সাহিত্য বা গল্প-উপন্যাসের বই পড়া আমাদের সমাজের একটি বিরল জিনিস । আমাদের সমাজের শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক মানুষ এই সাহিত্য নামক রসের স্বাদ আস্বাদন করেন এবং লালন করেন । কিন্তু সমাজের অবশিষ্ট বিশাল অংশ কেন এই জ্ঞানের আলো থেকে অনেক দূরে থাকেন , সেই বিষয়টি আমি আমার আলোচনায় তুলে ধরব । আমরা যে পাঠ্য পুস্তুক পাশাপাশী অন্যান্য বই পড়ে জ্ঞান আহরণ করতে পারি , এই ধারনাটি আমাদের বাবা-মা ছোটবেলা থেকে আমাদের দেন না । যার কারণে এই বিষয়টি আমরা শুধু মাত্র duties of a student composition পড়ে থাকি । তারা গল্পের বই সম্পর্কে সব সময় একটি বিরূপ ধারনা পোষণ করেন । তারা মনে করেন যে,গল্পের বই তার ছেলেমেয়ের পড়ালেখা নষ্ট হবে বা ছেলে নষ্ট হয়ে যাবে । আমিও এমন একটি পরিবারের সদস্য , যেখানে বই পড়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ । আমার গল্পের বই পড়া শুরু আমার বড় ভাইয়ের হাত ধরে । কিন্তু দেখুন আমার ভাই কে এই বই পড়তে কম কষ্ট করতে হয়নি । ও একবার লুকিয়ে গল্পের বই পড়ছিল বলে ওর হাত থেকে বইটা নিয়ে আমার বাবা পুড়িয়ে ফেলেছিলেন । তারপরও ওর বই পড়া নেশাটা কখনও কাটেনি । ও যখন কলেজে পড়ত,তখন আমার বাবা ওঁকে কিছু টাকা দিত টিফিন খেতে । ও সেই টাকা থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে লুকিয়ে বই কিনত । এরপর বেশ কয়েক বছর পর আমার পরিবারের দৃষ্টি ভঙ্গির কিছুটা পরিবর্তন আসে । আমার ভাইকে পড়তে দেখে আমিও উৎসাহিত হই এবং গল্পের বই পড়তে শুরু করি । আমি ভাবলে খুব অবাক হই , যখন দেখি আমার ক্লাসের এক দুজনও নেই যে গল্পের বই পড়ে । আমি বর্তমানে রাইফেলস পাবলিক কলেজে পড়ি । তো আমাদের কলেজ লেভেলের জন্য ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ বইটা নির্বাচিত করা হয়েছে । তো এই বইটা কিনে আমার এক বন্ধু , আমার কাছে এসে বলল, ‘দোস্ত , বইয়ের সামনে যে উৎসর্গ লেখা থাকে, এটা কি ???” দেখুন একজন কলেজে পড়া ছাত্রের অবস্থা । ওঁকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম এটা নাকি ওর জীবনের প্রথম উপন্যাস । আমাদের এই যে অবস্থার জন্য আমাদের পরিবার যতটা দায়ী, শিক্ষা ব্যবস্থাও ততটা দায়ী । যেখানে সারা দিন প্রাইভেট আর কলেজে করতে করতে আমাদের সময় যায় , সেখানে আমাদের সময় কোথায় গল্পের বই পড়ার । আমাদের শিক্ষকেরা আমাদের হাতে যদি গল্পের বই দেখেন , তাহলে মনে হয় বোমা দেখছেন । তারা এইটা বলতে পারেন যে , তোমরা অবসর সময় গল্পের বই পড়তে পার । এভাবে উৎসাহিত না করে তারা উল্টো নিন্দা করেন সেই ছাত্রের । যাই হোক, আমি এখন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কলেজ পর্যায়ে বইপড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছি । তাতে আব্দুর নূর তুষার উপস্থিত ছিলেন । সবচেয়ে মজার ব্যপার কি জানেন এই কর্মসূচিতে মাত্র ১৫০ জন ছাত্র–ছাত্রী অংশ গ্রহণ করছে । এজন্য ঢাকার প্রতিটি কলেজে campaign করা হয়েছে । অবশিষ্টরা কোথায় ?????? তারাও কেন এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেনি !!!!!!!! কেননা তাদের মধ্যে গল্পের বই পড়ার এই মানসিকতাটা ছোট বেলা থেকে তৈরি করা হয়নি । এজন্যই হয়তো তারা এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করার আগ্রহ বোধ করেনি ।তো আপনারা যারা আভিভাবক বা বড় ভাই তারা আপনাদের সন্তান বা ছোট ভাই কে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন এবং এ সকল কাজে উৎসাহিত করবেন । পরিশেষে একটা জিনিস বলবো আমরা অবশ্যই পড়ালেখা নষ্ট করে গল্পের বই পড়ব না ।
আসুন আমরা জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হই এবং অন্ধকারকে দূর করে সমাজটাকে বদলে দেই

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


