হযরত হুজ্জাত ইবনেল হাসান ইমাম মাহদী আখেরুজ্জামান আজ্জালাল্লাহু তায়ালা ফারাজাহুশ শরীফ (আঃ) ২৫৫ হিজরীর ১৫ই শাবান সামেররাতে জন্মগ্রহণ করেন।
হযরত ইমাম মুহাম্মাদ তকী আল জাওয়াদ (আঃ) এর কন্যা হাকিমাহ বলেন, যে ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) তাকে বললেন,
“ফুপি আম্মা আজকে ১৫ই শাবান , আমাদের সাথে ইফতার করবেন এবং আজ আল্লাহ তার বরকতময় হুজ্জাতকে দুনিয়াতে প্রেরণ করবেন।”
আমি বললাম,“ এই বরকতময় নবজাতকের জননী কে?”
ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) বললেন,“ নারজিস।”
আমি বললাম,“ কিন্তু আমি তো তার কোন আলামত দেখছি না!”
ইমাম (আঃ) বললেন,
“কল্যাণ এর মধ্যেই নিহিত, আমি যা বলেছি তা ঘটবেই ইনশা আল্লাহ।”
আমি নারজিস খাতুনের ঘরে প্রবেশ করে সালাম করে বসলাম, সে আমার পায়ের থেকে জুতা খুলে বলল, শুভ রাত্র হে আমার,নেত্রী।
আমি বললাম,
“তুমি আমার এবং আমাদের পরিবারের মহারাণী।”
নারজিস খাতুন বললেন,
“না! আমি কোথায় আর এ মর্যাদা কোথায়।”
আমি বললাম,
“হে আমার কন্যা! আল্লাহপাক তোমাকে আজ রাত্রে এমন একটি সন্তান দান করবেন যে দুনিয়া ও আখেরাতের নেতা।”
একথা শোনার পর বিনয় ও লাজুকতার সাথে বসে পড়ল। আমি নামাজকালাম পড়ে ইফতার করে শুয়ে পড়লাম।
মধ্যরাত্রে উঠে তাহাজ্জতের নামাজ পড়লাম। নারজিস ঘুমাচ্ছিল কিন্তু বাচ্চা হওয়ার কোন আলামত দেখতে পেলাম না। নামাজ শেষে পুনরায় শুয়ে পড়লাম।
কিছুক্ষণ পর ঘুম ভেঙ্গে গেল দেখলাম নারজিস নামাজ পড়ছে কিন্তু বাচ্চা হওয়ার কোন আলামত দেখতে পেলাম না। তখন আমার সন্দেহ হল ইমাম হয়ত ঠিক বুঝতে পারেনি।
এমন সময় ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) তাঁর শোয়ার ঘর থেকে উচ্চস্বরে বললেন, لا تعجلي يا عمه فانّ الامر قد قرب
“ফুপি আম্মা ব্যস্ত হবেন না বাচ্চা হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে।”
একথা শোনার পর আমি সুরা সাজদা এবং সুরা ইয়াছিন পড়তে লাগলাম। এর মধ্যে নারজিস লাফিয়ে উঠল আমি কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম তোমার ব্যথা অনুভব হচ্ছে? বলল,“ হ্যাঁ ফুপি।”
আমি বললাম, চিন্তার কোন কারণ নেই ধৈর্য ধর, তোমাকে যে শুসংবাদ দিয়েছিলাম এটা তারই পূর্বাভাস।
অতঃপর আমি ও নারজিস সামান্য ঘুমালাম, জেগে দেখি সেই চোখের মণি জন্মগ্রহণ করেছে এবং সেজদা করছে। তাকে কোলে নিয়ে দেখলাম সম্পুর্ণ পাক ও পবিত্র কোন ময়লা তার গায়ে নেই। এমন সময় ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) বললেন,“ ফুপি আম্মা আমার সন্তানকে আমার কাছে নিয়ে আসুন।”
আমি নবজাতককে তাঁর কাছে নিয়ে গেলাম তিনি শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে নিলেন এবং নিজের জিহবাকে তার মুখে দিলেন এবং চোখে ও কানে হাত বুলালেন এবং বললেন, تكلم يا بنيّ
“ আমার সাথে কথা বল হে আমার পুত্র। ”
পবিত্র শিশুটি বলল ঃ
اشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له و اشهد محمد رسول الله
অতঃপর ইমাম আলীসহ (আঃ) সকল ইমামগণের (আঃ) উপর দরুদ পাঠ করলেন।
ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) বললেন,“ফুপি! তাকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে যান সে মাকে সালাম করবে, তারপর আমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন।”
তাকে তার মায়ের কাছে নিয়ে গেলাম, সে মাকে সালাম করল নারজিস সালামের উত্তর দিল এবং আবার তাকে তাঁর পিতার কাছে নিয়ে গেলাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


