
ঢাকার বাইরে যাবার কথা শুনে আমার বন্ধু সাপ দেখার মতন চমকে উঠে ভয়ে আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে বলল না না না ইতি না, এ হতে পারে না, তুমি বুঝতে পারছনা গ্রাম কত ভয়ঙ্কর গ্রামে গিয়ে তুমি থাকবে কি করে, বললাম মাত্র তিন দিনের জন্য যাচ্ছি, তি ইইইইইইইইইই ইন দিইইইইইইইইই ইন!!!!!!!!! তার তিনদিনকে তিন লক্ষ্ বছর বলার ভাব পাত্তা দিলাম না, পাত্তা দেয়ার প্রয়োজন ও দেখলাম না, সে প্রচণ্ড ইনডোর ক্যারেক্টারের কাজেই এই রকম রিঅ্যাক্ট করবে সেইটাই স্বাভাবিক, পরবর্তীতে ভয় দেখিয়ে কাজ হবে না বুঝতে পেরে মন খারাপ এবং শেষ চেষ্টা হিসেবে বলল, তুমি যত যাই বলো ঢাকার বাইরে আমি এক মুহূর্ত থাকতে পারবো না, দম বন্ধ হয়ে আসে, সেটা যদি বিদেশও হয় তাও পারিনা, ইউ নো সিঙ্গাপুরে গেলে আমার নিজেকে কি মনেহয়? মনেহয় একটা খোলা জেল খানা, ওইখানে থু থু ফেললেও কৈফিয়ত দিতে হয় ঐ সব দেশে আমার মত মানুষ গেলে চারদিনের মাথায় দম বন্ধ হয়ে মরে যাবে। ওর পাগলাটে স্বভাব আমি জানি কাজেই ও যে মিথ্যা বলছে না তা বিলিভ করেই ঢাকার বাইরে সেঝ চাচার শ্বশুর বাড়ি উনার নাতির আকিকা অনুষ্ঠানে যাওয়ার ইচ্ছে নষ্ট হয়ে গেলেও এবং আমার আম্মুর শত বাঁধা সত্ত্বেও কি করে যেন আমার এই ট্রিপে যাওয়া হল। এবং আমি মনে করি আমার জীবনে বেশ সুন্দর কিছু সময় আমি উপভোগ করেছি।
সেখানে তোলা আমার কিছু চিত্র, প্রথমেই পুকুরের জলে ওয়াটার স্প্লাশ ছবি তোলার প্রচেষ্টা, এই ছবি তুলতে বেশ কিছু অচেনা ছেলে শিশু পুকুরের মাটি তুলে পানিতে বার বার ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আমায় ছবি তুলতে গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য করেছে। আহারে বাচ্চা গুলা, জীবনে আর দেখা হবে কিনা জানিনা, ছবির পেছনের গল্পে ওরা স্মৃতি হয়ে রইবে, আহারে জীবন,
যে যায়
সে যায়
একেবারে যায়
ফিরে আসেনা,
আর যদি ফিরে আসে
সে অন্য রুপ জেনো।



ফিল্টার ইউজ করলে ছবি গুলো সুন্দর হত, আফসোস আমার লেন্সের জন্য কোন ফিল্টার নাই। একটা ফিল্টার কেনার জন্য ১৫/২০ হাজার টাকা কজন খরচ করে, তার থেকে অনেকে ভাব্বে এই দিয়ে তো নতুন একটা ক্যামেরাই ক্রয় করা যায়। আসলে ফটোগ্রাফি একটি বিলাসী শখ। ক্যামেরা এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ কিনতে যেমন টাকা ঢালতে হয় তেমনি দেশ বিদেশ ঘুরে ঘুরে ছবি তোলার জন্য সাধ্যের বাইরে টাকা থাকা চাই।
কিছু পোট্রেট-------------








গ্রাম সম্পর্কে আমার বন্ধুর ধারণা অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম প্রচণ্ড রকম ভুল, সেখানের বাতাস পরিষ্কার, গাছের পাতায় ধুলাবালি নেই, রাস্তাঘাঁট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পাকা, গ্রামের মহিলারা সিলিন্ডার গাসে রান্না করেন, বিশাল পাকা রাস্তা খালিই পড়ে থাকে, গাড়ি বলতে মাঝে সাঝে দুই একটা অটো দেখা যায়, এই রকম নিরিবিলি জীবন যে হতে পারে নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না, ঢাকায় থাকলে যেখানে প্রতিদিন চুলে শাম্পু করতে হয় তবু দিন শেষে চুল খসখসে বাজে , আর সেখানে তিনদিন থেকেও অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছি চুল শ্যাম্পু করার মতন অপরিস্কার হয়নি।
ছবির মতন এক খণ্ড পৃথিবী যেন----------------
















আরেকটি কবিতা -----------
সে এইখানটায় দাঁড়িয়ে ছিল
আমি ওইখানটায় দাঁড়িয়ে ছিলাম;
এবং ঘড়িটা-
চলতে চলতে
চলতে চলতে
বন্ধ হয়ে যাওয়া।
বন্ধ হয়ে গিয়ে;
চলতে থাকা।
সবশেষে আমি গর্বিত আমার দেশকে নিয়ে। আমি আমার দেশকে প্রচণ্ড ভালোবাসি, শুধু বিদেশ বসে বসে দেশের নামে সমালোচনা নয়, দেশের ভেতর থেকেই যতটুকু পারি একেওকে ব্লেইম না দিয়ে আমি আমার দেশের জন্য কিছু করতে চাই, কে কি করলো সেটা দেখার আগে আমি দেখতে চাই আমি আমার দেশের জন্য কতটুকু কি করতে পেরেছি। ভালোবাসি সবাইকে---------------------

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

