somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীদের সৌভাগ্য ও দূর্ভাগ্য তাদের নিজেদেরই হাতে

১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সংকলণ ও অনুবাদ
সৈয়দা শাহারবানু

ভূমিকা
মানব বিপর্যয়ের সুচনা সভ্যতার সূচনা হয় নগ্ন পোশাক সংস্কৃতির আবির্ভাব থেকে। শয়তান সর্বপ্রথম মানব জাতিকে পোষাকহীন করে নির্লজ্জতার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য লংঘন করায়। এই একবিংশ শতাব্দীতে যত বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, হচ্ছে তা তথাকথিত সভ্যতার ধারক বাহক নির্লজ্জ পশুবৃত্তিতে আসক্ত পাশ্চত্য সভ্যতার ফলশ্র“তি। নির্লজ্জতা এমন একটি মহাঘাতক যা সমাজ, সভ্যতা বিপর্যয়ের মহাঘাতক হিসেবে কাজ করে। নির্লজ্জ মানুষের পক্ষে সবচেয়ে নির্লজ্জ কাজটি করাও অসম্ভব নয়।
যা রাসূল (সা.)-এর বাণীতে সুস্পষ্ট:
তিনি বলেছেন: নবুয়াতী কথার মধ্যে মানুষ যা পেয়েছে তার মধ্যে এ বাক্যটিও আছে যদি তুমি লজ্জাহীন হয়ে থাক, তাহলে মন যা চায় তাই করতে পার।
নৈতিক অবক্ষয়, এসিড নিক্ষেপ, বিবাহ ভাঙন, সবকিছুর মূলে আছে নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা। এজন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সমাজ সভ্যতা বিপর্যয়ের বিষবৃক্ষের মূলে আঘাত হেনেছেন:
﴿قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبىّ‏َِ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنهَْا وَ مَا بَطَنَ وَ الْاثْمَ وَ الْبَغْىَ بِغَيرِْ الْحَقّ‏ِ وَ أَن تُشرِْكُواْ بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنزَِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَ أَن تَقُولُواْ عَلىَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُون‏﴾
“আপনি বলে দিন: আমার পালনকর্তা কেবলমাত্র অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য এবং হারাম করেছেন গোনাহ, অন্যায়-অত্যাচার আল্লাহ্র সাথে এমন বস্তুকে অংশীদার করা, তিনি যার কোন, সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ্র প্রতি এমন কথা আরোপ করা, যা তোমরা জান না।”
পোষাকের উদ্দেশ্য: মার্জিত ও শ্লীল পোষাক লজ্জাহীনতা ঢেকে দেয়। পবিত্র মনের অনুভূতি সৃষ্টি করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
﴿ يَابَنىِ ءَادَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكمُ‏ْ لِبَاسًا يُوَارِى سَوْءَاتِكُمْ وَ رِيشًا وَ لِبَاسُ التَّقْوَى‏ ذَالِكَ خَيرٌْ ذَالِكَ مِنْ ءَايَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُون‏﴾
“হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্খান আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহ্র কুদরতের অন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।”
আয়াতে পোষাকের ৩টি উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে:
১। লজ্জাস’ান নিবারন
২। সৌন্দর্য বা শোভাবর্ধক
৩। তাকওয়া সৃষ্টিকারী

পবিত্র কোরআনের দৃষ্টিতে নারীদের হিজাব ও পবিত্রতা(শালীণতা)
প্রথম আয়াত: ঈমানদার নারীদের উদ্দেশ্যে
﴿وَ قُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَرِهِنَّ وَ يحَْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَ لَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَ لْيَضْرِبْنَ بخُِمُرِهِنَّ عَلىَ‏ جُيُوبهِِنَّ وَ لَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ ءَابَائهِنَّ أَوْ ءَابَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنىِ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنىِ أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيرِْ أُوْلىِ الْارْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُواْ عَلىَ‏ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ وَ لَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يخُْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَ تُوبُواْ إِلىَ اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكمُ‏ْ تُفْلِحُون﴾
“ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত: প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের ১। স্বামী ২। পিতা ৩। শ্বশুর ৪। পুত্র ৫। স্বামীর পুত্র ৫। ভ্রাতা ৬। ভ্রাতুস্পুত্র ৭। ভগ্নিপুত্র ৮। স্ত্রীলোক ৯। অধিকারভুক্ত বাঁদী বা দাসী ১০। যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার‏।”
্র ألنَّظُرُ بَريدُ الزِّناগ্ধ
“নামাহরামদের দিকে তাকানো জেনার ভুমিকাস্বরূপ।”
কবির ভাষায়:
نظرَةٌ فابتسامَةٌ فَکلامٌ فَمَوعِدٌ فلقاءٌ
অর্থাৎ: এক দৃষ্টির পিছনে একটু হাসী, অত:পর সালাম। তারপর কথা বলা ও ওয়াদা দেয়া এবং অবশেষে মিলন মেলা।

দ্বিতীয় আয়াত: রাসূল(সা.)-এর স্ত্রীদের উদ্দেশ্যে
﴿ يَنِسَاءَ النَّبىِ‏ِّ لَسْتنُ‏َّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتنُ‏َّ فَلَا تخَْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِى فىِ قَلْبِهِ مَرَضٌ وَ قُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا﴾
“হে নবী পতœীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছ্ে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।”

তৃতীয় আয়াত: পুরুষদের উদ্দেশ্যে
﴿وَ إِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَسَْلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ ذَالِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَ قُلُوبِهِنَّ﴾
“তোমরা তাঁর পতœীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ।”
এই নির্দেশ কি শুধুমাত্র রাসূল(সা.)-এর স্ত্রীদের জন্য?
না এমনটি নয় বরং সকল নারীদের ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ প্রজোয্য। এখানে নবী পতœীদেরকে উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে।

চতুর্থ আয়াত: নারীদেরকে বলা হচ্ছে তোমরা নিজেদেরকে প্রদর্শন কর না
﴿وَ قَرْنَ فىِ بُيُوتِكُنَّ وَ لَا تَبرََّجْنَ تَبرَُّجَ الْجَهِلِيَّةِ الْأُولىَ‏﴾
“তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্খান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না।”
তাবাররোজ বা প্রদর্শনের অর্থ:
কাসেমী তাবাররোজের কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করেছেন:
১। দম্ভের সাথে পথ চলা।
২। সৌন্দর্য প্রকাশ করা।
৩। পাতলা পোশাক পরিধান করা।
এবং কিছু মুফাসসির তাবাররোজের অর্থ সম্পর্কে বলেছেন:
“জাহেলিয়াতের যুগে মহিলারা ঘর থেকে বের হত এবং নিজেদেরকে পর পুরুষদের সামনে প্রদর্শন করত।”

পঞ্চম আয়াত: নারীদের উপযুক্ত হিজাব সম্পর্কে
﴿يَأَيهَُّا النَّبىِ‏ُّ قُل لّأَِزْوَاجِكَ وَ بَنَاتِكَ وَ نِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيهِْنَّ مِن جَلَبِيبِهِنَّ ذَالِكَ أَدْنىَ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَ كاَنَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا﴾
“হে নবী! আপনি আপনার পতœীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।”
ইসলামের প্রথম দিকে মুসলমান নারীগণও জাহেলিয়াতের যুগের মত বেপর্দায় বাহিরে আসত এবং নিজেদেরকে প্রদর্শন করত। একারণেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকে এই আয়াতের মাধ্যমে নির্দেশ দিলেন যে, আপনি আপনার পতœীগণকে, কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলে দিন যেন তারা বেপর্দায় বাহিরে বের না হয় এবং নিজেদেরকে নামাহরামদের সামনে প্রদর্শন না করে।
জালবাব কি?
জালবাব (বড় ওড়না) সম্পর্কে মুফাসসির এবং আভিধানিকগণ বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন:
১। “জালবাব এমনি একটি বস্ত্র যা স্কার্ফ থেকে বড় ও চাদর থেকে ছোট যার মাধ্যমে নারীরা তাদের মাথা থেকে বুক পর্যন্ত আবৃত করে।”
২। আল্লামা তাবারসী উক্ত আয়াতের তাফসিরে বলেছেন:
“জালবাব হচ্ছে এমন একটি স্কার্ফ, নারীরা যখন বাড়ীর বাহিরে বের হয় তখন তা দিয়ে তাদের মাথা ও মুখ আবৃত করে নেয়।”
৩। অনেকে আবার বলেন: “জালবাব এমন একটি চাদর বা আবাকে বোঝায় যা নারীদের সমস্ত শরীরকে আবৃত করে।”
উম্মে সালামা বর্ণনা করেছেন:“উক্ত আয়াত নাযিল হওয়ার পর, আনসার গোত্রের নারীরা কালো রঙ্গের পশমী পোশাকে নিজেদেরকে সম্পূর্ণ আবৃত করে (তাতে তাদেরকে কালো কাকেরমত লাগত) রাসূল(সা.)-এর পাস দিয়ে যেতেন এবং রাসূল(সা.) তাদেরকে কিছু বলতেন না। আর রাসূল(সা.)-এর অনুমোদনও তাঁর বাণীরমতই হুজ্জাত বা দলিল।”
এই আয়াতে ‘তাদেরকে (পর্দাশীল নারীদেরকে)চেনা সহজ হবে’ বলতে বোঝানো হয়েছে যে, হিজাবের কারণে নারীরা সুনামের অধিকারী হবে এবং এর মাধ্যমে মানুষের মাঝে পবিত্র ও যোগ্য হিসাবে পরিচিত হবে, ফলে কেউ তাদেরকে উত্যক্ত করতে সাহস পাবে না।

ষষ্ট আয়াত: হিজাব মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব
﴿فَدَلَّئهُمَا بِغُرُورٍ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لهَُمَا سَوْءَاتهُُمَا وَ طَفِقَا يخَْصِفَانِ عَلَيهِْمَا مِن وَرَقِ الجَْنَّة﴾
“অত:পর প্রতারণাপূর্বক তাদেরকে সম্মত করে ফেলল। অনন্তর যখন তারা বৃক্ষ আস্বাদন করল, তখন তাদের লজ্জাস্খান তাদের সামনে খুলে গেল এবং তারা নিজের উপর বেহেশতের পাতা জড়াতে লাগল।”

সপ্তম আয়াত: মা বেপর্দা ও দুশ্চরিত্রা হলে সন্তানও বেপর্দা ও দুশ্চরিত্রা হয়
﴿يَأُخْتَ هَرُونَ مَا كاَنَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَ مَا كاَنَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا﴾
“হে হারুণের বোন (মারইয়াম), তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী।”

অষ্টম আয়াত: সফল বিবাহ
﴿الخَْبِيثَاتُ لِلْخَبِيثِينَ وَ الْخَبِيثُونَ لِلْخَبِيثَاتِ وَ الطَّيِّبَاتُ لِلطَّيِّبِينَ وَ الطَّيِّبُونَ لِلطَّيِّبَاتِ﴾
“দুশ্চরিত্রা নারীকূল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে। সচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যে।”

নবম আয়াত: হিজাবের দর্শন
﴿يَأَيهَُّا الَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدْخُلُواْ بُيُوتَ النَّبىِ‏ِّ إِلَّا أَن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلىَ‏ طَعَامٍ غَيرَْ نَظِرِينَ إِنَئهُ وَ لَكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُواْ فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانتَشِرُواْ وَ لَا مُسْتَْنِسِينَ لحَِدِيثٍ إِنَّ ذَالِكُمْ كَانَ يُؤْذِى النَّبىِ‏َّ فَيَسْتَحْىِ مِنكُمْ وَ اللَّهُ لَا يَسْتَحْىِ مِنَ الْحَقّ‏ِ وَ إِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَسَْلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ ذَالِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَ قُلُوبِهِنَّ وَ مَا كاَنَ لَكُمْ أَن تُؤْذُواْ رَسُولَ اللَّهِ وَ لَا أَن تَنكِحُواْ أَزْوَاجَهُ مِن بَعْدِهِ أَبَدًا إِنَّ ذَالِكُمْ كَانَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمًا¤ إِن تُبْدُواْ شَيًْا أَوْ تخُْفُوهُ فَإِنَّ اللَّهَ كاَنَ بِكلُ‏ِّ شىَ‏ْءٍ عَلِيمًا¤ لَّا جُنَاحَ عَلَيهِْنَّ فىِ ءَابَائهِِنَّ وَ لَا أَبْنَائهِنَّ وَ لَا إِخْوَانهِِنَّ وَ لَا أَبْنَاءِ إِخْوَانهِِنَّ وَ لَا أَبْنَاءِ أَخَوَاتِهِنَّ وَ لَا نِسَائهِنَّ وَ لَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَنهُُنَّ وَ اتَّقِينَ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كاَنَ عَلىَ‏ كلُ‏ِّ شىَ‏ْءٍ شَهِيدًا﴾.
“হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা দাওয়াত প্রাপ্ত হলে প্রবেশ করো, অত:পর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ্ সত্যকথা বলতে সংকোচ করেন না। তোমরা তাঁর পতœীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহ্র রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পতœীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহ্র কাছে এটা গুরুতর অপরাধ। তোমরা খোলাখুলি কিছু বল অথবা গোপন রাখ, আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ। নবী-পতœীগণের জন্যে তাঁদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নি পুত্র, সহধর্মিনী নারী এবং অধিকার ভুক্ত দাস-দাসীগণের সামনে যাওয়ার ব্যাপারে গোনাহ নেই। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্ব বিষয় প্রত্যক্ষ করেন।”

দশম আয়াত:বৃদ্ধা নারিদের হিজাবের ধরন এবং সৌন্দর্য্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা
﴿وَ الْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ الَّاتىِ لَا يَرْجُونَ نِكاَحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيرَْ مُتَبرَِّجَتِ بِزِينَةٍ وَ أَن يَسْتَعْفِفْنَ خَيرٌْ لَّهُنَّ وَ اللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيم﴾
“বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করে তাদের পর্দা খুলে রাখে। তাদের জন্যে দোষ নেই, তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”‏

এগারতম আয়াত: চলা-ফেরার ক্ষেত্রে শালীনতা ও পর্দা
﴿فجََاءَتْهُ إِحْدَئهُمَا تَمْشىِ عَلىَ اسْتِحْيَاءٍ قَالَتْ إِنَّ أَبىِ يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا﴾
“অত:পর বালিকাদ্বয়ের একজন লজ্জাজড়িত পদক্ষেপে তাঁর (হযরত মুসার)কাছে এসে বলল: আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন, আপনি আমাদের পশুদেরকে যে পানি পান করিয়েছেন, তার বিনিময়ে পুরস্কার প্রদান করার জন্যে।”

বারতম আয়াত: প্রয়োজন ব্যতীত পুরুষদের ভিড়ে প্রবেশ করা নিষেধ
﴿إِذْ رَءَا نَارًا فَقَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُواْ إِنىّ‏ِ ءَانَسْتُ نَارًا لَّعَلىّ‏ِ ءَاتِيكمُ مِّنهَْا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلىَ النَّارِ هُدًى‏﴾
“তিনি যখন আগুন দেখলেন, তখন পরিবারবর্গকে বললেন: তোমরা এখানে অবস্খান কর আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবত: আমি তা থেকে তোমাদের কাছে কিছু আগুন জালিয়ে আনতে পারব অথবা আগুনে পৌছে পথের সন্ধান পাব।”

তেরতম আয়াত: লজ্জাস্থানের শালীনতা (ব্যভিচার হারাম)
﴿وَ لَا تَقْرَبُواْ الزِّنىَ إِنَّهُ كاَنَ فَاحِشَةً وَ سَاءَ سَبِيلا﴾
“আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।”
এসম্পর্কে অরো বলা হচ্ছে:
﴿ إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَ الْمُسْلِمَتِ وَ الْمُؤْمِنِينَ وَ الْمُؤْمِنَتِ وَ الْقَنِتِينَ وَ الْقَنِتَتِ وَ الصَّدِقِينَ وَ الصَّدِقَتِ وَ الصَّبرِِينَ وَ الصَّبرَِاتِ وَ الْخَشِعِينَ وَ الْخَشِعَتِ وَ الْمُتَصَدِّقِينَ وَ الْمُتَصَدِّقَتِ وَ الصَّئمِينَ وَ الصَّئمَتِ وَ الحَْفِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَ الْحَفِظَتِ وَ الذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَ الذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لهَُم مَّغْفِرَةً وَ أَجْرًا عَظِيمًا ﴾
“নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ, ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোযা পালণকারী পুরুষ, রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকরকারী পুরুষ ও যিকরকারী নারী-তাদের জন্য আল্লাহ্ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরষ্কার।”
অপর আয়াতে বলা হচ্ছে:
﴿وَ الَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَاهًا ءَاخَرَ وَ لَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتىِ حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقّ‏ِ وَ لَا يَزْنُونَ وَ مَن يَفْعَلْ ذَالِكَ يَلْقَ أَثَامًا﴾
“এবং (যারা আল্লাহর খালেস বান্দা তারা) আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের ইবাদত করে না, আল্লাহ্ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যারা এ কাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে।”
আরেকটি আয়াতে বলা হচ্ছে:
﴿الزَّانىِ لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَ الزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ وَ حُرِّمَ ذَالِكَ عَلىَ الْمُؤْمِنِين‏ ﴾
“ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্য হারাম করা হয়েছে।”


দ্বিতীয় অধ্যায়
হিজাব বা পর্দা সম্পর্কিত হাদীস ও তার অনুবাদ

১। হিজাবের গুরুত্ব
ইমাম মাহদী(আ.)-এর দোয়ার একটি অংশ হচ্ছে:
و علی النّساءِ بالحياءِ وَ العفَّةِ
“হে আল্লাহ! আমার উম্মতের নারীদেরকে লজ্জা ও শালীণতা দান করুন।”

২। আদর্শ নারী ও স্ত্রীদের সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে শ্লীলতা ও হিজাব
قَالَ رسول الله : خيرُ نسائکُم العِفَّةُ فی فرجها الغِلمَةُ علی زوجها.
“তোমাদের সর্বোত্তম নারী ও স্ত্রীরা হচ্ছে তারা যারা স্বতী-সাধী এবং কামনাময়ী। অর্থাৎ তারা তাদের যৌনাঙ্গ হেফাযত করার ক্ষেত্রে স্বতী-সাধী আর তাদের স্বামীদের জন্য কামনাময়ী।”

৩।
قَالَ رسول الله : إنَّ من خيرُ نسائکُم: الوَلُودُ، الوَدُودُ، السَّتيرَةُ، العَزيزَةُ فِی اهلها، المُتَبَرّجَةُ مِن زَوجِها، الحصانُ عَن غَيرِهِ، التی تَسمَعُ قَولهُ وَ تُطِيعُ أمرَهُ، وَ أذا خَلابها بَذَلَت لهُ ما أرادَ مِنها...
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম নারী সে: যে অধিক সন্তান জন্মদান করে, স্বামীর সাথে দয়ালু আচরণ করে, হিজাব ও পর্দা করে, নিজ সম্প্রদায়ের নিকট মর্যাদার অধিকারী থাকে, স্বামীর সাথে নম্র ও স্বদাচারন করে, স্বামীর জন্য নিজেকে সুসজ্জিত করে, সমাজে ও না মাহরামদের সামনে শালীনতা অবলম্বন করে, স্বামীর কথা শোনে ও তার অনুগত থাকে এবং যখনই স্বামীর সাথে একাকি হয় নিজেকে সম্পূর্ণরূপে তার কাছে সপে দেয়।”

৪। শালীনতা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যেই উত্তম জিহাদ
قالَ الباقر : أیُّ الاجتهادِ أفضَلُ مِن عِفَّةِ بَطنٍ وَ فَرَجٍ.
“ইমাম বাকির(আ.) বলেছেন: উদর এবং যৌনাঙ্গের শালীনতার চেয়ে উত্তম জিহাদ আর নেই।”

৫।
قالَ امير المؤمنين علی : أفضَلُ العبادَةِ العِفافُ
“আমিরুল মুমিনিন আলী(আ.) বলেছেন: শালীনতা হচ্ছে সর্বোত্তম ইবাদত।”

৬। নারিদের মধ্যে অধিকাংশ জাহান্নামী হচ্ছে বে-পর্দা ও অশালীন মহিলারা
الورّاقُ عَنِ الاسدی، عن سَهلٍ، عَن عَبد العظيم الحسنی، عن أبی جعفر الثِانی ، عن آبائهِ قال: قال أميرُ المؤمنين علی : دخلت أنا وفاطمة على رسول الله فوجدته يبكی بكاء شديداً، فقلت: فداك أبي وأمي يا رسول الله ، ما الذی أبكاك؟ فقال : يا علی ليلة أسری بی إلى السماء، رأيت نساء من أمتی في عذاب شديد فأنكرت شأنهن، لما رأيت من شدة عذابهن.
হযরত আব্দুল আযীম হাসানী ইমাম জাওয়াদ(আ.) থেকে এবং তিনি তাঁর পিতাদের সূত্রে আমিরুল মুমিনিন আলী(আ.) হতে বর্ণনা করেছেন: একদা আমি ও ফাতিমা রাসূল(সা.)-এর কাছে গিয়ে দেখি তিনি ক্রন্দন করছেন। আমি বললাম:হে আল্লাহর রাসূল(সা.)! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত, আপনি কাঁদছেন কেন?
রাসূল(সা.) বললেন: হে আলী! যে রাত্রে আমাকে মেরাজে নিয়ে যাওয়া হয়, আমার উম্মতের কিছু মহিলাদেরকে দেখলাম যে, তারা কঠিন আযাবের মধ্যে রয়েছে। তখন তাদের উপর আমার ঘৃণা জম্নালো। তারপরও তাদের ঐ কঠিন আযাবের কারণে আমি ক্রন্দন করছি।
১. رأيت امرأة معلقة بشعرها يغلی دماغ رأسها.
১। এক মহিলাকে দেখলাম যে, তাকে তার মাথার চুলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং তার মাথার ঘিলু (প্রচন্ড আযাবে)টগবগ করে ফুটছে।
২. ورأيت امرأة معلقة بلسانها والحميم يصب فی حلقها.
২। আরেক মহিলাকে দেখলাম যে, তাকে তার জিহ্বায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং তার মুখের মধ্যে গরম পানি ঢালা হচ্ছে।
৩. ورأيت امرأة معلقة بثديها.
৩। এবং এক মহিলাকে দেখলাম যে, তাকে তার স্তনে বেধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
৪. ورأيت امرأة تأكل لحم جسدها، والنار توقد من تحتها.
৪। এক মহিলাকে দেখলাম যে, তার পা দুটো হাতের সাথে বাধা আছে এবং তার গায়ে সাপ ও বিছা ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
৫. ورأيت امرأة قد شدت رجلاها إلى يديها، وقد سلط عليها الحيات والعقارب.
৫। আরেক মহিলাকে দেখলাম যে, সে নিজের শরীরের মাংশ খাচ্ছিল এবং তার নিচে দাউ-দাউ করে আগুন জলছিল।
৬. ورأيت امرأة صماء عمياء خرساء فی تابوت من نار يخرج دماغ رأسها من منخرها وبدنها، فتقطع من الجذام والبرص.
৬। আরেক মহিলাকে দেখলাম যে, বধির, অন্ধ ও বোবা ছিল এবং তাকে একটি আগুনের তাবুতে রেখে ছিল। আর তার মাথার মগজ তার নাকের ভির দিয়ে বের হচ্ছিল এবং তার সমস্ত শরীর কুষ্ঠ রোগে ছিন্ন-ভিন্ন হচ্ছিল।
৭. وَ رأيتُ أمرأةً معَلّقةً برجليها فی تَنُّرٍ من النّار.
৭। এক মহিলাকে দেখলাম যে, তার পা দুটো আগুনের চুলার মধ্যে ঝুলানো ছিল।
৮. ورأيت امرأة يقطع لحم جسدها من مقدمتها ومؤخرتها بمقارض من نار.
৮। আরেক মহিলাকে দেখলাম যে, আগুনের কাইচি দিয়ে তার সামনের ও পেছনের মাংশ কর্তন করা হচ্ছে।
৯. ورأيت امرأة يحرق وجهها ويديها وهی تأكل أمعاءها.
৯। এক মহিলাকে দেখলাম যে, তার হাত ও মুখ পোড়ানো হচ্ছিল এবং সে তার নিজের নাড়ি-ভুড়ি খাচ্ছিল।
১০. رأيت امرأةً رأسها رأس خنزير وبدنها بدن الحمار، وعليها ألف ألف لون من العذاب.
১০। আরেক মহিলাকে দেখলাম যে, তার মাথা শুকোরের মত ছিল, শরীর গাধারতম ছিল এবং তার উপর শত-সহস্র আযাব হচ্ছিল।
১১. ورأيت امرأة على صورة الكلب والنار تدخل في دبرها وتخرج من فيها، والملائكة يضربون رأسها وبدنها بمقامع من نار.
১১। এক মহিলাকে দেখলাম যে, তার চেহারা কুকুরের মত ছিল এবং তার পিছন দিয়ে আগুন প্রবেশ করিয়ে মুখ দিয়ে বের করা হচ্ছিল এবং আযাবের ফেরেশতারা আগুনের মুগুর দিয়ে তার মাথায় ও শরীরে আঘাত করছিল।
فقالت فاطمة رضي الله عنها: حبيبي وقرة عيني، أخبرنی ما كان عملهن وسيرتهن حتى وضع الله عليهن هذا العذاب؟
অত:পর হযরত ফাতিমা যাহরা (আ.) বললেন: হে আল্লাহর হাবিব এবং আমার চোখের জ্যোতি! তারা কি অন্যায়ে লিপ্ত হয়েছিল যে, মহান আল্লাহ তাদের উপর এত কঠিন আযাব দান করেছেন?
فقال : يا ابنتی:
অত:পর রাসূল(সা.) বললেন: হে আমার কন্যা!
১. أما المعلقة بشعرها فإنها كانت لا تغطی شعرها من الرجال.
১। যে মহিলাকে তার মাথার চুলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল এবং তার মাথার ঘিলু (প্রচন্ড আযাবে)টগবগ করে ফুটছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে তার মথার চুল পরপুরুষদেরকে প্রদর্শন করত।
২. وأما المعلقة بلسانها فإنها كانت تؤذی زوجها.
২। যে মহিলাকে তার জিহ্বায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল এবং তার মুখের মধ্যে গরম পানি ঢালা হচ্ছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে, তার কথার মাধ্যমে তার স্বামীকে কষ্ঠ দিত।
৩. وأما المعلقة بثدييها فإنها كانت تمتنع من فراش زوجها.
৩। যে মহিলাকে তার স্তনে বেধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে, তার স্বামীকে সহবাসে বাধা দিত।
৪. وأما المعلقة برجليها فإنها كانت تخرج من بيتها بغير إذن زوجها.
৪। যে মহিলার পা দুটো আগুনের চুলার মধ্যে ঝুলানো ছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে, তার স্বামীর বিনা অনুমতিতে বাড়ির বাহিরে যেত।
৫. وأما التي كانت تأكل جسدها فإنها كانت تزين بدنها للناس.
৫। যে মহিলা নিজের শরীরের মাংশ খাচ্ছিল এবং তার নিচে দাউ-দাউ করে আগুন জলছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে, সাজ-সজ্জা করে নিজের সৌন্দর্যকে অন্যের সামনে প্রদর্শন করত।
৬. وأما التی شدت يداها إلى رجليها وسلط عليها الحيات والعقارب فإنها كانت قذرة الوضوء، قذرة الثياب، وكانت لا تغتسل من الجنابة والحيض، ولا تتنظف، وكانت تستهين بالصلاة.
৬। যে মহিলার পা দুটো হাতের সাথে বাধা ছিল এবং তার গায়ে সাপ ও বিছা ছেড়ে দেয়া হয়েছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে, নিজেকে পবিত্র করত না, কাপড়-চোপড় ধৌত করত না, হায়েয-নেফাসের গোসল করত না, নিজের শরীরকে অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করত না এবং নামাযের প্রতি গুরুত্ব দিত না।
৭. وأما العمياء الصماء الخرساء، فإنها كانت تلد من الزنا، فتعلقه في عنق زوجها.
৭। যে মহিলা বধির, অন্ধ ও বোবা ছিল এবং তাকে একটি আগুনের তাবুতে রেখে ছিল। আর তার মাথার মগজ তার নাকের ভির দিয়ে বের হচ্ছিল এবং তার সমস্ত শরীর কুষ্ঠ রোগে ছিন্ন-ভিন্ন হচ্ছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে, অবৈধভাবে সন্তান জন্মদিত এবং বলত এটা হচ্ছে আমার স্বামীর সন্তান।
৮. وأما التی كانت يقرض لحمها بالمقارض، فإنها كانت تعرض نفسها على الرجال.
৮। যে মহিলাকে আগুনের কাইচি দিয়ে তার সামনের ও পেছনের মাংশ কর্তন করা হচ্ছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে, নিজেকে পরপুরুষের সামনে প্রদর্শন করত।।
৯. وأما التی كانت تحرق وجهها وبدنها، وهي تأكل أمعاءها فإنها كانت قوادة.
৯। যে মহিলার হাত ও মুখ পোড়ানো হচ্ছিল এবং সে তার নিজের নাড়ি-ভুড়ি খাচ্ছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে, (পতিতালয় পরিচালনা করত) ছেলে-মেয়েদেরকে অবৈধ মেলা-মেশা করাত এবং অবৈধ পথে রুজি উপার্জন করত।
১০. وأما التی كان رأسها رأس خنزير، وبدنها بدن الحمار، فإنها كانت نمامة كذابة.
১০। যে মহিলার মাথা শুকোরের মত ছিল, শরীর গাধারতম ছিল এবং তার উপর শত-সহস্র আযাব হচ্ছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে, মিথ্যা কথা বলত এবং চোগলখোরি করত।
১১. وأما التي كانت على صورة الكلب والنار تدخل فی دبرها، وتخرج من فيها. فإنها كانت قينة - مغنية - نوّاحة حاسرة.
১১। যে মহিলার চেহারা কুকুরের মত ছিল এবং তার পিছন দিয়ে আগুন প্রবেশ করিয়ে মুখ দিয়ে বের করা হচ্ছিল এবং আযাবের ফেরেশতারা আগুনের মুগুর দিয়ে তার মাথায় ও শরীরে আঘাত করছিল সে হচ্ছে ঐ মহিলা যে, গান করত, মিথ্যা বিলাপ করত এবং হিংসা করত।
ثم قال النبی : ويل لامرأة أغضبت زوجها، وطوبى لامرأة رضی عنها زوجها. صدق رسول الله انتهى..
অত:পর রাসূল(সা.) বললেন: সেই মহিলা হতভাগিনী যে তার স্বামীকে রাগন্বিত করে এবং ঐ নারী সৌভাগ্যশীলা যে তার স্বামীকে সন্তুষ্ট রাখে।

৭। সমাজে না মাহরামদের (পর-পুরুষের) সামনে নারীদের হিজাব এবং ঘরে মাহরাদমের সামনে পোশাকের পার্থক্য
قَالَ رسول الله : للزَّوجِ ما تَحتَ الدّرعِ، وَلإبنِ وَالأخِ ما فَوقَ الدِرعِ، وَ لغيرِ ذِی مَحرَمٍ أربعةُ أثوابٍ: دِرعٌ وَخِمارٌ وَ جِلبابٌ و أزارٌ.
“রাসূল(সা.) বলেছেন: স্ত্রী তার স্বামীর সামনে নিজের সর্বঙ্গ প্রদর্শন করতে পারে। আর ভাই এবং সন্তানের সামনে (মাহরামদের সামনে) অবশ্যই পোশাক পরিধান করতে হবে (যাতে তার শরীরর আবৃত থাকে)। কিন্তু না মাহরামদের সামনে (পর-পুরুষের সামনে) নারীদেরকে অবশ্যই চারটি পোশাক পরতে হবে: ১। জামা বা কামিজ, ২। স্কার্ফ বা ওড়না, ৩। চাদর বা বোরকা এবং ৫। স্যালোয়ার বা প্যান্ট।

৮। হযরত যাহরা (সালামুল্লাহ আলাইহা) নামাহরামদের সামনে সর্বদা স্কার্ফ, চাদর বা বোরকা এবং মুখোস পরতেন।
আবু বকর হযরত যাহরা(আ.)-এর ন্যায্য অধিকার ফাদাক কেড়ে নিলে তিনি আবু বকরের সভায় এভাবে উপস্থিত হয়েছিলেন:
لاثَت (لأتت) خمارها علی رأسها، وَاشتملت جلبابها.
“তিনি প্রথমে স্কার্ফ পরে তার উপর বোরকা পরে অত:পর সেখানে উপস্থি হয়েছিলেন।”

৯। যখন তিনি নিজের বাড়ি থেকে রাসূল(সা.)-এর বাড়িতে যেতেন:
فَتَجَلبَبَت بِجِلبابِها وَ تَبَرقَعَت بِبُرقَعِها وَ أرادَتِ النّبی
“বোরকা পরতেন এবং মুখোস পরতেন তারপর রাসূল(সা.)-এর বাড়ির দিকে রওনা হতেন।”

১০। নারীদেরও না মাহরাম বা পর পুরুষের দিকে তাকানো নিষেধ
قَالَ الصّادق : فزِنا العَينَينِ النّظَر.
“ইমাম জাফর সাদিক(আ.)বলেছেন: মানুষের (নারী ও পুরুষের) দুই চোখের যেনা হচ্ছে না মাহরামদের দিকে তাকানো।”
তিনি আরও বলেছেন:
قَالَ الصّادق : النّظَرةُ سَهمٌ مِن سِهامِ أبلِيسَ.
“না মাহরামদের দিকে তাকানো হচ্ছে মানুষের অন্তরে শয়তানের তীরসমূহের একটি তীর।”
১২। হযরত ঈসা (আ.) বলেছেন:
إياکم وَالنّظرَةَ؛ فإنها تَزرعُ فی قَلبِ صاحبها الشهوة، وَ کفی بها لصاحبها فِتنةً
“তোমরা না মাহরামদের দিকে তাকিও না; কেননা তা তোমাদের অন্তরে কামনার বিজ বপন করবে আর তা তোমাদেরকে বিভিন্ন ফেৎনা ও ফাসাদে ধাবিত করবে।”

১৩। হযরত ফাতিমাতুয্ যাহ্রা(আ.)-এর হিজাব সম্পর্কিত কিছু উপাধি:
مُحَجَّبَة، عَفِيفَة، حِصان، مُطَهّرَة وَ مَعصُومَة
“তিনি ছিলেন: পর্দাশীলা, শ্লীল, পবিত্র, পাক-পবিত্র এবং নিষ্পাপ।”
১৪। পর্দা ও শালীনতা সম্পর্কে হযরত ফাতিমাতুয্ যাহ্রা(আ.)-এর কিছু উপদেশ
عن فاطمة الزّهراء : إذا سُئِلَت: أَیُّ شَئٍ خَيرٌ للمرأة؟ قالت: أن لا تَری رَجُلا، وَ لا يراها رَجُلٌ.
“হযরত ফাতিমাতুয্ যাহ্রা (আ.)-এর কাছে প্রশ্ন করা হল: নারীর কোন বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: তা হচ্ছে যে, না সে কোন পরপুরুষকে দেখবে; আর না কোন পরপুরুষ তাকে দেখতে পাবে।”
১৫। তিনি আরো বলেছেন:
أدنی ما تکونَُ المرأةُ مِن رَبِّها أن تَلزَمَ قعرَ بَيتها.
“একজন নারী আল্লাহর সাথে তখনই সবচেয়ে নিকটতম যখন সে নিজের গৃহে(ইবাদতে মশগুল) থাকে।”
১৬। তিনি আরো বলেছেন:
إنّی قَد استقبَحتُ ما يُصنَعُ بانّساءِ إنّهُ يُطرَحُ علی المرؤةِ الثَّوبُ فَيَصفُها لِمَن رأیَ.
“আমার এটা মোটেই ভাল লাগেনা যে, নারীদের জানাযার উপর একটা কাপড় বিছিয়ে দেয়া হয় এবং তার শরীরের গঠণ পর পুরুষের সামনে প্রকাশ পায়। (তাই তিনি ওসীয়ত করেছিলেন যে, তাঁর জন্য যেন এমন তাবুত তৈরী করা হয় যাতে তাঁর জানাযা দেখা না যায়)।”
১৭। বেপর্দা এবং অশ্লীলতা হচ্ছে জাহান্নামি মহিলাদের স্পষ্ট নিদর্শন
قَالَ الصّادق : ثلاثُ إذا کُنَّ فی المرأةِ فلا تَحرَج أن تَقولَ: إنّها فی جَهَنَّم، البذاءُ ، وَالخُيلاءُ، وَ الفَجَرَ.
“তিনটি বৈশিষ্ট্য যদি কোন মহিলার মধ্যে থাকে তাহলে নিশ্চিত জানবে যে, সে জাহান্নামি, ঐ স্বভাব গুলো হচ্ছে: কটুভাষী, আত্মকেন্দ্রিক ও দাম্ভিকতা এবং অশালীনতা বা বেপর্দা।”
১৮। ঘরের বাইরে বা সমাজে নারীর পোশাক-চলাফেরার ক্ষেত্রে শালীনতা
قَالَ رسول الله : مَن أطاعَ إمرأته أکبَّهُ اللهُ علی وَجهه فی النار. فقال علی و ما تلک الطّاعة؟ قال: يأذنَ لها فی الذَّهاب إلی الحمّاماتِ، والعُرُساتِ، وَالنياحاتِ، وَلَبسِ الثّياب الرِّقاقِ.
“রাসূল(সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর অনুসরণ করবে, আল্লাহ তাকে (জাহান্নামের)আগুনে নিক্ষেপ করবেন। হযরত আলী(আ.) বললেন: স্ত্রীর অনুসরণ বলতে কি বোঝানো হয়েছে? তিনি বললেন: তাকে যেখানে নারী-পুরুষ একত্রে গোসল করে, যে বিয়ে বাড়িতে বেহায়াপনা হয় এবং যেখানে গান-বাজনার অনুষ্ঠান হয় সেখানে যেতে অনুমতি দেয়া এবং পাতলা পোশাক পরে পরপুরুষের সামনে যাওয়ার অনুমতি দেয়া।”
১৯। কোন নারী সুন্দরী এটা তার বেপর্দা থাকার অজুহাত হতে পারে না
قَالَ الصّادق : تُؤتی بالمرأةِ الحُسناءِ – يومَ القيامة- الّتی قَدِ الفتتنَت فی حُسنها، فتقولُ: يارَبِّ، حسّنتَ خَلقی حَتّی لقِيتُ ما لَقِيتُ، فَيجاءُ بِمَريَمَ ، فَيُقالُ: أنتَ أحسَنُ أو هذهِ؟ قَد حَسَّنّاها فَلَم تَفتَتِنُ..
রোজ কিয়ামতের দিন যে সুন্দরী মহিলা ফেৎনায় লিপ্ত হয়েছিল(বেপর্দা হয়ে গোনাহে লিপ্ত হয়েছিল) তাকে হিসাবের জন্য দাড় করানো হবে। সে আল্লাহকে বলবে: হে আল্লাহ! আপনি নিজেই আমাকে সুন্দরী সৃষ্টি করেছেন, সেকারণেই আমি অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিলাম। তখন আল্লাহর ইচ্ছায় হযরত মারইয়াম(আ.)-কে সেখানে উপস্থিত করা হবে তার পর বলা হবে: দেখ তুমি বেশী সুন্দরী নাকি এই মহিয়ষী নারী? আমরা তাকে অতি সুন্দরী সৃষ্টি করেছি কিন্তু সে গোনাহে লিপ্ত হয় নি।”
২০। শেষ জামানায় নারীদের পর্দা-পুশিদা ও শালীনতা
قَالَ رسول الله : کَيفَ بِکُم إذا فَسَدَت نِسائکم وَ فَسَقَ شبابُکُم وَ لَم تأمرُوا بالمعروفِ وَ لَم تَنهَوا عَن المُنکر؟ فَقيلَ لَهُ: وَ يکونُ ذلک يا رسول الله؟ فقال: نَعَم، وَ شَرُّ مِن ذلک؛ کَيفَ بکُم إذا أمرتُم بالمنکر وَ نَهَيتُم عَن المَعروف؟ فقيل لهُ: يا رسول الله وَ يکون ذلک؟ قال: نَعَم، وَ شَرُّ مِن ذلک؛ کَيفَ بکُم إذا رأيتُم المَعروف منکراً وَالمنکر مَعروفاً؟ .
“রাসূল(সা.) বলেছেন: কেমন হবে যখন দেখবে যে, তোমাদের নারীরা নষ্ঠা হতে চলেছে, তোমাদের যুবকরা পথভ্রষ্ঠ হতে চলেছে এবং সৎকর্মের আদেশ করবে না আর অসৎকর্মের নিষেধ করবে না? তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল(সা.) এমন সময় কি কখনো আসবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ! এর চেয়েও খারাপ হবে। তখন কি হবে যখন অসৎকর্মের আদেশ করবে আর সৎকর্ম থেকে নিষেধ করবে? তারা বলল: এমন সময়ও কি আসবে? তিনি বললেন: এর থেকেও খারাপ সময় আসবে; যখন তোমরা ভালকে মন্দ মনে করবে আর মন্দকে ভাল।”

২১।
قَالَ امير المؤمنين علی : يظهرُ فی آخرِ الزّمانِ واقترابِ الساعة – و هو شرُّ الزمنةِ – نسوةٌ کاشفةٌ، عارياتٌ، متبرّجاتٌ، من الدين خارجةٌ، داخلتٌ فی الفتن، مائلاتٌ إلی الشهوات، مُسرعاتٌ إلی اللذّات، مُستحلّاتٌ للمحرَّمات، فی جهنّم خالداتٌ.
শেষ যামানায় এবং কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে (যা হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সময়) মহিলারা বে-পর্দা থাকবে, নিজেদের শরীর পর-পুরুষের কাছে প্রদর্শন করবে, মাথার চুল সুসজ্জিত করে পর-পুরুষকে দেখাবে। তারা ধর্ম বহির্ভূত হয়ে নানা ধরণের ফিৎনা ও ফাসাদে লিপ্ত হবে। তারা কামনা-বাসনার দিকে ধাবিত হবে এবং পার্থিব সাময়িক তৃপ্তির পিছনে ছুটবে। তারা আল্লাহর কৃত হারামকে হালাল মনে করবে এবং চিরতরের জন্য জাহান্নামে নিপতিত হবে।

২২।
قَالَ رسول الله : إذا رأيتُم اللاتی ألقينَ علی رُؤسهنّ مثل اسنمةِ البعر (البقر) فاعلموهنّ أنّهُ لا يقبلُ لهُنَّ الصّلاة.
যখন দেখবে যে মহিলারা তাদের মাথার চুলকে উটের পিঠের মত উচু করে পর-পুরুষের সামনে বের হচ্ছে, তাদেরকে বলবে যে, তোমাদের নামাজ কবুল হবে না।

২৩। চলা-ফেরার ক্ষেত্রে শালীনতা
قَالَ رسول الله : لَيسَ للنّساءِ من سراة الطريق ولکن جنبيه.
মহিলারা যেন রাস্তা ও গলির মাঝখান দিয়ে চলা-ফেরা না করে বরং যেন রাস্তার পাশ দিয়ে শালীনভাবে পথ চলে।

২৪। মহিলাদের সুগন্ধি মেখে বাহিরে বের হওয়া এবং পর-পুরুষের সামনে যাওয়া হারাম
قَالَ الصّادق : سُئلَ النّبی : ما زينةُ المرأةِ للأعمی؟ قال: الطيبُ والخضابُ، فإنّهُ من طيب النّسمَةِ.
অন্ধ পর-পুরুষদের সামনে মহিলাদের সৌন্দর্য কি হতে পারে? রাসূল(সা.)-এর কাছে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন: সুগন্ধি এবং মেহেদি। কেননা মেহেদিরও সুগন্ধ রয়েছে।

২৫।
قَالَ رسول الله : أیّ امرأةٍ تطيَّبَت ثُمَّ خَرَجَت من بيتها فهی تلعنُ حَتی تَرجَعَ إلی بيتها متی ما رجَعَت.
যখন কোন মহিলা সুগন্ধি মেখে ঘর থেকে বের হয়, পুনরায় ঘরে ফিরে না আসা পর্যন্ত (আল্লাহ, ফেরেশতা এবং আওলিয়াগণ) তার উপর অভিসম্পাত করতে থাকে।

২৬। পর-পুরুষের সাথে একাকি অবস্থান না করা
قَالَ الصّادق : فيما أخذ رسول الله من البيعة علی النّساء أن لا يحتبين و لا يقعُدنَ معَ الرّجال فی الخلاء.
রাসূল(সা.) তার উম্মতের মহিলাদের কাছ থেকে যে অঙ্গিকার নিয়েছেন তার একটি হচ্ছে তারা যেন তাদের পর্দাকে গায়ের সাথে চেপে না ধরে এবং পর-পুরুষের সাথে একাকি অবস্থান না করে।

২৭।
قَالَ الصّادق : لا ينبغی للمرأة أن تجمَرَ ثَوبها إذا خَرَجَت من بيتها.
এক জন মুসলমান মহিলার উচিত নয় যে, সে (সেজে-গুজে) রংবেরঙ্গের পোশাক পরে ঘর থেকে বের হবে।

২৮। পর-পুরুষের সাথে হাত মিলানো হারাম
سماعة بن مهران: سألتُ أبا عبد الله عن مصافحة الرجل المرأة، قال: لا يَحِلُّ للرجُلِ أن يُصافحَ المرأةَ إلا إمرأةً يحرم عليه أن يتزوجها: أخت أو بنت أو عَم
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:১১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×