হত্যার সংবাদগুলো বেশ মনযোগ দিয়ে পড়ি না; তবুও পড়ি মাঝেমাঝে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। প্রায়শঃই দেখি একজনকে হত্যার জন্যে দুইজনের যাবজ্জীবন এবং একজনের ২ থেকে ৬ বছর জেল। বাদ বাকিরা বেকসুর খালাস। অবশ্য এসব হচ্ছে অতি সাধারণ আম-জনতার রক্তের মূল্য। বাংলাদেশে আম-জনতার জীবনের দাম?--- একেবারে সুলভ মূল্য! ’মূল্যবান’ নামিদামি লোক বা রথী-মহারথীরা যদি আম-জনতার কারোর রক্ত নেন, খুন বা গুম করেন তখন বিচারের বাণী প্রায়শঃই কাঁদে। ব্লগে দেখলাম (৪-২-১৬) তারিখে বিজয় আবাবিলের একটি লেখা ‘সুমাইয়া-হ্যাপী ক্ষমা করো আমায়, ক্ষমা করো আমাদের’ শিরোনামে। লেখাটি সত্যিই বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। মাঝে মাঝে গলা ছেড়ে চিৎকার করে বলতে খুব ইচ্ছা করে, কেন এই নিমর্মতা, কেন এই পাশবিকতা। বন্ধ করো, এই নিমর্ম খেলা। সমাজে যখন উল্টো ঘটনা ঘটে বা রথী মহারথীদের কেউ সাধারণ কারো হাতে খুন বা গুম হলে আইন গর্জে ওঠে। ঝাঁপিয়ে পড়ে অন্যায়-অবিচার রোধে! একই উপমা ধর্ষণ ও ধর্ষিতার ক্ষেত্রও। ধনী ও প্রভাবশালীদের হাতে ধর্ষিতার ইজ্জতের মূল্য হয় মাত্র কয়েক হাজার টাকা। কিন্তু প্রভাবশালী কারো ঘরের কন্যা-বোনের দিকে নজর দিলেই সমাজচ্যুতি-জুতো পেটা হয় ন্যূনতম শাস্তি।
নারীদের সম্ভ্রমের কোনো মূল্য নেই? এতোই নগণ্য মা-বোনের সম্মান! জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ মাত্রই রক্তের রং লাল হয়। রক্তের ঋণও লাল রক্তের মতোই পবিত্র। সুমাইয়া-হ্যাপীর বিচারের বাণী আজ কেন কাঁদবে? কেন আজ অপরাধীরা হায়ানার মতো দাবড়িয়ে বেড়াবে হ্যাপীর বাড়ির সামনে, কেন হ্যাপীর পরিবারের নিঘূর্ম রাত কাটাবে...... প্রশ্নগুলো আজ রেখে গেলাম এই সমাজের কাছে। তবে কি বলবো এই বিচার, এই সমাজকে হ্যাপীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত? হ্যাপী আমাদের ক্ষমা করো। আমরা তোমার জন্য একটি সুন্দর স্বপ্নযোগ্য পৃথিবী দিতে পারেনি। তাই অসহায়ের মতো বলতে হয় হ্যাপী তথাকথিত সমাজের নামে ‘এই নাও মৃত্যু তোমাকে দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




