
#রম্য_রচনা
মফিজ মিঞাকে চিনিতে পারিতেছেন? ফেক আইডির এই যুগে উনাকে চেনাটা একটু মুস্কিল । তবে উনার একটা বৈশিষ্ট্যের কথা বলিলে আপনারা সবাই উনাকে বিলক্ষণ চিনিয়া ফেলিবেন । উনি বিবাহিত এবং গিন্নির হালকা-মাঝারি-ভারী খোটা খাইয়া অভ্যস্ত । সেদিন সন্ধ্যায় অফিস হইতে গৃহপালিত দুপেয়ে জীবের মত যথারীতি বাসায় ফিরিয়াছেন । মুখ-হাত ধুইয়া টেবিলে বসিয়াছেন মৃদু বা ভারী খোটাসহ গিন্নির এককাপ চায়ের জন্য । ওমা, মফিজকে অবাক করিয়া দিয়া একগাল হাসিয়া মফিজ গিন্নি চা আগাইয়া দিলেন । মফিজ একটু ভিরমি খাইলো । না জানি গিন্নি আবার কী আব্দার করিয়া বসে । ভয়ে ভয়ে মফিজ মুখে মেকি হাসি ফুটাইয়া তুলিয়া গিন্নির সাথে আলাপ চালাইয়া যায় ।
চা পর্ব শেষে মফিজ সেদিনের দৈনিক ইত্তেফাক নিয়া বসার জন্য উঠিয়া পড়ে । কোথাও পত্রিকাটি না পাইয়া রান্নাঘরে গিন্নির স্মরণাপন্ন হয় । সাথে সাথে গি্ন্নির মুখ ঝামটা, “আমি কী পত্রিকা নিয়া বসিয়া থাকি? আমার আর কোন কাজ নাই ।“
মফিজ বিরস বদনে ঘরে ফিরিয়া আসে । কী আর করা ! কিছু এমবি খরচ করিয়া সে মোবাইলের নেট ঘাটিয়া সেদিনের ইত্তেফাক পঠনে মনোনিবেশ করিল । শেষ পৃষ্ঠায় অন্যরকমে আসিয়া তাহার চক্ষু চড়ক গাছ । খবরের হেড লাইন, “বউয়ের যন্ত্রণায় জঙ্গলে বসবাস” ।
জনৈক ইংল্যান্ডবাসী ম্যালকম বউয়ের খোটার জ্বালায় অতিষ্ঠ হইয়া জঙ্গলকে আপন আবাস বানাইয়া মহাসুখে দিনাতিপাত করিতেছে ।
খবরটি পাঠ করিয়া মফিজ পত্রিকা হঠাত করিয়া নিখোঁজ হইবার এবং খোটা ছাড়া চায়ের যোগসূত্র আবিষ্কার করিয়া নিজের মনেই খানিকক্ষণ হাসিয়া লইলো । বুকের ভিতরে মিউঁ মিউঁ করা বিড়ালটি যেন মুহুর্তের মধ্যেই রয়েল বেঙ্গলের মত গর্জিয়া উঠিল । একবুক সাহস লইয়া মফিজ রান্না ঘরে উঁকি দিল সহাস্য বদনে ।
তাহাকে দেখিয়া গিন্নি বিরক্ত গলায় বলিল,
- এত হাসির কী হইল?
- না কিছু না । অনলাইনে আজকের ইত্তেফাকটি পড়িলাম ।
চোখ গরম করিয়া গিন্নি,
- যেন দেশ উদ্ধার করিয়া ফেলাইয়াছো?
- না, তাহা নয় । তবে ভাবিতেছি সুন্দরবনে যাইয়া বাকী জীবনটা কাটাইয়া দিব ।
মফিজের ধারণা ছিল এই কথার পর গিন্নি তাঁহাকে অনুনয়-বিনয় করিয়া কিছু বলিবে । কিন্তু মফিজ গিন্নি উল্টা ঝাড়ির সুরে বলিল,
- যাও, কিন্তু আর ফিরিতে পারিবা না ।
- হ্যাঁ, আমি তো না ফিরার জন্যই যাইতেছি ।
- রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র যে হইবে সে খবর জানো?
- জানি ।
- সুন্দরবন জঙ্গলের আয়ু আর কয় দিন । তারপর কই থাকবা?
মফিজ শুষ্ক মুখে ঘরে ফিরিয়া আসে ।
কিন্তু মফিজ মিঞা দমিবার পাত্র নহে । সে ম্যালকমের সহিত অনলাইনে যোগাযোগ করে । তাঁহাকে বাংলাদেশের সুন্দরবনে এক সপ্তাহ কাটাইয়া যাইবার জন্য অনুরোধ করে । কিন্তু ম্যালকমের কাছে এত আমন্ত্রণ আসিতেছে যে উনি সিডিউল দিতে প্রথমে অপারগতা প্রকাশ করিলেন । তখন বাধ্য হইয়া মফিজ বাঙালি কায়দায় কিছু তৈল মর্দন করিল । অগত্যা ম্যালকম রাজী হইল তবে তাঁহার পিএস বাগড়া দিল - সে ম্যালকমের মনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ভীতি ঢুঁকাইয়া দিল । মফিজ সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-দক্ষিন আফ্রিকার ক্রিকেট খেলার ফলাফল বিস্তারিত জানাইয়া পিএস এবং ম্যালকমকে এই বলিয়া আশ্বস্ত করিল যে, টাইগারের নখ-দন্ত ভোতা হইয়া গিয়াছে । ম্যালকম রাজী হয় তবে একদিনের জন্য । মফিজ মিঞা তাঁহার মফিজীয় বুদ্ধি দিয়া ইহা আগেই বুঝিতে পারিয়া ছিল যে, কামান চাহিলে পিস্তল পাওয়া যায় । আরও একটা মুস্কিল হইয়াছে, ম্যালকম শর্ত জুড়িয়া দিয়াছে কোন নারী সেখানে থাকিতে পারিবে না । মফিজ নিরুপায় হইয়া আমার শরণাপন্ন হয় । আমি তাঁহাকে অভয় দেই যে, আমি Men’z Only গ্রুপের একজন সদস্য । আমি এডমিনকে অনুরোধ করিয়া সকলকে এই আয়োজনে শরীক হইতে বলিব ।
সুতরাং কোন এক লাল শুক্কুর বারে আমরা Men’z Only গ্রুপের সদস্যরা সুন্দরবনে একত্রিত হইয়া ম্যালকমকে সংবর্ধনা দিব । বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলিব “দুনিয়ার খোটা খাওয়া পুরুষ, এক হও।“
বি: দ্র: - Men’z Only গ্রুপের সদস্যদের প্রত্যেককে অনুরোধ করা যাইতেছে যে, গিন্নির মিষ্টি কথায় গদ গদ হইয়া ভুলেও ম্যালকমকে সম্বর্ধনার প্রোগামটি বলা যাইবে না ।
মো: শামছুল ইসলাম
তাং: ২৫/১০/২০১৭ ইং
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



