somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কলুষিত সমীরণ ও একটি নিভু নিভু সন্ধ্যা-প্রদীপ

০৪ ঠা জুন, ২০১৩ রাত ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখানে ওখানে শষ্যের শ্যামলীমা, জীবনের আবেদনে অপার এক বিশালতা; যেন পটে আঁকা ছবি, কোথাও কালিমা নেই তার, নেই কোন মুছে যাওয়া অশ্রুর রেখা; তাকিয়ে থাকতে হয় অবাক সম্মোহনে, চকচক করে চোখ, বিস্ময়ে, মুগ্ধতায়।কি যেন আছে এতে! এই ধানের কচিপাতার আবছায়ায়, ঘরে ফেরা পাখির ডানায় আর দিগন্তের ঐ বর্ণীল আলপনায়;কিন্তু কি সেটা?ওহ!কি সেটা? কাকে যে শুধাই,আচ্ছা পেয়েছি,অ্যাই যে শালিক,শালিক ভাই, হ্যাঁ হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি, এদিকে শুনে যাও,কি বাপু!খাচ্ছ-দাচ্ছ,ঘুরছো যে বড়! তুমিই বলো,কি সেটা? হ্যাঁ, মায়া; মায়াময় এ পৃথিবী।

ওপরে নিঃসীম নীলাকাশের হাতছানি আর নিচে? এ মূহুর্তে বিশাল বিস্তীর্ন মাঠ, ধানক্ষেত।তারই এক আইলে বসে আছে একটি কিশোর; চিন্তাযুক্ত চেহারা, কপালে ভাজঁ। বিশ্বসভ্যতা, সমাজকাঠামো, জীবন, মানুষ, সত্যঅনুসন্ধান উঁকি-ঝুঁকি দিয়ে যাচ্ছে ওর মনের আঙ্গিনায়।কিন্তু, ওরা বড্ড দুষ্টু!,চপল কিশোরী বালিকার চেয়েও দুষ্টু, শুধু উঁকি-ঝুঁকিই দেয়,ধরা দেয়না পূর্নাঙ্গ, প্রাঞ্জল হয়ে।আলো-আঁধারির কিশোর মন ওর, মস্তিষ্কে প্রশ্নের জাল। ও ভাবছে……………….

আকাশটা কত বড়, কত বিশালই না তার বিস্তৃতি; অদ্ভুত কৌ্তুহলী এক ভূবন। আর তার নিচে প্রানী-বৈচিত্রের কোন শেষ নেই। সবচেয়ে বিচিত্র হয়ত মানুষই।বর্নালীর রংযের ছটা তার মস্তিষ্কের প্রতিটি সিনাপ্সে। যারা ভাঙ্গে, দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে পৃথিবী, সৃষ্টি করে কাল-অধ্যায়ের; আপন খেয়ালে। ঠিক তখন, জেগে ওঠে বাবুই পাখির মত কিছু মানুষ; যারা আবার গড়ে তোলে ঢঙে,নতুন ছাঁচে। সেই মানুষ একদিন এই পৃথিবীকে ভেবেছিল শুধু খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকার উপকরণ। তারপর বয়ে গেল কত জল; কত লিখিত-অলিখিত জীবনসংগ্রাম, কত যুদ্ধ,মৃত্যু, আর আত্নত্যাগ। বিবর্তনের সিঁড়ি বেয়ে, মানব সৃষ্টিশীলতার উৎকর্ষে মা্নুষ আজ একবিংশ শতাব্দীতে উপনীত। যাকে বলা হচ্ছে “পোস্ট মডার্ণ এজ”;কিন্তু আসলে কি রঙিন জীবনের আহ্বানে , তথাকথিত আধুনিকতার জোয়ারে মানুষ তার নিজস্ব সত্তাগুলোকে হারিয়ে ফেলছে?পরিনত হচ্ছে অনুভূতিবিহীন যন্ত্রে?অদ্ভুত আধাঁর কি এসেই পড়ল এ পৃথিবীতে আজ? কি জানি! হতেও পারে। না হলে কেন ইদানিং সমাজটাকে কুষ্ঠরোগী মনে হয়?কেন মনে হয় এর রূপটা ঠিক কাথার মত?;সম্মুখপাঠ পরিপাটি, অভ্যন্তরে অসংখ্য সেলাইয়ের ফোঁড়, অবিন্যস্ত।আপাতসুন্দর সম্পর্কগুলোর অভ্যন্তরে কুৎসিত কংকালের ততোধিক কদাকার ভেংচি।
ধ্রুবতারার প্রশ্ন- কেন আজও পৃথিবীতে অগণিত শিশুর কান্না একটি নতুন পোশাক কিংবা খেলনার জন্য নয় বরং একমুঠো ভাঁতের জন্য? শিশির ভেজা ঘাসে পা ডুবিয়ে ঘাসফড়িংয়ের পিছে ছুটে চলা কিংবা ঝুম-বর্ষায়, নাইবা জুটলো সর্ষে-ইলিশ কিন্তু বুকভরে কদমফুলের ঘ্রাণ নেওয়া,আঁদুর গায়ে বৃষ্টির প্রতি ফোঁটাকে অনুভব করা, এই বিষয়গুলো কেন কোন মানবশিশুর কাছে মনে হবে বড্ড বেশি বিলাসিতা? সে জীবন জুয়ায় হেরেছে বলেই কি? কিন্তু কি বা প্রকৃতি তাকে দিয়েছিল বিড করার মত? একটা ফুটাযুক্ত হৃদপিন্ড? নাকি কারন এটাই যে,সে তোমাদের ধলামুলা স্কেলে তথাকথিত সুন্দর নয়? তোমাদের এই পরিপাটি সমাজে শূন্যতা আর পূর্ণতার পাশাপাশি প্রদর্শনীটা এত স্পষ্ট কেন? পৃথিবীর প্রতিটি মানবসন্তানই তো মানুষ; আর মানুষ তো মানুষই, তার কেন এত বিভাজন, বর্ণ, গোত্রভেদ? কবে বন্ধ হবে ধর্মোন্মত্ততা? এটাই কি কালপ্রবাহের নীতি?
তবে যে “কাজী নজরুল ইসলাম” বলতেন-

নাই দেশ-কাল পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম,জাতি;
সবদেশে, সবকালে,ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
তা কি ঠিক নয়?

না,না, কক্ষনো না; এটাই শাশ্বত শিক্ষা। থাম,থাম হে ধ্রুবতারা, আর শুনতে চাইনা;
শুধু এটুকু জানি, দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেন শুধিতে হইবে ঋণ।

সূর্য্য অস্ত গেছে কিন্তু যেন তার স্নিগ্ধ মায়াবী উত্তাপটুকু রয়ে গেছে ছড়িয়ে পড়েছে আকাশময়। পুরন্ত শিল্পীর চলমান ক্যানভাস। গোঁধুলীর এই আকাশ যেন বিয়ের আসরে বসা কনে, মুখে তার লজ্জা-রক্তিম আভার সাথে মিলেমিশে হয়ে আছে সপ্ন। সে সপ্ন এক অকলুষ আগামীর। তারপর এক সময় গোঁধুলীর রংয়ের খেলা সাঙ্গ হয়, আঁধার নামে।এটাই কি মানব মানসিকতার চিরায়ত আঁধার? হ্যাঁ, হতে পারে।

কিশোরটি ওঠে ওকে বাড়ি ফিরতে হবে; ও কি পারবে সত্য অনুসন্ধান করে হাজার কেন-এর উত্তর খুজতে? নীতির শাশ্বত মশালের ইন্ধন হতে?

হ্যাঁ, ওকে যে পারতেই হবে।না হলে আর্তের আহাজারি, সত্যের আহবান মিলিয়ে যাবে অতল তলে, নৈরাশ্যের অন্ধ গহ্বরে।ও আজ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
একটাই বানী আজ আকাশে বাতাসে-
শুভসত্তা তোমার কান্নার দিন শেষ, তোমার ধ্বনি পৌছে গেছে কারো হৃদয়-প্রাচীর বিদীর্ণ করে হৃদয় আঙ্গিনায়।
ডঙ্কা আজ বেজেই গেছে, ওইযে, ওইতো, কান পাত….

নব জাগরণ মন্ত্রণা শোন, ঋজু হও তাজা প্রান,
নব মোড়কে বাসি জিনিসের হইয়াছে অবসান;
একসাথে আজ গাইব মোরা শিকল ভাঙ্গার গান।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

×