somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

2nd Part

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে আমার লেখার দ্বিতীয় পর্ব post করছি ৷ প্রথম পর্বের পরে I have received really very good feedback from you guys. Thanks for all comments. Your interest keeps me motivated to continue this post. এই পর্বে কনকের মোটামুটি একটা পরিচয় পাওয়া যাবে ৷ এছাড়া আরো কিছু চরিত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাবে ৷ প্রথম দৃষ্টিতে এসব চরিত্রের মাঝে সরাসরি যোগাযোগ খুঁজে না পাওয়া গেলেও, এক পর্যাএ দেখা যাবে এরা সবাই এক সূত্রেই গাঁথা ৷ আরকেটা কথা না বললেই না ৷ এ লেখার সব চরিত্র, সব ঘটনাই একেবারে কাল্পনিক ৷ বাস্তবের সাথে কোথাও যদি কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায়, তবে তা হবে একেবারেই কাকতালীয় ৷

কনক ইউনিভার্সিটি ছেড়েছে আজ প্রায় সাত বছর হোয়ে গেল ৷ দেশে আর ফেরা হয় নি ৷ আস্তে আস্তে নিউজিল্যান্ডের ক্রিয়েটিভ ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রির একজন ওতপ্রোত সদস্য হোয়ে গেল ও ৷ আজ কনক Q24 নামের এক নামজাদা প্রোডাক্ট ডিজাইন কোম্পানির Senior Portfolio Manager ৷ ওর পোর্টফোলিওতে আছে Shangri-La, Nike আর Charlie's এর মত পৃথিবী বিখ্যাত সব কোম্পানি ৷ কাজের প্রোয়োজনে ওকে ঘুরে বেড়াতে হয় মেলবোর্ন, হংকং, সিঙ্গাপুর আর সানফ্রান্সিসকো ৷ এই ঘোরাঘুরির মাঝে ঢাকা ঘুরে আসতে অবশ্য ও ভুল করে না ৷ প্রতিবছর মায়ের সাথে একবার দেখা না করলে কনকের বুকের ভেথর উথালপাথাল শুরু হয় ৷

"হাই কনক", কথাগুলো কোথা থেকে ভেসে আসলো বুঝতে পারল না ৷
"তোমাকে ফোনে ধরতে পারছি না কেন ?", এবার ডান দিকে তাকাতে কনক দেখতে পেল পাশের গাড়ি থেকে একটি ছেলে ওর দিকে হাত নাড়ছে ৷
দিনের এসময়টাতে স্ট্যানলি স্ট্রীটের মুখে পোর্টের দিক থেকে আসা বড় বড় ট্রাকগুলো ভিড় করে বলে ট্রাফিক খুব আস্তে হোয়ে যায় ৷ তাই চলন্ত গাড়ি থেকে কথা বলতে অসুবিধা হলো না ৷ ছেলেটার নাম জো, কনকের পুরনো অফিসের সহকর্মী ৷
"গতকাল আসিফের ইমেইল এসেছে ৷ মনে হয় ও কিছু ঝামেলায় আছে ৷"
অনেকদিন পরে আসিফের নাম শুনে কনক কেমন যেন আনমনা হোয়ে গেল ৷ ও আজো আসিফকে ঠিকমত চিনতে পারল না ৷ আসিফের সাথে কনকের পরিচয় সেই কবে ও যখন ইউনিভার্সিটিতে সেকেন্ড ইআরএ পড়ে ৷ এক গ্রীষ্মের আলো ঝলমলে দিনে বন্ধুদের সাথে Quad এর চত্তরে বসে কনক কফির কাপে চুমুক দিচ্ছিল ৷ এমন সময় হঠাত করে ঝাকড়া চুলের চশমা পরা একটি ছেলে এসে জিগ্গেস করলো "তুমিকি বাংলাদেশী ?"
অবাক হোয়ে কনক জানতে চাইল "আপনি জানলেন কি করে ?"
আসিফের থতমত খাওয়া উত্তর "না মানে, তোমাকে সেদিন AUT র সামনে বাস স্টান্ডে বসে সৈয়দ শামসুল হকের - নিষিদ্ধ লোবান - বইটা পড়তে দেখেছিলাম ৷ আমার বাসটা এসে যাওয়াতে আর তোমাকে জিগ্গেস করতে পারি নি ৷"
এবার কনক হেসে ফেল্ল ৷ "ঠিক ধরেছেন, আমি ঢাকার মেয়ে ৷ আপনি ?"
"আমিও বাংলাদেশের, তবে ঠিক ঢাকার না ৷ ছোটবেলা কেটেছে যশোহরে তারপর চিটাগং ৷"

কথা তারপর আর বেশিদূর এগোইনি ৷ কিন্তু এরপরে আসিফের সাথে কনকের বিভিন্ন সময়ে দেখা হয়েছে ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসএর নানান জায়গায় ৷ কখনো আর্ট সপ Gordon Harris এ, বা কখনো তার পাশের Starbucks কফি সপে, বা কখনো Quad এর চত্তরে ৷ আসিফ তখন আর্কিটেকচারএ graduation করছে ৷ খুবই হুল্লোরবাজ একটু পাগলাটে টাইপের ছেলে ছিল আসিফ ৷ কিন্তু একদিন কোথায় জানি ও হারিয়ে গেল কাউকে কিছু না জানিয়ে ৷ অনেকদিন পরে কার কাছথেকে যেন শুনেছিল ও বাংলাদেশে ফিরে গেছে ৷ আসিফের কথা ভাবতে ভাবতে কনক কখনযে Parnell এর বুটিক সপগুলো পেরিয়ে গেল বলতে পারবে না ৷ তখনি মনে হলো মার্থার জন্য কিছু কিনতে হবে ৷ আগামীকাল ওর জন্মদিন ৷ মার্থা সাউথ আইল্যান্ডএর মেয়ে ৷ দুবছর আগে Christchurch এর ভূমিকম্পের পরে ও অকল্যান্ড চলে আসে ৷ মার্থা এখন কনকের ডিজাইন টিমের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সদস্য ৷ ওর মত এত সহজ সরল আর প্রতিভাবান একজন মানুষ কনক আর কখনো দেখেনি ৷ এই সোজা সরল মেয়েটি যখন প্রথম অকল্যান্ডের মতো বড় শহরে এসে হাবুডুবু খাচ্ছিল তখন কনক ওকে অনেক সাহায্য করেছে ৷ ওর জন্য বাড়ি খুঁজে দেওয়া, বাসের টাইমটেবিল বুঝিয়ে দেওয়া থেখে অনেক কিছুতেই কনক ওকে যতটুকু পেরেছে সাহায্য করেছে ৷ সেজন্য মার্থারো কনকের জন্য অন্যরকম একটি দূর্বলতা আছে ৷

মার্থার জন্মদিনের গিফট মিস করলে হবে না ৷ গাড়ির গতি বাড়িয়ে কনক ছুটল সামনের 277 শপিং সেন্টারের দিকে ৷ আকাশের মেঘ তখন হালকা হতে শুরু করেছে, আর গাড়ির MP3 প্লেয়ার থেকে ভেসে আসছে গার্গী ঘোষের সুরেলা কন্ঠে -- মেঘ বলেছে যাব যাব --- রাত বলেছে যাই --- সাগর বলে কূল মিলেছে --- আমি তো আর নাই ----- ৷
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×