কিছু কথা বলব...
যার যেভাবে ইচ্ছা নিবেন এটা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব মতামত।
-গতকাল "প্রথম আলো" তে খবরে দেখলাম নারায়ণগঞ্জে এক এলাকায় রাস্তার পাশে ঝোপের আড়ালে চোখ বাধা তিনটি লাশ উদ্ধার। পুলিশের ধারনা তাদের গুলি করে মারা হয়েছে।
-সাগর রুনি হত্যার ২৬৬ দিন ২০ ঘন্টা ৬ মিনিট... খুনির এখনো পর্যন্ত কোনো হদিস নেই।
-বিশ্বজিৎ এর মা এখনো ছেলের ছবিটা বুকে ধরে কাঁদছে। খুনিদের এখনো বিচারের নাম নেই। নিষ্পাপ এক ছেলে রাজনীতির সাথে যার কোনোরকম সম্পর্ক নেই তার রক্তে কেন রাজপথ রক্তাক্ত হলো ?
-আর এখনতো খবরের কাগজ খুলব অথচ কোনো ধর্ষনের খবর চোখে পড়বে না ব্যাপারটা কেমন দেখায়। স্কুল ছাত্রী ধর্ষন, ধর্ষনের পর হত্য্ মাদ্রাসার ছাত্রী গণ ধর্ষণ, বিয়ে বাড়ি থেকে মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে ধর্ষণ...
এখন একটু চিন্তা করে দেখেন রাজাকাররা একাত্তরে কী কী করেছিল। নিরীহ মানুষ হত্যা, সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী হত্যা, ধর্ষণ... যদিও আমি মাত্র কয়েকটা ঘটনা উল্লেখ করেছি তবুও রাজাকারের সব কর্মকান্ডই সবই বিদ্যমান উপরের ঘটনাগুলোতে। একাত্তরে জরীপ অনুসারে ৩ লক্ষ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছে। আর গত ২-৩ বছরের জরীপ নিলে হয়তো ৩ লক্ষও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এতক্ষণ বক বক করার উদ্দেশ্য হল আজ লাখ মানুষ স্লোগান মিছিল দিচ্ছে শাহবাগে "রাজাকারের ফাঁসি চাই" বলে। আজ আমার এলাকার এক পরিচিত ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আমি শাহবাগে যাবো কিনা। আমার "না" উত্তর শোনায় তার কাছে আমি রাজাকার হয়ে গেলাম। আমি এখন তাই দেশকে ভালবাসি না শাহবাগে যাবো না বলে। একটা প্রশ্ন করতে চাই আজকের প্রজন্ম কোথায় ছিল এক মা যখন ছেলের লাশ বুকে ধরে বুক ফাটা আর্তনাদ করছিল ? ছোট শিশুটা যখন মা-বাবার লাশের পাশে বসে অঝোরে অশ্রু ফেলছিল তখন আমরা কোথায় ছিলাম ? আমাদের এক বোন যখন ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে পুলিশের হাতে লাঞ্চিত হল তখন আমরা কোথায় ছিলাম ?
মাত্র ৭ জন রাজাকারের ফাঁসির দাবীতে এতো গণ মিছিল স্লোগান, তখন দেশের আনাচে কানাচে যেসব কুত্তার আজও আমাদের রক্ত চুষে খাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কী আন্দোলন চলতে পারে না...
রাজাকারের বিচার আমিও চাই মনে প্রাণে কিন্তু এমন ছেলে মেয়ের সংখ্যাও কম না যারা শুধু ক্যামেরায় নিজের মুখটা দেখাতে আর আমোদ ফূর্তি করার জন্য মিছিলে গিয়েছে। আন্দোলন চলুক চলবে কিন্তু কোনো রাজনৈতিক শক্তি দ্বারা যেন তা প্রভাবিত না হয়। আওয়ামী লীগ নেতারাও দেখি আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে। সবার উচিৎ লাথি মেরে তাদের তাড়ানো। বিচারের অঙ্গীকার দিয়ে আধা আধি কাজ করে এখন রাস্তায় নেমেছে জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য। আর বি এন পি তো আউট অফ সিলেবাস। সব দলই কাজ করে শুধুমাত্র দলীয় সার্থে। আমাদের উচিৎ সব বর্জন করা।
এই আন্দোলন শুধু যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিৎ না। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তৃতীয় কোনো শক্তির যদি উত্থান হয় তবেই এই আন্দোলন সার্থক হবে বলে আমি মনে করি...
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



