somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আফগানিসত্দানের বলিকাবধূ গুলসোমা, 12তেই যার নরকদর্শন

২৫ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গুলসোমা। এক আফগান বালিকার নাম। তিন বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর গুলসোমার মা আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্বামীর অনিচ্ছার কারণে মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে পারেননি তিনি। মায়ের নতুন সংসার টিকিয়ে রাখতে মাত্র চার বছর বয়সেই গুলসোমাকে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়। বর তাদেরই প্রতিবেশী পরিবারের বড় ছেলে, বয়স 30। গুলসোমার বয়স এখন 12। শৈশব পেরম্ননোর আগেই শ্বশুরবাড়িতে তাকে ভোগ করতে হয়েছে নরকযন্ত্রণা। সর্বাঙ্গে সে বয়ে বেড়াচ্ছে নরপশুদের পাশবিকতার চিহ্ন।
শ্বশুরের পরিবার থেকে পালিয়ে এসে গুলসোমার ঠাই হয়েছে কাবুলের এক এতিমখানায়। সেখানেই ফৃ ল্যান্স ফটোগ্রাফার কেভিন সাইটসের সঙ্গে গুলসোমার পরিচয়। গুলসোমার মুখে তার নারকীয় অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনে আর সবার মতো কেভিনও শিউরে উঠেছিলেন। কেভিনের জবানিতেই শুনুন সেই আফগান বালিকাবধূর করম্নণ কাহিনী।
...গুলসোমার বয়স এখন 12। কিন্তু বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত হয়ে উঠেছে সে। মাত্র চার বছর বয়সে আফগান রীতিতে বধূবেশে ঘোড়ায় চেপে স্বামীর ঘরে যেতে হয়েছিল তাকে। মা ভেবেছিলেন, মেয়েটি তার নেহাতই শিশু। তিনি আশা করেছিলেন, অনত্দত এখনই তার মেয়েকে স্বামীর জৈবিক তৃপ্তির উপকরণ হতে হবে না। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে আসার এক বছরের মধ্যে গুলসোমাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল তার এ অপরিপক্বতার মাশুল তাকে কড়ায় গ-ায় মেটাতে হবে।
পাচ বছর বয়সেই শ্বশুরের পরিবারের 12 সদস্যের প্রত্যেকের দাসীর ভূমিকা নিতে হলো গুলসোমাকে। বিনিময়ে তার গায়ে হাত তুলতে কসুর করতো না কেউ। তবে নির্মমতায় সবচেয়ে এগিয়ে ছিল তার শ্বশুর। কাপড় ধোয়া, ঘর পরিষ্কার করা থেকে শুরম্ন করে ঘরের প্রতিটি কাজ করতে হতো গুলসোমাকেই। সারা দিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর তাকে শুতে হতো ঘরের বাইরে খোলা জায়গায় এক টুকরো কার্পেটের ওপর। গ্রীষ্মকালটা কোনোক্রমে কেটে যেতো। কিন্তু প্রচ- শীতেও তাকে ঘরের বাইরে কম্বল ছাড়াই ঘুমাতে হতো। গুলসোমার কষ্ট দেখে প্রতিবেশীদের কারো দয়া হলে তারাই হয়তো কেউ এসে প্রচ- শীতে কম্পমান গুলসোমার গায়ে একখ- গড়ম কাপড় দিয়ে যেতো। মাঝেমধ্যে সামান্য কিছু খাবার হয়তো জুটতো। কিন্তু ধরা পড়লে তার জন্য জুটতো বাড়তি পিটুনি।
গুলসোমাকে পেটানোর জন্য তার শ্বশুরের প্রিয় অস্ত্র ছিল ইলেক্টৃক তার। বেশিরভাগ ঝড়টা যেতো তার পায়ের ওপর দিয়ে। শ্বশুর তার সনত্দানদের বলতেন _ মেরে ওর পা ভেঙে দাও কিন্তু মুখে মেরো না। পায়ের ৰত লুকানো সহজ, মুখের দাগ মানুষের চোখে পড়ে যেতে পারে। নির্যাতনের বহু নতুন পদ্ধতি তারা আবিষ্কার করেছিল। কখনো গুলসোমাকে হতে হতো মানব টেবিল। তাকে উল্টো করে শুতে বাধ্য করা হতো এবং নগ্ন পিঠের ওপর ছুরি দিয়ে চলতো তরকারি কাটা।
কোনো এক শীতল রাতে প্রতিবেশীদের কেউ হয়তো এসে গুলসোমার গায়ে একটি কম্বল বিছিয়ে দিয়েছিল। এবারের ঘটনাটা তার শ্বশুর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারলো না। তাকে নির্মমভাবে পেটানো হলো এবং ছোট্ট একটা খুপড়িতে আটকে রাখা হলো টানা দুই মাস। প্রতি রাতে একবার টয়লেটে যাওয়ার সুযোগ পেতো সে। দিনে খাবার জুটতো একবার। খাবার বলতে শুকনো রম্নটি আর কখনো সেদ্ধ শিম। শ্বশুর এসে মাঝে মধ্যে জানতে চাইতো গুলসোমা এখনো কেন মরছে না।
অবশেষে একদিন গুলসোমার শ্বশুরের ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেল। তাকে খুপড়ি থেকে বের করে এনে মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলা হলো। জ্ঞান ফেরাতে মাথায় আর পিঠে ঢেলে দেয়া হলো ফাস্ক ভর্তি গরম পানি। সে যে কি যন্ত্রণা ... সেই কথা মনে পড়লে এখনো চোখ মোছে গুলসোমা।
পাচ দিন পর বাড়ি থেকে একটা ঘড়ি হারিয়ে গেল। যথারীতি দোষটা গিয়ে পড়লো গুলসোমার ঘাড়ে। আগাপাছতলা পিটিয়ে গুলসোমার ডান হাত আর ডান পায়ের পাতা ভেঙে দেয়ার পর শ্বশুর তাকে জানিয়ে দিল পরদিন সকালের মধ্যে যদি ঘড়ির খোজ না পাওয়া যায় তাহলে গুলসোমাকে স্রেফ খুন করে ফেলা হবে। গুলসোমা বুঝতে পেরেছিল তাকে খুন করতে পারলে তার শ্বশুর খুশিই হবে। বেচে থাকার শেষ চেষ্টা হিসেবে গুলসোমা বাড়ি থেকে পালালো এবং রাসত্দার পাশে এক রিকশার নিচে আশ্রয় নিল।
দয়ালু রিকশাওয়ালা যখন তার রিকশার নিচে গুলসোমাকে আবিষ্কার করলেন, তখনো তার সারা শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। তিনি মন দিয়ে গুলসোমার কথা শুনলেন, তারপর পুলিশের কাছে নিয়ে গেলেন। গুলসোমাকে হাসপাতালে ভর্তির করার পর তার শ্বশুর ও স্বামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শ্বশুর প্রথমটায় গুলসোমাকে মৃগী রোগী বানিয়ে দিতে চাইলেও প্রতিবেশীদের মুখ বন্ধ থাকেনি। ফলে সুযোগ্য পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে আপাতত তিনি জেলখানায় দিন গুনছেন।
হাসপাতালে মাসখানেক কাটিয়ে গুলসোমা এখন অনেকটাই সুস্থ। কাবুল এতিমখানাই এখন তার ঠিকানা। সদাহাস্যমুখের গুলসোমা কারো দয়া চায় না। শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সে জেনেছে, এ পৃথিবীর সবাই তার শ্বশুরের মতো অমানুষ নয়। রিকশাওয়ালা, পুলিশ কিংবা ডাক্তারদের ভালো মানুষেরা এ পৃথিবীরই বাসিন্দা। তার মতো আরো অনেক ভাগ্যহত গুলসোমা হয়তো কাবুলের বাড়িতে বাড়িতে নির্যাতন সইতে না পেরে মৃতু্যর জন্য অপেৰা করছে। গুলসোমা তা জানে। তাই সে মানবাধিকার নিয়ে পড়ালেখা করতে চায়। বড় হয়ে সে দাড়াতে চায় আফগানিসত্দানের নির্যাতিত, নিপিড়িত নারীদের পাশে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×