ফোন সেতো ১০ সেকেন্ডের পরে মনেহয় অনন্তকাল ধরে কানে ধরে আছে! এতো কথার কি আছে, বাসায় এসেই শুনি?

ও আজকাল ফোন আর ভালো লাগেনা না! তখন তো দিনরাত ফোনে থাকলেও ক্লান্ত হতেনা!


৮) শেষ বয়সে এসে.........

এসএমএসের সেই দিন গুলো আর নেই, তাই শুধু কথা দুজন দুজনের সাথে।

আর ভালোলাগেনা কবে যে ডাক আসবে!

কি যা তা বল... তোমার আগে যেন আমি যাই!

নাহ, তুমি আগে যাবেনা কিছুতেই, আমি একা-একা থাকতে পারবোনা!

চল কোথাও বেড়িয়ে আসি

হাটতে পারবে তুমি?

পারবো তোমার কাঁধে হাত দিয়ে একটু একটু করে......

ঠিক আছে তবে চল......

চল......

দুজনের প্রস্তান একত্রেই......!!!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৬ সকাল ১০:৫৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×