বাস্তব উঠোন ভরে ফুটনত চালের ধ্যানছুট খইয়ে খইয়ে
সারাটা বিকাল ঝরুক অজস্র টাকা।
সুউচ্চ মিনারে দিগনতের যতোটুকু আকাশ এলানো থাকে
তার সবটুকু ঘিরে ফুটে থাকুক কোটি কোটি নক্ষত্র টাকা।
বাড়ন্ত চুলের সবক'টি শেকড় পত্তন করুক নতুন কচ্কচে টাকার অশ্বত্থ
বাচাল মুখের প্রতিটি কথায় ঝরে পড়ুক অসংখ্য নিরঙ্কুশ টাকা
টুপটাপ বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা বয়ে আনুক বিত্ত, বয়ে আনুক টাকা।
দৈন্যের অতলে একজন কবির সোমত্ত শরীর ডুবে নিথর হয়
খরখরে শুকনো এঁটেলে থেমে থাকে মেধার সুতীক্ষ্ন ফলা
পাষাণের বৈপরীত্বে সুকোমল শব্দাবলী কতো নিঃস্ব, কতো অসহায়!
ভরাট কাব্যের সমূহ ধ্বংসের আগে টাকা চাই
জ্বলন্ত আঁখির বহ্নিধারা বিনষ্টের আগে টাকা চাই
শাশ্বত হৃদয়ের সমূল বিনাসের আগে টাকা চাই।
বিশাল মরুর ঊষর বাতাসে উড়ুক অগণ্য রাশি রাশি টাকা
বোশেখী ঝড়ের উন্মত্ত তাণ্ডবে প্রতিটি গাছ থেকে ঝরুক কড়কড়ে টাকা
উঠন্ত নারীর থই থই যৌবনের ভাঁজে ভাঁজে জেগে থাকুক অঢেল পই পই টাকা।
এই মেঘকান্ত আকাশের বিনম্র সন্ধ্যার কাছে উবুজুবু হয়ে টাকা চাই
দৈন্যের খাঁখাঁয় বৃষ্টির অঝোর ধারায় টাকা চাই
উঁচানো কংক্রিটে কবির কলম থামবার আগে টাকা চাই
জানালার শার্সি থেকে পূবের আকাশ সরে যাবার আগেই চাই টাকা, চাই বিত্ত।
04.04.86
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


