আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যতটা দুর্নীতি চলে ততটা অন্য কিছু নিয়ে চলে কিনা জানি না ।আমি ছোটবেলা থেকে এই জিনিসটা দেখে আসছি।
আমাদের এক স্যার অংক করাতেন। তিনি বলতেন,তার নিয়মে অংক না করলে নাকি সেটা ভুল। তার নিয়মে অংক ভুল হলেও নাকি যে স্যার খাতা দেখবেন, তিনি নাম্বার দেবেন। আমি মনে করি, আপনি যদি একটা অংক ধাপে ধাপে করে মিলিয়ে দিতে পারেন তাহলে সমস্যা কি ? তিনি ক্লাস এ আমাদেরকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে দিতেন তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে ভাল নাম্বার পাওয়া যাবে না এবং না পড়লে যে কি দুর্গতি হতে পারে তা তিনি আমাদের বুঝিয়ে দিতেন। এক সময় আমাদের S.B.A(School Based Assesment)চালু হল।এতে ৩০ নাম্বার থাকত।এর অর্থ পরে আমাদের কাছে দাঁড়াল স্যার এর বাসায় এস।
প্রতি বছর আমাদের নতুন সেশন শুরু হয়।এতে এমন কোন খাত নাই যাতে টাকা নাওয়া হয় না,আর কিছু না হলে বিবিধতে ৫০০টাকা নেওয়া হয়। আর এই টাকার হিসাব আমরা তাদের কাছ থেকে কখনও নিতে পারবো না । তাদের কাছে বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা আসত এবং তাদেরকে বিভিন্ন উপঢৌকন দিয়ে যেতেন।আর যারা তাকে যত খুশি করতে পারতেন,তাদের প্রকাশনীর বই আমাদের কিনতে বলতেন। আমরা স্যারদের প্রায় প্রায় খাওয়া-দাওয়া করতে দেখতাম স্কুলে। আমরা তাদের এই টাকা-পয়সার উৎস জানতেও চাই না। কিন্তু একটা অনুরোধ স্যার আপনারা এমন দুর্নীতি করবেন না।
যে জাতির শিক্ষাক্ষেত্রে এত দুর্নীতি করে,তারা কিভাবে উন্নতি করবে।অন্যক্ষেত্রে দুর্নীতি সবার চোখে পড়ে কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে এই দুর্নীতি কারও চোখে পড়ে না ।রাজনীতিবিদদের,পুলিশদের দুর্নীতি সবার চোখে পড়ে। কিন্তু আমাদের জাতি গড়ার কারিগর এই মহান শিক্ষকদের দুর্নীতি কারও চোখে পড়ে না।
আমাদের স্কুলে শীতকালে একবার সোয়েটার নির্ধারণ করে দিলেন স্যারেরা এবং তারা আমাদেরকে দোকানের নামও বলে দিলেন ঐ দোকান থেকেই কিনতে হবে। ওনারা সোয়েটার কিনতে বলে ছিলেন ফুল-হাতা। আমাদের এক বন্ধু ফুল হাতা শার্ট পরে এসেছিল বলে তাঁকে শারিরিক ও মানসিকভাবে নিরযাতন করা হয়েছিল।সবার সামনে তাঁকে অপমানও করা হয়েছিল এবং তাকে আবার নতুন সোয়েয়টারও কিনতে হয়ে ছিল।এরকম হাজার ও দুর্নীতি চলে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


