somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মশারি সম্পর্কিত অসমাপ্ত আত্মকাহিনী...

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[



অনেকক্ষণ ধরে মশার গান শুনিতেছি, কিন্তুক মশার এই সুর ঝংকার আর সহ্য করিতে পারিতেছি না।।

বহুপূর্ব হইতেই আমি তীব্রভাবে বিশ্বাস স্থাপন করিয়া রাখিয়াছি যে, মশা এবং মশারি দু'ই একই সুতোয় গাথিতো একক সত্তার দুই ভিন্ন বহিরূপ।বিশ্বাস সম্পর্কিত এই তীব্র অবস্থানের পরেও এর কোন কার্যকর বাস্তবিকতা এই হইকালে আমার কর্মে বেশ তাৎপর্যপূর্ণভাবে অনুপস্থিত।।

এমতাবস্থায় মশারির সম্পকির্ত এই পূর্রবর্তী আলোচনার, বাস্তবিক ক্ষেত্রে আসা যাইতে পারে।।
তো এই হইজগতে সকল কর্মের মধ্যে যে কর্ম সাধন করিতে সবার্ধিক এবং সুতীব্র যাতনাকারক অনুভূতি সৃষ্টি হইয়া থাকে তা সম্ভবত এই "মশারি টাঙ্গান"ই হইয়া থাকিবে।।


শুধু আমি হইতে যাইবো কেনো, বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে ইহাকে কেন্দ্র করিয়াই যে অসংখ্য যাতনা কর অসুখস্মৃতি তৈরি হইয়া আছে,তা আমি হলফ করিয়া বলিতে পারি।।

তো যা বলিতেছিলাম,মশারি টাঙ্গানো ছাড়িয়াছি প্রায় পাচ বৎসরেও বেশি সময় হইয়া থাকিবে,যখন সুবাহ'র জননী প্রথমবারেরর মতো ঘর থেকে প্রস্থান করিয়া CU হলে গমন করিয়াছিলেন।।

আগে এই ভদ্রমহিলাকে নানান নামে সংজ্ঞায়িত করা গেলেও এমতাবস্থায় তিনি একমাত্র সুবাহ এবং সুহাইরার জননী হিসবে পরিচিত অর্জন করিয়াছেন।।

তো অতীতে মশারি সম্পকির্ত সাধারণত যাহা ঘটিত তা হচ্ছে একদিন কন্যাদের জননী,তো অন্যদিন আমা দ্বারা এই মশারি টাঙ্গান কার্য সম্পাদিত হইতো ।

অবস্থার বিপরীত্য ঘটিলো যখন কন্যাদের জননী চলিয়া যাইবার ফলে মশারি সম্পকির্ত সকল কার্যাদির একক কর্মা হিসেবে আবির্ভূত হইয়া পরিলাম।।

এক্ষেত্রে এক বিশেষ ব্যাপার পরিলক্ষণীয়।উল্লেখিত কার্যাটি ব্যাতিরেকও যে প্রাত্যহিক যাপিত জীবনের সকল ক্ষেত্রেই যে একক সত্তার এই অভূতপূর্ব প্রারাম্ভ সূচিত হইয়াছে তাহার উপলদ্ধিগত কার্যকর অনুধাবন করিতে না পারিবার অক্ষমতাজনিত নানান অমুখোরোচক বিষয়াদি বিভিন্নভাবে ভিন্ন ভিন্ন রূপে ধীরে ধীরে লোকসমাজের চক্ষুগোচর হইতেছে তাহা তীব্রবাবে অনুধাবন করিতে লাগিলাম।। পরিতাপের বিষয় হইতেছে,অনুধাবনজনিত এই বিশেষ পথ পরিক্রমণ প্রক্রিয়া অতীব কচ্ছপগতিতে সম্পাদন হইয়া দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হইয়া যায়।।

পরিবারিক বোদ্ধাগণ বেশ রসিয়ে এই একক সত্তাময় আবির্ভূত অবস্থানকে একনায়কতান্তিক সুফললাভের সুবর্ণ সুযোগ বলিয়া আখ্যায়িত করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অকাম্য বিষায়দি অতিরঞ্জিত রূপে উপস্থাপনের ব্যর্থ চেষ্টায়রত হইয়া আছেন সেই প্রথমাদি থেকেই।।

পৃথিবী জুড়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এই একনায়কতান্তিক সম্রাজ্যের অভিপ্রায়ে অনাদিকাল ধরে বহুমাত্রিক অপতৎপরতার ফলস্বরূপ যুগে যুগে যাতনাকর যত বিভৎস পরিসমাপ্তির রূপ ধারণ করিয়া আসিয়াছে,তাহাকে হস্তগত করিয়া কোন মনুষ্য সুখী জীব হিসেবে পরিগণিত হইতে পারে, তাহা কিভাবে এই সকল বোদ্ধাগণ ভাবিয়া থাকেন এবং তাহাদের এই অযাচিত, অবাঞ্ছিত বক্তবের আত্মতৃপ্তিকর গলধঃকরণমুলক তৃপ্তি অনুভব করিয়া থাকেন তাহা ভাবিয়া প্রায়শই বেকুব বনিয়া যাই,সেই প্রারম্ভ থেকেই।।

তো যাহা বলিতেছিলাম,তাহা ছিল সেই মশারি লটকান এবং খসান সম্পকির্ত পুরো বিষয়াদি আমার ঘাড়ে আসিয়া লটকে পাড়িয়াছিল।।
এছাড়াও অতদিকালের মশারি সম্পর্কিত সকলধরণের সমস্যা সমাধানকল্পে তীক্ষ্ণ এবং তীব্র বাক্য নিক্ষেপ এবং গ্রহণ সম্পর্কিত কোন মনুষ্যপ্রাণ খুজিয়া না পাইয়া জান-পরাণই নিষ্প্রাণতা অনুভব করিতেছিলাম।।

অন্যান্য সময় নানান কসরতেরর সহিত মশাসম্পর্কিত সকল সমস্যাদি ভ্রুক্ষেপ না করিয়াও দিনাননিপাত করিতে পারিলেও ইদানীংকাল মশার এই উৎপাতমূলক পদচারণা, অতীতের সকল সমীক্ষাকে অতিক্রম করিয়াছে।।

অতীতে বহুবার পিতামহ গৃহে এই সময়াদিতে গো-পশুদিগের নিমিত্তে মশারি টাঙ্গানন প্রক্রিয়া অবলোকন করিয়াছিলাম।।এতকিছু অবলোকন করিয়াও বা কি হইবে, মশারি না টাঙ্গান সম্পর্কিত প্রতিজ্ঞায় আটুট থাকিয়া চলিতেছি।।

মাঝখানে পিতাজ্বী মশাদের তৎপরতার বেগতিকতা অনুধাবন করিয়া বেশ কঠিন এবং তীব্র বাক্যবাণ নিক্ষেপ করিলেন।এই তীব্র বাক্যবাণে গৃহ থেকে প্রস্থান জ্ঞাপকমূলক হুমকাদিসহ নানান কিছু অন্তর্গত করিয়াছিলেন।আমি সে সবের দিকে কর্ণপাত না করিয়া নিজস্ব প্রকৃতিতে চলিতে লাগিলাম।।

এমতাবস্থায় একদিন ঘুম থেকে চক্ষুমেলিয়া বিস্ময়ের সাথে আবিষ্কার করিতে পারিলাম, আমি মশারির অভ্যন্তরে অবস্থান করিতেছি।।
পরর্বতীতে জানিতে পারিলাম পিতাজ্বী তার কলেজ পড়ুয়া কন্যার মশার কামড় খাওয়া সহ্য করিতে না পারিয়া নিজেই তৎপর হইয়া এই কর্মটি সম্পাদন করিয়াছেন।।

পিতাজ্বী আশাবাদী হইয়াছিলেন, উল্লেখিত তৎপরতার তাৎপর্যপূর্ণ পরির্তন সাধন করিয়া তাহাকে বাধিত করিবো।।

কিন্তু বরাবরের ন্যায় পিতাজ্বীর সকল আশা গূড়েবালিতে পরিণত হইয়া অবস্থা পূর্বের ন্যায় রহিয়া গেলো।।

এমতাবস্থায় পিতাজ্বী এই সম্পর্কিত সকল বিষয়াদির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা ছাড়িয়া দিলেন।

ইদানীংকালে অবশ্য কিছুবার সুবাহ আর সুবাহ'র মার সহিত মশার খাদ্যের যোগান কয়েকদিনের তরে বন্ধের নিমিত্তে চোখ বন্ধ করিয়া সুবাহ'দের মিশারির ভিতর ঢুকিয়া পরিয়াছিলাম(মশার কামড়-টামড় ঐ সব কোন ব্যাপার না কিন্তু),সুবাহ'র ঘুমন্ত অবস্থার সব লাথি-উষ্টা ,তিরিং-বিরিং সব সহ্য করিয়াও।।

বিগত পাচ বছরে যাবত মশারির সহিত এই অভূতপূর্ব বিচ্ছেদের পর মশার আমার সহিত অসীমের মধ্যে সীমাহীন অসহ্যকর তৎপরটা সহ্যতীত পরিগণিত হওয়ায় কাচুমাচু হইয়া আম্মুজ্বীর শরণাপন্ন হইয়া বলিয়া ফেলিলাম "আম্মুজ্বী, আমার কক্ষের মশারিখানা জানি কোথায় অবস্থান করিতেছে..??"

আম্মুজ্বী দীর্ঘ পাচ বছর পর কন্যার কন্ঠে মশারির কথা শুনিয়া, আনন্দে আত্মহারা হয়ে নিজে খুজেঁ,আলমারির তলানি হইতে মশারিখানা বাহির করিয়া দিলেন এবং স্বয়ং দন্ডায়মান থাকিয়া শতাব্দীর সেই ঐতিহাসিক দৃশ্যের স্বাক্ষী হইতে চাইলেন।।

তো যথেষ্টসংখ্যক আশাবাদে আশস্ত করিয়া এই ভূত অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখার জন্য সকালের সময়টাকে নির্বাচনমূলক পরার্মশ জ্ঞাপন করিয়া আম্মুজ্বীকে বিদায় জানাইয়া ছিলাম।।

প্রাতঃকালে ঘুমানোর পূর্ব মুর্হুত একটি মশারিরসম্পকির্ত আদি হইতে অন্ত অবধি এর অসীম আকারগত ব্যাপকতা অকার্যকারিতা সেই সাথে এর দর্শনজনক বেখ্যাপ্পতা আবিষ্কার করিয়া সুগভীর তবে অমূলক এক গবেষণাপত্র মনে মনে রচনা করিয়া, সেই আগেরকার দিনসমূহের ন্যায় বরাবরের মতো কাঁথার ওপর মশারি মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে পরিয়াছিলাম।।

সকালে আম্মাজ্বী সেই দৃশ্য অবলোকন করিয়া শুধুমাত্র আগেরকার দিনসমূহের চেয়েও এক সুতীব্র শীতল দৃষ্টিতে নিক্ষেপ করিয়া বিনা বাক্যব্যয়ে প্রস্থান করিয়াছিলেন।।

ইহা একটি মশারি সম্পর্কিত অসমাপ্ত আত্মকাহিনী!!!!

আজ থেকে প্রায় বছর দুই আগে কোন এক মশাময় শীতের রাতে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে মনের সুখে লিখে ফেলেছিলাম।।

উৎসর্গ:সকল মশারী বিদ্বেষী প্রতি 'সহমত ভাই' পোষণ করে।।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৭:১৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩



বিয়ের মঞ্চে বসে আছি। মঞ্চ বলতে চকির মতো একটা খাট, তার সম্ভাবত এক পা ছোট বা নাই, কারন সামান্য নাড়াচাড়ায় খাটা টালমাটাল হয়ে একদিকে কাত হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ব্লু মার্লিন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৭



ইনানী বিচের এক কোণে নির্জন কটেজে বসে ৪৪ বছর বয়সী রসায়নের প্রফেসর রেহান আশরাফ যখন তার ডায়েরির পাতায় মার্সিডিজ S-Class গাড়ির এসি সিস্টেমের ড্রয়িং করছিলেন, তখন তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাফিয়া ট্রাম্পের নজর এবার ফুটবল বিশ্বকাপে....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


একটা ফোন কল কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেল গোটা ফুটবল দুনিয়া। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে মার্কিন ফুটবলার বালোগুনের নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল বেলজিয়াম... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি আমি চিরন্তন

লিখেছেন সামিয়া, ০৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০৮



মানুষজন আমাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার সঙ্গে নাকি আর যোগাযোগ নেই? আমি শুধু হাসি। কীভাবে বোঝাই, কথা না হলেও কিছু মানুষ প্রতি রাতেই এসে মনের ভেতর চুপচাপ বসে থাকে; ঘুমানোর প্রস্তুতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×