
আমরা আসলে সবাই অদ্ভুত মানুষ। কারও না কারও চোখে আমরা সুখী একদম গ্রামের বাড়ির উঠোনের ধারে থাকা সেই ছোট শান্ত নীড়ের মতো। কেউ খেয়াল করলে বুঝত আসলে সুখী কিনা, কিন্তু কে আর খেয়াল করে! না করুক, আমাদের সবাই সবাইকে সুখীই ভাবুক।
কারও চোখে আমরা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অচেনা মানুষ, আবার কারও চোখে পুরোনো বট গাছের ছায়ায় দাঁড়ানো ভরসা। কিন্তু নিজের কাছে? নিজের কাছে আমরা সর্বক্ষণ দুঃখী। এক বুক অভিমান নিয়ে ঘুরি, মনের কথা কাউকে বলতে পারি না, নিজের ভেতরেই কষ্ট জমাই, কষ্ট শেষই হয় না।
আমরা দৌড়াই। কেন দৌড়াই? নিজেরাও ঠিক জানি না। কখনো মসৃণ পাথরের উপর দাঁড়িয়ে নিজেদের সাথে বোঝাপড়া করি, আর কয়টা দিন, তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে। আবার কাদামাখা ঢাল বেয়ে নামতে নামতে হঠাৎ চিৎকার করি, যেন এটাই জীবনের ফাইনাল ডেস্টিনেশন। থামতে ভয় লাগে। থামলেই মনে হয় এই বুঝি সব ভেঙে পড়বে, না হয় বসে বসে হাউমাউ করে কাঁদতে হবে। তাই চলতেই থাকি।
আমাদের চাওয়াগুলো ইঁদুরের মতো। পাওয়া জিনিস নিয়ে আমরা বসে থাকতে পারি না। ইঁদুরের মতো কামড়াই খট খট করি ঘন্টার পর ঘন্টা। স্বপ্ন পূরণ হয়, তারপরই মনে হয় এটা তো এইটার জন্য ছিল না! সুখ আসে, আবার চলে যায়। পরের বসন্ত আসার আগেই আমরা ক্লান্ত।
আমরা তুলনা করি। খুব চুপিচুপি। কারও হাসি দেখলে নিজের হাসির অভাবটা জেগে ওঠে। কারও সাফল্য দেখলে নিজের জীবন ব্যর্থ মনে হয়। ভুলে যাই নিজের সাফল্য গুলো,
ঘৃণা করতে আমাদের সময় লাগে না। একটু আঘাত পেলেই মুখ ঘুরিয়ে নিই। ভালোবাসা চাই, কিন্তু ফাঁদ পেতে রাখি। চাই মানুষ এসে আমাদের বুঝুক। কিন্তু কাউকে বুঝতে গেলে আমরা ক্লান্ত। ভালোবাসা কমে, অভিযোগ বাড়ে,
নিজের প্রতিই সবচেয়ে অবহেলা করি। বাইরের কেউ একটু স্বীকৃতি দিলেই মনে হয় কারেক্ট। নিজের সুখটাকে নিজেরাই পাত্তা দিই না। নিজের দিকে তাকিয়ে বলি কোথাও নিশ্চয়ই গণ্ডগোল আছে।
এভাবে একদিন আমরা থামব। রাস্তার ধারে দাঁড়াব একা খুব নিরবে। কথা বলব না, বুঝবো সেদিন; জীবনের সব সুখ খুব গোছানো জায়গায় থাকে না। কিছু সুখ ছড়ানো থাকে। কিছু তৃপ্তি দেরিতে আসে। সেদিন হয়তো নিজের কাছে আর এতটা দুঃখী থাকব না। নিজের পাশেই একটু সুখী হয়ে বসে থাকব।
ছবিঃ নেট কালেকশন
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


