somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তামিল ইলম: দেশের ভিতরে দেশ

২৫ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খবর-1: শৃলংকান সেনাবাহিনী গত বৃহস্পতিবার ইচচিলামপাথু প্রদেশের পুনগরে তামিল সামরিক স্থাপনায় অতর্কিতে হামলা চালালে 1জন এলটিটিই সদস্য নিহত ও আরো 3 সদস্য আহত হয়। ত্রিংকোমালি জেলার এলটিটিই প্রধান এস. এলিলান এ ব্যপারে শৃলংকা মনিটরিং মিশনের কাছে এক লিখিত অভিযোগে বলেন, এ ধরনের হামলার মাধ্যমে সরকার তামিলদেরকে আবারো যুদ্ধের দিকে উসকে দিচ্ছে। তিনি এ ধরনের হামলাকে অস্ত্রবিরতী চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও উলেস্নখ করেন।
খবর-2: শৃলংকার উত্তরাঞ্চলীয় এলটিটিই মিলিটারি কমান্ডার কর্নেল থেপান গত বুধবার ভানি্ন অঞ্চলের এক তামিল সমাবেশে বক্তৃতাদানকালে বলেন, তামিল জাতির ভবিষ্যত, তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের জয়-পরাজয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এলটিটিইর সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে। শত্রম্নপৰকে (শৃলংকার সরকারি সেনাবাহিনী) প্রতিটি যুদ্ধে পরাজিত করে এগিয়ে যাওয়াই হতে পারে তামিল জাতির নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার স্বপ্নের একমাত্র রৰাকবচ।
_ কেবল এ দুটো খবর থেকে কোনো সিদ্ধানত্দে পৌছানো যৌক্তিক হবে না। কিন্তু আনত্দর্জাতিক বিশেস্নষকরা যখন অনুমান করেন যে শৃলংকা আবারো একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন তার পেছনে কিছু যুক্তি নিশ্চই থাকে।
তামিলরা তাদের বর্শফলা আকৃতির ভূখ-ের সার্বভৌমত্ব জিতে নিতে না পারলেও বাসত্দবিক অর্থে তারা শৃলংকা রাষ্ট্রের মধ্যেই নিজেদের একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি অনেকখানি পরিষ্কার করা যায়। তামিলদের অঘোষিত রাজধানী কিলিনোকচির রাজপথে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এখন পুরোপুরি এলটিটিই সদস্যদের হাতে ন্যাসত্দ। রাডারগান হাতে প্রহরারত তামিল সৈন্যরা গতিসীমা অতিক্রমকারী যে কোনো যানবাহনকে আটকাচ্ছে এবং জরিমানা করছে। কেউ যদি বারবার গতিসীমা লঙ্ঘন করে তাহলে তাকে সুদৃশ্য ল্যান্ড ক্রুজারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তামিল আদালতে। তাদের ব্যবহৃত গাঢ় নীল টয়োটার বনেটে সাদা হরফে লেখা আছে 'পুলিশ', দড়জায় আছে এলটিটিইর ইনসিগনিয়া। অভিযুক্তকে যে আদালতের বিচারের সম্মুখিন হতে হয়, সেখানকার প্রতিটি কর্মদিবস শুরম্ন হয় তামিল জাতীয় পতাকাকে স্যালুট জাননোর মধ্য দিয়ে।
তামিলদের নিজস্ব জাতীয় সঙ্গীত আছে। আছে জাতীয় ফুল কার্থিগাইপু (গেস্নারিওসা লিলি)। কার্থিগাইপুর বিষাক্ত ফল এলটিটিইর আত্মঘাতী স্কোয়াডের প্রতিটি সদদ্যের নিত্যসঙ্গীভ এই ফলই তাদের সুইসাইড ক্যাপসুল।
ইয়ালি (25) যখন 16 বছরের তরম্নণী, শৃলংকান সৈন্যরা তার বাবাকে হত্যা করে, বোন হয় ধর্ষিতা। ইয়ালি এখন তামিল আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য। 'নেতার নির্দেশ পেলে মাতৃভূমির জন্য আমি জীবন দিতে প্রস্তুত'_ ইয়ালির এই প্রত্যয়ী বক্তব্যে একই সঙ্গে ফুটে ওঠে ঘৃণা আর দেশের জন্য ভালোবাসা। 1983 সালে যে সংগ্রামের শুরম্ন তা সফল হলে শৃলংকার 15 শতাংশ ভূমি নিয়ে গঠিত হবে স্বাধীন তামিল রাষ্ট্র 'ইলম'। 2002 সালের সাময়িক যুদ্ধবিরতী চুক্তি তামিলদের সেই স্বপ্নের সমার্থক ছিল না। আর তাই সে চুক্তি আজো বাসত্দবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কর্নেল থেপান কিংবা এস. এলিলানের বক্তব্য থেকে এ ধরাণা হওয়া স্বাভাবিক যে এবছর ফেব্রম্নয়ারিতে ঘোষিত অস্ত্রবিরতীর স্থায়িত্বও যে খু্ব বেশিদিন হবে না। শৃলংকা সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিকদলগুলো যে নরওয়েজিয়ান মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে একমত নয় মার্কসবাদী নেতা ভিমল ভেরাভানসির বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। এ মাসের শুরম্নতেই তিনি অভিযোগ করেছেন যে নরওয়েজিয়ান প্রতিনিধিদল এলটিটিইকে আনত্দর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়ার জন্যই সময় ৰেপন করে চলেছে। আনত্দর্জাতিক চাপের মুখে এলটিটিই নেতৃবৃন্দ আলোচনার টেবিলে বসলেও তারা তাদের স্বাধীনতার দবি থেকে কখনোই সরে আসেনি। দেশের ভেতরে আরেকটি দেশ প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন ইলম রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি তারা অনেকখানি এগিয়ে রাখছে। চূড়ানত্দ বিজয়ের জন্য প্রয়োজনে আরো রক্তপাতে জড়াতে তাদের আপত্তি আছে বলে মনে হয় না।


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×