হলুদ রঙ আমার পছন্দ নয়, কিন্তু-
সবুজ ঘাসে ছাওয়া, মাঠের সামনের ওই হলুদ রঙের বিল্ডিংটা,
আমার খুব, খুব প্রিয় ।
.
আজিমপুর থেকে বাসে মিরপুর রোড ধরে এগুলে,
হাতের ডানে, পুবে – চোখটা আমার যাবেই,
মনটা আমার ঘুরে আসবেই-
শৈশব, কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে আসা,
বারোটা হলুদ বিল্ডিং নিয়ে একসময়ে গড়ে ওঠা,
গ্রীণরোড স্টাফ কোয়ার্টারের চারপাশটা ।
.
সবুজ খেলার মাঠ, রাস্তা পেরিয়ে,
খোকা ভাইদের আম গাছ ওয়ালা একতলা বাড়িটা পেরিয়ে,
কলোনীর শেষ মাথায়, বারো নম্বরে শামীমদের বরই গাছটা পেরিয়ে,
গ্রীণরোডের রাস্তার ধারের ভোজন বিলাস হোটেলে এসে,
কোণার চেয়ারটায় গা এলিয়ে বসে,
ডালপুরি আর চায়ের অর্ডার দেবোই – কল্পনায় ।
আড্ডায় মেতে ওঠি বন্ধুদের সাথে,
কথার ফুলঝুরি ছোটায় শাকিল, পুরনো দিনের মতো,
লুৎফর-বকর-রাজিব-আমি, তাল দিয়ে যাই ওর সাথে;
প্রবাসী বন্ধুরা, মহসীন-হিল্টন-সদন-শামীম-বাবু, ঢুকে যায়
অজান্তে সেই আড্ডায় ।
.
কখনো আসে ১৯৯৯ সালের ভয়াল সেই রাতের কথা, যেদিন
কলোনীর মিলন কেন্দ্র কমিউনিটি সেন্টারে,
ঘাতকের বুলেটের আঘাতে, রক্তের সাগরে গড়াগড়ি
দিয়েছিল হিরু-বাচ্চু, তলপেটে বুলেট লেগেছিল লিটনের,
প্রাণ ভয়ে, আতঙ্কে ভাষা হারিয়ে ফেলেছিল,
দোতলায় কোণার রুমটায় আড্ডায় উপস্থিত দশ-বারোজন যুবক ।
.
বাচ্চুর ছোট্ট ছেলেটা কেঁদেই চলেছে, ওর জন্মদিনের কেকটা কিনে
রেখে বাচ্চু সেই যে গেল, এখনো এলো না;
ভাবী ছেলেকে শান্ত করতে ব্যতিব্যস্ত,
খালাম্মা-খালু রাগ করেন বাচ্চুর আড্ডাবাজিতে,
এই আড্ডাবাজিই যে শান্ত-ভদ্র ছেলেটার কাল হবে,
কে জানতো? কে জানতো ছোট্ট ছেলেটার জন্মদিনটা
প্রতি বছর আসবে একরাশ কান্না নিয়ে!!!
.
সাহসী, প্রতিবাদী, নির্ভীক হিরু আর ফেরেনি,
বাচ্চু ফিরেছে মৃত্যুর নিষ্ঠুর থাবা থেকে, কিন্তু হারিয়েছে
চলার শক্তি স্পাইনালে বুলেটের আঘাতে,
হুইল চেয়ার এখন ওর নিত্য সঙ্গী,
অমায়িক হাসিতে ভরা আজও পাই ওকে ফেসবুকে,
ওর বেদনার কথা কতটুকুই বা জানি ।
.
আলরাজী হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে, বড্ড অসময়ে,
অদ্ভুত ভাবে না ফেরার দেশে চলে গেল লিটন-
রিকশাওয়ালাকে ও কখনো টাকা গুনে দিতো না,
হোটেলের মামুরা ও আসলে খুব খুশি হতো,
কারো বিপদে ও আর হিরু, এগিয়ে যাবেই,
শুধু বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-পড়শী নয়, চোখের জলে
ভেসে ছিল খেটে খাওয়া মানুষগুলো ও ।
.
লিটনের আম্মার ইলিশ পোলাওয়ের কথা,
কোন দিন ভুলার নয়, ভুলার নয় ওর মায়ের
আদরের কথা, ওর সদাহাস্য ছোট ভাই বাবুর কথা ।
.
এতো মায়া, এতো ভালোবাসা, সব ছেড়ে
কেমন অবলীলায় হিরু-লিটন মানিক জোড়,
চলে গেল সবাইকে কাঁদিয়ে,
না ফেরার দেশে,
বলবে না দরাজ গলায় হেসে,
-ওই মামু, চা লাগাও, সাথে গরম গরম পুরি!!!
.
মো: শামছুল ইসলাম
ঢাকা
তাং-১২/১২/২০১৭
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




