
সিরিয়ার কোবানি শহরে-
আয়লানদের ছোট্ট বাসায়-
উপুড় হয়ে, দু’হাত উল্টে,
লাল জামা গায়ে,
নরম তুল-তুলে বিছানায়,
অঘোরে ঘুমায় বছর তিনেকের আয়লান;
পাশে দু’বছরের বড় গালিব,
শুধু মা (রেহানা) জেগে রয়,
আবদুল্লাহ যে ফেরেনি এখনো!
অন্ধকার ঘরে,
কালো বিড়ালের চোখ জ্বলে,
কি অজানা ভয়ে,
রেহানার হাত-পা হিম হয়ে আসে।
কামানের গোলার শব্দে,
কেঁপে উঠে আয়লানদের বাসা,
কেঁপে উঠে মার বুক,
কেঁপে কেঁপে উঠে আয়লানের ছোট্ট দেহ;
পরম মমতায়,
মা তাকে বুকেতে জড়ায়,
কখন অজান্তে ঘরে ফেরে আবদুল্লাহ্,
হাতে করে খাবার প্যাকেট।
রাত বাড়ে,
গোলা পড়ে,
আয়লান-গালিব উঠে পড়ে,
অভিশপ্ত রাতের পরে,
ওরা ঘর ছাড়ে।
কোবানি থেকে তুরস্ক,
একটা ছাদের জন্য,
একটা বিছানার জন্য,
আবদুল্লাহ মরিয়া হয়ে উঠে-
আরব-অনারব কেউ রাজী নয়,
ওদের জায়গা দিতে।
বেপরোয়া আবদুল্লাহ,
পরিবার নিয়ে নৌকায় উঠে,
চলেছে গ্রীসের কস্ দ্বীপে-
রাতের আধাঁরে।
সাগর ফুঁসে উঠে,
মাঝি সাগরে ঝাপ দেয়;
আবদুল্লাহ হাল ধরে,
কিন্ত্ত হায়!
আয়লান-গালিব হাত ফসকে হারিয়ে যায়-
হারিয়ে যায় প্রিয়তমা স্ত্রী-
সাগরের অতল জলে।
কেউ ওদের নিতে চায়নি,
সাগর আয়লানদের বুকে টেনেছে-
আকাশ ছাদ হয়েছে,
বালুকা বেলা হয়েছে বিছানা;
অভিমানে বালিতে মুখ গুঁজে,
আয়লান জানিয়ে দেয়-
“ধিক্ মানবতা, ধিক্” !!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


