somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পবিত্র রমযান মাসের আমলসমূহ

২৫ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ফাতিমা খাতুন

রোযার মাসের আমলের ফজিলত সম্পর্কিত কয়েকটি হাদীস

রমযান মাসের রোযা
قال رسول الله :
ايها الناس انه قد اقبل اليكم شهر الله بالبركة و الرحمة و المغفرة، شهر هو عند الله افضل الشهور، و ايامه افضل الايام و ليالى افضل الليالى و ساعاته افضل الساعات.
রাসূল(সা.) বলেছেন: হে লোক সকল! আল্লাহর বরকত, রহমত এবং ক্ষমার মাস তোমাদের দিকে ফিরে চেয়েছে। এটা আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম মাস এবং তার দিনগুলো সর্বোত্তম, রাতগুলোও সর্বোত্তম এবং ঘন্টা ও মূহুর্তগুলোও সর্বোত্তম।

দোয়া এবং ইসতিগফার (আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা)
قال على بن ابيطالب :
عليكم فى شهر رمضان بكثرة استغفار و الدعاء فاما الدعا فيدفع عنكم به البلاء و اما الاستغفار فتمحى به ذنوبكم.
হযরত আলী (আ.) বলেছেন: রোযার মাসে অধিক দোয়া এবং মাগফিরাত কমনা করা তোমাদের কর্তব্য। কারণ তোমাদের দোয়াসমূহ তোমাদের বালা-মুছিবতকে দূর করবে এবং তোমাদের ইসতিগফার তোমাদের গোনাহসমূহকে মোচন তথা খণ্ডন করবে।
ই’তিকাফ
قال رسول الله :
اعتكاف عشر فى شهر رمضان تعدل حجتين و عمرتين.
রাসূল(সা.) বলেছেন: রোযার মাসের শেষ ১০ দিনের ই’তিকাফ দুইটি হজ্জ ও দুইটি ওমরার সওয়াবের সমপরিমাণ।
কোরআন তিলাওয়াত
পবিত্র রমযান মাসের সর্বোত্তম আমল হচ্ছে কুরআন তিলাওয়াত করা। যদিও সর্বদাই কুরআন তিলাওয়াত করার সওয়াব আছে তবে যেহেতু রমযান মাসে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে সেহেতু এমাসে কুরআন তিলাওয়াতের বিশেষ সওয়াব ও গুরুত্ব রয়েছে। এসম্পর্কে ইমাম বাকের (আ.) বলেছেন:
قال ابو جعفر :
لكل شى‏ء ربيع و ربيع القرآن شهر رمضان
সকল কিছূরই বসন্ত রয়েছে আর কোরআনের বসন্ত হচ্ছে পবিত্র রমযান মাস।
قال رسول الله :
من تلافيه آية من القرآن كان له مثل اجر من ختم القرآن فى غيره من الشهور.
রাসূল(সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি রোযার মাসে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত তিলাওয়াত করবে; সে অন্যান্ন মাসে এক খতম কোরআন তিলাওয়াত করার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।
ইফতারি এবং সদকা দেয়া
قال الباقر :

ইমাম বাকের (আ.) বলেছেন: হে সাদীর! তুমি কি জান এই রাতগুলি কি রাত? সাদীর বলল: হ্যাঁ, আমি আপনার জন্য উৎসর্গিত, এটা রমযান মাসের রাত, কিন্তু এরাতের কি বিশেষত্ব রয়েছে? ইমাম (আ.) বললেন: তোমার কি এই পবিত্র রাতসমূহে প্রতি রাতে হযরত ইসমাইল (আ.)-এর ১০ জন সন্তানকে বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করবে? সাদীর বলল: হে ইমাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আমার পক্ষে অসম্ভব, কারণ আমার যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ নেই। ইমাম সংখ্যা কমিয়ে বললেন: গোটা মাসে সন্তানকে বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করতে পারবে? সাদীর আবারও বলল: হে ইমাম তাও আমার সমর্থের বাইরে। অতঃপর ইমাম বললেন: তোমার কি রোজার মাসের প্রতি রাতে এক জন মুসলমানকে ইফতারী দেয়ার সমর্থ আছে? সাদীর বলল: জ্বী, এমনকি ১০ জনকেও ইফতারী দিতে পারব। তখন ইমাম বললেন: হে সাদীর! তুমি যদি ১০ জন রোজাদারকে ইফতারী করাও তাহলে হযরত ইসমাইল(আ.)-এর ১০ জন সন্তানকে বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।
عن ابى عبد الله :
من تصدق فى شهر رمضان بصدقة صرف الله عنه سبعين نوعا من البلاء.
ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন: যে ব্যক্তি রোযার মাসে সদকা দিবে মহান আল্লাহ তাকে ৭০ প্রকার বালা-মুছিবত থেকে রক্ষা করবেন বা মুক্ত রাখবেন।

প্রতি ওয়াজিব নামাজের পর পড়ার দোয়া
সৈয়দ ইবনে তাউস, ইমাম জাফর সাদিক (আ.) এবং ইমাম মুসা কাযিম (আ.) থেকে বর্ণনা করেছেন:,রোজার মাসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি ওয়াজিব নামাজের পর এই দোয়া পড়া মুস্তাহাব।
اَللّهُمَّ ارْزُقْنى‏ حَجَّ بَيْتِكَ الْحَرامِ، فى‏ عامى‏ هذا وَفى‏ كُلِّ عامٍ ما اَبْقَيْتَنى‏ فى‏ يُسْرٍ مِنْكَ وَعافِيَةٍ، وَسَعَةِ رِزْقٍ، وَلا تُخْلِنى‏ مِنْ تِلْكَ الْمواقِفِ الْكَريمَةِ، وَالْمَشاهِدِ الشَّريفَةِ، وَ زِيارَةِ قَبْرِ نَبِيِّكَ صَلَواتُكَ عَلَيْهِ وَ الِهِ، وَفى‏ جَميعِ‏ حَوائِجِ الدُّنْياوَالأخِرَةِ فَكُنْ لى‏، اَللّهُمَّ اِنّى‏ اَسْئَلُكَ فيما تَقْضى‏ وَتُقَدِّرُ مِنَ‏ الأَمْرِالْمَحْتُومِ فى‏ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، مِنَ الْقَضآءِ الَّذى‏ لا يُرَدُّ وَلا يُبَدَّلُ، اَنْ‏ تَكْتُبَنى‏ مِنْ حُجَّاجِ بَيْتِكَ الْحَرامِ، الْمَبْرُورِ حَجُّهُمُ، الْمَشْكُورِ سَعْيُهُمُ، الْمَغْفُورِ ذُنُوبُهُمُ، الْمُكَفَّرِ عَنْهُمْ سَيِّئاتُهُمْ، وَاجْعَلْ فيما تَقْضى‏ وَتُقَدِّرُ، اَنْ تُطيلَ عُمْرى‏، وَتُوَسِّعَ عَلَىَّ رِزْقى‏، وَتُؤدِّى‏ عَنّى‏ اَمانَتى‏ وَدَيْنى‏، آمينَ رَبَّ الْعالَمينَ.
প্রতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর পড়ার দোয়া
يا عَلِىُّ يا عَظيمُ، يا غَفُورُ يا رَحيمُ، اَنْتَ الرَّبُّ الْعَظيمُ، الَّذى‏ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَى‏ءٌ وَهُوَ السَّميعُ الْبَصيرُ، وَهذا شَهْرٌ عَظَّمْتَهُ وَكَرَّمْتَهُ، وَشَرَّفْتَهُ وَفَضَّلْتَهُ‏ عَلَى الشُّهُورِ، وَهُوَ الشَّهْرُ الَّذى‏ فَرَضْتَ صِيامَهُ عَلَىَّ، وَهُوَ شَهْرُ رَمَضانَ الَّذى‏ اَنْزَلْتَ فيهِ الْقُرْآنَ، هُدىً لِلنَّاسِ وَبَيِّناتٍ مِنَ الْهُدى‏ وَالْفُرْقانِ وَجَعَلْتَ فيهِ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، وَجَعَلْتَها خَيْراً مِنْ اَلْفِ شَهْرٍ، فَيا ذَالْمَنِّ وَلا يُمَنُّ عَلَيْكَ، مُنَّ عَلَىَّ بِفَكاكِ رَقَبَتى‏ مِنَ النَّارِ، فيمَنْ تَمُنُ‏ عَلَيْهِ، وَاَدْخِلْنِى الْجَنَّةَ، بِرَحْمَتِكَ يا اَرْحَمَ الرَّاحِمينَ.
*** প্রতি ওয়াজিব নামাজের পর পড়ার দোয়া শেখ কাফয়ামি তার বালাদুল আমীন গ্রন্থে রাসূল(সা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল(সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি এই দোয়াটি রোজার মাসে প্রতি ওয়াজিব নামাজের পর পাঠ করবে মহান আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত তার সকল গোনাহ মাফ করে দিবেন।
اَللّهُمَّ اَدْخِلْ عَلى‏ اَهْلِ الْقُبُورِ السُّرُورَ، اَللَّهُمَّ اَغْنِ كُلَّ فَقيرٍ، اَللّهُمَّ اَشْبِعْ كُلَّ جايِعٍ اَللّهُمَّ اكْسُ كُلَّ عُرْيانٍ، اَللّهُمَّ اقْضِ دَيْنَ كُلِّ مَدينٍ، اَللّهُمَّ فَرِّجْ عَنْ كُلِّ مَكْرُوبٍ، اَللّهُمَّ رُدَّ كُلَّ غَريبٍ، اَللّهُمَّ فُكَّ كُلَّ اَسيرٍ، اَللّهُمَّ اَصْلِحْ كُلَّ فاسِدٍ مِنْ اُمُورِ الْمُسْلِمينَ، اَللّهُمَّ اشْفِ كُلَّ مَريضٍ، اَللّهُمَّ سُدَّ فَقْرَنا بِغِناكَ، اَللّهُمَ‏ غَيِّرْ سُوءَ حالِنا بِحُسْنِ حالِكَ، اَللّهُمَّ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ، وَاَغْنِنا مِنَ‏ الْفَقْرِ، اِنَّكَ عَلى‏ كُلِّشَى‏ءٍ قَديرٌ.
ইফতারের নিয়ম এবং রোজার মাসের রাত্রের আরো কনণীয় কার্যাবলী
প্রথমে নামাজ পড়ে তারপর ইফতার করা মুস্তাহাব। তবে যদি অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে যায় অথবা অন্যরা তার জন্য অপেক্ষায় থাকে তাহলে নামাজের পূর্বে ইফতার করাতে কোন সমস্যা নেই। পবিত্র ও হালাল জিনিস দিয়ে ইফতার করতে হবে এবং উত্তম হচ্ছে খোরমা দিয়ে ইফতার করা। কেননা তাতে তার নামাজের সওয়াব ৪০০ গুন বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়াও শরবত, হালোয়া, পানি, দুধ ইত্যাদি দিয়ে ইফতার করাও ভাল। ইফতারের পূর্বে এই দোয়াটি পড়তে হবে:
اَللّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَعَلى‏ رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ‏.
হযরত আলী (আ.) যখন ইফতার করতেন তখন এই দোয়াটি পড়তেন:
بِسْمِ اللَّهِ اَللّهُمَّ لَكَ صُمْنا، وَعَلى‏ رِزْقِكَ‏ اَفْطَرْنا، فَتَقَبَّلْ مِنَّا اِنَّكَ اَنْتَ السَّميعُ الْعَليمُ.
প্রথম লোকমা মুখে দেয়ার সময় বলতে হবে:
بِسْمِ اللَّهِ‏ الرَّحْمنِ الرّحَيمِ يا واسِعَ الْمَغْفِرَةِ اِغْفِرْ لى.
সূরা ইন্না আনযালনাহু ও পড়ার কথা বলা হয়েছে। ‏
রমযান মাসের প্রতি রাত্রে এই দোয়াটি পড়লে ৪০ বছরের গোনাহ মাফ হয়ে যায়:
اَللّهُمَّ رَبَّ شَهْرِ رَمَضانَ، الَّذى‏ اَنْزَلْتَ فيهِ الْقُرْآنَ وَافْتَرَضْتَ على‏ عِبادِكَ فيهِ الصِّيامَ، صَلِّ عَلى‏ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ، وَارْزُقْنى‏ حَجَّ بَيْتِكَ‏ الْحَرامِ، فى‏ عامى‏ هذا وَفى‏ كُلِّ عامٍ، وَاغْفِرْ لى‏ تِلْكَ الذُّنُوبَ الْعِظامَ، فَاِنَّهُ لا يَغْفِرُها غَيْرُكَ، يا رَحْمنُ يا عَلاَّمُ.
اَعُوذُ بِجَلالِ وَجْهِكَ الْكَريمِ، اَنْ يَنْقَضِىَ عَنّى‏ شَهْرُ رَمَضانَ، اَوْ يَطْلُعَ‏ الْفَجْرُ مِنْ لَيْلَتى‏ هذِهِ وَلَكَ قِبَلى‏ تَبِعَةٌ، اَوْ ذَنْبٌ تُعَذِّبُنى‏ عَلَيْهِ.
মুস্তাহাব হচ্ছে রমযান মাসের প্রতি রাত্রে দুই রাকাত নামায পড়া, প্রতি রাকাতে সূরা হামদের পর ৩ বার সূরা কুল হুয়াল্লাহু আহাদ পড়তে হবে। নামায শেষে বলতে হবে:
سُبْحانَ مَنْ هُوَ حَفيظٌ لا يَغْفُلُ، سُبحانَ مَنْ هُوَ رَحيمٌ لا يَعْجَلُ، سُبْحانَ مَنْ هُوَ قآئِمٌ لا يَسْهُو، سُبْحانَ مَنْ هُوَ دائِمٌ لا يَلْهُو.
অতঃপর ৭ বার তাসবিহাতে আরবাহ (অর্থাৎ সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার) পড়তে হবে এবং তার পর বলতে হবে:
سُبْحانَكَ سُبْحانَكَ سُبْحانَكَ، يا عَظيمُ‏ اغْفِرْ لِىَ الذَّنْبَ الْعَظيمَ.
যে ব্যক্তি এই নামায পড়বে আল্লাহ তার ৭০ হাজার গোনাহ মাফ করে দিবেন।
গোটা রমযান মাসের ১০০০ রাকাত নামায রয়েছে। ‏প্রথম এবং দ্বিতীয় দশকে প্রতি রাত্রে ২০ রাকাত নামায পড়তে হবে। ৮ রাকাত মাগরিবের নামাজের পর এবং ১২ রাকাত ঈশার নামাযের পর। তৃতীয় দশকে প্রতি রাত্রে ৩০ রাকাত নামায পড়তে হবে। মাগরিবের পর ৮ রাকাত এবং ঈশার নামাযের পর ২২ রাকাত মোট হবে ৭০০ রাকাত। বাদ বাকি ৩০০ রাকাত শবে কদরের রাতসমূহে পড়তে হবে। অর্থাৎ ১৯ রমযানের রাত্রে ১০০ রাকাত, ২১ রমযানের রাত্রে ১০০ রাকাত এবং ২৩ রমযানের রাত্রে ১০০ রাকাত। প্রতি দুই রাকাত নফল নামাযের পর এই দোয়া পড়তে হবে:
اَللّهُمَّ اجْعَلْ فيما تَقْضى‏ وَتُقَدِّرُ مِنَ الْأَمْرِ الْمَحْتُومِ، وَفيما تَفْرُقُ‏ مِنَ الْأَمْرِ الْحَكيمِ، فى‏ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، اَنْ تَجْعَلَنى‏ مِنْ حُجَّاجِ بَيْتِكَ‏ الْحَرامِ، الْمَبْرُورِ حَجُّهُمُ، الْمَشْكُورِ سَعْيُهُمُ، الْمَغْفُورِ ذُنوُبُهُمْ، وَاَسْئَلُكَ‏ اَنْ‏تُطيلَ عُمْرى‏ فى‏طاعَتِكَ، وَتُوَسِّعَ لى‏فى‏رِزْقى‏ يااَرْحَمَ‏الرَّاحِمينَ.

শবে কদর তথা মহিমান্বিত রজনীর আমলসমূহ
সূরা ক্বাদর
بسم الله الرحمن الرحيم
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (১) وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ (২) لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ (৩) تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ (৪) سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ (৫)
পরম করুনাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে
(১) নিশ্চয়ই আমরা কুরআন অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে (২) আর মহিমান্বিত রজনী সম্পর্কে তৃুমি কী জান? (৩) মহিমান্বিত রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ (৪) সেই রজনীতে ফিরিশতাগণ ও রূহ (জীব্রাইল) অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে (৫) শান্তিই শান্তি, সেই রজনী ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।
১৯ রমযান প্রথম শবে কদরের রাত। শবে কদর এমন একটি রজীন যে, বছরের কোন রাতই এ রাত্রের ন্যায় উত্তম ও ফযিলতপূর্ণ নয়। এই রাত্রের আমল সহস্র মাসের চেয়ে উত্তম। এই রাত্রে মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয় এবং রাত্র থেকে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশ্তারা এবং জীব্রাইল আল্লাহর রহমত নিয়ে অবতীর্ণ হতে থাকে। তারা যার জন্য যা নির্ধারণ করা হয়েছে তা নিয়ে ইমাম মাহদী(আ.)-এর কাছে উপস্থাপন করে। শবে কদরের আমল দু’ধরনের: একটি হচ্ছে তিন রাত্রেই করতে হবে এবং অপরটি হচ্ছে প্রতি রাত্রের বিশেষ আমল। যে আমলসমূহ তিন রাতেই করতে হবে তা হচ্ছে: (১) গোসল করা (২) দুই রাকাত নামাজ, প্রতি রাকাতে সূরা হামদের পর ৭ বার সূরা তৌহীদ (কুল হুয়াল্লাহু আহাদ) পড়তে হবে এবং নামাজ শেষে ৭০ বার “আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি” পড়তে হবে। রাসূল(সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যে ব্যক্তি এ আমল আন্জাম দিবে সে তার জায়গা থেকে উঠার পূর্বেই আল্লাহ তার ও তার পিতা-মাতার সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। (৩) কোরআন খুলে সামনে রেখে বলতে হবে:
اَللّهُمَّ اِنّى‏ اَسْئَلُكَ بِكِتابِكَ الْمُنْزَلِ وَما فيهِ، وَفيهِ اسْمُكَ الْأَكْبَرُ، وَاَسْمآؤُكَ الْحُسْنى‏، وَما يُخافُ وَيُرْجى‏ اَنْ تَجْعَلَنى‏ مِنْ عُتَقآئِكَ مِنَ النَّارِ.
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বি কিতাবিকাল মুনযাল ওয়ামা ফীহি। ওয়া ফীহি ইসমুকাল আকবার। ওয়া আসমাউকাল হুসনা। ওয়ামা ইউখাফু ওয়া ইউরজা। আন তাজয়ালানী মিন উতাকাইকা মিনান নার।
অতঃপর মনের আশা ব্যক্ত করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে।
(৪) তারপর পবিত্র কোরআন মাথায় রেখে বলতে হবে:
اَللّهُمَّ بِحَقِ‏ هذَا الْقُرْآنِ، وَبِحَقِّ مَنْ اَرْسَلْتَهُ بِهِ، وَبِحَقِّ كُلِّ مُؤْمِنٍ مَدَحْتَهُ فيهِ، وَبِحَقِّكَ‏ عَلَيْهِمْ فَلا اَحَدَ اَعْرَفُ بِحَقِّكَ مِنْكَ.
আল্লাহুম্মা বিহাক্কি হাযাল কুরআন, ওয়া বিহাক্কি মান আরসালতাহু বিহি, ওয়া বিহাক্কি কুল্লি মু’মিনিন মাদাহতাহু, ওয়া বিহাক্কিকা আলাইহীম ফালা আহাদা আ’রাফু বিহাক্কিকা মিনকা।
অতঃপর নিম্নের প্রতিটি নাম ১০ বার করে বলতে হবে:
بِكَ يا اَللَّهُ ، بِمُحَمَّدٍ ، بِعَلىٍّ ، بِفاطِمَةَ ، بِالْحَسَنِ ، بِالْحُسَيْنِ ‏ ، بِعَلِىّ بْنِ الْحُسَيْنِ ، بُمَحَمَّدِ بْنِ عَلِىٍّ ، بِجَعْفَرِ بْنِ‏ مُحَمَّدٍ ، بِمُوسَى بْنِ جَعْفَرٍ ، بِعَلِىِّ بْنِ مُوسى‏ ، ‏ بِمُحَمَّدِبْنِ عَلِىٍّ ، بِعَلِىِّ بْنِ مُحَمَّدٍ ، بِالْحَسَنِ بْنِ عَلِىٍ ،‏ بِالْحُجَّةِ.
১। বিকা ইয়া আল্লাহু, ২। বি মুহাম্মাদিন, ৩। বি আলীইন, ৪। বি ফাতিমাতা, ৫। বিল হাসানি, ৬। বিল হুসাইনি, ৭। বি আলী ইবনিল হুসাইন, ৮। বি মুহাম্মাদ ইবনে আলীইন, ৯। বি জা’ফার ইবনে মুহাম্মাদিন, ১০। বি মুসা ইবনে জা’ফারিন, ১১। বি আলী ইবনে মুসা, ১২। বি মুহাম্মাদ ইবনে আলীইন, ১৩। বি আলী ইবনে মুহাম্মাদিন, ১৪। বিল হাসান ইবনে আলীইন, ১৫। বিল হুজ্জাতি।
তার পর মনের আশা ব্যক্ত করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে।
(৫) তার পর ইমাম হুসাইন (আ.)-এর যিয়ারত পাঠ করতে হবে।
হাদীসে বর্নিত হয়েছে: শবে কদরের রাত্রে ফেরশতারা সপ্তম আসমান থেকে আওয়াজ দিয়ে বলেন: যে ইমাম হুসাইনের যিয়ারত করেছে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
(৬) রাত জাগতে হবে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: যে ব্যক্তি এই রাত্রে জাগ্রত থেকে আমল করবে আল্লাহ তার সকল গোনাহ মাফ করে দিবেন। যদি তা আকাশের তারকা রাজির সমান, পাহাড়ের মত ভারী এবং দরিয়ার পানির সমানও হয়ে থাকে।
(৭) ১০০ রাকাত নামাজ পড়া যার অনেক ফযিলত রয়েছে। উত্তম হচ্ছে প্রতি রাকাতে সূরা হামদের পর ১০ বার সূরা “কুল হুয়াল্লাহু আহাদ” পড়া। তবে এর পরিবর্তে ৬ দিনের ক্বাযা নামাযও পড়া যায়।
(৮) এই দোয়াটি পড়তে হবে: (দোয়াটি কাফয়ামি, ইমাম যাইনুল আবেদীন(আ.) হতে বর্ণনা করেছেন।)
اَللَّهُمَّ اِنّى‏ اَمْسَيْتُ لَكَ عَبْداً داخِراً، لا اَمْلِكُ لِنَفْسى‏ نَفْعاً وَلا ضَرّاً، وَلا اَصْرِفُ عَنْها سُوءاً، اَشْهَدُ بِذلِكَ عَلى‏ نَفْسى‏، وَاَعْتَرِفُ لَكَ بِضَعْفِ‏ قُوَّتى‏، وَقِلَّةِ حيلَتى‏، فَصَلِّ عَلى‏مُحَمَّدٍ وَ الِ مُحَمَّدٍ، وَاَنْجِزْ لى‏ ما وَعَدْتَنى‏، وَجَميعَ الْمُؤْمِنينَ وَالْمُؤْمِناتِ مِنَ الْمَغْفِرَةِ فى‏ هذِهِ اللَّيْلَةِ، وَاَتْمِمْ عَلَىَّ ما اتَيْتَنى‏ فَاِنّى‏ عَبْدُكَ الْمِسْكينُ الْمُسْتَكينُ، الضَّعيفُ‏ الْفَقيرُ الْمَهينُ، اَللّهُمَّ لا تَجْعَلْنى‏ ناسِياً لِذِكْرِكَ فيما اَوْلَيْتَنى‏، وَلا[ غافِلاً] لِإِحْسانِكَ فيما اَعْطَيْتَنى‏، وَلا ايِساً مِنْ اِجابَتِكَ، وَاِنْ اَبْطَاَتْ عَنّى‏، فى‏ سَرَّآءَ اَوْ ضَرَّآءَ، اَوْ شِدَّةٍ اَوْ رَخآءٍ، اَوْ عافِيَةٍ اَوْ بَلاءٍ، اَوْ بُؤْسٍ اَوْ نَعْمآءَ، اِنَّكَ سَميعُ الدُّعآءِ.
আল্লামা মাজলিসী বলেন: এ রাত্রের উত্তম আমল হচ্ছে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করা। পিতা-মাত, ভাই-বোন, আত্মিয়-স্বজন এবং মৃতদের জন্য দোয়া করা। যত সম্ভব যিকির ও সালাওয়াত পাঠ করা। দোয়া জৌশানে কাবীরও পড়তে হবে। রাসূল(সা.)-এর কাছে এক জন প্রশ্ন করল: শবে কদরের রাত্রে আল্লাহর কাছে কি প্রার্থনা করব? রাসূল(সা.) বললেন: সুস্থতা ও সকল প্রকার অকল্যাণ হতে মুক্তি।
১৯ এর রাত্রের বিশেষ আমল:
(১) ১০০ বার اَسْتَغْفِرُاللَّهَ رَبّى‏ وَ اَتُوبُ اِلَيْهِ (২) ১০০ বার اَللَّهُمَّ الْعَنْ قَتَلَةَ اَميرِ الْمُؤْمِنينَ
(৩) এই দোয়া পড়তে হবে:
اَللّهُمَّ اْجْعَلْ فيما تَقْضى‏ وَتُقَدِّرُ مِنَ الْأَمْرِ الْمَحْتُومِ، وَفيما تَفْرُقُ مِنَ الْأَمْرِ الحَكيمِ فى‏ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَفِى الْقَضآءِ الَّذى‏ لا يُرَدُّ وَلا يُبَدَّلُ، اَنْ تَكْتُبَنى‏ مِنْ حُجَّاجِ بَيْتِكَ الْحَرامِ، الْمَبْرُورِ حَجُّهُمُ، الْمَشْكُورِ سَعْيُهُمُ، الْمَغْفُورِ ذُنُوبُهُمُ، الْمُكَفَّرِ عَنْهُمْ سَيِّئاتُهُمْ، وَاجْعَلْ‏ فيما تَقْضى‏ وَتُقَدِّرُ، اَنْ تُطيلَ عُمْرى‏، وَتُوَسِّعَ عَلَىَّ فى‏ رِزْقى‏، وَتَفْعَلَ بى‏ كَذا وَكَذا.
৪। দোয়া জৌশানে কাবীরসহ আরো বিভিন্ন দোয়া যেমন: দোয়া কোমাইল, যিয়ারতে আশুরা ইত্যাদি পাঠ করা।
৫। সূরা রূম, আনকাবুত, দুখান, হাশর ...পাঠ করা।

২১ -এর রাত্রের বিশেষ আমল:
১৯-এর রাত্রের চেয়ে ২১-এর রাত্রের মর্যাদা আরো বেশী। কেননা ২১ অথবা ২৩-এর মধ্যে একটি রাত্র হচ্ছে শবে কদর। মাসূমদের কাছে প্রশ্ন করা হল যে, এই দুই রাত্রের মধ্যে কোনটি শবে কদরের রাত্র? তাঁরা কোন জবাব না দিয়ে বলেন: দুইটি রাতই অতি মর্যাদা সম্পন্ন।
(১) ১০০ বার اَسْتَغْفِرُاللَّهَ رَبّى‏ وَ اَتُوبُ اِلَيْهِ (২) ১০০ বার اَللَّهُمَّ الْعَنْ قَتَلَةَ اَميرِ الْمُؤْمِنينَ
(৩) এই দোয়া পড়তে হবে: উপরোক্ত ১৯ -এর রাতের দোয়া।
(৪) দোয়া জৌশানে কাবীরসহ আরো বিভিন্ন দোয়া যেমন: দোয়া কোমাইল, যিয়ারতে আশুরা ইত্যাদি পাঠ করা।
(৫) সূরা রূম, আনকাবুত, দুখান, হাশর ...পাঠ করা।
(৬) যতটা সম্ভব সূরা ক্বাদর (ইন্না আনযালনাহু ফী লাইলাতিল ক্বাদর)পড়তে হবে।

২৩-এর রাত্রের বিশেষ আমল:
(১) ১০০ বার اَسْتَغْفِرُاللَّهَ رَبّى‏ وَ اَتُوبُ اِلَيْهِ
(২) এই দোয়া পড়তে হবে: উপরোক্ত ১৯ -এর রাতের দোয়া।
(৩) দোয়া জৌশানে কাবীরসহ আরো বিভিন্ন দোয়া যেমন: দোয়া কোমাইল, যিয়ারতে আশুরা ইত্যাদি পাঠ করা।
(৪) সূরা রূম, আনকাবুত, দুখান, হাশর ...পাঠ করা।
২৩-এর রাত্রের দোয়া:
يا رَبَّ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَجاعِلَها خَيْراً مِنْ اَلْفِ شَهْرٍ، وَرَبَّ اللَّيْلِ وَالنَّهارِ، وَالْجِبالِ وَالْبِحارِ، وَالظُّلَمِ والْأَنْوارِ وَالْأَرْضِ وَالسَّمآءِ، يا بارِئُ يا مُصَوِّرُ، يا حَنَّانُ يا مَنَّانُ، يا اَللَّهُ يا رَحْمنُ، يا اَللَّهُ يا قَيُّومُ، يا اَللَّهُ يا بَديعُ، يا اَللَّهُ‏ يا اَللَّهُ يا اَللَّهُ، لَكَ‏الْأَسْمآءُ الْحُسْنى‏، وَالْأَمْثالُ الْعُلْيا، وَالْكِبْرِيآءُ وَالْألاءُ، اَسْئَلُكَ‏ اَنْ تُصَلِّىَ عَلى‏ مُحَمَّدٍ وَ الِ مُحَمَّدٍ، وَاَنْ تَجْعَلَ اسْمى‏ فى‏ هذِهِ اللَّيْلَةِ فِى السُّعَدآءِ، وَرُوحى‏ مَعَ الشُّهَدآءِ، وَاِحْسانى‏ فى‏ عِلِّيّينَ وَاِسائَتى‏ مَغْفُورَةً، وَاَنْ تَهَبَ لى‏ يَقيناً تُباشِرُ بِهِ قَلْبى‏، وَايماناً يُذهِبُ الشَّكَ‏ عَنّى‏، وَتُرْضِيَنى‏ بِما قَسَمْتَ لى‏، وَ اتِنا فِى الدُّنْيا حَسَنَةً، وَفِى الْأخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنا عَذابَ النَّارِ الْحَريقِ، وَارْزُقْنى‏ فيها ذِكْرَكَ وَشُكْرَكَ، وَالرَّغْبَةَ اِلَيْكَ‏وَالْإِنابَةَ والتَّوبَةَ،والتَّوْفيقَ لِما وَفَّقْتَ لَهُ مُحَمَّداً وَ الَ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِمُ السَّلامُ.
রমজান মাসের প্রতি দিনের দোয়া
১ ম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اجْعَلْ صِيامى‏ فيهِ صِيامَ الصَّآئِمينَ، وَقِيامى‏ فيهِ‏ قيامَ الْقآئِمينَ، وَنَبِّهْنى‏ فيهِ عَنْ نَوْمَةِ الْغافِلينَ، وَهَبْ لى جُرْمى‏ فيهِ‏ يا اِلهَ الْعالَمينَ، وَاعْفُ عَنّى‏ يا عافِياً عَنِ الْمُجْرِمينَ.
হে আল্লাহ! আমার আজকের রোযাকে প্রকৃত রোযাদারেেদর রোযার অনুরূপ করুন এবং আমার নামাযকে প্রকৃত নামাযিদের অনুরূপ করুন আর আমাকে গাফিলতির ঘুম থেকে জাগ্রত করুন। এই দিনে আমার অন্যায় ও গোনাহসমূহকে ক্ষমা করুন, হে বিশ্বের প্রভু! ক্ষমা করে দিন আমার যাবতীয় অপরাধ। হে অপরাধিদের অপরাধ ক্ষমাকারী!
২ য় রোজার দোয়া :
اَللّهُمَ‏ قَرِّبْنى‏ فيهِ اِلى‏ مَرْضاتِكَ، وَجَنِّبْنى‏ فيهِ مِنْ سَخَطِكَ وَنَقِماتِكَ، وَوَفِّقْنى‏ فيهِ لِقِرآئِةِ اياتِكَ، بِرَحْمَتِكَ يا اَرْحَمَ الرَّاحِمينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আমাকে আপনার খুশি ও সন্তুষ্টির নিকটবর্তী করুন এবং আপনার ক্রোধ ও গজব থেকে দূরে রাখুন আর আপনার মহিমার মাধ্যমে আপনার পবিত্র কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করার তৌফিক দান করুন। হে দয়াবানদের শ্রেষ্ঠ দায়ালু!
৩ য় রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ ارْزُقْنى‏ فيهِ الذِّهْنَ وَالتَّنْبيهَ، وَباعِدْنى‏ فيهِ مِنَ السَّفاهَةِ وَالْتَّمْويهِ، وَاجْعَلْ لى نَصيباً مِنْ كُلِّ خَيْرٍ تُنْزِلُ فيهِ، بِجُودِكَ يا اَجْوَدَ الْأَجْوَدينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে বুদ্ধি ও সচেতনতা (চৈতন্য)দান করুন এবং নির্বুদ্ধিতা, অজ্ঞতা ও অনর্থক কাজ থেকে দূরে রাখূন। এই দিনে যত কল্যাণ অবতীর্ণ করেছেন তার সবই আপনার বদান্যতার মাধ্যমে আমাকে দান করুন। হে সর্বোত্তম দানশীল!
৪ র্থ রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ قَوِّنى‏ فيهِ عَلى‏ اِقامَةِ اَمْرِكَ، وَاَذِقْنى‏ فيهِ‏ حَلاوَةَ ذِكْرِكَ، وَاَوْزِعْنى‏ فيهِ لِأَدآءِ شُكْرِكَ بِكَرَمِكَ، وَاحْفَظْنى‏ فيهِ‏ بِحِفْظِكَ وَسَِتْرِكَ، يا اَبْصَرَ النَّاظِرينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে আপনার নির্দেশ পালন করার শক্তি দান করুন এবং আপনার স্মরণের (যিকর)মাধুর্য ও সুধা আমাকে আস্বাদন করান। আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে আপনার শুকুর আদায় করার তৌফিক দান করুন। এই দিনে আপনি আমাকে আপনার আশ্রয় ও হেফাজতের ছায়াতলে রক্ষা করুন, হে দৃষ্টিমানদের শ্রেষ্ঠ দৃষ্টিমান।
৫ ম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اجْعَلْنى‏ فيهِ مِنَ‏ الْمُسْتَغْفِرينَ، وَاجْعَلْنى‏ فيهِ مِنْ عِبادِكَ الصَّالِحينَ اْلقانِتينَ، وَاجْعَلنى‏ فيهِ مِنْ اَوْلِيآئِكَ الْمُقَرَّبينَ، بِرَأْفَتِكَ يا اَرْحَمَ الرَّاحِمينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভূক্ত করুন এবং আপনার অনুগত সালেহ ও সৎ বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করুন। আপনার দয়ার মাধ্যমে এই দিনে আপনি আমাকে আপনার নৈকট্য প্রাপ্ত বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করুন। হে দয়াবানদের মধ্যে সর্ব শ্রেষ্ঠ দয়াবান!
৬ ষ্ঠ রোজার দোয়া :
اَللّهُمَ‏ لا تَخْذُلْنى‏ فيهِ لِتَعَرُّضِ مَعْصِيَتِكَ، وَلاتَضْرِبْنى‏ بِسِياطِ نَقِمَتِكَ، وَزَحْزِحْنى‏ فيهِ مِنْ مُوجِباتِ سَخَطِكَ، بِمَنِّكَ وَاَياديكَ، يا مُنْتَهى‏ رَغْبَةِ الرَّاغِبينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে গোনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণে লাঞ্ছিত করবেন না এবং আপনার ক্রোধের ডোররা মেরে আমাকে শাস্তি দিবেন না। সৃস্টির প্রতি আপনার দয়া ও নেয়ামতের উছিলায়, আমাকে আপনার ক্রোধ ও গজবের কারণ হতে দূরে রাখুন। হে আবেদনকারীদের আবেদন কবুলের চুড়ান্ত শিখর!
৭ ম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اَعِنّى‏ فيهِ عَلى‏ صِيامِهِ وَقِيامِهِ، وَجَنِّبْنى‏ فيهِ مِنْ هَفَواتِهِ وَ اثامِهِ، وَارْزُقْنى‏ فيهِ ذِكْرَكَ بِدَوامِهِ، بِتَوْفيقِكَ يا هادِىَ الْمُضِلّينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে রোযা রাখতে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করুন আর সকল প্রকার গোনাহ ও দূর্বলতা থেকে দূরে রাখুন। আপনার দেয়া তৌফিকের উছিলায়, সর্বদা আপনার স্মরণ (যিকির) করার তৌফিক আমাকে দান করুন। হে পথভ্রষ্টদের পথ প্রদর্শনকারী!
৮ ম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ ارْزُقْنى‏ فيهِ رَحْمَةَ الْأَيْتامِ، وَاِطْعامَ اْلطَّعامِ، وَاِفْشآءَ السَّلامِ، وَصُحْبَةَ الْكِرامِ، بِطَوْلِكَ يا مَلْجَاَ الْأمِلينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে আপনার নেয়ামতসমূহের উছিলায়, ইয়াতিমদের প্রদি দয়া করার, ক্ষুধার্তদেরকে খাদ্য দেয়ার, মুসলমানদের মধ্যে সালাম ও শান্তির প্রশার ঘটানোর এবং পূন্যবাণদের সাথে চলা-ফেরা করার তৌফিক দান করুন। হে আশাবাদীদের আশ্রয়স্থল!
৯ ম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اجْعَلْ لى‏ فيهِ نَصيباً مِنْ رَحْمَتِكَ‏ الْواسِعَةِ، وَاهْدِنى‏ فيهِ لِبَراهينِكَ السَّاطِعَةِ، وَخُذْ بِناصِيَتى‏ اِلى‏ مَرْضاتِكَ الْجامِعَةِ، بِمَحَبَّتِكَ يا اَمَلَ الْمُشْتاقينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে আপনার অপার করুনার থেকে (করুনা) দান করুন এবং আপনার স্পষ্ট দলিলের মাধ্যমে আমাকে হেদায়াত করুন। আপনার ভালবাসার উছিলায়, আমার ললাট ধরে আপনার সকল সন্তুষ্টি ও সম্মতির দিকে (যা হচ্ছে পরিপূর্ণ নিয়ামত)ধাবিত করুন। হে আগ্রহীদের লক্ষ্যস্থল!
১০ ম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَ‏ اجْعَلْنى‏ فيهِ مِنَ الْمُتَوَكِّلينَ عَلَيْكَ، وَاجْعَلْنى‏ فيهِ مِنَ الْفآئِزينَ لَدَيْكَ، وَاجْعَلْنى‏ فيهِ مِنَ الْمُقَرَّبينَ اِلَيْكَ، بِاِحْسانِكَ يا غايَةَ الطَّالِبينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে আপনার প্রতি নির্ভরশীলদের এবং আপনার নিকট সৌভাগ্যের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত করুন। এই দিনে আপনার নৈকট্য প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত করুন। আপনার দয়ার উছিলায়, হে সাহায্য প্রার্থীদের চুড়ান্ত শিখর!
১১ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ حَبِّبْ اِلَىَّ فيهِ الْأِحْسانَ، وَكَرِّهْ اِلَىَّ فيهِ الْفُسُوقَ‏ وَالْعِصْيانَ، وَحَرِّمْ عَلَىَّ فيهِ السَّخَطَ وَالنّيرانَ، بِعَوْنِكَ يا غِياثَ‏ الْمُسْتَغيثينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি দানশীলতা ও সৎকর্মকে আমার পছন্দনীয় এবং গোনাহ ও অন্যায়কে আমার অপছন্দনীয় করুন। আপনার সাহায্যের মাধ্যমে এই দিনে আমার প্রতি জাহান্নামের আগুনকে হারাম করুন। হে সাহায্য প্রার্থীদের সাহায্যকারী!
১২ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ زَيِّنّى‏ فيهِ بِالسَِّتْرِ وَالْعَفافِ، وَاسْتُرْنى‏ فيهِ بِلِباسِ الْقُنُوعِ وَالْكِفافِ، وَاحْمِلْنى‏ فيهِ عَلَى الْعَدْلِ وَالْأِنْصافِ، وَ امِنّى‏ فيهِ مِنْ كُلِّ ما اَخافُ، بِعِصْمَتِكَ يا عِصْمَةَ الْخآئِفينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে আত্মিক পবিত্রতার অলঙ্কারে ভুষিত করুন এবং অল্পে তুষ্টি ও পরিতৃপ্তির পোশাকে আবৃত্ত করুন। ন্যায় ও ইনসাফে আমাকে সুসজ্জিত করুন। আপনার পবিত্রতার উছিলায় আমাকে ভীতিকর সকল কিছু থেকে নিরাপদে রাখুন। হে খোদা ভীরুদের রক্ষাকারী!
১৩ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ طَهِّرْنى‏ فيهِ مِنَ الدَّنَسِ وَالْأَقْذارِ، وَصَبِّرْنى‏ فيهِ عَلى‏ كآئِناتِ‏ الْأَقْدارِ، وَوَفِّقْنى‏ فيهِ لِلتُّقى‏ وَصُحْبَةِ الْأَبْرارِ، بِعَوْنِكَ يا قُرَّةَ عَيْنِ‏ الْمَساكينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আমাকে কলুষতা ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করুন এবং যা কিছু তকদীর অনুযায়ী হয় তা মেনে চলার ধৈর্য আমাকে দান করুন। আপনার বিশেষ অনুগ্রহে আমাকে তাকওয়া অর্জন এবং সৎকর্মশীলদের সাহচর্যে থাকার তেীফিক দান করুন। হে আসহায়দের আশ্রয়দাতা!
১৪ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ لا تُؤاخِذْنى‏ فيهِ بِالْعَثَراتِ وَاَقِلْنى‏ فيهِ‏ مِنَ الْخَطايا وَالْهَفَواتِ، وَلا تَجْعَلْنى‏ فيهِ غَرَضاً لِلْبَلايا وَالْأفاتِ، بِعِزَّتِكَ يا عِزَّ الْمُسْلِمينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আমাকে আমার ভ্রান্তির জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না এবং আমার দোষ-ত্র“টিকে হিসাবের মধ্যে গণ্য করবেন না। আপনার মর্যাদার উছিলায় আমাকে বিপদ-আপদ ও দুর্যোগের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করবেন না। হে মুসলমানদের মর্যাদা দানকারী!
১৫ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ ارْزُقْنى‏ فيهِ طاعَةَ الْخاشِعينَ، وَاشْرَحْ فيهِ صَدْرى‏ بِاِنابَةِ الْمُخْبِتينَ، بِاَمانِكَ يا اَمانَ‏ الْخآئِفينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে আপনার বিনয়ী বান্দাগণের ন্যায় আপনার আনুগত্য করার তেীফিক দান করুন এবং আপনার নিরাপত্তার উছিলায়, বিনয়ীদের মত আমাকেও প্রশস্ত হৃদয় দান করুন। হে ভীরুদের নিরাপত্তাদানকারী!
১৬ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ وَفِّقْنى‏ فيهِ لِمُوافَقَةِ الْأَبْرارِ، وَجَنِّبْنى‏ فيهِ مُرافَقَةَ الْأَشْرارِ، وَآوِنى‏ فيهِ بِرَحْمَتِكَ اِلى‏ دارِ الْقَرارِ، بِاِلهِيَّتِكَ‏ يا اِلهَ الْعالَمينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে ন্যায়পরায়ণদের অনুমতিক্রমে সফল করুন এবং মন্দ লোকদের সাথে বন্ধুত্ব থেকে আমাকে দূরে রাখুন। আপনার প্রভূুত্বের উছিলায়, আপনার দয়া ও রহমতের মাধ্যমে আমাকে চিরস্থায়ী বেহেশতে স্থান দান করুন । হে বিশ্বের প্রভূ ও মালিক!
১৭ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اهْدِنى‏ فيهِ لِصالِحِ الْأَعْمالِ، وَاقْضِ‏ لى‏ فيهِ الْحَوآئِجَ وَالْأمالَ، يا مَنْ لا يَحْتاجُ اِلَى التَّفْسيرِ وَالسُّؤالِ، يا عالِماً بِما فى‏ صُدُورِ الْعالَمينَ، صَلِّ عَلى‏ مُحَمَّدٍ وَ الِهِ الطَّاهِرينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে সৎকর্মের দিকে পরিচালিত করুন। হে মহান সত্ত্বা যার কাছে প্রয়োজনের কথা বলার ও ব্যাখ্যা দেয়ার দরকার হয় না। আমার সকল প্রয়োজন ও আশা-আকাঙ্খাকে পূর্ণ করুন। হে সমগ্র বিশ্বের রহস্যজ্ঞানী! হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের উপর রহমত বর্ষণ করুন।
১৮ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ نَبِّهْنى‏ فيهِ لِبَرَكاتِ اَسْحارِهِ وَنَوِّرْ فيهِ قَلْبى‏ بِضيآءِ اَنْوارِهِ، وَخُذْ بِكُلِّ اَعْضآئى‏ اِلىَ اتِّباعِ اثارِهِ بِنُورِكَ، يا مُنَوِّرَ قُلُوبِ‏ الْعارِفينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে সেহরীর বরকতের উছিলায় সচেতন ও জাগ্রত করে তুলুন এবং সেহেরীর নূরের উজ্জল্যে আমার অন্তরকে আলোকিত করে তুলুন। আপনার নূরের উছিলায় আমার প্রতিটি অজ্ঞ-প্রত্যাজ্ঞকে আপনার নূরের প্রভাব বিকশিত করুন। হে সাধকদের অন্তর আলোকিতকারী!
১৯ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ وَفِّرْ فيهِ حَظّى‏ مِنْ بَرَكاتِهِ، وَسَهِّلْ سَبيلى‏ اِلى‏ خَيْراتِهِ، وَلا تَحْرِمْنى‏ قَبُولَ حَسَناتِهِ، يا هادِياً اِلَى الْحَقِّ الْمُبينِ.
হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এ মাসের বরকতের অধিকারী করুন এবং এর কল্যাণ অর্জনের পথ আমার জন্য সহজ করে দিন। এ মাসের কল্যাণ লাভ হতে আমাকে বঞ্চিত করবেন না। হে স্পষ্ট সত্যের দিকে পথো নির্দেশকারী!
২০ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ افْتَحْ لى‏ فيهِ اَبْوابَ الْجِنانِ، وَاَغْلِقْ عَنّى‏ فيهِ اَبْوابَ‏ النّيرانِ، وَوَفِّقْنى‏ فيهِ لِتِلاوَةِ الْقُرْ انِ، يا مُنْزِلَ السَّكينَةِ فى قُلُوبِ‏ الْمُؤْمِنينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমার জন্য বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দিন এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দিন। আর এই দিনে আমাকে কোরআন তিলাওয়াত করার তেীফিক দান করুন। হে মোমিনদের অন্তরে প্রশান্তি দানকারী!
২১ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اجْعَلْ لى فيهِ اِلى‏ مَرْضاتِكَ دَليلاً، وَلا تَجْعَلْ لِلشَّيْطانِ فيهِ عَلَىَّ سَبيلاً، وَاجْعَلِ الْجَنَّةَ لى مَنْزِلاً وَمَقيلاً، يا قاضِىَ حَوآئِجِ الطَّالِبينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে আপনার সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত করুন এবং শয়তানদেরকে আমার উপর আধিপত্য বিস্তার করতে দিবেন না। বেহেশতকে আমার গন্তব্যে পরিণত করুন। হে প্রার্থনাকারীদের অভাব মোচনকারী!
২২ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ افْتَحْ لى فيهِ اَبْوابَ‏ فَضْلِكَ، وَاَنْزِلْ عَلَىَّ فيهِ بَرَكاتِكَ، وَوَفِّقْنى‏ فيهِ لِمُوجِباتِ مَرْضاتِكَ، وَاَسْكِنّى‏ فيهِ بُحْبُوحاتِ جَنَّاتِكَ، يا مُجيبَ دَعْوَةِ الْمُضْطَرّينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনার করুনা ও রহমতের দরজা আমার জন্য খুলে দিন এবং বরকত বর্ষণ করুন। আমাকে আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের তৌফিক দান করুন। আপনার বেহেশতের ফুল বাগিচায় আমাকে স্থান করে দিন। হে অসহায়দের দোয়া কবুলকারী!
২৩ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اغْسِلْنى‏ فيهِ مِنَ الذُّنُوبِ، وَطَهِّرْنى‏ فيهِ مِنَ‏ الْعُيُوبِ، وَامْتَحِنْ قَلْبى‏ فيهِ بِتَقْوَى الْقُلُوبِ، يا مُقيلَ عَثَراتِ‏ الْمُذْنِبينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমার সকল প্রকার গোনাহ ধুয়ে-মুছে আমাকে পাক ও পবিত্র করুন এবং সকল দোষ-ত্র“টি থেকে আমাকে পুত ও পবিত্র করুন। আর এই দিনে তাকওয়া ও খোদাভীতির মাধ্যমে আমার হৃদয়কে সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করুন। হে গোনাগারদের ভুল-ত্র“টি মার্জনাকারী!
২৪ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اِنّى‏ اَسْئَلُكَ فيهِ ما يُرْضيكَ، وَاَعُوذُبِكَ مِمَّا يُؤْذيكَ، وَاَسْئَلُكَ التَّوْفيقَ فيهِ لِأَنْ اُطيعَكَ وَلا اَعْصِيَكَ، يا جَوادَ السَّآئِلينَ.
হে আল্লাহ! আজ আপনার কাছে ঐ সকল আবেদন করছি যার মধ্যে আপনার সন্তুষ্টি রয়েছে এবং যা কিছূ আপনার কাছে অপছন্দনীয় তা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আপনার আনুগত্য করার এবং আপনার অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকার তৌফিক দিন। হে সাহায্য প্রার্থীদের প্রতি দানশীল!
২৫ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اجْعَلْنى‏ فيهِ مُحِبَّاً لِأَوْلِيآئِكَ، وَمُعادِياً لِأَعْدآئِكَ مُسْتَنّاً بِسُنَّةِ خاتَِمِ اَنْبِيآئِكَ، يا عاصِمَ‏ قُلُوبِ النَّبِيّينَ .
হে আল্লাহ! এই দিনে আমাকে আপনার বন্ধুদের বন্ধু আর শত্র“দের শত্র“ বানিয়ে দিন। আপনার আখেরী নবীর সুন্নত ও প্রদর্শিত পথে চলার তৌফিক আমাকে দান করুন। হে নবীদের অন্তরের পবিত্রতা রক্ষাকারী!
২৬ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اجْعَلْ سَعْيى‏ فيهِ مَشْكُوراً، وَذَنْبى‏ فيهِ مَغْفُوراً وَعَمَلى‏ فيهِ مَقْبُولاً، وَعَيْبى‏ فيهِ مَسْتُوراً، يا اَسْمَعَ‏ السَّامِعينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আমার প্রচেষ্টাকে গ্রহণ করে নিন এবং আমার সকল গুনাহ মাফ করে দিন। আমার সকল ভালকর্ম কবুল করুন এবং সব দোষ-ত্র“টি ঢেকে রাখূন। হে সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রতা!
২৭ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ ارْزُقْنى‏ فيهِ فَضْلَ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَصَيِّرْ اُمُورى‏ فيهِ مِنَ الْعُسْرِ اِلَى الْيُسْرِ، وَاقْبَلْ مَعاذيرى‏، وَحُطَّ عَنّىِ‏ الذَّنْبَ وَالْوِزْرَ، يا رَؤُفاً بِعِبادِهِ الصَّالِحينَ.
হে আল্লাহ! আজকের দিনে আপনি আমাকে শবেকদরের রাতের ফজিলত দান করুন এবং আমার কাজ-কর্মকে কঠিন থেকে সহজের দিকে নিয়ে যান। আমার অক্ষমতা কবুল করুন এবং সকল অপরাধ ক্ষমা করে দিন। হে সালেহ ও যোগ্য বান্দাদের প্রতি দয়াশীল!
২৮ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ وَفِّرْ حَظّى‏ فيهِ مِنَ النَّوافِلِ، وَاَكْرِمْنى‏ فيهِ بِاِحْضارِ الْمَسآئِلِ وَقَرِّبْ فيهِ‏ وَسيلَتى اِلَيْكَ مِنْ بَيْنِ الْوَسآئِلِ، يا مَنْ لا يَشْغَلُهُ اِلْحاحُ الْمُلِحّينَ .
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি আমাকে অধিক নফল ও মুস্তাহাব আমল করার তৌফিক দান করুন এবং ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদায় আমাকে ভূষিত করুন। আপনার নৈকট্য লাভের পথকে আমার জন্য সহজ ও সুগম করে দিন। হে পবিত্র সত্ত্বা! যাকে, আনুরোধকারীদের কোন আবেদন-নিবেদন, ন্যায় বিচার থেকে টলাতে বা বিচ্যুত করতে পারে না।
২৯ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ غَشِّنى‏ فيهِ بِالرَّحْمَةِ، وَارْزُقْنى‏ فيهِ التَّوْفيقَ‏ وَالْعِصْمَةَ، وَطَهِّرْ قَلْبى‏ مِنْ غَياهِبِ التُّهَمَةِ يا رَحيماً بِعِبادِهِ الْمُؤْمِنينَ.
হে আল্লাহ! আজ আপনি আমাকে আপনার রহমতের মাধ্যমে ঢেকে দিন এবং গোনাহ থেকে মুক্তিসহ আমাকে সাফল্য দান করুন। আমার অন্তরকে মুক্ত করুন অভিযোগ ও সন্দেহের কালিমা থেকে। হে ঈমানদার বান্দাদের দয়াময় প্রভূ!
৩০ তম রোজার দোয়া :
اَللّهُمَّ اجْعَلْ صِيامى فيهِ بِالشُّكْرِ وَالْقَبُولِ، عَلى‏ ما تَرْضاهُ‏ وَيَرْضاهُ الرَّسُولُ، مُحْكَمَةً فُرُوعُهُ بِالْأُصُولِ، بِحَقِّ سَيِّدِنا مُحَمَّدٍ وَ الِهِ الطَّاهِرينَ، وَالْحَمْدُ للَّهِ‏ِ رَبِّ الْعالَمينَ.
হে আল্লাহ! এই দিনে আপনি ও আপনার রাসূল ঠিক যেমনিভাবে খুশী ও সন্তুষ্ট হবেন তেমনিভাবে আমার রোযাকে পুরস্কৃত করুন এবং তা কবুল করে নিন। আমাদের নেতা মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলেবাইতের উছিলায় আমার সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমলকে মূল ইবাদতের সাথে যোগ করে শক্তিশালী করুন। সকল প্রশংসা ব
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×