
সকাল সকাল বিকট শব্দ শুনে ঘুম ভাঙ্গে গেলো । ঘুমের মধ্যে চমকে উঠলেও একটু পরে বুঝতে পারলাম , বাসার পাশে থাকা বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ব্লাস্ট করেছে । এমনটা প্রায়ই হয় । বিশেষ করে গরমের দিনে । তাই গা সওয়া হয়ে গেছে । বিষয়টা স্বাভাবিক ভাবে নিয়ে , বালিশের পাশে রাখা মোবাইলের ঘড়িতে দেখলাম, ৬ টা বাজে ১৫ মিনিট। অফিসের জন্য বের হই সাড়ে আটটায় , তার মানে হাতে এখনো সময় আছে , দু'ঘণ্টার ও বেশি । তাই পাশ বালিশ জড়িয়ে ধরে পাশ ফিরে শুতে শুতেই ঘুমের রাজ্যে চলে গেলাম।
আমি হচ্ছি, স্বপ্ন প্রিয় বা স্বপ্নবাজ মানুষ । জেগে থাকতেও স্বপ্ন দেখি, আবার ঘুমিয়ে গেলে তার চেয়েও অনেক বেশি স্বপ্ন দেখি । আমার জীবন কাটে স্বপ্নে স্বপ্নে । স্বপ্নরা আমার ভেতরে কিলবিল করে । অনেক দিন এমন ও হয় যে, শুধুমাত্র স্বপ্নে দেখার জন্য কাজ কর্ম ফেলে আমি সকাল সকাল ঘুমাতে যাই । সে এক অন্য জগত । অন্য এক নেশা ।
মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে এ নিয়ে এক সময় বিস্তর লেখা পড়া করেছি । কিন্তু যে লাউ,সেই কদু । পৃথিবীর কোন লেখক ই, "মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে এ নিয়ে একমত হতে পারেনি ।" একেক জনের একেক ব্যাখ্যা । আমার নিজের ও এ নিয়ে বিস্তর ব্যাখ্যা আছে । তবে মোটামুটি একটা কথা সবাই বলেছেন, সেটা হচ্ছে, মানুষ জাগ্রত অবস্থায় যা ভাবে তাই নিয়ে সে স্বপ্নে দেখে । এই ভাবনার গভীরতা যতো বেশি হয় , সেটা নিয়ে স্বপ্নে দেখার সম্ভাবনাও ততো বেড়ে যায় । তবে এখানেও প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে যা আমরা ভাবি না তা কেন স্বপ্নে দেখি ?
এ নিয়ে ক্যাচালের কোন শেষ নাই ।
আমরা রুমটা তিন তলার কর্নারে । রাস্তার পাশে বাড়ি হওয়ায় পথচারিদের কথাবার্তা, পায়ের শব্দ থেকে শুরু করে রিকশার টুংটাং ঠুনঠুন সবই শোনা যায় । কিছু সময়ের মধ্যেই কা কা কা শব্দে ঘুমের ১২ টা বেজে গেলো । বুঝতে পারলাম , কাক মারা পরেছে। বিদ্যুতের তারে কাক বসলেই এমনটা হয় । এখন আর ঘুমানো যাবে না । কেউ মৃত্যু শোকে বিলাপ করবে আর কেউ আরামে লেপ মুরি দিয়ে ঘুমাবে এটা কি কখনো হয় ? বিছানা ছেড়ে চাদরটা শরীরে জড়িয়ে নিয়ে দরজা খুলে বারান্দায় এসে দাড়ালাম । সাথে সাথে ঠাণ্ডা একটা পরশ এসে জড়িয়ে ধরল । ক দিন বেশ ঠাণ্ডা পরেছে । রুমের ভেতরে থাকলে এতোটা বোঝা যায় না ।
সকালটা ক্যামন গুমট হয়ে আছে । চারিদিকে কুয়াশ কুয়াশা ভাব । আকাশ যেনো থম মেরে ভাবুক হয়ে আছে । অন্যদিন এ সময় সূর্য উঠে যাবার কথা । হাতের দশ গজের মধ্যে থাকা রাস্তার ওপাশের ট্রান্সফর্মারের পিলারের দিকে চোখ যেতেই দেখতে পেলাম , একটা কাক মরে রাস্তায় পরে আছে । আশেপাশের বাড়ির ছাদের কার্নিশে বসে বেশ কয়েকটি কাক কা কা স্বরে বিলাপ করছে । কাকের মৃত্যুতে অন্য কাকদের এই অনুভূতির প্রকাশ আমাকে ছোট বেলা থেকে নাড়া দেয় ।
এটা নিয়েও এক সময় অনেকে ভেবেছি , বারান্দায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে কাকদের সাথে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে জানতে চেয়েছি, ওরা কি স্বগোত্রীয় কারো অপ-মৃত্যুতে প্রতিবাদ করে বিচার চায় নাকি শুধুই বিলাপ করে শোক প্রকাশ করে ? স্বগোত্রীয় ! শব্দটাই ক্যামন আপন আপন , তাই না ?
আজ মেজর সিনহা হত্যা মামলার রায় হবে । কেন যেনো মনে হচ্ছে, শত শত মানুষ হত্যাকারী, খুনি, দুর্নীতিবাজ, অবৈধ ভাবে ভারতে অর্থ পাচারকারী পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপকে যাবত জীবন রায় দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হবে । সেটা হলে কি কারো জন্য ভাল হবে ? আমার অনুমান অবশ্য কোন সময়ই ঠিক হয় না । এ ব্যাপারে আমি একদম কাচা । আর যদি আমার অনুমান সঠিক হয়ে যায়, "তাহলে কি সেটা পুলিশ,সেনাবাহিনী, জনগণ তথা রাষ্ট্র কারো জন্য ভালো হবে ?" প্রদীপদের বাচিয়ে রেখে তার নিচে মুক্ত খুজে কারা লাভবান হবে বলুন ?
কাকেদের মধ্যে ইউনিটি কি ষ্টং , তাই না ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


