
একটু ভরসা দাও আমাকে
এই শহরের সব শব্দের ভিড়ের মাঝখানে,
যেখানে রাস্তায় যার যার ব্যস্ততা কাঁধে ঝুলিয়ে
মানুষ হাঁটে,
কেউ কাউরে দেখে না,
তবু সবাই কারো না কারো দিকে
ফিরে তাকানোর আশায় বাঁচে।
একটু ভরসা দাও আমাকে
কোনো অলৌকিক আরশীনগর না,
কোনো কাব্যের অতল গহ্বরও না
এই রাস্তাটার পাশেই
একটা ছোট জায়গা বানাতে চাই,
যেখানে সকালে নরম রোদের আলো
চুপচাপ এসে বসে থাকে,
আর কেউ কিছু না বলেও
আদান প্রদান হয় ভাষার।
একটু ভরসা দাও আমাকে
চোখে চোখে রেখে সত্য বলো,
কোনো কবিতার উন্মত্ততার বাইরে,
কোনো ব্যাখ্যার দায় ছাড়াই।
শুধু এইটুকু জেনে
যে; কেউ তো আছে,
এতসব জ্ঞানী গুণী ভালো মন্দের মাঝে।
শব্দ ছোঁয়ার গোপনীয়তা, বিরহী প্রেমের ঢেউ,
রাতজাগা দীর্ঘশ্বাস; ওইসব চাই না।
আমি চাই;
রাত ভর পাহাড়া দিয়ে
ঘরে ফেরা নাইট গার্ডটার
না-ঘুমানো চোখের মতো
একটা ভরসার উপস্থিতি।
সবুজ সব্জির বিক্রেতার
এক হাতে শাক, আরেক হাতে
টাচ স্ক্রিন মোবাইল,
ফেইসবুক প্রোফাইলে
তারো একটু থেমে যাওয়া হাসির
একটা স্বাভাবিক সুখ দরকার।
কিশোর ছেলেটারও চাই
নিজেকে বড় হতে দেখার মতো
একটা ভবিষ্যৎ,
চিৎকার ছাড়া, দাবি ছাড়া।
শুন্যতা আসবেই,
কিন্তু শুন্যতার মাঝখানে
যদি ভরসা থাকে, তাহলে শুন্যতাও কিছুই না।
জীবনে ভালোভাবে বাঁচার জন্য
ভালোবাসাই যথেষ্ট।
বড় কোন চাহিদা না, বড় কোন প্রতিশ্রুতিও না,
শুধু ভরসার হাত রাখা মাথায়।
আজ একটু ভরসা দাও আমায়
এই শহরের ভেতরেই
একটা ছোট আরশীনগর বানাই।
ছবিঃ এখুনি তুলেছি
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



