somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পথে ঘাটে

৩১ শে মার্চ, ২০২১ দুপুর ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছবিতে রাকিব, আমার তোলা।


পেছন থেকে এই যাবেন বলার পর যে রিকশাওয়ালা আমার দিকে ফিরে তাকালো, চেহারা দেখে ওরে বাবাগো বলে হুমড়ি খেয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার অবস্থায় কোন ভাবেই এর রিক্সায় যাওয়া যাবেনা এরকম একটা অযুহাত খুঁজতে খুঁজতে বললাম তুমি তো ছোট অনেক তার উপর ব্যাটারি রিকশা সেক্টরে ঢুকতে দিবে? সে আনন্দ আনন্দ ভাব নিয়ে জানালো তার রিকশা সর্ববস্থায় সবখানে এলাউ তার এই চেহারাজনিত দুর্গতির জন্য কোন সার্জেন্ট কিংবা পুলিশ তাকে কোথাও আটকায় না।

অন্য সময় রিকশাওয়ালারা যাবেন এর রিপ্লেতে কত নাম্বার রোড ধরণের প্রশ্ন কেন করলো এই রকম অপরাধ এর অজুহাতে অন্য রিকশায় যাই। আজ সে ধরণের কোন অজুহাত দাঁড় করাতে পারলাম না, সমস্যা হল কোন কিছু দেখে আতংকিত হলে ভয় পেলে সেটা দুঃস্বপ্ন হয়ে ঘুমের মধ্যে ফিরে আসে দুঃস্বপ্ন দেখতে কেই বা চায়।

রিকশা চলতে চলতে এগারো নাম্বারের চত্তরে এলে উৎসাহের সাথে ছেলেটি জানালো যে সে তিন মাস আগেও এইখানে এর ওর কাছে সাহায্য চাইতো, আমারও ততোক্ষণে মনে পড়ছে ব্যাপারটা, আমি বললাম আমি জানি।

ও খুশি হয়ে বলল হ আপু আপনি আমারে সাহায্য দিতেন অন্য দিকে ফিরা মুখের দিকে তাকাইতেন না, আর শেষবার যখন সাহায্য চাইছিলাম আপনি বললেন তোমাকে গতকাল দিয়েছি আজ আর দিবনা আমি কি রোজ রোজ সাহায্য দিবো নাকি! বলেই ফিক করে হেসে দিলো ছেলেটা,
এই কথা এগারো নম্বর চত্বরে ভিক্ষা করা সকল ভিক্ষুককে দুই একবার করে বলতে হয় আমার, কারন রোজ দুবার ঐ একই রাস্তা দিয়ে চলাফেরার কারনে একই ভিক্ষুক বার বার ভিক্ষা নিতে আসে।

আমি ওর কথা শুনতে শুনতে হাল্কা অনুভব করলাম ওর চেহারা নিয়া আতঙ্ক কিছুটা কেটেছে। রাকিব হাসছে, আমিও হাসছি কিছুটা, বললাম রিকশা কই পাইছো? কেউ কিনে দিছে? খুব ভালো হইছে ভিক্ষা করার থেকে কাজ করে খাওয়া ভালো।
জি আপু ভিক্ষা করার থেকে কাজ করে খাওয়া ভালো কিন্তু আমার মতন সবাই কাজ করতে চায় না, অনেক ভিক্ষুকরে রিকশা কিনা দিসে পুলিশ স্যারেরা কিন্তু হেরা রিকশা বেইচ্চা দিয়া আবার ভিক্ষা করে। আমারে কিন্তু কেউ রিকশা কিনে দেয় নাই এইটা ভাড়ায় চালাই।

ছেলেটির নাম রাকিব, বাড়ি লক্ষ্মীপুর, বয়স তেরো, দুই বছর আগে ঢাকা এসেছিলো পেটের তাগিদে, শুরুতে একটা হোটেলে কাজ করতো সেখানে চুলার গ্যাসের সিলিন্ডার বাষ্ট হয়ে মুখমণ্ডল আগুনে পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ওরা আর কাজে রাখেনি রাকিবকে, হোটেল থেকে তাড়িয়ে দেয়, বাবা নাই ওর, কেন নাই, মারা গেছে না ওদের ফেলে চলে গেছে কখনো জিজ্ঞেস করিনাই। বাড়িতে মা আর ছোট ভাই আছে, ওদের একমাত্র ভরসা রাকিবের উপার্জন।

আমার বাসার সামনে নেমে ভাড়া দিতে দিতে বললাম সাবধানে রিকশা চালাবে, অনেক ছোট তুমি, ভালো থাইকো। আপনিও ভালো থাইকেন পেছন থেকে শুনতে পাই।

আকাশের দিকে তাকাই, আকাশ কত বড়! আর শূন্য! ভাবলেশহীন! অমন ভাবলেশহীন আমরাও একে অপরের প্রতি, অথচ প্রতিটা মানুষ যুদ্ধ করে চলেছে প্রতিনিয়ত, যার যার জায়গায় সবাই যোদ্ধা। শুধু সময়; স্থান; মানুষ ও প্রেক্ষাপটগুলো ভিন্ন। আজ রাতে ওকে নিয়ে কোন দুঃস্বপ্ন দেখবো না সম্ভবত।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০২১ বিকাল ৪:৪২
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×