somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ তার সাথে দেখা হবে কবে (৫ম পর্ব)

২৭ শে জুন, ২০২৫ রাত ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





ধীরে ধীরে তিতিরের অজান্তেই ওর দিন রাত্রিতে নানা পরিবর্তন আসতে লাগলো, কাস্টমার কেয়ারের চাকরি কিংবা ভার্সিটির ক্লাসের বন্ধুদের সাথে আড্ডা অথবা বাসায় মা বাবার সাথে কাটানো মুহূর্ত; আদরের ছোট ছোট স্টুডেন্টদের পড়ানোর মুহূর্ত; এমন কিছু নাই যেখানে তমাল সাহেবের ভাবনার দখলদারি হচ্ছে না, স্বয়নে স্বপনে জাগরনে সবকিছুতেই তমালের কথা মন্ত্রমুগ্ধের মতন কানে বাজে তিতিরের, এত সবকিছুর পর একদিন তিতির তমালের নাম্বারটা সেভ করে ওর মোবাইলে।

এক সকালে তিতির ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসীর মতন তমালের ভাবনায় বিমোহিত হয়ে থাকতে থাকতে একমনে সিআরও'তে বসে কাজ করছিলো।

ঠিক তখনই কাস্টমার কেয়ারের সামনে এসে দাঁড়ালো এক বৃদ্ধা। তিতির দ্রুত হাসিমুখে উঠে দাঁড়াল।
- বলুন, কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
- মা, আমি একটু দিক হারিয়ে ফেলেছি। আমার ছেলে আর নাতনির সাথে এখানে এসেছি ওদেরকে অনেকক্ষণ ধরে খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না ফোন ও ধরছে না ছেলেটা।

তিতির তাকে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে বলে আশ্বস্ত করে বসতে দিলো, ঠান্ডা পানি এনে দিলো, তারপর নিরাপত্তা টিমকে জানিয়ে দ্রুত দুজনকে খুঁজে বের করে নিয়ে এলো কাস্টমার কেয়ারে।

তার কিছুক্ষণ পরে তিতির দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু দূরে দাঁড়িয়ে ওদের মিলন দেখছিলো। কী শান্তি এইসব ছোট ছোট সাহায্যে! ওর নিজের ছোটবেলা হঠাৎ মনে পড়ে গেল। বাবা-মায়ের হাত ধরে মেলার ভিড়ে হেঁটে বেড়ানোর দিনগুলো।


সবকিছু গুছিয়ে ডেস্কে ফিরে এসে মাথা নামিয়ে একটু আরাম নিতে গিয়েই ও আবার ফোনের দিকে তাকালো। ফোনের বাটন চাপতেই তমাল নামটা স্ক্রিনে ভেসে উঠলো ।

একটু দ্বিধা নিয়ে একটা মেসেজ টাইপ করলো

- কার কথা যেন আজ বারবার মনে পড়ছে। অচেনা কেউ একজন অথচ এত চেনা! এটা কি ভালো কিছু?

পাঠাই পাঠাই করেও শেষ পর্যন্ত মেসেজটা পাঠালো না। মুছে দিলো। আবার টাইপ করলো

- শুনুন মিস্টার কলকাতা, যদি মিস করার প্রতিযোগিতা হতো, আপনি নিশ্চিত দ্বিতীয় হতেন। কারণ প্রথম আমি নিজেই হয়ে আছি গত কয়েকদিন ধরে, কি পরিমাণ যে মনে পড়ছে আপনাকে, যাদু জানেন কি?
এইবার একটু সাহস করে সেন্ড বাটনে চাপ দিলো। চোখের পলকে মেসেজটি সেন্ড হয়ে যাওয়ার পর, লজ্জায় রক্তিম হয়ে গেল তিতির।
তার প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভেতর তিতিরের ফোনে একটা মেসেজ ঢুকলো।

- তিতির, আমি চাই আপনি জানেন, আজকের বিকেলটা, এই মুহূর্তটা, আমি সারাজীবন মনে রাখবো। এই মুহূর্তটা আমার জীবনে প্রথমবারের মতন প্রিয় কারো চিঠি হাতে পাওয়ার অদ্ভুত সুখের দিন।

তিতির এবার চুপ করে ফোনটা পাশে রাখে। দেয়ালের কাঁচ দিয়ে বিকেলের আকাশ রঙ বদলাচ্ছে, শহরের আলোগুলোর সাথে ওর মনের আলো ও ঝিকমিক করছে। ও জানে না সামনের দিনগুলো কেমন হবে,তবে আজকের এই বিকেলটা, এই অদ্ভুত মায়াবি মুহূর্তটা
সে আগলে রাখবে নিজের করে, যেখানে কেউ হাত বাড়িয়ে ছুঁতে পারে না, শুধু হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যায়।
ছবিঃনেট ( চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০২৫ রাত ৯:০৪
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান ওয়ার্ল্ড কাপ বয়কট করে নাই কারণ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩


সেখানে একজন আসিফ নজরুল ছিলেন না, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন না! পুরো বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবলের উন্মাদনা। যে সব দেশ মাঠে লড়ছে আর যারা কোয়ালিফাই করতে পারেনি উত্তেজনা সবখানেই সমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৩৩

গঙ্গা-বুড়িগঙ্গার স্রোত অনেক বদলে গেছে...

একসময় ভারতীয় কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ কিংবা বাংলাদেশের কিছু ক্ষমতাসীন নেতা এমন ভাষায় কথা বলতেন, যেন বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র নয়; বরং কোনো ছোট ভাই, আদরের বোন বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×