মানুষ তো ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে, সন্দেহ নাই। সগৌরবে এগিয়ে চলছে মানব সভ্যতা। মডার্ণ যুগ পার হয়ে আমরা পোষ্ট মডার্ণ যুগে প্রবেশ করেছি। গড় আয় বাড়ছে, গড় আয়ু বাড়ছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হচ্ছি। কিন্তু সামাজিক সেফটি নেটের অভাবে অভাবি/ অতি দরিদ্ররা এখনো মানবেতর জীবন যাপন করছে।
আজ নিউজফিডে একটা খবর দেখে খুব মর্মাহত হলাম। ছেলেটি রাজশাহি ইউনিভার্সিটি তে পড়ে। টাকার অভাবে কয়েকদিন না খাওয়া। পরে বিশ্ববিদ্বালয়ের গাছ থেকে আম পেড়ে খেতে গিয়ে পুলিশে সোপর্দ। তারপর জানা যায় এই ঘটনা। বাবা মা নাই, ভেঙ্গে যাওয়া সংসারের শিশু, গরীব এক আত্মীয় মেট্রিক পর্যন্ত পড়িয়েছেন। তারপর নিজের চেষ্টাতেই এসেছেন বিশ্ববিদ্ব্যালয়ের গন্ডিতে। টিউশনি করে চলেন। কয়েক মাস টিউশনি নাই, হলের আশ পাশের দোকানে বাকী খাওয়ার সুযোগ না পেয়ে অবশেষে অনাহার যাপন এবং শেষ অবলম্বন হিসাবে গাছের আম পেড়ে খাবার চেষ্টা।
যে জিনিষ আমাকে অবাক এবং দুঃখিত করেছে তা হলো, তার তো ইতিমধ্যে কিছু বন্ধু বান্ধব হবার কথা, তাদের এই ছেলের আর্থিক অবস্থা জানবার কথা। কয়েকজন বন্ধু মিলে সামান্য কিছু দিয়ে হলেও তার এই দুর্দিনে কি এগিয়ে আসতে পারত না? ভার্সিটি পড়া তরুনরা এইটুকু মানবতার প্রমান দেবার উদ্যোগ নিতে পারলো না? তারা উদ্যোগ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া বা মেইনস্ট্রীম মিডিয়ায় লেখালেখি করলেও হয়ত কোন উতস থেকে একটা আর্থিক সাহায্যের ব্যাবস্থা হতে পারত। কোন শিক্ষক হয়ত এগিয়ে আসতে পারতেন। মানুষ, বিশেষ করে, তরুণ রা কেন এই রকম কাজে ঝাপিয়ে পড়বে না? সভত্যা কি আমাদের অসভ্য বানিয়ে ফেলছে?
দেশ তো উন্নত হচ্ছে, আয় বাড়ছে, বাজেট বাড়ছে। এই ধরনের দারিদ্র সীমায় থাকা যুদ্ধকরা লোক গুলো কি সামাজিক নিরাপত্তা পেতে পারে না? দেশে ভুরি ভুরি ব্যাংক, হাজার কোটী টাকা লোপাট করছে। সে বিচার হয়তে কেউ করবেনা। অল্প কিছু টাকা দিয়ে এরকম ছাত্রদের কি বৃত্তি/ শিক্ষাঋণ এর ব্যবস্থা করা যায় না? ইউনুভার্সিটি কি এধরনের ছাত্রদের জন্য ওয়েলফেয়ার ফান্ডের ব্যবস্থা করতে পারেনা?
দেশে ব্যক্তিপর্যায়ে অনেকেই আছেন যারা নির্ভরযোগ্য মাধ্যম পেলে এ ধরনের গরীব ছেলে মেয়েদের পড়াশুনায় সাহায্য করতে চান। ছাত্রদের সমন্বয়ে কিছু ভলান্টিয়ার সংগঠন এরকম ফান্ড সংগ্রহ করে এ ধরনের সাহায্য করতে পারে।
সভ্যতা আর অগ্রগতি আমাদের যেন স্বার্থপর না করে দ্বায়িত্ব নিতে শিখায়, এই কামনায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
