মূল
জাওয়াদ মুহাদ্দেসী
অনুবাদ
সৈয়দা শাহারবানু
রাসূল(সা.)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়
ইসলামের মহান নবী হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ(সা.) আমুল ফিলের ১৭ই রবিউল আওয়াল (৫৭০খ্রিষ্টাব্দে) মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১১ হিজরীর ২৮শে সফরে মদীনা শহরে ইহলোক ত্যাগ করেন এবং তিনি ৬৩ বছর জীবন-যাপন করেন। তাঁর পবিত্র মাজার মদীনায় অবস্থিত।
তাঁর মাতা ছিলেন আমিনা বিনতে ওহাব এবং মহান পিতা ছিলেন হযরত আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান আব্দুল্লাহ। তিনি জন্মের পূর্বেই তাঁর পিতাকে হারান এবং ৫ বছর বয়সে হারান মমতাময়ী মাতাকে। প্রথমে আব্দুল মুত্তালিব এবং পরে হযরত আবু তালিব তাঁর অভিভাবকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
তিনি ২৫ বছর বয়সে হযরত খাদিজার সাথে বিবাহ করেন এবং হযরত মা ফাতিমা এ বিবাহের মহান উপহার।
তিনি ৪০ বছর বয়সে ২৭শে রজব ৪০ আমুলফিলে নবুয়ত প্রাপ্ত হন। ২৩ বছর ধরে তিনি ইসলাম প্রচার করেন এবং এ সময়ে মহান আল্লাহ তাঁকে কোরআন নামক চিরন্তন মোজেযা দান করেন।
ভূমিকা
ইমাম সাজ্জাদ (আ.) বলেছেন:
ألا وَ إنّ أبغَضَ النّاسِ إلی اللهِ مَن يَقتَدی بسُنّةِ إمامٍ وَ لا يَقتَدی بأعمالهِ.
“সাবধান! কেননা আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা ঘৃনিত ব্যক্তি সে যে, ইমামদের(আ.) পন্থার অনুসরণ করে কিন্তু তাঁদের আমলের (সিরাত ও আদর্শের) অনুসরণ করে না।”
আমাদেরকে কেমন হতে হবে, কিভাবে চলতে হবে তার জন্য আদর্শের প্রয়োজন রয়েছে এবং আত্মগঠনের জন্য আদর্শের প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না।
আল্লাহর আওলীয়াদের নিকট থেকে আদর্শ গ্রহণ করতে হলে তাঁদের সকল বৈশিষ্ট্য ও আচরণ সম্পর্কে আমাদের সম্পূর্ণরূপে পরিচিত হতে হবে। সৌভাগ্যবসত রাসূল(সা.) ও ইমামগণের আদর্শ ও আচরণ সম্পর্কে হাদীস গ্রন্থসমূহে বিশেষ ও ব্যপকভাবে বর্ণিত হয়েছে যা জানতে পারলে আমরা খুবই উপকৃত হতে পারব এবং আত্ম ও সমাজ গঠনে তা ব্যপক ভূমিকা রাখবে।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ দিশাহীন ও ভবোঘুরে নয় এবং সে নিরাশ ও ভিতুও নয়। রবং দায়িত্বশীল, ব্যক্তিত্ব সম্পন্য এবং নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ধাবমান। সে বাহ্যিক ও আভ্যান্তরীন পথপ্রদর্শকের (নবী রাসূল, ইমাম এবং বিবেক) মাধ্যমে শুন্য মরুভূমি থেকে সফর শুরু করে মহান আল্লাহর সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়।
সৃষ্টির সকল জিনিসই মানুষকে এই সফরে সত্যিকার অর্থে সাহায্য করে এবং অল্লাহ তায়ালা তাঁর অশেষ করুণার মাধ্যমে মানুষের হেদায়াতের বিভিন্ন পথ দেখিয়ে তাদের জন্য আখেরাতে চিরন্তর ও অতি উত্তম আবাস্থল নির্ধারণ করেছেন।
মানুষকে এই দীর্ঘ সফরে নিজের ও সমাজের সৌভাগ্য এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য কিভাবে জীবন-যাপন করতে হবে তা শিখতে হবে এবং এই শিক্ষাকে নিজের জীবনে বাস্তাবায়ন করতে হবে।
এই বিশেষ প্রশ্নের জবাবে পবিত্র ইসলাম দু’টি মুখ্য পদ্ধতি অনুসরণ করেছে:
(ক): জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সকল প্রকার বিধি-বিধান বলে দিয়েছে।
(খ): প্রশিক্ষণের আদর্শ বর্ণনা। পবিত্র কোরআনে বারংবার নবীগণ ও অন্যান্য মহামানবদের কথা বলা হয়েছে এবং তাঁদের আদর্শের প্রশংসা করা হয়েছে যেন অন্যরা তাঁদের অনুসরণ করে।
পবিত্র ইসলামে এধরণের আদর্শের বর্ণনা এসেছে এবং বিশেষকরে শিয়া মাযহাবে এর পরিধি আরো ব্যাপক। কেননা পবিত্র ইমামগণ হচ্ছেন উত্তম আদর্শ।
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.) ও পবিত্র ইমামগণ(আ.) সমগ্র বিশ্বের জন্য উত্তম আদর্শ এবং তঁাঁদের অনুসরণ মানুষকে উৎকর্ষে পৌঁছাতে পারে।
রাসূল(সা.) বলেছেন:
“মহান আল্লাহ্ আমাকে আদব শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমার আদবকে উত্তম করেছেন।”
মাহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সম্পর্কে বলেছেন:
﴿ لقد کان لکم فی رسول الله أُسوةٌ حسنةٌ﴾
“তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।”
১। দাসত্ব বা বন্দেগী
قال الصادق (ع):
کانَ رسول الله (ص) يأکلُ أکلَ العبد وَ يَجلِسُ جِلسةَ العَبدِ و يَعلمُ أنَّهُ عَبدٌ.
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন:
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) দাসদের (সাধারণ মানুষের মত) মত খেতেন, দাসতের মত বসতেন এবং জানতেন যে, তিনিও দাস (সাধারণ মানুষ)।
২। সুজুদ (সিজদা)
قال الباقر (ع):
ما استيقظَ رَسولَُ الله (ص) مِن نَومٍ إلاَّ خَرَّ للهِ ساجداً
ইমাম বাকের (আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, তখনই আল্লাহর জন্য সিজদা করতেন।
৩। নামাজের প্রতি আকর্ষণ
قال علیٌّ (ع):
کانَ رسولُ الله (ص) لا يؤثِرُ علی الصلوةِ عشآءً وَ لا غَيرهُ وَ کانَ إذا دَخَلَ وَقتُها کأنَّهُ لا يعرفُ أهلا وَ لا حَميماً؛
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) কোন কিছুকেই (খাদ্য বা অন্য কোন কিছু) নামাজের উপর প্রাধান্য দিতেন না। যখনই নামাজের সময় হত তখন রাসূল(সা.) না পরিবার ও স্বজনদেরকে চিনতেন না কোন বন্ধুকে।
৪। কোরআনের সূর বা ধ্বনি
قال الباقر (ع):
إنَّ رسولَ الله (ص) کانَ أحسنَ الناس صوتاً بالقرآنِ.
ইমাম বাকের (আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) সবার চেয়ে সুন্দর ও সূরেলা কন্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করতেন।
৫। নামাজের মধ্যে ক্রন্দন
قال السّجّادُ (ع):
کانَ يبکی حتّی يبتَلَّ مُصلاّهُ خَشيَةً مِنَ الله عَزَّ وَ جَلَّ مِن غَيرِ جرمٍ.
ইমাম সাজ্জাদ (আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) আল্লাহর ভয়ে নামাজের মধ্যে এত বেশী ক্রন্দন করতেন যে, তাঁর নামাজের পাটি ভিজে যেত। যদিও তিনি কখনোই কোন অপরাধ করেন নি।
৬। উম্মতের (জাতির)সাথে
قال اَنَسُ بنُ مالک:
کانَ رسول الله (ص) يعُودُ المَرِيضَ وَ يَتبَعُ الجنازَةَ وَ يُجيبُ دَعوَةَ المملوکِ.
আনাস বিন মালেক বলেন:
রাসূল(সা.) অসুস্থদেরকে দেখতে যেতেন, মৃতের জানাযায় অংশগ্রহণ করতেন এবং দাসদের দাওয়াত গ্রহণ করতেন।
৭। সহচরদের সাথে শিষ্ঠাচার
قال علیٌّ (ع):
ما رُئیَ مُقَدِّماً رِجلَهُ بَينَ يَدَی جَلِيسٍ لَهُ قَطُّ.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
কখনোই দেখা যায়নি যে, রাসূল(সা.) কারো সামনে পা লম্বা করে বসেছেন।
৮। শোনার আদব (পদ্ধতি)
قال علیٌّ (ع):
لا يقطَعُ علی أحدٍ کلامهُ حَتّی يجوُزَ فَيَقطَعُهُ بِنَهیٍ أوقيامٍ.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) কখনোই কারো কথার মধ্যে ব্যঘাত ঘটাতেন না, তবে যদি কেউ অতিরিক্ত কথা বলত (অথবা অবৈধ কথা বলত) তখন তিনি তাকে নিষেধ করতেন অথবা সেখান থেকে প্রস্থান করতেন।
৯। বসার আদব (পদ্ধতি)
قال علیٌّ (ع):
کانَ رسول الله (ص) لا يجلِسُ وَ لا يقومُ إلاّ علی ذِکرِ اللهِ وَ لا يوطِنُ الأماکِنَ وَ يَنهَی عَن ايطانها وَ إذا إنتهی إلی قَومٍ جَلَسَ حَيثُ يَنتَهی بِهِ المجلِسُ وَ يأمُرُ بِذلِکَ.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.)-এর ওঠা-বসা (চলা-ফেরা)সব কিছুই ছিল আল্লাহর স্মরণে। কোন অনুষ্ঠানে নিজের জন্য বিশেষ কোন স্থান নির্ধারণ করতেন না এবং অন্যদেরকেও একাজ করতে নিষেধ করতেন। যখনই কোন অনুষ্ঠানে যেতেন যেখানে খালি পেতেন সেখানেই বসে পড়তেন এবং অন্যদেরকেও এমনটি করতে নির্দেশ দিতেন।
১০। মেহমানদের সাথে
قال الکاظم (ع):
أنَّ رسول الله (ص) إذا اتاهُ الضيفُ أکلَ معهُ وَ لم يرفَعَ يَدَهُ مِنَ الخِوانِ حَتَّی يَرفَعَ الضيفُ يَدهُ.
ইমাম কাযেম (আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.)-এর বাসায় যখনই মেহমান আসত, তিনি তার সাথে বসে খাদ্য খেতেন ও যথক্ষন পর্যন্ত মেহমান খেতে থাকত তিনিও তার সাথে বসে খেতেন এবং মেহমানের খাওয়া শেষ হলে তিনিও খাওয়া শেষ করতেন।
১১। মুসাফাহা বা করমর্দন
قال الصّادق (ع):
ما صافحَ رسول الله (ص) رجُلاً قطَّ فَنَزَعَ يَدَهُ حَتَّی يَکوُنَ هُوَ الذی يَنزَعُ يَدَهُ مِنهُ.
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) যখনই কারো সাথে করমর্দন করতেন, ঐ ব্যক্তি হাত ছেড়ে না দেয়া পর্যন্ত তিনি কখনোই হাত ছেড়ে দিতেন না (তিনি খুব বেশী আন্তরীক ছিলেন)।
১২। সদাচারণ বা উত্তম চরিত্র
قال علیٌّ (ع):
کانَ رسول الله (ص) دائمَ البِشرِ، سَهلَ الخُلقِ، لَيِّنَ الجانِبِ، لَيسَ بِفَظٍ وَ لا غَليظٍ.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) সর্বদা হাসিখুশী, বিনয়ী ও নম্র সভাবের ছিলেন, তিনি রাগি ও বদমেজাজী ছিলেন না।
১৩। কথাবার্তা
قال علیٌّ (ع):
کانَ (ص) لا يَذُمُّ أحداً وَ لا يُعَيّرُهُ وَ لا يَطلُبُ عثَراتِهِ وَ لا عَورتَهُ وَ لا يَتَکَلَّمُ إلاّ فيما رجَی ثَوابَهُ.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) কখনোই কাউকে তিরষ্কার করতেন না এবং কারো দোষ-ত্র“টি ও গুপ্ত বিষয় অন্বেষণ করতেন না। আর সওয়াব অর্জন করার আশা ব্যতীত কথা বলতেন না।
১৪। খাদ্য-খাবার
قال الصّادق (ع):
ما زالَ طعامُ رسول الله (ص) الشعيرَ حَتّی قَبَضَهُ الله إليهِ.
ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রাসূল(সা.)-এর খাদ্য ছিল যবের রুটি।
১৫। রসিকতা
قال الصّادق (ع):
کانَ رسول الله (ص) يداعبُ وَ لا يقولُ إلاّ حقّاً
ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) রসিকতা করতেন কিন্তু সত্য ব্যতীত কিছুই বলতেন না।
১৬। পরিমাণ মত খাওয়া
قال رسول الله (ص):
نَحنُ قَومٌ لا نأکل حَتّی نَجوعَ وَ إذا أکلنا لا نَشبَعُ.
আমরা এমনই এক সমষ্টি যারা সম্পূর্ণ ক্ষুধার্ত না হলে খাই না এবং যখন খাই তখন নিজেদের উদর পূর্ণ করে খাই না।
১৭। সমষ্টির সাথে খাদ্য খাওয়া
قال الصّادق (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) إذا أکل معَ القومِ طعاماً کانَ اوّلَ من يضَعَ يدَهُ وَ آخرَ مَن يَرفَعُها لِيأکُلَ القومُ.
ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) যখন সমষ্টির সাথে খাদ্য খেতেন, তিনিই প্রথমে খাওয়া শুরু করতেন এবং সবার শেষে খাওয়া শেষ করতেন; যেন সবাই নিশ্চিন্তে খেতে পারে।
১৮। মানুষের বোধ অনুসারে কথা বলা
قال الصّادق (ع):
ما کلّمَ رسُولُ الله (ص) العِبادَ بِکُنهِ عَقلِهِ قَطَّ، قالَ رسُولُ الله (ص): إنّا معاشرَ الأنبياءِ أمرنا أن نُکَلِّمَ النّاسَ علی قدرِ عُقوُلهم.
ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) কখনোই জনগণের সাথে নিজের জ্ঞানের পরিমাণ ও পর্যায় থেকে কথা বলতেন না। তিনি বলেছেন:
আমরা, নবী ও রাসূলগণ আল্লাহ নিকট থেকে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধির অনুপাতে তাদের সাথে কথা বলার জন্য প্রেরিত হয়েছি।
১৯। দৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রেও ন্যায়পরায়ণতা
قال الصّادق (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) يُقَسِّمُ لحظاتهِ بَينَ أصحابهِ فَيَنظُرُ إلی ذا وَ يَنظُرُ إلی ذا بالسويّةِ.
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) তাঁর পবিত্র দৃষ্টিকেও সাহাবাদের মধ্যে সমভাবে বন্টন করতেন। তিনি একে, ওকে এবং সকলকেই সমান দৃষ্টিতে দেখতেন।
২০। আবেগ ও অনুভূতি(সহৃদয়তা)
قال الباقر (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) يَسمَعُ صَوتَ الصَّبیّ يَبکی وَ هُو فی الصّلوةِ فَيُخفِّفُ الصّلوةَ فَتَصِيرُ إليهِ أُمُّهُ.
ইমাম বাকের(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) যখনই নামাজে কোন শিশুর ক্রন্দন শুনতে পেতেন নামাজকে সংক্ষিপ্ত করতেন যাতে, শিশুর মাতা তার বাচ্চাকে সামলাতে পারে।
২১। আল্লাহর জন্য রাগন্বিত হওয়া
قال علیٌّ (ع):
ما إنتصَرَ لِنَفسِهِ مِن مَظلمَةٍ حَتَّی يَنتَهِکَ محارِمُ اللهِ فَيکُونُ حِينَئذٍ غَضَبُهُ لله تبارکَ وَ تعالَ.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.)-এর উপর কোন অত্যারচার হলে তিনি তার প্রতিশোধ নিতেন না। তবে কেউ আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করলে তখন তিনি রাগন্বিত হতেন এবং তাঁর এ ক্রোধ ছিল আল্লাহর জন্যেই।
২২। মেসওয়াক করা বা দাঁত মাজা
قال الصّادق (ع):
إنّهُ (ص) کانَ يستاکُ فی کُلّ مرَّةٍ قامَ مِن نومِهِ.
ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) যতবার ঘুম থেকে উঠতেন ততবার দাঁত মাজতেন।
২৩। সময় নির্ধারণ
قال علیٌّ (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) إذا اوی إلی مَنزِلِهِ جَزَّءَ دُخُلَهُ ثَلاثَةَ أجزاءٍ: جُزءاً لله عَزَّ وَ جَلَّ جُزءاً لِاهلِهِ وَ جُزءاً لِنَفسِهِ.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) যখন নিজ গৃহে প্রবেশ করতেন, নিজের সময়কে তিনভাগে ভাগ করতেন: কিছুটা মহান আল্লাহ তায়ালার জন্য, কিছুটা তাঁর পরিবারে জন্য এবং কিছুটা তাঁর নিজের ব্যক্তিগত কাজের জন্য।
২৪। জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ
قال علیٌّ (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) يَخزُنُ لِسانَهُ إلاّ عَمّا کانَ يَعنِهِ وَ يُؤَلّفُهُم وَ لا يُنَفِّرُهُم.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) তাঁর পবিত্র জিহ্বাকে অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে বিরত রাখতেন। তাঁর বাণী মানুষের হৃদয় কাঁড়ত এবং তাদেরকে বিতাড়িত ও অসন্তুষ্ট করত না।
২৫। চারিত্রিক মর্যাদা ও গুনাবলী
قال علیٌّ (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) أجوَدُ النّاسِ کفّاً وَ أجرَءَ النّاسِ صَدراً وَ أصدَقَ النّاسِ لَهجَةً وَ أوفی النّاسِ ذِمَّةً وَ أليَنَهُم عَريکَةً وَ أکرَمَهُم عِشرَةً.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) সবার চেয়ে বেশী দয়ালু, সাহসী, সত্যবাদী, বিশ্বাসী, সদচরিত্রশীল এবং সদাচরণ ছিলেন।
২৬। কন্যা সন্তান
قال علیٌّ (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) إذا بُشِّرَ بِجارِيةٍ قالَ: رَيحانَةٌ، وَ رِزقُها علی الله.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
যখনই রাসূল(সা.)-কে কোন কন্যা সন্তানের সু-সংবাদ দেয়া হত, তিনি বলতেন: কন্যা সন্তান হচ্ছে বেহেশতের সুগন্ধি ফুল এবং তার রুজিও আল্লাহ্ নিজেই দিবেন।
২৭। কেবলা মুখী
قال الصّادق (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) أکثرُ ما يجلسُ تِجاهَ القِبلَةِ.
ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) বেশীর ভাগ সময়ই কেবলার দিকে মুখ করে বসে থাকতেন।
২৮। সৌজন্যবোধ (ভদ্রতা, বিণয়, নম্রতা)
قال الباقر (ع):
قالَ رسُولُ الله (ص) خَمسُ لا أدَعُهُنَّ حَتّی المماتِ:
ألأکلَ علی الحَضيضِ مَعَ العَبيدِ.
وَ رُکَوبِیَ الحِمارَ مُؤکَفاً.
وَ حَلبِیَ العَنزَ بِيَدی.
وَ لُبسَ الصُوفِ.
وَ التَّسلِيمَ علی الصّبيانّ.
لتَکوُنَ سُنَّةً مِن بَعدی.
ইমাম বাকের(আ.) বলেন:
রাসূল(সা.) বলেছেন: আমি পাঁচটি কাজকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কখনোই পরিত্যাগ করব না: ১। দাসদের সাথে মাটিতে বসে একত্রে খাদ্য খাওয়া।
২। জিন বিহীন গাধার পিঠে আরোহন করা।
৩। নিজ হাতে ছাগলের দুধ দহন করা।
৪। পোশমি পোশাক পরিধান করা।
৫। এবং বাচ্চাদেরকে (ছোটদেরকে)সালাম করা, যেন আমার পর এগুলো সুন্নত হয়।
২৯। সৌন্দর্যবোধ (সাজ-সজ্জা)
قال علیٌّ (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) يُرَجِّلُ شَعرَهُ وَ أکثَرُ ما کانَ يُرَجِّلُ شَعرَهُ بالماءِ.
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সর্বদা তাঁর মাথার চুল আচঁড়ে পরিপাটি করে রাখতেন এবং অর্ধিকাংশ সময় পানি দিয়ে সুন্দর করে নিয়ে অত:পর চিরুনি দিয়ে আচঁড়াতেন।
৩০। কথার মধ্যে মৃদূ হাসী
عَن أبی الدّرداءِ:
کانَ رسُولُ الله (ص) إذا حدَّثَ بِحَديثٍ تَبَسَّمَ فی حَديثِهِ.
আবু দারদা বলেন:
রাসূল(সা.) যখন কথা বলতেন, তিনি কথার মধ্যে মৃদূ হাসতেন।
৩১। পথ চলা
عَن ابن عبّاس:
کانَ رسُولُ الله (ص) إذا مَشی، مَشی مَشياً يُعرَفُ أنَّهُ لَيسَ بِمَشی عاجزٍ و لا بکَسلانَ.
ইবনে আব্বাস বলেন:
রাসূল(সা.) যখন পথ চলতেন, এমন সাচ্ছন্দের সাথে চলতেন যা দেখে বোঝা যেত যে, তিনি অক্ষম ও আলসে নন।
৩২। সাধারণ জীবন যাপন
قال علیٌّ (ع):
لَقد کانَ رسُولُ الله (ص) يأکُلُ علی لأرضِ وَ يَجلِسُ جِلسَةَ العبدِ وَ يَخصِفُ بِيَدِهِ نَعلَهُ وَ يرَقِّعُ بِيَدِهِ ثَوبَهُ وَ يَرکَبُ الحِمارَ العاری وَ يُردِفُ خَلفَهُ.
হযরত আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) মাটিতে বসে খাদ্য খেতেন, দাসদের মত দুই হাটুতে ভরদিয়ে বসতেন, নিজের হাতে জুতা ও কাপড় সেলাই করতেন, জিন বিহীন গাধার পিঠে সওয়ার হতেন এবং পথিমধ্যে কাউকে দেখলে তাকেও নিজের সাথে সওয়ার করে নিতেন।
৩৩। সাহসিকতা ও বীরত্ব
قال علیٌّ (ع):
کنّا إذا أحمرَّ البأسُ وَ لَقِیَ العَدُوَّ القَومُ، أتّقَينا بِرَسولِ الله (ص) فما يَکونُ أحَدٌ أقرَبَ إلی العدُوِّ مِنهُ.
হযরত আলী(আ.) বলেছেন:
যখন যুদ্ধের ডামাডোল বেজে উঠত এবং সৈন্যরা আক্রমন শুরু করত আমরা সকলেই রাসূল(সা.)-এর কাছে আশ্রয় নিতাম আর ঐ মূহূর্তে তিনিই শত্র“দের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকতেন।
৩৪। আল্লাহর শোকর ও প্রসংশা আদায় করা
قال الصّادق (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) يَحمِدُ اللهَ فی کُلِّ يَومٍ ثَلاثَ مِأةٍ وَ سِتِّينَ مَرَّةَ.
ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) প্রদি দিন তিনশত ষাট (৩৬০)বার আল্লাহর শোকর আদায় করতেন।
৩৫। রাসূল(সা.)-এর সভা বা অনুষ্ঠান
قال علیٌّ (ع):
إذا تَکَلَّمَ أطرَقَ جُلساؤُهُ کأنّما علی رؤُسهِمُ الطّيرُ فإذا سَکَت تَکَلَّمُوا، وَ لا يَتنازَعُونَ عِندَهُ الحَديثَ، مَن تَکَلَّمَ أنصَتُوا حَتَّی يَفرَغَ.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) যখন বক্তব্য রাখতেন উপস্থিত জনতা এত অধির আগ্রহে তাঁর কথা শুনত, যেন তাদের মাথায় পাখি বসে আছে। রাসূল(সা.)-এর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সাহাবারা কথা বলতেন। তাঁর উপস্থিতিতে সাহাবারা ঝগড়া-বিবাদ করতেন না। কেউ কথা শুরু করলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাই শুনতেন।
৩৬। সাথীদের মাঝে
قالَ أبوذر:
کانَ رسُولُ الله (ص) يجلسُ بَينَ ظَهرانِیِّ أصحابهِ فَيَجِيئُ الغَريبُ فلا يَدری أيُّهُم هُو حَتَّی يَسألَ.
হযরত আবুযার গিফারী থেকে বর্ণিত হয়েছে:
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর সাহাবাদের মাঝে অতি সাধারণভাবে বসতেন। যখন কোন অপরিচিত লোক আসত তারা বুঝতেই পারত না যে, মুহাম্মাদ (সা.)-কে! তখন প্রশ্ন করতে বাধ্য হত।
৩৭। সুগন্ধি (আতর)
قال الصّادق (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) يَنفِيقُ علیالطّيبِ أکثرَ مِمّا يُنفِقُ علی الطّعامِ.
ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
রাসূল(সা.) খাদ্য-খাবরের চেয়েও আতরের জন্য বেশী খরচ করতেন।
৩৮। জনদরদী
عَن انس بن مالک:
کانَ رسُولُ الله (ص) إذا فَقَدَ الرّجلَ مِن إخوانِهِ ثَلاثَةَ أيّامٍ سألَ عَنهُ، فإن کانَ غايباً، دعا لَهُ و إن کانَ شاهداً، زارهُ و إن کانَ مَريضاً، عادهُ.
রাসূল(সা.)এর গৃহভিত্ত আনাস বিন মালেক বলেন:
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.) তার কোন সাবাবাকে তিন দিন না দেখলে তার খোঁজ নিতেন। অনুপস্থিত বা সফরে থাকলে তার জন্য দোয়া করতেন। শহরে থাকলে তার সাথে সাক্ষাৎ করেত যেতেন। আর অসুস্থ থাকলে সাথে সাথে তাকে দেখতে যেতেন।
৩৯। বিণয়
قال الصّادق (ع):
ما أکلَ رسُولُ الله (ص) مُتّکئاً مُنذُ بَعَثَهُ اللهُ عَزَّوجَلَّ نَبِياً حَتّی قَبَضَهُ اللهُ إليهِ، مُتواضعاً للهِ عَزَّوجَلَّ.
ইমাম জাফর সাদিক(আ.) বলেছেন:
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.) নবুয়্যতের শুরু থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কখনোই হেলান দিয়ে (যেভাবে রাজা-বাদশারা খেয়ে থাকে) খাদ্য খান নি। আর এটা ছিল মহান আল্লাহর সমিপে তাঁর সৌজন্যবোধ ও ভদ্রতা।
৪০। সাহাবাদের কষ্ট ও বেদনা দূরকারী
قال علیٌّ (ع):
کانَ رسُولُ الله (ص) لَيَسُرُّ الرّجُلَ مِن أصحابِهِ إذا رأه مغمُوماً بالمداعَبَةِ وَ کانَ (ص) يقُولُ: إنَّ الله يُبغِضُ المُعَبِّسَ فی وَجهِ إخوانِهِ.
ইমাম আলী(আ.) বলেছেন:
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.)যখনই তাঁর কোন সাহাবাকে দু:ক্ষিত দেখতেন, তাকে রসিকতার মাধ্যমে আনন্দিত করতেন এবং বলতেন: যে ব্যক্তি তার (দীনি) ভাইয়ের সাথে গোমরা মুখে সাক্ষাৎ করে সে আল্লাহর শত্র“।
এক নজরে রাসূল(সা.)-এর চারিত্রিক আদর্শ
হে আল্লাহর রাসূল! আপনার বাণী ছিল স্পষ্ট ও মাধূর্যপূর্ণ। আপনি মানুষের বোধ অনুসারে কথা বলতেন। কখনো আবার একই কথা তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন যেন সকলে ভালভাবে বুঝতে পারে। সর্বদা মৃদু হেসে কথা বলতেন এবং করো কথাকে থমাতেন না। কখনোই পরনিন্দা করেন নি।
কেউ ডাকলে সাথে সাথে তার সাড়া দিতেন! সংক্ষেপে কথা বলতেন (খোৎবা দিতেন)কিন্তু তা ছিল অতি মূল্যবাণ ও অর্থবহ। অনর্থক ও অহেতুক কথা বলতেন না। সর্বদা আল্লাহর স্মরণ করতেন এবং ইসতিগফার করতেন। এমন কথা বলতেন যার মাধ্যমে সবার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন হত কখনোই কারো সম্পর্ক ছিন্ন হত না। কারো সাথে ঝগড়া বিবাদ করতেন না। আপনি যখন কথা বলতেন সকলেই এমন মনোযোগ সহকারে শুনতো মতে হত যেন তাদের মাথার উর পাখি বসে আছে। আপনার সামনে কেউই কথা কাটাকাটি করত না এবং সকলেই সবার কথা শুনতো। খুবই দৃঢ়তার সাথে পথ চলতেন যা দেখে বোঝা যেত যে আপনি ক্লান্ত ও অচল নন। যখন সওয়ার থাকতেন কেউ আপনার সাথে হেটে আসুক সেটা অপনি কখনোই পছন্দ করতেন না। হয় তাকে সওয়ার করে নিতেন অথবা বলতেন যে অমুক স্থানে তোমার সাথে দেখা হবে। যেখান দিয়ে যেতেন আপনার সূগন্ধে বোঝা যেত যে আপনি ঐ স্থান দিয়ে গেছেন। যেখান দিয়েই যেতেন পাথর ও বৃক্ষ আপনাকে সম্মান প্রদর্শন করত। সফরের সময় কাফেলার পিছনে থাকতেন, যদি কেউ পিছনে থেকে যায় অথবা সাহায্যের দরকার হয় তাহলে আপনি তাকে সাহায্য করবেন।
কখনো ঘোড়ায় সওয়ার হতেন, কখনো আবার গাধার পিঠে, কখনো উটের পিঠে এবং কখনো বা পায়ে হেটে। সওয়ার থাকলে পথচারিকে নিজের সাথে সওয়ার করে নিতেন। বাড়িতে নিজের সময়কে তিনভাগে ভাগ করে নিয়েছিলেন: কিছুটা মহান আল্লাহ তায়ালার জন্য, কিছুটা আপনার পরিবারে জন্য এবং কিছুটা আপনার নিজের ব্যক্তিগত কাজের জন্য।
বাড়িতে সবাইকে সহযোগিতা করতেন, গোশত কেটে দিতেন, দুধ দহন করতেন, কাপড় সেলাই করতেন, কোন খাবরকেই খারাপ বলতেন না, দরজা খুলে দিতেন এবং নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন।
মাটিতে বসতেন, মাটিতে খাবার খেতেন, গৃহভৃত্ত কলআন্ত হয়ে পড়লে তাকেও সাহায্য করতেনচাদর বিছিয়ে শুতেন, আপনার বালিশ ছিল চামড়ার যার মধ্যে ছিল খেজুরের পাতা। চাটার উপর ঘুমাতেন, শোয়ার সময় মেসওয়াক করতেন, দোয়া পড়তেন এবং ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহর জন্য সিজদা করতেন।
কেউ কোন কাজ ও সমস্যা নিয়ে এল দ্রুত তার সমাধান করতেন এবং কোন সাহায্য প্রার্থিকে কখনোই খালি হাতে ফেরত পাঠাতেন না।
আল্লাহর শোকর গুজার বান্দা ছিলেন এবং নামাজ ছিল আপনার চোখের জ্যোতি। যখন নামাযে দাঁড়াতেন আল্লাহর ভয়ে আপনার চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যেত। মনে মনে বিলাপ করতেন। সিজদার সময় এমনভাবে মাটির সাথে সেটে থাকতেন যেন মত হত আপনার জামা পড়ে আছে। নামাজের সময় হলে তখন আর কাউকেই চিনতেন না এবং কোন কিছূর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না একমাত্র নামাজ ব্যতীত, নামাজকে আপনি খুবই ভালবাসতেন।
ইামাজের সময়ের জন্য অপেক্ষা করতেন এবং নামাজের সময় হলে বলতেন: বেলাল! আমাদেরকে খুশী কর। কোনকিছুকেই নামাজের উপর প্রাধান্য দিতেন না।
আবুযারকে বলতেন: আল্লাহ নামাজের মধ্যেই আমার চোখের জ্যোতি নিহিত রেখেছেন। যেভাবে খুধার্ত খাদ্য পছন্দ করে, তৃষ্ণার্ত পানি পছন্দ করে অনুরূপভাবে আমিও নামাজের পিয়াসি। তবে পার্থক্য হচ্ছে খুধার্ত ও তৃষ্ণার্তের খুধা ও তৃষ্ণা নিবারণ হয় কিন্তু আমার নামাজ পড়ে চাহিদা মেটে না।
দীর্ঘ রুকু ও সিজদা করতেন। আল্লাহকে বলতেন: হে আল্লাহ! আমি চাই একদিন খাওয়া-দাওয়া করে আপনার শোকর করব এবং আরেক দিন খুধার্ত থেকে আপনার কাছে প্রশ্ন করব।
আপনার ওঠা-বসা সবই ছিল আল্লাহর স্মরণে। মাসুম ও নিষ্পাপ হওয়া সত্তেও আল্লাহর ভয়ে এত বেশী ক্রন্দন করতেন যে আপনার নামাজের পাটি ভিজে যেত।
দোয়া করার সময় ফকির-মিসকিনদের মত হাত পেতে থাকতেন। আল্লাহর বান্দা ছিলেন। একদা মাটিতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন তখন এক মহিলা আপনাকে বলেছিল: হে আল্লাহর রাসূল(সা.) আপনি কেন দাসদের মত মাটিতে বসে খাদ্য খাচ্ছেন? আপনি বলেছিলেন: তোমার জন্য আমার দু:ক্ষ হয়! আমার চেয়ে দাস কি আর কেউ আছে? হ্যা! আপনি প্রকৃতপক্ষে ছিলেন আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
আপনার চেহারা ছিল হাস্যজ্জল। যার সাথেই দেখা হত সালাম করতেন। যার সাথে করমর্দন করতেন সে হাত টেনে না নেয়া পর্যন্ত আপনি তার সাথে হাত মিলাতে থাকতেন। কারো দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন না। কাউকেই গালাগাল দিতেন না। অন্যরা আপনার সাথে খারাপ আচরণ করলে আপনি তা সহ্য করতেন। মানুষের উপহার গ্রহণ করতেন এবং দাসদের দাওয়াত কবুল করতেন। অসুস্থদেরকে তেদখতে যেতেন এবং জানাযার নামজে অংশগ্রহণ করতেন। সাহাবাদের খোঁজ-খবর রাখতেন। খুব দেরিতে রাগন্বিত হতেন এবং দ্রুত ক্ষমা করে দিতেন। সবার চেয়ে বেশী ত্র“টি মার্জনা করতেন। অসহায়দের সাথে খাবার খেতেন ও ওঠা-বসা করতেন। কারো সামনে পা লম্বা করতেন না। রসিকতা করতেন কিন্তু কখনোই সত্য পরিহার করতেন না। সাথিদের সাথে গোল হয়ে বসতেন। সাহাবাদের সামনে সেজে-গুজে আতর মেখে হাজির হতেন। কখনোই কারো বোঝা হতেন না। সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতেন। দানশীল ও মহানুভব ছিলেন। কেউ কিছু চাইলে দান করতেন। সকল গোত্রের প্রধানদেরকে সম্মান করতেন।
হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!
আপনি ওয়াদা পূর্ণ করতেন, সত্যবাদিতা, আমানতদারীতা এবং ভালবাসা ছিল আপনার বৈশিষ্ট্য। মেহমানকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিতেন না, ওয়াদা ভঙ্গ করতেন না, জনদরদী ও সহনশীল ছিলেন। উদার ও মহৎপ্রাণ ছিলেন। আপনার চরিত্র ছিল কোরআন!
আপনি ছিলেন কোরআনের প্রতীকৃতি এবং আল্লাহর স্পষ্ট নিদর্শন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


